#💕Express Emotion🎁
পাইকগাছায় শিববাড়ী রাস মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত ধর্মীয় সহিংসতার নীলনকশা ফাঁস
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের শিববাড়ী এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী রাস মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের ধর্মীয় দাঙ্গা থেকে রক্ষা পেয়েছে পাইকগাছা।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা হঠাৎ করে শিববাড়ী রাস মন্দিরে প্রবেশ করে দেখতে পান প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং মন্দিরের ভেতরে জুতা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মন্দির ও আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়, যার ফলে বড় ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়।
অনুসন্ধানে উঠে এলো ভয়ংকর পরিকল্পনা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রতিমা ভাঙচুর ছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নাশকতা দমন জোরদার হওয়ায় তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। সেখান থেকেই ধর্মীয় সহিংসতা উসকে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
পরিকল্পনার নির্দেশদাতা ও সংশ্লিষ্টরা
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যাদের নাম উঠে এসেছে—
আনন্দ মোহন বিশ্বাস
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান
নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক
(মূল পরিকল্পনার নির্দেশদাতা)
রিপন রায়
উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি
(পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা)
আনারুল ইসলাম আনার ওরফে টোল আনারুল
সভাপতি, পৌরসভা শ্রমিকলীগ
(পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত)
জিএম রুহুল আমিন
সদস্য, পৌরসভা কৃষকলীগ
(পরিকল্পনায় সহায়তাকারী)
ভবেন সানা
সভাপতি, ৯নং ওয়ার্ড পৌরসভা আওয়ামী লীগ
(সনাতন সম্প্রদায়কে উসকানির দায়িত্বে)
বৈঠক ও পরিকল্পনার নীলনকশা
গত ৯ জানুয়ারি রাতে ৯নং ওয়ার্ডের শিববাড়ী এলাকায় রিপন রায়ের নিজ বাড়িতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন আনারুল ইসলাম আনার, ভবেন সানা, জিএম রুহুল আমিন এবং ভাঙচুরে জড়িত এক বা একাধিক ব্যক্তি।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—
নিরিবিলি ও কম যাতায়াতপূর্ণ একটি মন্দির নির্বাচন করা হবে
ভাঙচুরের পর স্থানীয় সনাতনীদের উসকে দিয়ে মিছিল করানো হবে
সনাতনীদের ভেতরে মিশে মুসলিমবিরোধী স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হবে
পরবর্তীতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে হিন্দু–মুসলিম দাঙ্গা বাধানো হবে
এই পরিকল্পনার জন্য শিববাড়ী শ্রী শ্রী রাস মন্দিরকে ‘আদর্শ লক্ষ্য’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
পুলিশের তৎপরতায় ব্যর্থ ষড়যন্ত্র
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে জুতা ঝুলিয়ে দেওয়া হলেও, পাইকগাছা থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতা সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়।
ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য এলাকায় অবস্থান নেয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
এদিকে খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান নেন।
গা-ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্তরা
ঘটনা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিকল্পনায় জড়িতরা আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এবার পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পাওয়া গেলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের চেষ্টা পুনরায় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দাবি
স্থানীয়দের দাবি—
“ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”