....🌹কবিয়াল মনোহর সরকারের মৃত শিশু পুত্রের দেহে প্রাণ
ফিরিয়ে দিয়ে পুনরায় জীবন দান করলেন.. যুগান্তকারী অবতার
ও ব্রহ্মশক্তির অধিকারী দয়াময় শ্রীশ্রী গনেশ পাগল 🌹
........... পাগলের অসম্ভব লীলা কথা মধুর ভান্ডার............
........ভক্তি রসে শ্রবণে নিয়ে যায় জীবকে মুক্তির দ্বার.......
যুগান্তকারী নারায়ণ অংশাবতার দয়াময় শ্রীশ্রী গনেশ পাগলের আশীর্বাদ প্রাপ্ত কবিয়াল মনোহর সরকারের একমাত্র শিশু পুত্র.. নাম অম্বরিশ। পাগল তখন দুর্গাপুর কবিয়াল মনোহর সরকারের বাড়িতেই থাকতেন। একদা সময় মনোহর সরকার কবিগান গাহিতে খুলনা চলে গেলেন পাগলকে বাড়ি রেখে। পাগল মাঝে মাঝে যথায় তথায় যেতেন, কিছুদিন কাটিয়ে পুনরায় মনোহরের বাড়িতে ফিরে আসতেন। মনোহর খুলনা যাবার কিছুদিন পরেই পাগল কোন দিকে গেলেন কেউ জানে না।........
............ এর মধ্য মনোহরের শিশু পুত্র অম্বরিশের উপর যমদূতের দৃষ্টি নিক্ষেপ হল। এমন অবস্থায় মনোহরের দুই পত্নী লক্ষ্মী ও গান্ধারী শুধু বাড়িতে, দুই মায়ের একমাত্র সন্তান। যমদুত ভীষণভাবে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে থাকে তাকে। প্রবল জ্বর.... ডাক্তার কবিরাজ একের পর এক হেরে যেতে লাগলেন তার জ্বরের কাছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে যমদূত সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে নিল শিশু পুত্র অম্বরিশকে। ডাক্তার কবিরাজ শত চেষ্টা করেও তার প্রাণটাকে আটকাতে পারলেন না, শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।
.......... মাতাদ্বয় পুত্র শোকে অচেতন হয় কাঁদিতে কাঁদিতে...........
........... কান্নার রোল ছড়িয়ে পড়ে আকাশে বাতাসে...........
গ্রামবাসীরাও এই শোক মেনে নিতে পারলেন না। তারাও শোকাতুর হয়ে পড়লেন। দুই পত্নীকে সান্তনা কে দেবে? পাগল তো নেই। এদিকে কেহ কেহ গুঞ্জন করছে..... পাগল আশ্রিত মনোহর পুত্র কি করে মরিতে পারে।... আবার কেহ কেহ বলছে পাগল যদি থাকিতো ঘরে, শিশু পুত্র অম্বরিশ কভু মরিত নারে। গ্রামবাসীর মুখে এই পাগলের কথা মাতৃদ্বয় শুনতেই ভাবিতে লাগলেন.. নিশ্চয়ই পাগল আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে, নইলে এহেন বিপদ আমাদের কখনো হত না। পাগলের কথা ভাবিতেই আরো অশ্রুসিক্ত ও মর্মাহত হইতে লাগিলেন দুই রমণী। মনোহর বাড়িতে নেই, মৃতপুত্র কাছে থাকিলে আরো বেশি শোকাগ্রস্ত হতে থাকবে ভেবে গ্রামবাসীরা মৃত পুত্র অম্বরিশকে সমাধি দেওয়ার জন্য একটি ছাড়া ভিটায় নিয়ে গেলেন এবং মৃত অম্বরিশ কে সমাধি দেওয়ার জন্য মাটি খুঁড়তে আরম্ভ করেন।..... এমন মুহূর্তে সেই পূর্ণ ব্রহ্মশক্তির অধিকারী ঐশ্বরিক পাগল সমুদ্রের সুনামি প্রবাহের ন্যায় লোক মধ্যস্থ আচমকা উপস্থিত হন। সহসা পাগলকে আকাশ থেকে অবতীর্ণ হওয়া দেখে সকলে বিস্মিত হয়ে পড়লেন এবং সবাই বলাবলি করতে লাগলেন এ পাগল সামান্য নয়... কারণ নারায়ণ দেব তার সমান শক্তি দিয়ে বর পুত্ররূপে ধরায় পাঠিয়েছে স্বয়ং নারায়ণ দেবের অনুপস্থিতিতে তার সমস্ত কার্য সম্পূর্ণরূপে পরিচালনা করার জন্য। সত্যিই তাই। এই অবাস্তব লীলা কে ঘটাতে পারে? পারে স্বয়ং ঈশ্বর। কে সেই ঈশ্বর... সেই ঈশ্বর পাগল রূপে নারায়ন বর পুত্র। নারায়ন দেবের অংশ ধারন করে ধরাধামে অবতীর্ণ সেই মহাত্মা শ্রী শ্রী গনেশ পাগল।
....... সমাধিস্ত জায়গায় পাগল উপস্থিত হতেই বললেন তোরা এখানে কাকে ফেলতে এনেছিস? মৃত কি জীবিত দেখি দে আমার হাতে। ফেলতে হয় যদি আমিই ফেলে দেব। এই কথা বলেই পাগল মৃতপুত্র অম্বরিশকে কাঁধে করে নিয়ে পলক মুহূর্তে উধাও হয়ে গেলেন। কোথায় চলে গেলেন কেউ জানতে পারলেন না। গ্রামবাসী কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর যার যার বাড়ি চলে গেলেন। মৃত অম্বরিশকে পাগল কিযে করলেন তা শুধু পাগলই জানেন।.... সে অন্তর্যামী পাগল জানতে পারলেন কবিয়াল মনোহর গান শেষ করে খুলনা থেকে আজ বাড়িতে ফিরবেন। পূর্ণ ব্রহ্ম শক্তির অধিকারী শ্রী শ্রী পাগল এটাও জেনে নিলেন বাড়ি ফিরবে ষ্টীমার যোগে গোবরা স্টেশন দিয়ে। তাই তিনি মৃত অম্বরিশ কে গোবরা স্টেশনে রেখে আবার কোথায় চলে গেলেন। সহসা মনোহর ষ্টীমার হতে গোবরা স্টেশনে নামতেই সম্মুখ পানে দেখলেন অম্বরিশ বসা, ধারে কাছে আর কেউ নেই। একেলা শিশু পুত্র অম্বরিশকে দেখে মনোহর হতবাক। অম্বরিশ কোথা থেকে এলো, কেইবা আনল এখানে? কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। এখানে আসার কারণ অম্বরিশকে জিজ্ঞাসা করতেই অম্বরিশ জানালো পাগল দাদু তাকে এখানে নিয়ে এসেছেন এবং তাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন... পিতা মনোহর অবশ্যই এখানে আসবে, তার সঙ্গে তুমি বাড়ি চলে যেও। তাই অম্বরিশ পিতার জন্য অপেক্ষা করছেন এই কথা জানাল পিতা মনোহরকে।
পুত্রের বচন শুনি না বুঝিনু কিছু মনোহর
পাগল লাগিয়া কাঁদিলো তার অন্তর
পুত্র অম্বরিশকে এইভাবে বসিয়ে রেখে পাগল বেশিদূর যেতে পারে না, অবশ্যই পাগল আসবে.... এই ভেবে মনোহর পুত্রকে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো পাগলের আসার নাম নেই। পরিশেষে ক্ষুন্ন মনে পুত্র কে নিয়ে বাড়ি আসলেন। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারেনি মনোহর। কিন্তু এখানে কথা আছে পাগল মৃত পুত্রকে পুনর্জীবিত করে কেন গোবরা স্টেশনে বসিয়ে রেখেছেন ? তা শুধু ঐশ্বরিক পাগলই জানেন। এযে কেমন ক্ষমতা? মৃতদেহে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া কি সহজ ব্যাপার ? কিন্তু পাগল রূপি নারায়ণ পুত্রের কাছে অতি সহজ। হ্যাঁ সহজ তো হবেই... তিনি নারায়ণ দেবের অংশ ধারক। ভট্টের বাগান মধ্যস্থ পাগলকে আদ্যাশক্তি মহামায়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন..............
যাহাই বলিবে মুখে ঠিক হবে তাহা
সব ঠিক করে দেব বলিবেক যাহা।
মৃত পুত্রকে জীবিত অবস্থায় নিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হওয়া মাত্রই পাড়া প্রতিবেশীরা বিস্মিত হয়ে পড়লেন। অনেকে বলতে লাগলেন মৃত পুত্র ভূত হয়ে মনোহরের কাছে গিয়েছিলেন। সেই প্রেতআত্মাকে মনোহর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। এই অবাক করা কান্ড শুনিয়া মনোহর হতভম্ব হয়ে পড়লেন। এমন মুহূর্তে পাগল উপস্থিত হয়ে হাক ছেড়ে বলে উঠলেন.. পাগল ধরাতে থাকাকালীন মনোহর পুত্র অম্বরিশকে যমদূত কখনো নিতে পারে না। মনোহরকে এই পুত্র আমি এনে দিয়েছি, যমদূত কেন কেউ পারবেনা মনোহরের কোল থেকে শিশু পুত্র অম্বরিশ কে ছিনিয়ে নিতে।.......
বুঝিতে হলো না দেরি তখন মনোহরে
অঝর ধারায় তার অশ্রু জল ঝরে
অশ্রু জল ছাড়িয়া মনোহর বলে
পাগল থাকিতে কভু অমঙ্গল না আসে মোর ঘরে
এদিকে মৃত পুত্র অম্বরিশ দাদু দাদু বলে কাঁদিতেছে.... কেন আমাকে একেলা ওখানে রেখে আসিলে। মনোহর সহিত দুই রমণী লক্ষ্মী ও গান্ধারী নয়নের জলে কলেবর হয়ে পাগলের চরণ ধরে ভূতলে লুটিয়ে পড়লেন।
পাগলের লীলাখেলা অমৃতের সমান
ভক্তিতে শুনিলে সে হয় মহা পুণ্যবান।
রচিলাম গদ্যকায় আপনি ভাষায়
বলাই রচিত পাগল চরিতামৃত সহায়
__ __ __ __ __ __ __ __
🌺🌺🌺 পাগল সহায় অধম 🌺🌺🌺
#🙂ভক্তি😊