গল্পের নাম: প্রশংসার ফাঁদ
সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বয়সের ছাপ চোখে পড়লেও কেউ বললে বিশ্বাস করত না। কারণ প্রতিদিনই কেউ না কেউ এসে বলত—
“আপনাকে দেখে তো এখনও কলেজে পড়ুয়া মনে হয়!”
“আপনার হাসিতে আলাদা একটা মায়া আছে!”
প্রথমে ভালো লাগত। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুন করে দেখতে ইচ্ছে হতো। অথচ যে মানুষটা প্রতিদিন পাশে থাকে, সে এসব বলে না। সে শুধু জিজ্ঞেস করে—
“খেয়েছো?”
“বাচ্চাটা ঠিক আছে তো?”
আর ঠিক তখনই তৃতীয় একজন এসে ফিসফিস করে বলে—
“আপনি অনেক স্পেশাল… আপনার স্বামী সেটা বোঝে না।”
এই কথাটাই ধীরে ধীরে বিষ হয়ে ঢুকে যায় মনে। ছোট ছোট অভিমান বড় হয়ে ওঠে। সংসারের শান্ত ঘরটায় ফাটল ধরে। স্বামীর নীরবতা তখন অবহেলা মনে হয়, দায়িত্ব নেওয়াটা মনে হয় বিরক্তি।
কিন্তু সে বুঝতে পারেনি—
যে মানুষটা প্রশংসা করে, সে কখনো দায়িত্ব নিতে আসে না।
সে আসে শুধু নিজের স্বার্থ নিয়ে।
যতদিন প্রশংসার দরকার, ততদিন সে স্পেশাল।
স্বার্থ শেষ হলে, সে শুধু আরেকটা গল্প।
একদিন সে বুঝতে পারে—
যে মানুষটা কবির মতো কথা বলে না,
কিন্তু জ্বরে রাত জেগে মাথায় পানি দেয়,
সন্তানের স্কুল ফি নিয়ে চিন্তা করে,
সংসারের বোঝা কাঁধে নেয়—
সে-ই আসল ভালোবাসা।
ক্ষণিকের প্রশংসা মিষ্টি হয়,
কিন্তু তার পরিণতি ভয়ংকর তেতো।
#ফাঁদ