🔥 “এক পা কবরে—তবু শরীরে আগুন!”
— সমাজের মুখে আয়না ধরার এক নিষিদ্ধ সত্য
“পঞ্চাশ পেরোলেই নাকি সব শেষ!”
দাঁড়ি পেকে গেছে, ত্বক কুঁচকে গেছে,
ছেলের বউ ঘরে এসেছে—
এখন আর কীসের ভালোবাসা? কীসের শরীরের চাহিদা?
এখন নাকি শুধু তসবিহ টিপে,
চুপচাপ মৃত্যুর দিন গোনা উচিত।
এই কথাগুলো কে বানিয়েছে?
প্রকৃতি না সমাজ?
আজ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই লেখা।
⸻
✦ সমাজের ভণ্ডামির শুরু এখানেই ✦
আমরা এমন এক সমাজে বাস করি—
যেখানে ১৮ বছরের শরীর চাইলেই “অপরাধ”,
আর ৫০ বছরের শরীর চাইলে “ভীমরতি”!
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—
👉 মানুষের শরীর কি জন্মদিন দেখে চলে?
👉 হরমোন কি সমাজের অনুমতি নিয়ে নিঃসৃত হয়?
আজ আমি সেই সমাজের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে এসেছি।
⸻
দৃশ্য–১
🧔 “ভদ্র লোকের নীরব আর্তনাদ”
রহমান সাহেব—বয়স ৫২।
সম্মানিত মানুষ।
সন্তান প্রতিষ্ঠিত।
সমাজে মাথা উঁচু করে চলেন।
কিন্তু রাত নামলেই—
তার ঘরের ভেতর এক অদৃশ্য যুদ্ধ শুরু হয়।
শরীর কথা বলে।
তিনি স্ত্রীর দিকে হাত বাড়ান।
উত্তর আসে—
“ছিঃ! এই বয়সে এসব?
পাশের রুমে ছেলের বউ,
নাতনি ঘুমাচ্ছে!
মরণকালে ভীমরতি ধরলো নাকি?”
একটা বাক্য—
আর রহমান সাহেবের ভেতরের পুরুষটা
ধীরে ধীরে মরে যায়।
তিনি চুপ থাকেন।
কারণ তিনি ভদ্র।
তার শরীর জ্বলে—
কিন্তু মুখ খুললে সমাজ ছিঁড়ে খাবে।
🔬 অথচ বিজ্ঞান বলে—
পুরুষের যৌন সক্ষমতা
৫০-এ শেষ হয় না।
৭০, ৮০—এমনকি তারও পরে থাকতে পারে।
কিন্তু সমাজ শিখিয়েছে—
“এই বয়সে চাওয়া মানেই লজ্জা।”
ফল?
ডিপ্রেশন।
একাকীত্ব।
কখনো ভুল পথে পা বাড়ানো।
তারপর সমাজই বলে—
“দেখেছো? বুড়ো বয়সে চরিত্র নষ্ট!”
না।
চরিত্র নষ্ট হয়নি।
ক্ষুধার্ত মানুষ খাবার না পেলে
ডাস্টবিনে তাকায়—এটাই বাস্তবতা।
⸻
দৃশ্য–২
👩 “এক নারীর না বলা দোজখ”
শেফালী বেগম—বয়স ৪২।
শরীর এখনো জীবন্ত।
মন এখনো ভালোবাসা চায়।
কিন্তু স্বামী—৫৫।
সারা জীবনের অনিয়ম, ধূমপান, মদের ফল—
আজ বিছানায় নীরবতা।
তিনি কী করবেন?
ডিভোর্স?
সমাজ বলবে—“নষ্টা!”
পরকীয়া?
বিবেক মানে না।
চুপচাপ সহ্য?
প্রতিদিন একটু একটু করে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া।
এই যন্ত্রণার নাম—
সম্মানিত নারীর নীরব শাস্তি।
⸻
✦ আমরা যে সত্যটা মানতে চাই না ✦
নারীদের অনেকের মেনোপজ হয় ৪৫–৫০ এ।
শরীর বদলায়।
ইচ্ছে কমে।
কিন্তু অনেক পুরুষের
এই সময়েও চাহিদা পুরোপুরি শেষ হয় না।
স্বামী চায়—স্ত্রী পারে না।
স্ত্রী চায়—স্বামী পারে না।
দুজনেই ভাবে—
“আমাকে আর ভালোবাসে না।”
আর এখানেই সম্পর্ক ভাঙে।
⸻
নারীদের জন্য একটি অনুরোধ 🌸
মেনোপজ মানেই আপনার নারীত্ব শেষ নয়।
আপনি না চাইতে পারেন—
কিন্তু আপনার স্বামী তো এখনো আপনাকেই চায়।
এই বয়সে
সহবাসের চেয়ে
ঘনিষ্ঠতা বেশি জরুরি।
❌ গালি দেবেন না
❌ “বুড়ো শয়তান” বলবেন না
এই শব্দগুলো
শরীরে নয়—
আত্মসম্মানে আঘাত করে।
⸻
পুরুষদের জন্য একটি সতর্কতা 🌿
আপনার শরীরে আগুন থাকতে পারে—
কিন্তু স্ত্রীর শরীর এখন বদলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।
জোর ভালোবাসা নয়—
ক্ষত তৈরি করে।
এই বয়সে দরকার—
✔ ধৈর্য
✔ আদর
✔ বোঝাপড়া
আর হ্যাঁ—
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া
কোনো “ম্যাজিক পিল” নয়।
সুখ নিতে গিয়ে
মৃত্যু ডেকে আনবেন না।
⸻
✦ শেষ কথা ✦
আপনার বাবা শুধু বাবা নন—
তিনি একজন পুরুষ।
আপনার মা শুধু মা নন—
তিনি একজন নারী।
৪০ বা ৫০ এ জীবন শেষ নয়—
এটা নতুন অধ্যায়।
👉 শরীর কুলালে মিলন।
👉 না কুলালে হাত ধরা, গল্প, আদর।
কিন্তু দয়া করে
এই পবিত্র সম্পর্ককে
“বুড়ো বয়সের ভীমরতি” বলে অপমান করবেন না।
একজন তৃপ্ত বৃদ্ধ
হাজার নীতিকথার চেয়েও সুন্দর
#এটাই সভ্য সমাজ