বিবাহ 💒 বিভ্রাট (১৫)
-----------------------------------------------------------------------
সারা দেশ এক অদ্ভুত কাহিনীর সাক্ষী দেখবে।মনে রাখবে গরিব হয়ে জন্মানো কত বড় পাপ। যে ভাষা
মুখে প্রকাশ করতে জ্বীভ আরষ্ট হয়ে যায় ।
বনিতা মুখ ঢেকে এক পাশে বসে অশ্রু নির্যাস
বর্ষন করে যাচ্ছে। আজ ওঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ
জীবন পরিক্ষা। পরিবেশ আজ অন্য পর্যায়ে গেছে।
সবাই রাস্তার পানে চেয়ে আছে বনিতা দের বাড়ির লোকজন কখন এসে পৌঁছায়। বিকেলের রোদ পড়তেই গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে গেলো।
পাড়ার জেঠামশায় ছেলে বৌয়েরা সবাই এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে বৌয়ের বাড়ির লোকজন
এসে পৌঁছায়। ওদের দেখে বনিতা আরো হাউ হাউ
করে কেঁদে উঠলো। সবাই বলছে কেঁদোনা বৌমা
আগে দরবার বসুক কি হয় দেখা যাবে। ছেলের বাবাকে ডাকা হলো মাকেও ডাকা হলো ।
উপস্থিত সভায় উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
বিচার পতির দিকে। কি হয় কি হতে চলেছে।
মেয়ের পক্ষের লোকজন চুপ চাপ বসে আছে।
বিচারকের নজর পড়লো অভিভাবকের উপড়।
বলেন আপনার কথা শশুর মহাশয়কে প্রশ্ন
করলেন বিচারক। কি এমন সমস্যা যে জন্য
ঘড়ের বৌমাকে ফেরৎ পাঠাতে চাইছেন।
শ শুরের উত্তর এলো যা দাবি কথা ছিলো।
তা মেয়ে পক্ষ মিটাতে পারে না ই ।তাই আমরা
এই মেয়েকে গ্রহন করা সম্ভব নয়। কথা শুনার
পর সবাই রে রে করে উঠলো, একি অবস্থা একি কাণ্ড এটা কোন কথা হলো। আরো বিস্তর কথা
হতেই থাকে। কে শুনে কার কথা। বিচার সভা
অন্য রকম পর্যায়ে চলে গেছে কেউ থামছেনা।
বিচারক ধমকিয়ে বলে উঠলেন। আরে থামো
থামো। সবাই একেবারে নিরব। দেখ এবার কি
হয়। ছেলেকে ডাকা হলো, নির্বাক হয়ে জামাই
বাবাজীর কথা শুনার জন্য উৎসাহিত।
জামাই বাবাজী একবার বল তোমার কথা কি
তোমার অভিমত। তুমি বিয়ে করেছ সঙ্সার
তুমি করবে মন খুলে কথা বলো তো। ঠায়
দাঁড়িয়ে আছে মুখে কোন কথা নেই, মায়ের
মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আর এ দিকে মেয়ের
লোকজন কে ডেকে প্রশ্ন করা হলো কি হে মশায়
কিছু বলার আছে তো বলুন। মেয়ের জামাই বাবু
হাত জোড় করে বললেন আমাদের কে সময় দিতে
হবে আগেই তো বলে দিয়েছেন, বিয়ের বাসরে।
এটাই কি আপনাদের শেষ কথা। বিচারক জীগ্গাসা
করলেন। আমরা গরিব মানুষ আমাদের এই মুহূর্তে কিছু করার নেই। সবাই বলে উঠলেন, উনাদের
কথা পাক্কা,এবার জামাই পক্ষের কথা শুনবে বলে
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছে। সবাই উৎকণ্ঠায়
আড়ষ্ঠ। নিঝুম গভীর রাত দুরে শেয়ালের ডাক
কুকুরের ঘেউ ঘেউ মাঝে মাঝে নিশাচর পাখির
ডানা ঝাপটানোর শব্দ।সভাস্থল এমন এক স্থানে
পৌঁছে গেছে সবার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।
এই নিশীথ রাতে ভগবান কার ভাগ্যে কি লিখে
রেখেছেন উনিই জানেন। রাতের নিরবতা ভেঙ্গে
সবার মাঝে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে একটি কথা বলে
উঠলো আমি ওঁকে নিয়ে ঘড় করতে পারবো না।
মাসি বৌদি রা বলে উঠলো তবে সিঁদুর কেন পড়িয়ে
ছিলে,এই মহান দ্বায়িত্ব কে পালন করবে।
এটা শেষ তোমাকেই নিতে হবে। যা করবে তারা তারী
করো। রাত যে পোহালো গো। তুমি না পূরুষ মানুষ
তুমি একজন নারীকে এ ভাবে অপমান করলে।
কেন তবে বাড়িতে নিয়ে এলে।। কথার পর কথা
চলতেই থাকলো । যা করার করে নাও আর সময়
নেই আমরা এবার উঠবো। ও মশায় রাত যে শেষ
হয়ে এলো গো। কেউ এ কথাখানি বলে উঠলেন।
অবশেষে বিচারক জামাই মেয়েকে ডেকে বললেন
তোমাদের কথা আমাকে বলো, বনিতা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। চোখের জলে বুক ভিজে যাচ্ছে।
অন্ধকারে এক ঝটকায় জামাই এসে বনিতার কপালের। সিঁদুর রেখা মুছে দিয়ে বিচারালয় থেকে
পালায়ন করলো। সবাই এক সুরে বলে উঠলেন
একি করলে তুমি, সর্বনাশ করে দিলে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সব ধূলায় মিশিয়ে দিলে।
সহসা বনিতা ভুমি পড়ে শুয়ে পরিল। অজ্ঞান
অবস্থান পাশের বাড়িতে জল ঢেলে হুঁস ফেরালেন।
এই কাহিনী একটি সত্যিকারের ঘটনা যা ঘটেছিলো
৭০দশকের মাঝে। লিখতে গিয়ে আমি নিজেই
কেঁদে ফেলেছিলাম। সবাই ভালো থাকবেন
নমস্কার। শুভ ভবতু ঃ । #🤘my_life_my_rule