২০০৬-এর পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গের জন্য কী করতে চেয়েছিলেন
২০০৬ সালে জেতার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গকে **“শুধু রাজনীতি” থেকে “চাকরি + শিল্প”**-এর দিকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর মূল পরিকল্পনাটা ছিল একদম সোজা: **বড় বিনিয়োগ আনা, আধুনিক শিল্প ও আইটি হাব গড়ে তোলা, এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করা**—যদিও তাতে বাম রাজনীতির মধ্যে শিল্পপন্থী অবস্থান নিতে হয়।
* **রাজারহাট / নিউ টাউন (টাউনশিপ + আইটি করিডোর):**
রাজারহাটকে পরিকল্পিতভাবে “নতুন কলকাতা” হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন—বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট, অফিস, আবাসন, এবং আইটি/আইটিইএস চাকরির মাধ্যমে—যাতে বড় কোম্পানি আসে এবং উচ্চ বেতনের সার্ভিস সেক্টরের কাজ তৈরি হয়।
* **ইকোস্পেস (রাজারহাট/নিউ টাউন):** কর্পোরেট অফিস বসানোর জন্য বড় বিজনেস পার্ক—আইটি/আইটিইএস-এ স্থায়ী চাকরি তৈরির লক্ষ্য।
* **ইউনিটেক / বেসরকারি টাউনশিপ প্রকল্প (রাজারহাট/নিউ টাউন):** বড় প্রাইভেট ডেভেলপারদের মাধ্যমে রিয়েল এস্টেট ও কমার্শিয়াল গ্রোথ দ্রুত করা এবং কর্পোরেট বিনিয়োগ টানা।
* **গীতাঞ্জলি পার্ক (রাজারহাট/নিউ টাউন আইটি ক্যাম্পাস এলাকা):** রাজারহাট বেল্টে বড় আইটি ক্যাম্পাস/বিজনেস পার্ক গড়ে তুলে টেক ইকোসিস্টেম শক্ত করা।
* **সিঙ্গুর অটোমোবাইল প্রকল্প:**
বড় একটি অটোমোবাইল কারখানা (এবং তার সাপ্লায়ার নেটওয়ার্ক) এনে হাজার হাজার সরাসরি ও পরোক্ষ উৎপাদন-চাকরি তৈরি করা এবং দেশকে বার্তা দেওয়া—**“বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রি-রেডি”**।
* **নন্দীগ্রাম কেমিক্যাল হাব:**
বড় কেমিক্যাল/পেট্রোকেমিক্যাল হাব গড়ে তুলে ভারী শিল্পের চাকরি, সহায়ক শিল্প (ancillaries), লজিস্টিকস, এবং ডাউনস্ট্রিম ম্যানুফ্যাকচারিং তৈরি করার লক্ষ্য।
* **শিলিগুড়ি বায়োটেকনোলজি পার্ক (উত্তরবঙ্গ):**
কলকাতার বাইরে উন্নয়ন ছড়াতে শিলিগুড়ির কাছে বায়োটেক ক্লাস্টার শুরু করা—উত্তরবঙ্গে দক্ষ বিজ্ঞান/শিল্পভিত্তিক চাকরি তৈরির উদ্দেশ্যে।
* **শালবনি স্টিল ওয়ার্কস:**
একটি মেগা স্টিল প্রকল্প এনে ভারী শিল্পকে পুনর্জীবিত করা, বড় শ্রমবাজার তৈরি করা, এবং সহায়ক ইউনিট, পরিবহন ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ঘটানো—বিশেষ করে জঙ্গলমহল বেল্টে।
* **বাঁটালা আইটি পার্ক:**
লেদার কমপ্লেক্স এলাকার কাছে আইটি পার্ক জোন তৈরি করে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা—পুরনো খাতের বাইরে গিয়ে নতুন শহুরে কর্মসংস্থান গড়া।
সব মিলিয়ে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের জন্য **একটা নতুন অর্থনৈতিক পরিচয়** তৈরি করতে চেয়েছিলেন—**আইটি + উৎপাদন শিল্প + মেগা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব + বেসরকারি বিনিয়োগ**, যার প্রতিশ্রুতি ছিল **চাকরি, সাপ্লাই চেইন, এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি**। কিন্তু
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শুধু বিরোধীদের প্রতিবাদে ব্যর্থ হননি। তিনি ব্যর্থ হয়েছেন কারণ **তাঁর নিজের দলই ভিতর থেকে তাঁকে নষ্ট করেছে**। তিনি যখন শিল্প আর কর্মসংস্থান আনতে চেয়েছিলেন, তখন CPI(M)-এর স্থানীয় দাপুটে নেতা আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িত চক্র “উন্নয়ন”-কে বদলে দিয়েছিল **দাদাগিরি, ভয় দেখানো, আর জোর করে জমি নেওয়ার রাজনীতিতে**। সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম শুধু “রাস্তায় রাজনীতি”র কারণে জ্বলে ওঠেনি—জ্বলে উঠেছিল কারণ মাঠের স্তরে পার্টির ক্যাডাররা **সেবক নয়, শাসকের মতো আচরণ করেছিল**, আর সরকার নিজেরই যন্ত্রপাতির সামনে **অসহায়** দেখাচ্ছিল।
সবচেয়ে কুৎসিত সত্য হলো এটা: **বুদ্ধদেবের সবচেয়ে বড় শত্রু রাইটার্স বিল্ডিং-এর বাইরে ছিল না—ছিল তাঁর নিজের দলের অফিসের ভেতরে**। লক্ষ্মণ শেঠদের মতো লোকজন আর স্থানীয় ক্ষমতার নেটওয়ার্ক নীতিকে বাঁচাতে চায়নি; তারা বাঁচাতে চেয়েছিল **নিজেদের নিয়ন্ত্রণ**। সাধারণ গ্রামবাসীদের তারা নাগরিক হিসেবে দেখেনি—দেখেছিল **বাধা** হিসেবে। আর সেই কারণেই তারা বিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছিল সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র: **জনরাগ**। এটা প্রতিপক্ষের “বিশ্বাসঘাতকতা” ছিল না—এটা ছিল **ভিতরের লোকদের আত্মঘাতী ধ্বংসনীতি**।
তাই হ্যাঁ—বুদ্ধদেবের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তাঁর নিজের দলের **অহংকার, ভেতরের ছুরিকাঘাত, আর ক্যাডারদের দম্ভ**—সব মিলিয়ে সেই পরিকল্পনাকে পরিণত করেছিল **একটা রাজনৈতিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়**।👏👏✅✅
#📰দেশের আপডেট📰 #📈লেটেস্ট আপডেট📰 #📰রাজ্যের আপডেট📰 #📰আন্তর্জাতিক আপডেট📰 #👩সি পি আই এম -CPIM🧑