#🙂ভক্তি😊 নদীয়ালীলায় শ্রীমন্মহাপ্রভু কাহাকে গুপ্ত রাখিলেন?
#মহাপ্রভু_কর্তৃক_রাধা_নাম_প্রচার_ও_প্রচ্ছন্ন_রহস্য!
শ্রীমদ্ভাগবতের প্রহ্লাদ স্তুতিতে কলিযুগের অবতার শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রচ্ছন্নতার উল্লেখ রহিয়াছে, যথাঃ- ❝চ্ছন্ন কলৌ❞-ভাঃ ৭/৯/৩৮। কিন্তু শ্রীসাধন দীপিকায় প্রচ্ছন্নত্ত্বের ক্রম ব্যাখ্যা করা হইয়েছেঃ-
" গূঢ়ং পরং ব্রহ্ম মনুষ্যলিঙ্গং (শ্রীভাগবতে ৭/১০/৪৮,৭/১৫/৭৫) ইত্যাদেঃ। ততোহপি গূঢ়তরং শচীনন্দনস্য, ততো গূঢ়োতমং প্রেয়সীনাম্,পরমশক্তিং পার্ষদানাম্;- ৭ম কক্ষা।
অর্থাৎ, মনুষ্যদেহধারী শ্রীভগবান গূঢ় হইলেও,তাহার চাইতেও শ্রীশচীনন্দন গূঢ়তর, তাঁহার চাইতে প্রেয়সীগণ এবং পরমশক্তিগণ গূঢ়তম।
কিন্তু সেই প্রচ্ছন্ন অবতার তাঁহার কোন্ অন্তরঙ্গ পার্ষদকে সংগোপন করিয়াছেন ইহা জ্ঞাতব্য!
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পূর্ণ পরিচয় প্রদান প্রসঙ্গে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী উল্লেখ করিয়াছেনঃ-
সকল বৈষ্ণব শুন করি এক মন।
চৈতন্যকৃষ্ণের শাস্ত্রমত নিরূপণ।।
কৃষ্ণ গুরুদ্বয় ভক্ত অবতার প্রকাশ।
শক্তি এই ছয়রূপে করেন বিলাস।চৈ,চ ১/১/১৬
অর্থাৎ, পীতবর্ণ গৌরহরি স্বয়ং পঞ্চতত্ত্বরূপে (শ্রীগৌর, শ্রীনিত্যানন্দ , শ্রীঅদ্বৈত, শ্রীগদাধর ও শ্রীবাস) বিলাস করেন। অর্থাৎ এই পঞ্চজনের মধ্যে কে মহাগূঢ়?
★শ্রীগৌর গুপ্ত হইলেও নিজ ভক্তের নিকট ব্যক্ত হনঃ-
আপনা লুকাইতে প্রভু নানা যত্ন করে।
তথাপি তাঁহার ভক্ত জানয়ে তাঁহারে।।-চৈ,চ ১/৩/৬৯
★ শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুঃ-
অতিগূঢ় নিত্যানন্দ এই অবতারে।
শ্রীচৈতন্য যাঁরে জানায় সে জানিতে পারে।-চৈ,ভা ২/৩
শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু গূঢ় হইলেও কিন্তু শ্রীমন্মহাপ্রভুর সর্বসমক্ষে তাঁহার মহিমা ব্যক্ত করিয়াছেন। নন্দনাচার্য্যের গৃহে নিত্যানন্দ মিলন, শ্রীবাসগৃহে নিত্যানন্দের ব্যাসপূজা,তাঁহার প্রসাদী কৌপীন প্রদান প্রভৃতির মাধ্যমে তিনি তাঁহার মহিমা গুপ্ত না রাখিয়া ব্যক্তই করিলেন! যথাঃ-
তিলার্ধেক তোমারে যাহার দ্বেষ রহে।
ভজিলেও সে আমার প্রিয় কভু নহে।।-চৈ,ভা ২/৫
★শ্রীঅদ্বৈত প্রভুঃ- শ্রীমন্মহাপ্রভু নিজমুখে গৌর আনা শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর মহিমা ব্যক্ত করিলেনঃ-
অদ্বৈত লাগি মোর এই অবতার।
মোর কর্ণে বাজি আসে নাঢ়ার হুঙ্কার।।
শয়নে আছিনু মুঞি ক্ষীরোদসাগরে।
জাগাই আনিল মোরে নাঢ়ার হুঙ্কারে।।-চৈ, ভা ৩/১০
শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর দ্বারা শ্রীরূপ-সনাতনাদিকে প্রেম দান করিয়া তাঁহার মহিমাও সুব্যক্ত করিলেনঃ-
প্রেমভক্তি বাঞ্চা যদি করহ এখনে।
তবে ধরি পড় এই অদ্বৈত চরণে।।
ভক্তির ভাণ্ডারী শ্রীঅদ্বৈত মহাশয়।
অদ্বৈতের কৃপায় সে কৃষ্ণভক্তি হয়।।
শুনিয়া প্রভুর আজ্ঞা দুই মহাজনে।
দণ্ডবৎ পড়িলেন অদ্বৈত চরণে।।
জয় জয় শ্রীঅদ্বৈত পতিতপাবন।
মুই দুই পতিতেরে করহ মোচন।।-চৈ, ভা ৩/১০
★শ্রীবাস পণ্ডিতঃ-
বহুস্থলে শ্রীবাস পণ্ডিতের মহিমাও ভক্তসমাজে ব্যক্ত করিয়াছেনঃ-
বিড়াল কুক্কুর আদি বাড়ির তোমার।
স্থির হইবেক ভক্তি আমাতে সভার।।-চৈ, ভা ২/৮
প্রভু বলে কি বলিলি পণ্ডিত শ্রীবাস।
তোর কি অন্ন দুঃখে হৈব উপবাস।।
যদি কদাচিৎ বা লক্ষ্মী ভিক্ষা করে।
তথাপিও দারিদ্র্য নহিব তোর ঘরে।।-চৈ,ভা ৩/৫/৫৪
★শ্রীগদাধর পণ্ডিতঃ-
শ্রীচৈতন্য ভাগবত ও শ্রীচরিতামৃতে মহাপ্রভু কর্তৃক শ্রীগদাধর পণ্ডিতের মহিমা প্রায় ব্যক্ত হয় নাই বলিলে অত্যুক্তি হয় না! শ্রীনরহরি সরকার শ্রীকৃষ্ণভজনামৃতেঃ-
তথাপি রাধেতি নাম রূপঞ্চ ব্যক্তং ধরণীমণ্ডলে ন প্রকাশিতবান্। শ্রীরাধা গদাধর পণ্ডিত এব, সকলচরিত্রভাবঞ্চ প্রশস্য স্বৈর্বিখ্যাতঃ। তথাপি নাম তস্যাপি রূপঞ্চ নিগূঢ়ং কৃতম্। ভাবৈস্তু রাধাকৃষ্ণমেব গীতবান্,রাধাকৃষ্ণং বিনা কিমন্যং ন বোধয়ামাস।রাধাকৃষ্ণভাবময়ং জগদেব কৃতং, তদেব সম্প্রকাশিতবান্।রাধানাম্নঃ শ্রবণাৎ স্মরণাদ্বিলপিতবান্, রুদিতবান্, প্রমুদিতবান্, নর্ত্তিতবান্,তথাপি সংগোপিতবানেব।
অনুবাদঃ মহাপ্রভু জগতে ❝রাধা❞ এই নাম ও ইহার রূপ স্পষ্টভাবে পৃথিবীতে প্রকাশ করেন নাই। শ্রীগদাধর পণ্ডিতই "রাধা" বলিয়া (মহাপ্রভুর) নিজগণকর্তৃক সকল চরিত্র ও ভাবের প্রশংসাপূর্বক বিশেষভাবে প্রচারিত হইয়াছেন। তথাপি, তাঁহার নাম এবং রূপও বিশেষভাবে গোপন রাখা হইয়াছে। কেবল অনুরাগভরে শ্রীরাধাকৃষ্ণেরই কীর্তন করিয়াছেন, (কাহাকেও) শ্রীরাধাকৃষ্ণ ব্যতীত অপর কাহাকেও (তত্ত্বকে) বুঝান নাই। সমগ্র জগৎকে শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভাবময়ই করিয়াছেন এবং তাহাই সম্যকরূপে প্রকাশ করিয়াছেন। শ্রীরাধার নামের শ্রবণে ও স্মরণে বিলাপ, রোদন, প্রমোদ ও নৃত্য করিয়াছেন,তথাপি তাঁহাকে (শ্রীগদাধরকে) সংগোপনই করিয়াছেন।
শ্রীনরহরি সরকার ঠাকুর স্বলিখিত শ্রীকৃষ্ণভজনামৃত গ্রন্থের (৩৯ পৃষ্ঠায় ১২ নং শ্লোকে) অধিক উল্লেখ করিয়াছেন যে,
"-----শ্রীমন্মহাপ্রভু যেই প্রকার সর্ব অবতার শিরোমণি, গৌরশক্তি শ্রীল গদাধর পণ্ডিত গোস্বামীও সেইরূপ সমগ্র বৈভবময়ী লক্ষ্মীসমূহের প্রধানা কিংবা (স্ত্রী) ভগবৎকান্তা সমূহের শিরোমণি!------"
"শ্রীগদাধর পণ্ডিতস্তু যথা শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যঃ সর্বাবতার প্রকাশভূমি স্তথা সকল বৈভবময় শ্রী-সমূহপ্রধানভূতঃ।...ততস্তত্রৈব পণ্ডিত দেহে রাধাভাবেন বিলাসং কুরুতে। বৈভবপক্ষ চাতুর্যে লক্ষ্মী, রুক্মিণী, সীতা, কাত্যায়নী পরমপ্রেয়সী, সর্বময়স্তু পণ্ডিত এব!"
শ্রীকৃষ্ণভজনামৃতে গৌর-গদাধরের মিলনের সত্যতা ও নিত্যত্বঃ-
কৃষ্ণস্যোদাসীনভাবেন বিলাসবিনোদময় সকল স্বভাবস্তেন রাধাকৃষ্ণ মিলনমেব সত্যম্।তথা ❝শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-গদাধর পণ্ডিত- মিলনম্ ( এব সত্যম্)❞ ইতি।ভক্তানামিদমেব সত্যম্ জীবনঞ্চেতি।।
অনুবাদঃ কৃষ্ণের সমগ্র স্বভাবটি, (অন্য) নিরপেক্ষরূপে বিলাসবিনোদনময়, সেইহেতু শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলনই সত্য বস্তু। তদ্রুপ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ও শ্রীগদাধর পণ্ডিতের মিলনও সত্য ইহাই ভক্তগণের নিকট যথার্থ বস্তু এবং জীবন বটে।।
শ্রীল কর্ণপূরের সিদ্ধান্ত অনুসারে গৌরগণোদ্দেশ দীপিকায় বলিয়াছেনঃ-
শ্রীরাধা প্রেমরূপা যা পুরা বৃন্দাবনেশ্বরী।
সা শ্রীগদাধরো গৌরবল্লভঃ পণ্ডিতাখ্যকঃ।।১৪৭
পূর্বে যিনি বৃন্দাবনেশ্বরী প্রেমরূপা শ্রীরাধা ছিলেন, তিনিই অধুনা গৌরবল্লভ শ্রীগদাধর পণ্ডিত গোস্বামী।
সুতারাং শ্রীশ্রীগৌর-গদাধর যুগলই কলিকালের একমাত্র মুখ্য বিষয় কিন্তু ভক্তবাক্য রক্ষার্থে চ্ছন্ন।
জয় গৌর-গদাধর জয় নিত্যানন্দ
শ্রীঅদ্বৈত শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।