রাজা জয়চাঁদ: ব্যক্তিগত আক্রোশে কীভাবে ভারতের বুকে নেমে এল শত শত বছরের পরাধীনতা?
ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর নিয়ম হলো, বাইরের শত্রুর চেয়ে ঘরের শত্রুই সবসময় বেশি ভয়ংকর হয়। বাংলার ইতিহাসে 'মীরজাফর' নামটি যেমন বেইমানির সমার্থক, ঠিক তেমনি উত্তর ভারতের লোকগাথা ও ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতার আরেক নাম হলো 'জয়চাঁদ'।
দ্বাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে উত্তর ভারত বেশ কয়েকটি শক্তিশালী রাজপুত রাজ্যে বিভক্ত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিল কনৌজ (রাজা জয়চাঁদ) এবং দিল্লি ও আজমির (রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান)। উভয়েই ছিলেন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু পৃথ্বীরাজ চৌহান ও জয়চাঁদের কন্যা সংযুক্তার প্রেম এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে এক চরম ব্যক্তিগত আক্রোশে পরিণত করে। সংযুক্তা রাজাদের সারি উপেক্ষা করে পৃথ্বীরাজের মূর্তির গলায় বরমাল্য পরিয়ে দেন এবং তাঁর সাথে দিল্লির দিকে চলে যান।
এই ঘটনাকে চরম অপমান হিসেবে নেন রাজা জয়চাঁদ। ব্যক্তিগত আক্রোশে অন্ধ হয়ে তিনি এমন এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেন, যা সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাস ও ভূগোলের মানচিত্র চিরতরে বদলে দিয়েছিল। তিনি আফগান শাসক মহম্মদ ঘুরিকে ভারতে আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান এবং সামরিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন।
১১৯২ সালে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়চাঁদের চক্রান্তে এবং ঘুরি বাহিনীর কৌশলে বীর পৃথ্বীরাজ চৌহান পরাজিত ও বন্দি হন।
**কিন্তু জয়চাঁদ কি তার পুরস্কার পেয়েছিলেন?**
জয়চাঁদ ভেবেছিলেন এই চক্রান্ত তাকে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি বানাবে। কিন্তু ঘুরি জানতেন, যে ব্যক্তি নিজের দেশ ও স্বজাতির সাথে বেইমানি করতে পারে, সে কখনোই তার প্রতি অনুগত হবে না। মাত্র দু'বছর পর, ১১৯৪ সালে মহম্মদ ঘুরি বিশাল বাহিনী নিয়ে স্বয়ং জয়চাঁদের রাজ্য কনৌজ আক্রমণ করেন (চান্দাওয়ারের যুদ্ধ)।
যুদ্ধের ময়দানে হাতির পিঠে বসে থাকা জয়চাঁদের চোখে হঠাৎ একটি তীর এসে বিদ্ধ হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার সেনাবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। যুদ্ধের পর জয়চাঁদের মৃতদেহ এতটাই বিকৃত ছিল যে, তাকে সাধারণ চোখে চেনা যাচ্ছিল না। অবশেষে তার মুখের সোনা বাঁধানো দাঁত দেখে তার মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়।
জয়চাঁদের এই বেইমানি শুধু তার নিজের জীবন বা রাজ্যই কেড়ে নেয়নি, ভারতের মাটিতে বিদেশি শাসন কায়েমের পথ খুলে দিয়েছিল।
**ইতিহাস ভুলে যায় না বিশ্বাসঘাতকদের!**
রাজা জয়চাঁদ তো কেবল একটি অধ্যায়। আপনি কি জানেন, ইতিহাসে এমন আরও ৯ জন কুখ্যাত বেইমান আছেন (যেমন- মীরজাফর, জুডাস, বেনেডিক্ট আর্নল্ড), যাদের একটিমাত্র ভুলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল আস্ত এক একটি জাতি? এবং তাদের প্রত্যেকের শেষ পরিণতি হয়েছিল অত্যন্ত ভয়ংকর!
এই চরম বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্ত এবং তাদের মর্মান্তিক শেষ পরিণতির রোমহর্ষক কাহিনী বিস্তারিত জানতে আজই ঘুরে আসুন অজানা ইতিহাসের খোঁজে ব্লগ থেকে **ইতিহাসের ১০ কুখ্যাত বেইমান ও তাদের করুণ পরিণতি: অজানা ইতিহাসের খোঁজে** (https://www.ojanaitihaskhonje.com/2026/05/10-infamous-traitors-in-history-and-their-tragic-ends.html)
##ইতিহাসেরগল্প #জানাঅজানাইতিহাস #রহস্যময়ইতিহাস #বিশ্বাসঘাতক #কুখ্যাতবেইমান #মীরজাফর #ইতিহাস