কল্পনার সাথে নববর্ষের বাস্তব মেলবন্ধন
কতটা রইলো‼️❓
************************************
🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍
পহেলা বৈশাখ,দুটি শব্দ আলাদা ভাষা থেকে উদ্গত হয়ে একটি উৎসবের নাম ধারণ করেছে।পহেলা শব্দটি উৎপত্তি-গত ভাবে উর্দূ শব্দ পেহেলী থেকে এসেছে,যার অর্থ প্রথম। উল্লেখ্য,এ শব্দটি ভারতে পয়লা বলেও উচ্চারণ করা হয়।বৈশাখ শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে।এই মাসে এই নক্ষত্রটি সূর্যের কাছে দেখা যায়।পহেলা বৈশাখ দিনটি বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিন। দিনটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।আমাদের পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত তিন ধরনের ক্যালেন্ডার রয়েছে— (১)-হিজরী সন-(২)বাংলা বা ফসলি সন এবং(৩)-খৃস্টাব্দ বা গ্রেগোরিয়ান সন।তিনটি ক্যালেন্ডার থাকলেও বাংলা সনের নববর্ষ পালন করে নিজেকে বাঙালি পরিচয় দিতে সকলে গর্ববোধ করে।বিশেষ করে এটা বলতে হয় যে,কেউ বাংলা মাসের খোঁজ রাখে কি-না তা নিয়ে বিশাল সন্দেহ...!!!!কিন্তু পহেলা বৈশাখ আসলেই পান্তা-ইলিশ,বৈশাখি মেলা,নাচ,গান,যাত্রা,সার্কাস,তিতারি শাক,চাল-বুট ইত্যাদি রান্নায় এখনো গ্রাম বাংলায় বিদ্যমান ও সকলে মেতে উঠে।
তবুও করো অকাল মৃত্যু,বা কিংবদন্তি সুরেলা কণ্ঠীর স্বর্গে গমনের সেই অভাব 😌😌😱😱😱😱সাথে কোনো অভিনেতার অকাল মৃত্যু... জীবনের রাজনৈতিক বলী যা অশ্রু সংবরণ করার মাত্রা হারিয়ে ফেলে আগণতি মানুষের।তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা তো নত হয়েই যায় এই বর্ণময় উৎসবের দিনেও।এটাই তো বাঙালিয়ানা ....
দেশ ও ভাষা,একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে গাঁথা,যেন দুই প্রাচীন রেশমি সুতা—এক সুতায় বাঁধা।বাংলা ভাষা,এই মাটি,এ জনগণের অভ্যন্তরীণ আত্মা—এগুলো সবই একযোগে জড়িয়ে থাকে,যেখানে একে অপরের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই।এ দেশের মানুষ,নানা ভাষার যে ভাষায় কথা বলে,কিন্তু বেড়ে ওঠে বাঙালিয়ানায়।যে সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠে—সেই ভাষা ও সংস্কৃতি তার অস্তিত্বের অঙ্গ।পয়লা বৈশাখ,এই বাঙালি নববর্ষ ঠিক তেমনই একটি দিন—যে দিনটি শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয় বরং একটি নতুন অধ্যায়ের যাত্রা,যেখানে আমরা সবাই একযোগে একটি নতুন সূর্যের দিকে এগিয়ে যাই।🌅🌄🌅🌄🌅🌄🌅🌈🌈🌈🌈🌈🌅🌄🌅🌄🌅🌄🌅🌄এ দিনের অমলিন আনন্দে ইলিশ মাছের সঙ্গে পান্তাভাত,পাশে মরিচ,পেঁয়াজ আর নুনের স্বাদ—এই খাবারের মধ্যে রয়েছে এক অমোঘ সম্পর্ক।স্নিগ্ধতার এক স্বরূপ,যা কেবল বাংলার মাটিতেই সম্ভব। কিন্তু অতটাই আর উপভোগের সময় নেই কারো।চিরকালীন এই ঐতিহ্য,যেখানে বছরের শুরুতে হালখাতা আর মিষ্টির আদান-প্রদান,এক নিঃশব্দ চুক্তি—একটি নতুন বছরে ব্যবসা,সম্পর্ক,জীবন—সব কিছুই নতুন করে শুরু হতে থাকে।আজ সে সব সত্য হলেও অনেক দূরে চলে গেছে।এবারের পয়লা বৈশাখে,পুরনো বছরের সেই সমস্ত অশুভ প্রতিচ্ছবি,নববর্ষের এই দিনটি যেন এক নতুন দিগন্তের সূচনা,যেখানে আমরা শুধু নতুন কিছু পাওয়ার স্বপ্ন দেখি না,বরং সেই পুরনো দিনের অশান্তি ও কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য একটি সুন্দর,সজীব এবং পবিত্র জীবনের দিকে অগ্রসর হতে চাই।সজন হারানোর দুঃখ বেদনার মধ্যেও সেই নতুন'কে আহ্বান যেন খুঁজে পায় এক প্রশান্তি।এই আশা করি।শ্রদ্ধেয় আশাজীও সদ্য চলে গেলেন।বাঙালির মনে শোক নয় শুধু এটা বিশ্ব শোক।উনিই যেন "আলো" ছড়িয়ে দিয়ে গেলেন।প্রকৃতি ও সংস্কৃতি,একে অপরের পরিপূরক।বাংলা নববর্ষ,পয়লা বৈশাখ,দিনটি শুধু আমাদের ক্যালেন্ডারের একটি নতুন পৃষ্ঠা নয় বরং এটি আমাদের চারপাশের প্রকৃতির এক অনবদ্য রূপ।বৈশাখের প্রথম দিনে আকাশের কোণে মেঘের গম্ভীরতা,যেন সে জানাচ্ছে নতুন বছর আসছে,নতুন আশা,নতুন উল্লাস।ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে বৈশাখী বৃষ্টি এসে প্রকৃতির গা ভিজিয়ে দেয়,যেমন আমাদের হৃদয়ের গভীরে বয়ে আনে এক নতুন আনন্দের তরঙ্গ।বাতাসে ছড়িয়ে পরে মিষ্টি গন্ধ—কলমি শাক,পাটুলি ফুল,পলাশের রঙে মোড়া নববর্ষের ফুল।এই দিনটি যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক শ্রদ্ধাঞ্জলি,যে ফুলগুলো শোভা পায় আমাদের ছোট-বড়,শহরের প্রতিটি কোনায়।হ্যাঁ কিনতে পারবে না অনেকেই আজ।ওই ঐতিহ্য ধ্বংস করেছে অপসঙ্কৃতিক রাজনৈতিক কপটতা।সাধারণ মানুষের রক্ত চোষক এরাই।তবে এখনো গ্রামের পল্লীতে কিংবা শহরের কোনো পার্কে, পযলা বৈশাখের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন বাড়িয়ে দেয় আনন্দের অনুভূতি।গ্রামের প্রান্তরে পাকা ফসলের সুবাস,সেই প্রাচীন ঝিল গুলোর শান্ত জল,খালি মাঠে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য—এগুলো শুধু চোখে নয়, আমাদের মনে প্রতিধ্বনিত হয়,যেন পয়লা বৈশাখের প্রতিটি মুহূর্ত প্রকৃতি নিজ হাতে আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে।এই দিনটি শুধুই সাংস্কৃতিক উদ্যাপন নয়,এটি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কেরও একটি বিশেষ রূপ,যা আমাদের শিকড়ের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।সারা বঙ্গের মানুষের আনন্দে মেতে ওঠা,গ্রামীণ পরিবেশে গুচ্ছগুচ্ছ পটল,কাঁচা কলা,কচুরিপানা—এ সব প্রকৃতির উপাদান,একে অপরকে সহযোগিতা করে নতুন বছরের দারুণ সূচনা করতে ব্যস্ত।বৈশাখী বাতাস,মাটির গন্ধ এবং নতুন জীবনের এক সতেজ শ্বাস—এই উপাদান গুলো একত্রিত হয়ে পহেলা বৈশাখের উদ্যাপনকে শুধু একটি দিন নয়, বরং এটি যেন একটি নয়া দিগন্তের সূচনা,যেখানে প্রকৃতি এবং সংস্কৃতি হাতে হাত রেখে একত্রে উদ্যাপন করে।পয়লা বৈশাখের দিনটি যেন এক সুন্দর গল্প,যার প্রতিটি দৃশ্য জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।ভোর বেলা,যখন প্রথম সূর্য ওঠে,রাস্তায় রাস্তায় মানুষের পদচারণা শুরু হয়।শহরের বাজারে,ফুলের দোকানে ভিড় জমে যায়—প্রতিটি দোকানে সাজানো থাকে নানা রঙের ফুল।গোলাপের লাল,গাঁদার হলুদ,শাপলার সাদা,আর পলাশের তীব্র কমলা রঙের ফুলের গুচ্ছ,যেন প্রকৃতির নিজস্ব শুভেচ্ছা। সেখানে একেকটি ছোট গল্প প্রতিধ্বনিত হয়,.....!!!! অবশ্য এক বিক্রেতা তার দোকানে সাজানো ফুলগুলো তুলে তুলে বিক্রি করছে,খুবই কম কেনার আজ জো নেই কারো ... ওই এক অন্ধ রাজনীতি যা পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশকে গ্রাস করলো,তা না হলে এমন'টাই হতো আজও... ""যেন এক বৃদ্ধা আনন্দের সঙ্গে একটি ছোট পুতুলের ফুল কিনে,যেন পুরনো দিনের রঙিন স্মৃতি ফিরে পাচ্ছে।""
আজও সেই কল্পনার সেই ....গ্রামের সরু পথে,হালকা রোদে,লাল-সাদা শাড়ি পরা মেয়েরা চমক দিয়ে হেঁটে যায়,তাদের গায়ে ফুলের মালা,হাতে সজাগ চুড়ি,মুখে হাসি—পয়লা বৈশাখের আনন্দের প্রতীক।ছোট ছেলে-মেয়ে,তারা ঝরে পরা পাতা ও ফুলের সঙ্গে খেলছে,মুখে মিষ্টি খাবারের খুশি হাসি, যেন পুরো গ্রামটি এক নতুন রঙে রাঙানো। পথে,গ্রামের পুকুরে নৌকায় চড়ে মাঝির গান শুনতে পাওয়া যায়,সেই গান যা বাঙালি ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, ....!!!!
মাঝি রে,ও মাঝি "পার করে দে" বলবো না আর তোর প্রেম খুশির দোল দুলবো না আর যা হয় তা হোক......!!!!!!......
একটি দৃশ্য যা শুধু বাঙালির কাছে নয়,সারা বিশ্বে নস্টালজিয়া তৈরি করে।
অন্য নববর্ষ সেই গতিতে শহরের বড় পার্ক,বটতলায়,যেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়।উজ্জ্বল রঙের পাঞ্জাবি ও শাড়ি পরিহিত মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সুর মেলাচ্ছে, সবাই যেন একসাথে গাইছে—‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো…...!!!!’ এ যেন এক উৎসব,এক সমবেত সংগীত,যেখানে সবার হৃদয় এক সঙ্গে মিলছে।বটগাছের নিচে,পুরনো দারুণ ঐতিহ্যের গুনগুন,আর চিরন্তন প্রাকৃতিক সুরের মধ্যে,পহেলা বৈশাখকে অভ্যর্থনা জানাতে সবাই মিলিত।এটি একটি মুহূর্ত, যেখানে অতীত ও বর্তমান একসাথে মিশে যায়,যেখানে প্রতিটি সুর,প্রতিটি ফুল,প্রতিটি হাসি এক নতুন কাহিনি রচনা করে—পহেলা বৈশাখের দিনটি,যা আমাদের জীবনে সেই সোনালী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়,........****.........পয়লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) সারা বিশ্বের বাঙালিদের জন্য এটি শুধু একটি দিন নয়,এটি আমাদের জীবনের এক নতুন যাত্রা,যেখানে আশা,ভালোবাসা,পরিবর্তন ও ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা।এখানে ধর্ম,জাতি কিংবা বিশ্বাসের কোনো ব্যাপার নেই—এটা শুধু জাতিগত পরিচয়ের উদ্যাপন।আমরা যেন ভুলে না যাই,আমাদের সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে এবং কোনো কিছুই আমাদের জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে না।তাই আসুন,আমরা যেন বিশ্বে এক শক্তিশালী,উদার জাতি হয়ে উঠি।দূর হোক কুসংস্কার,জয় হোক মানবতার,গড়ে উঠুক বাঙালির ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি।এবারের পয়লা বৈশাখ হতে পারে ভবিষ্যৎ নির্মাণের চাবিকাঠি,যা সবার জন্য ভালোবাসা,শান্তি এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।সবাইকে বাংলা নববর্ষের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা দিয়ে দিলাম।
🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍
❓‼️❗❗....আরো আলো,আরো আলো, এই নয়নে প্রভু ঢালো... সুরে সুরে বাঁশি পুরে তুমি আরো আরো আরো দাও তান,মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ.. প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে আরো আরো...মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ।। আরো বেদনা,আরো বেদনা প্রভু,দাও মোরে আরো চেতনা,দ্বার ছুটায়ে,বাধা টুটায়ে মোরে করো ত্রাণ,মোরে করো ত্রাণ,.......আরো আলো, আরো আলো.এই নয়নে,প্রভু,ঢালো.আরো আলো ...❗❗❗‼️❓
🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍🥀🎍
🌄🌅🌈🌅🌈🌅🌈🌅🌄
#শুভ #শুভকামনা #নববর্ষ #শুভ নববর্ষ