রাম নবমীর শুভেচ্ছা

Sandy
2.9K জন দেখলো
4 মাস আগে
""হৈমন্তীকা দেবী""ই দেবী দুর্গা"" 🕉️🙏💡🙏🔱🙏💡🙏🕉️ জগদ্ধাত্রী পুজোই কল্যাণকর,তিনিই শ্রেষ্ঠা। একই দেবীর দুই রূপ।একজন দেবী দুর্গা,অন্য জন জগদ্ধাত্রী দেবী।দুর্গা পুজোর ঠিক এক মাস পরেই হয় জগদ্ধাত্রী পুজো। আশ্বিন মাসের শুক্লা অষ্টমীতে দেবী দুর্গার মূল পুজো আর কার্তিকের শুক্লা নবমীতে দেবী জগদ্ধাত্রীর।নামেই বোঝা যায়,জগদ্ধাত্রী হলেন জগতের ধাত্রী।তিনিই জগৎ সভ্যতার পালিকা শক্তি।তিনি দেবী দুর্গারই আর এক রূপ।তাই জগদ্ধাত্রীর প্রণামমন্ত্রে তাঁকে ‘দুর্গা’ বলে স্তুতি করা হয়েছে।............শ্ৰী শিব বললেন,হে জগদ্ধাত্ৰি...! তুমি নিখিল জগতের আধার ও আধেয় স্বরূপ,তুমি ধৃতিরূপা,তুমি সমস্ত জগতের ভার বহন করছ,তুমি অচল স্বরূপা; জগৎ ধারণ করেও তুমি ধীরভাবে অবস্থিতা রয়েছ তোমাকে নমস্কার৷[>শ্রীশিব উবাচ।  আধারভুতে চাধেয়ে ধৃতিরূপে ধুরন্ধারে।  ধ্রুবে ধ্রুবপদে ধীরে জগদ্ধাত্ৰি, নমোহস্তুতে॥<]  আবার বললেন....তুমি শব,তুমিই শক্তি,তুমিই শক্তিতে অবস্থান করছ,আবার তুমিই শক্তি বিগ্ৰহধারিণী।তুমি শাক্তদের সপ্তাচারে সন্তুষ্টা।হে দেবি...! হে জগদ্ধাত্ৰি...! তোমাকে নমস্কার।[>শবাকারে শক্তিরূপে শক্তিস্থে শক্তিবিগ্ৰহে। শাক্তাচার-প্ৰিয়ে দেবি জগদ্ধাত্ৰি নমোহস্তুতে<] এভাবেই আরো শ্লোক বলেই চললেন দেবাদিদেব মহাদেব...... দুই দেবীই ত্রিনয়না ও সিংহবাহিনী।তবে দুর্গার মতো জগদ্ধাত্রী দশভূজা নন।তাঁর চার হাতে শঙ্খ,চক্র,ধনুক ও বাণ থাকে।গলায় থাকে নাগযজ্ঞোপবীত।বাহন সিংহের নীচে হাতি। এই হাতি আসলে করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ হাতিরূপী অসুর। দেবদেবীদের মধ্যে জগদ্ধাত্রীই সর্বশ্রেষ্ঠা। নিখিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ কে? অগ্নি? বায়ু? বরুণ? চন্দ্র? না, অন্য কোন দেবতা?.....!!!!প্রশ্ন শুনেই চার জনে হাত তুলে বসে আছে ....ওই একটু মজা করে লিখি....😁😁😁😁😁‼️একদা প্রথমোক্ত দেবতা-চতুষ্টয় ভ্রান্ত গর্ব্ববশতঃ নিজদিগকেই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ এবং জগতের ঈশ্বর ব’লে সিদ্ধান্ত করেন।★তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন— মহাশক্তি-রূপিণী জগদ্ধাত্রীর শক্তিতেই তাঁরা শক্তিমান্।এর পরে কিভাবে দেবী জগদ্ধাত্রী অহঙ্কারী দেবতাদের গর্ব চূর্ণ করেছিলেন সেই কাহিনিও লিখি। ..... আসলে ..... দশপ্রহরণধারিনী মহামায়ার হাতে মহিষাসুর বধের পরে দেবতারা খুব অহঙ্কারী হয়ে পরেন।তাঁদের ধারণা,তাঁরা অস্ত্র দান করার জন্যই দেবী দুর্গা অসুর-নাশ করতে পেরেছেন।মহামায়ার শক্তিকে তাঁরা অস্বীকার করতে চান।ভুলে যান মহাশক্তি-রূপিণী জগদ্ধাত্রীর শক্তিতেই তাঁরা শক্তিমান।সেই অজ্ঞতাকে ভুল প্রমাণ করতে★ তিন কোটি সূর্যের সমষ্টি'গত দীপ্তি নিয়ে আবির্ভূত হন জ্যোতির্ময়ী জগদ্ধাত্রী।🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏লিখছি কোন কালে ???‼️যেখানে নারী কুলের'ই সন্মান নেই,প্রায় বছর চারেক আগে আমার পোস্টে অনেক ইউজার'ই,আসতো,তারপর কি করে যেনো সব পালিয়ে গেলো😁😁😁😁এক জন মন্তব্য করেছিল,এক হাতে তালি বাজে না,ঠিক,কিন্তু,দেখুন যে বলেছিল আজ সে ঘর বন্ধি,বাজার থেকে মাছ কিনতে গেলে ঘোলা জলের মাছ নিশ্চই খুজি না,গঙ্গার পরিস্রুত জলের মাছ কিনি বা কিনতে চেষ্টা করি,কিন্তু দেখবেন ওই গঙ্গা জলে কত অপরিশ্রুত বিষয়'ই না ভেসে বেড়ায়।আমাদের আর.জি. করের অভায়া,নিশ্চই পরিস্রুত।আমি লিখেছিলাম শ্রী কৃষ্ণই সাহায্য করবেন এক মাত্র,কথাটার অর্থ আজ বোঝাই,মর্তে যারা তাঁর জীবন নিয়েছে তাদের পরিণতি আজ খুব একটা নির্মল নয় যারা খোঁজ রাখেন জানতে পারেন।আর অভায়াও এখন স্বর্গে,ফিরবেন এক দিন,যেমন শ্রী বিষ্ণু অন্য রূপে শ্রী কৃষ্ণ রূপে ফিরেছিলেন। 🙏🙏🙏🙏🙏 যাক.....!!!! দেবী একটি তৃণখণ্ড সামনে রেখে, বায়ু ও অগ্নিকে স্থানচ্যুত বা দগ্ধীভূত করার নির্দেশ দেন।কিন্তু কেউই তা করতে পারেন না।বুঝতে পারেন,বৃথাই অহঙ্কার,একখণ্ড তৃণের শক্তিও তাঁদের নেই।বুঝতে পেরেই সকলে দেবী জগদ্ধাত্রীকে সকল শক্তির শ্রেষ্ঠ হিসেবে গ্রহণ করেন।দেবী তাঁর তেজো-রাশি স্তিমিত করে এক অনিন্দ্য মূর্তি ধারণ করলে সকলে ত্রিনয়না,চতুর্ভূজা,রক্তাম্বরা,সালংকারা, "নাগযজ্ঞোপবীতধারিনী" জগদ্ধাত্রীর দর্শন পান।মঙ্গলময়ী মহা'দেবীর সেই মূর্তি দেখে দেবগণ তাঁর স্তবে বসেন৷.... শিব তথা ভোলা মহেশ্বর বলতে /বোঝাতে থাকেন ..... হে জগদ্ধাত্রি! তুমি অগম্যস্বরূপা,জগতের আদিভূত, মাহেশ্বরী, তুমি বরাঙ্গনাস্বরূপা, অশেষরূপ-ধারিণী,তোমাকে নমস্কার। হে জগদ্ধাত্রি! তুমি দ্বিসপ্তকোটি মন্ত্রের শক্তিস্বরূপ, নিত্যা, সৰ্ব্বশক্তিস্বরূপিণী, তোমাকে নমস্কার।[>অগম্যে জগতামাদ্যে মাহেশ্বরি বরাঙ্গনে।  অশেষরূপে রূপস্থে জগদ্ধাত্রি নমোহস্তুতে॥ দ্বিসপ্তকোটিমন্ত্রাণাং শক্তিরূপে সনাতনি।  সৰ্ব্বশক্তিস্বরূপে চ জগদ্ধাত্রি নমোহস্তুতে॥<] ......‼️‼️‼️জগদ্ধাত্রী যে দেবীশ্রেষ্ঠা,তা শোনা যায় ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের মুখেও।তিনি বলেছেন,...“জগদ্ধাত্রী রূপের মানে কী জান?যিনি জগৎ কে ধারণ করে আছেন।তিনি না ধরলে জগৎ পরে যায়— নষ্ট হয়ে যায়।মনকরী'কে যে বশ করতে পারে তারই হৃদয়ে জগদ্ধাত্রী উদয় হয়।”....মদমত্ত হাতি,তার উপরে শক্তির প্রতীক সিংহ আর তার উপরে দেবী জগদ্ধাত্রী।তিনিই মানুষের মত্ত মনকে বশ করতে পারেন।আসলে,কি জানেন???আমাদের মন মত্ত হস্তীর ন্যায় সর্ব্বদা মদান্বিত।সে অস্থির,উন্মাদ।এই দুরন্ত মনকরী'কে সদা উদ্যম'শীল বিবেক'সিংহের দ্বারা মর্দ্দন করতে হবে— মহাশক্তি'রূপিণী দেবীর বশীভূত করতে হবে।মন বশীভূত হ’লেই অন্তরে চৈতন্যময়ী জগদ্ধাত্রীর মহাপ্রকাশ অনায়াসলভ্য হয়।মনে রাখবেন সিংহারূঢ়া জগদ্ধাত্রী যাঁকে রক্ষা করেন তাঁর পতন নেই,বিনাশ নেই।মূলত কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতেই জগদ্ধাত্রী পুজো বিহিত। তবে অনেক জায়গাতেই সপ্তমী,অষ্টমী,নবমী তিথিতে আলাদা আলাদা পুজো হয়।নবমী তিথিতে একসঙ্গে তিন তিথির পুজোও করা হয়। “দয়া রূপে দয়া দৃষ্টে দয়ার্দ্রে দুঃখ মোচনি। সর্ব্বাপত্তারিকে দুর্গে জগদ্ধাত্রী নমহস্তুতে।।” পোস্ট এ পুরো শ্লোক শুনুন,আমার দেখা চন্দননগরের কিছু ঐতিহ্যময় প্রতিমা দর্শন করুন।সকলের মঙ্গল কাম্য। 🙏শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী দেব্যই নমঃ🙏 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏 #শুভেচ্ছা #ভক্তি #চন্দননগর ঐতিহ্য জগদ্ধাত্রী প্রতিমা #❤️❤️❤️❤️ I love chandannagar #জগদ্ধাত্রী
Sandy
3.4K জন দেখলো
5 মাস আগে
বিদায়ের মধ্যেই ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি, 🕉️⚜️🕉️⚜️🕉️⚜️🕉️⚜️🕉️⚜️ 🙄‼️❕⚜️🕉️⚜️❕‼️🙄 ন’দিন ন’রাত্রি মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করে শেষপর্যন্ত দশম দিনে দেবী জয়ী হন।হৃত স্বর্গরাজ্য ফিরে পেয়ে স্বর্গ ও মর্ত্যে পালিত হয় বিজয়োৎসব।সেই ঘটনাকে মনে রেখেই দশমীর আগে ‘বিজয়া’ শব্দের প্রতিষ্ঠা। সম্বচ্ছরের শোক তাপ জ্বালা জুড়িয়ে তিনটে মাত্র দিনের জন্য যে উমাকে গিরিজায়া বুকের মাঝে পেয়েছিলেন,শত অনুরোধ, অশ্রুমোচন, বিলাপ,দীর্ঘশ্বাসের পথ পেরিয়ে হলেও সেই উমাকে নবমী নিশি পার করেই প্রস্তুত করতে হবে পতিগৃহে যাত্রার জন্য।শোকের ছায়া.....❕❕বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "মৃণালিনী" উপন্যাসে তার অনেকটাই ব্যাক্ত।আমি একটু রূপক ভাবে লিখি ......ডানার নীল রং আকাশের গায়ে মাখিয়ে আগে আগে উড়ে যাবে নীলকণ্ঠ পাখি,কৈলাসে ভূতপ্রেত বেষ্টিত নন্দী-ভৃঙ্গীর মাঝে বসে থাকা শ্মশানচারী মহাদেবকে সেই আগমনের খবর পৌঁছে দিতে।তবু মায়ের মন কি মানে...!!!‼️ সমস্ত রাগ গিয়ে পরে সেই নবমী নিশির উপর। নারীর স্বামীগৃহে যাত্রার পাশাপাশি মায়ের চিরন্তন এই বেদনার কথা ‘গিরীশের রাণী’র বয়ানে তাঁর ‘বিজয়া দশমী’ কবিতায় ধরে রেখেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ....‼️..... 🙄‼️"তিনটি দিনেতে,কহ,লো তারা-কুন্তলে, এ দীর্ঘ বিরহ-জ্বালা এ মন জুড়াবে?‼️ তিন দিন স্বর্ণদীপ জ্বলিতেছে ঘরে দূর করি অন্ধকার;শুনিতেছি বাণী- মিষ্টতম এ সৃষ্টিতে এ কর্ণ-কুহরে!❕❕ দ্বিগুণ আঁধার ঘর হবে,আমি জানি, নিবাও এ দীপ যদি!”- কহিলা কাতরে নবমীর নিশা-শেষে গিরীশের রাণী। মনেপরে যায় একের পর এক শাক্ত পদাবলীর বিজয়া পর্যায়ের গানগুলি।সেখানেও সেই একই আর্তি যেন শব্দের মাঝে বসে পাথর হয়ে আছে! কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্যের লেখা একটি পদে দেখতে পাই....❕❕❕ “ওরে নবমী'নিশি..! না হৈও'রে অবসান।/ শুনেছি দারুণ তুমি, না'রাখো সতের মান।।/ খলের প্রধান যত,কে আছে তোমার মত, আপনি হইয়ে হত,বধো'রে পরের'ই প্রাণ।।” ...❕❕শুধু তো মেনকা নয়, বিসর্জনের ঢাকে কাঠি পরলেই এই কাতর অনুরোধ এসে বসে আপামর বাঙালির কণ্ঠেও।পিতৃপক্ষের অবসানে মহালয়ার ভোরে পূর্বপুরুষদের তর্পণ দিয়ে যে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছিল,তারই ষষ্ঠীতে,বোধনের মাধ্যমে দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী রূপে প্রতিষ্ঠা।শরতের এই অকাল বোধনে,সপ্তমী,অষ্টমী,নবমীর পূজা পেরিয়ে,দশমীর দিন পূজার পরিসমাপ্তি। ঢাকের লয় আবাহন থেকে বিসর্জনের সুরে গড়ালেই দেবী আবার ফিরে যান তাঁর নিরাকার রূপে।তাই মাঝের কটা দিনই তাঁকে কন্যারূপে পাওয়া।আর দশমীতে সেই পেয়ে হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে থাকা বুকে একে অপরকে জড়িয়ে নিয়ে কোলাকুলি,ভাগ করে নেওয়া,কষ্টের মাঝে সিঁদুর খেলার আনন্দ, বড়োদের পা ছুঁয়ে প্রণাম(★তবে এসব আর নেই লিখতে হয় তাই লিখলাম)আর মুখে তুলে দেওয়া মিষ্টির আস্বাদে মনে করে নেওয়া ‘আসছে বছর আবার হবে’।প্রতিমা জলে পরলে একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানো।এই বিজয়া শুভেচ্ছার ইতিহাস, কেনই বা তা শুভ?শুধুমাত্র বাংলায় নয়,সারা ভারতবর্ষ জুড়ে পালিত ‘দশেরা’র প্রকৃত অর্থও বুঝতে হবে।।অতীতে দুর্গাপুজো ছিল ফসল কাটার উৎসব,কীভাবে বিলুপ্ত হল দুর্গা-ভোগ ধান?আমরা তো কেউ খোঁজই রাখি না...!!! দশমীকে ‘বিজয়া’ বলার পিছনের কারণ একটা মাত্র নয়।পুরাণ কথন অনুযায়ী, মহিষাসুর বধের যুদ্ধের সময় ন’দিন ন’রাত্রি, দেবী শেষপর্যন্ত মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হন।সেই ঘটনাকে মনে রেখেই দশমীতে ‘বিজয়া’।শ্রীশ্রীচন্ডীর কাহিনীতেও এই ঘটনারই সমর্থন পাই।আশ্বিনের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে দেবীর আবির্ভাব ও শুক্লা দশমীতে মহিষাসুর বধের কথা পাই সেখানে।দশমীর দিন উত্তর ও মধ্য ভারতে বিশেষভাবে উদাযাপিত হয় ‘দশেরা’।সংস্কৃত ‘দশহর’ শব্দটি থেকে ‘দশেরা’ শব্দটির উৎপত্তি।বাল্মিকী রচিত রামায়ণের কাহিনীসূত্র অনুযায়ী,ত্রেতা যুগে অকাল বোধনে দেবীর আশীর্বাদ পেয়ে,আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমীতেই রাবণকে বধ করতে সমর্থ হয়েছিলেন রামচন্দ্র।দশানন রাবণের সমাপ্তি সূচক দিনটিতে তাই উত্তর ও মধ্য ভারতের নানা স্থানে রাবণের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে রাবণ-দহনের মাধ্যমে ‘দশেরা’ পালন করা হয়।রাবণের পরাজয়ের আনন্দে পালিত বিজয়োৎসব আর নবরাত্রির শেষে অশুভ শক্তির বিনাশে,শুভ শক্তির বিজয়'কে মাথায় রেখে তাই দশমীতে ‘শুভ বিজয়া’ বলা চলে। আবার মাইসোরে দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের কাহিনীকে মাথায় রেখেই দশেরা পালন করা হয়।আশ্বিনের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতেই হিমালয়'দুহিতা,আমাদের ঘরের মেয়ে উমার কৈলাস যাত্রার সূত্রপাত ঘটে।পুজোর চার দিনের দিন দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন হলে দেবীকে প্রতিমার আধার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।এবার তিনি তাঁর ইচ্ছামতো স্থানে গমন করতে পারেন,তবে অনুরোধ একটাই,শত্রু বিনাশের কাজ শেষ করে যেন দেবী আবার ফিরে আসেন তাঁর পিতৃগৃহে- “ওঁ গচ্ছ দেবি পরং স্থানং যত্র দেব নিরঞ্জনঃ।অস্মাকং তু সুখং দত্তা পুনরেস্যসি সর্বদা।। … ওঁ গচ্ছ ত্বং ভগবত্যম্ব স্বস্থানং পরমেশ্বরী। শত্রোদর্পবিনাশায় পুনরাগমনায় চঃ।।” বিজয়ার বিসর্জনে দেবীকে তাই ত্যাগ নয়, আসলে তা বিশেষরূপে অর্জন।নয়ন ভুলানো রূপের চর্ম'চক্ষের বাইরে এবার তাঁকে ধরা যাবে শুধুমাত্র অনুভূতিতে।সারা বছরের অনুভূতি।তাই যেন হৃদয়ের সেই অধিষ্ঠাত্রী'কে মনে রেখে সমস্ত রাগ-ক্ষোভ-ঈর্ষা-অসূয়ার মতো ঋণাত্মক শক্তিদের দূরে সরিয়ে বিজয়ার কোলাকুলিতে প্রকৃত অর্থে মিলন মানুষের সঙ্গে মানুষের।রবীন্দ্রনাথের ‘ধর্ম’ বইটির ‘উৎসবের দিন’ প্রবন্ধের কথাও প্রাসঙ্গিক- “আজ আমাদের কীসের উৎসব? শক্তির উৎসব। … জ্ঞানে,প্রেমে,বা কর্মে মানুষ যে অপরিমেয় শক্তিকে প্রকাশ করিয়াছে,আজ আমরা সেই শক্তির গৌরব স্মরণ করিয়া উৎসব করিব।আজ আমরা আপনাকে,ব্যক্তি বিশেষ নয়,কিন্তু মানুষ বলিয়া জানিয়া ধন্য হইব।” তাই বিজয়া সম্মিলনী।★আমিও আজ বিজয়া সম্মিলনী করলাম পোস্ট দিয়ে। ভাসানের আগে বরণের সময় দেবীর কানে কানে বলে দেওয়া হয়,‘পরের বছর আবার এসো, মা!’।ঘরের মেয়েকে বিদায় দেবার এই বিষাদ গাথার সুরটিকে🙄🙄 দীনেন্দ্র কুমার রায় তাঁর ‘পল্লীচিত্র’-এর ‘দুর্গোৎসব’ রচনায় ধরে রেখেছেন- “আজ দশমীর এই বিষাদাপ্লুত প্রভাতে সানাইয়ের আর বিরাম নাই;সে শুধু কাঁদিয়া কাঁদিয়া বিরহ গাথা গাহিয়া যাইতেছে। … তিন দিনের উৎসব যে নিমিষের মধ্যে শেষ হইয়া গেল,তাই পিতা মাতার চক্ষে জল ও বক্ষে দুর্বহভার।” সেই চিরন্তন ‘যেতে নাহি দিব’-র কান্না।তবুও তো যেতে দিতে হয়। ★আমার আগের পোস্টেই একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি খুব সুন্দর বলেছেন,কান্না পেলেও মেনে নিতে হয় স্যার..... বিজয়া পেরিয়ে শুধু দেবী দুর্গার নয়,প্রবাস থেকে আসা প্রতিটা মানুষেরও তাড়া পরে নিজের ঘরে ফেরার।আগেকার দিনে যেমন নদীর ঘাটে ঘাটে জমে উঠত বাক্স প্যাঁটরা, বর্তমানে দাম বাড়ে ফ্লাইটের,‘সোশ্যাল ডিসট্যান্স’ মেনে ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপে সেরে নেওয়া যায় ভার্চুয়াল কোলাকুলি। দেশের বয়স যত বাড়ে,পায়ে হাত দিয়ে প্রণামের মানুষ ফুরোয় দ্রুত।তারই মধ্যে যতটা কাছে যাওয়া যায় আর কী! তারপর একাদশী বা দ্বাদশীর দিন সেই ‘যাত্রা করা’, বচ্ছরকার জমানো ছুটি খরচা করে ফেরা নিজের নিজের কর্মক্ষেত্রে,নিজের নিজের ঘরে,যাকে যেখানে মানায়।ফিরতে তো হয়ই,শুধু আমাদের প্রত্যেকের ভিতরে বসে থাকা নাছোড় এক নীলু অবিরাম শুধু বলে চলে – “শেষ? হ্যাঁ,শেষ। প্রণাম তোমায়, শেষ। প্রণাম তোমায়,ওই দ্বাদশীর বিকেল। প্রণাম,ওই খালের মুখে নদীর জলের ঢেউ। প্রণাম তোমায় তুলসীতলা,মঠ।প্রণাম ফুলমামি। প্রণাম,তবে প্রণাম তোমায় সুপুরিবনের সারি।”মেয়ের ‘যাত্রা করা’,বরণ ও ভাসান শেষ হলে একে অপরের মুখে তুলে দেওয়া মিষ্টি,যাতে মিশে যায় পরবর্তী দীর্ঘ অপেক্ষার রেশ।যে পথে দুর্গা বেরোবেন,সেই পদচিহ্ন ধরেই আলপনার পথ বেয়ে ফিরে আসেন শ্রী লক্ষ্মী।আশ্বিন পেরিয়ে কার্তিকে পরবে শুক্ল চাঁদের জ্যোৎস্না।নুয়ে'পরা ধানের বুকে জমে উঠবে দুধ,হিম নামবে,‘অক্ষয় মালবেরি’র ছেলেটি লণ্ঠন নিয়ে বড়পুকরের ঘাটে গিয়ে দেখবে,জলে ডোবা ঘাটের পইঠায় নিথর হয়ে কেমন স্নিগ্ধ সেঁটে থাকে শামুকেরা।...কার্তিকের ভরে ওঠা ধানের গোলার পাশ দিয়ে গৃহস্থীর আঁকা আলপনায় পা ফেলে আমাদের রূপ,জয়,যশ প্রাপ্তির প্রার্থনাকে সত্যি করে ঘরে এসে উঠবেন ঐশ্বর্যের দেবী। আবারও সেই শঙ্খ ঘোষের লেখা ‘সুপুরি'বনের সারি’ বইয়ের ফুল'মামিমার কথা,এমনই এক বিজয়া শেষের ভোরে যিনি নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন আর বোকা নীলু বিশ্বাস করেছিল,“যেন লক্ষ্মীপুজোর দিন ওই পায়ের চিহ্ন ধরে ধরে ঘরে ফিরে আসছে ফুলমামি,তার নিজের ঘরে।”তবে আমি চাইব বোকা নীলুর বিশ্বাস যেনো প্রতিটি ''অভয়া"র পিতা মাতার সাথে থাকে,তাদের সেই লক্ষী মেয়ে ফিরবে তার নিজের ঘরে লক্ষী পুজোর দিন।কিজানি হয় তো তাই,বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।মা লক্ষ্মী সকলকে ধন,মান ও ঐসর্য্যে ভরিয়ে দিক,এই কামনা রইলো। 🙏শ্রী শ্রী লক্ষী দেব্যই নমঃ 🙏 ⚜️🌸🕉️🌸🕉️🌸🕉️⚜️ #শুভেচ্ছা #🔱শুভ বিজয়ার স্ট্যাটাস 🪷 #👣জয় মা লক্ষ্মী🌷 #🙏 কোজাগরী লক্ষ্মী পুজা স্ট্যটাস ২০২৫👣 #ভক্তি
Sandy
3.7K জন দেখলো
5 মাস আগে
""টান টান উত্তেজনার সেই ৪৮ মিনিটের পুজো"" 🙏🕉️🙏🕉️🙏🕉️🙏🕉️🙏 আসলে মায়ের পুজো চলছে ...আমি আগের পোস্ট এ লিখেছি।এ যেনো গতিময়,আবেগ ঘন।শিশু থেকে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের মনের মধ্যেই একটা আনন্দ অথচ,তাতে নিজে থেকে ভক্তি মিশে থাকে,সারা বছরের থেকে আলাদা।রামায়ণ মহাভারতেও কিছু কিছু বিষয় লিখতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছে,কবিগুরু এ বিষয়ে আলোকপাত করেছিলেন ....রামায়ণে আছে এভাবে খানিকটা বলি,বোধনের মাধ্যমে মা জাগরিত হলেন,তাঁদের ঘুম ৬ মাস মানে এক রাত।কৈলাস থেকে আগত,সর্বদা করজোড়ে পূজা প্রয়োজন।শ্রী রামের অনুযোগ রাবণের প্রতি শুনলেন। শুক্লা-সপ্তমী থেকে মহা-নবমী অবধি বিশেষ পুজো চলতে লাগল।সপ্তমীর দিন দেবী স্বয়ং রামের ধনুঃশ্বরে প্রবেশ করলেন।অষ্টমীতে রামের বাণে আশ্রয় নিলেন।অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে দশানন রাবণের মস্তক পুনঃ পুনঃ ছেদন করলেন রামচন্দ্র।....‼️ দেবী দুর্গা'ও এই দুই তিথির মিলন-ক্ষণেই আবির্ভূতা হন দেবী চামুন্ডা রূপে।চন্ড এবং মুন্ড এই দুই উগ্রমূর্ত্তি ভয়ানক অসুরকে বধ করেছিলেন এই সন্ধিক্ষণে।আশ্বিন মাসে রামচন্দ্রের অকালবোধন এবং অপ্রতিরোধ্য রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার জন্য যে দুর্গাপুজোর উল্লেখ পাওয়া যায় কৃত্তিবাসের রামায়ণে সেখানেও দেখি রামচন্দ্র সন্ধিপূজা সমাপন কালে দেবীর চরণে একশো আট পদ্ম নিবেদন করার আশায় হনুমানকে দেবীদহ(মনোস সরোবর)থেকে একশো আটটি পদ্মফুল তুলে আনতে বলেন।হনুমান একশো সাতটি পদ্ম পেলেন,এটা ভুল ছিল না।হমুমানও তো জ্ঞানী,লঙ্কা জয়ে তাঁর বুদ্ধির দৌড় কম নয়।দেবীদহে আর পদ্মই ছিলনা।★ময়ের মন পেতে রামকে কম কিন্তু বেগ পেতে হয়নি,ময়ের ছল চতুরির যথেষ্ট পরিচয় ছিল।এবার প্রশ্ন কেন দেবীদহে একটি পদ্ম কম ছিল।তার কারণ স্বরূপ এটাই,দীর্ঘদিন অসুর নিধন যজ্ঞে মা দুর্গার ক্ষত বিক্ষত দেহের অসহ্য জ্বালা দেখে মহাদেব কাতর হলেন।মায়ের সারা শরীরে একশো আটটি স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল।মহাদেব তাঁকে দেবীদহে স্নান করতে বললেন সেই জ্বালা জুড়ানোর জন্য।দেবীদহে মায়ের অবতরণে একশো সাতটি ক্ষত থেকে সৃষ্টি হয়েছিল একশো সাতটি পদ্মের।মহাদেব দুর্গার এই জ্বালা সহ্য করতে না পারায় তাঁর চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু নিক্ষিপ্ত হল মায়ের একশো আটতম ক্ষতের ওপর।দেবীদহে স্নানকালে সেই অশ্রুসিক্ত ক্ষতটির থেকে যে পদ্মটি জন্ম নিয়েছিল সেটি মা নিজে হরণ করেছিলেন।🙄😁🙄কারণ স্বামীর অশ্রুসিক্ত পদ্মফুলটি কেমন করে তিনি চরণে নেবেন।আবার কৃত্তিবাসের রামায়নে পাই রাবণ নিধন যজ্ঞের প্রাক্কালে রামচন্দ্র বলছেন....‼️‼️‼️ #যুগল নয়ন মোর ফুল্ল নীলোত্পল, সংকল্প করিব পূর্ণ বুঝিয়ে সকল# ব্যাখ্যা স্বরূপ বলি.... রাম ধনুর্বাণ নিয়ে যখন নিজের নীলোত্পল সদৃশ একটি চক্ষু উত্পাটন করতে উদ্যত তখন দেবী রামচন্দ্রের হাত ধরে তাঁকে নিবৃত্ত করে বলেন.....!!!! "“অকালবোধনে পূজা কৈলে তুমি,দশভুজা বিধি মতে করিলা বিন্যাস। লোকে জানাবার জন্য আমারে করিতে ধন্য অবনীতে করিলে প্রকাশ ।। রাবণে ছাড়িনু আমি,বিনাশ করহ তুমি এত বলি হৈলা অন্তর্ধান ”" তাহলে কি ময়ের স্বতস্ফূর্ততা ছিলনা রাবণ বধে???‼️‼️‼️★★★এ প্রশ্ন আমার,আজও কি তাই এত নারী নির্যাতন?? এত পাপিষ্ঠরা ঘুরে বেড়াচ্ছে বেমালুম..!!??‼️তাই বোধয় রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে স্বয়ং বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র ও যথার্থ সময় শ্রী যুক্ত মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় কে দিয়ে মহালয়ায় গাইয়েছিলেন .... ❔❔❔❔❔ ...!!!!তব অচিন্ত্য রূপ-চরিত-মহিমা, নব শোভা,নব ধ্যান রূপায়িত প্রতিমা, বিকশিল জ্যোতি প্রীতি মঙ্গল বরণে। তুমি সাধন ধন ব্রহ্ম বোধন সাধনে।। তব প্রেম-নয়ন ভাতি নিখিল তারণী কনক-কান্তি ঝরিছে কান্ত বদনে।। হে মহালক্ষ্মী জননী গৌরী শুভদা, জয় সংগীত ধ্বনিছে তোমারই ভুবনে।। ‼️‼️‼️‼️‼️‼️‼️‼️‼️‼️‼️‼️ কি জানি হয়ত....!!!তাই দুর্গা পুজোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষণ হল এই সন্ধিপুজো।অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির শুরুর ২৪ মিনিট....এই মোট ৪৮ মিনিটের মধ্যেই  অনুষ্ঠিত হয়।খুব গুরুত্ব পূর্ণ হলো #"সময়"#, টান টান এই সময়ের মধ্যেই শেষ করতেই হবে। মহিষাসুরের সাথে যুদ্ধের সময় দেবী দুর্গার পিছন দিক থেকে আক্রমণ করেছিল দুই ভয়ানক অসুর চন্ড ও মুন্ড।দেবী তখন এক অদ্ভূত রূপ ধারণ করেন।কেশরাজিকে মাথার ওপরে সু-উচ্চ কবরীতে বেঁধে নিয়ে, কপালে প্রজ্জ্বলিত অর্ধ-চন্দ্রাকৃতি টিপ ও তিলক এঁকে, গলায় বিশাল মালা ধারণ করে,কানে সোনার কুন্ডল ও হলুদরঙা শাড়িতে নিজেকে সজ্জিত করেন।তাঁর রক্তচক্ষু,লাল জিহ্বা,নীলাভ মুখমন্ডল  এবং ত্রিনয়ন থেকে অগ্নি বর্ষণ করতে থাকেন।ঢাল ও খড়্গ নিয়ে চন্ড ও মুন্ডকে বধ করেছিলেন দেবী এই সন্ধি-পুজোর মাহেন্দ্রক্ষণে। ৪৮ মিনিট।। ‼️‼️‼️🔱☸️🔱☸️🔱তবে সন্ধিপূজার এই মাহেন্দ্রক্ষণে কেউ বলি দেন।কেউ সিঁদুর সিক্ত একমুঠো মাসকলাই বলি দেন।সব কিছুই প্রতিকী কিন্তু। সর্বকালের সর্বক্ষণের দুষ্টের দমন হয় দেবীর দ্বারা।রক্ত-বীজ অসুর কুল বিনষ্ট হয়।ঢাকের বাদ্যি বেজে ওঠে যুদ্ধ-জয়ের ভেরীর মত।একশো আট প্রদীপের আলোক-মালায় উদ্ভাসিত হয় ভারতবর্ষের আনাচকানাচ।উত্তিষ্ঠত ভারতবাসীর জাগ্রত মননে দুষ্কৃতের বিনাশিনী এবং সাধুদের পরিত্রাণ কারী মা দুর্গা কান্ডারী হয়ে প্রতিবছর অবতীর্ণ হন মর্ত্যলোকে । সংস্কৃত মন্ত্রের উচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস।শঙ্খধ্বনি,উলুধ্বনি,ঢাকের বাদ্যি,ঘন্টা,পটকা,দামামা সব মিলিয়ে শব্দের স্রোত যেন ভাসিয়ে নিয়ে যায় চারপাশ। মন্ত্রোচ্চারণ আর ১০৮ প্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে দেবী দুর্গার ঘামতেল মাখা মুখমন্ডল।অষ্টমীর বিদায় আর নবমীর আগমনে এই সন্ধিপুজো আমরাও ভক্তিপূর্ণ আনন্দিত হই কিন্তু একটু হলেও নবমীর সুর বেজে যায়,ওটা কিন্তু মন খারাপেরই পালা। সকলে মিলে আনন্দ করুন পরিবার প্রিয়জনের সাথে।এ সময়টা খুশি থাকুন সকলেই।আমার আন্তরিক শুভ কামনা রইলো। 🙏জয় মা দুর্গে দুর্গতিনাশিনী🙏 🔱☸️শুভ মহাষ্টমী☸️🔱 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏 NB.এ লেখার দায়িত্বভার নিজস্ব 🌸🌸🌸 #শুভেচ্ছা #🔱দুর্গাপুজোর মহাঅষ্টমীর স্ট্যাটাস 🪷 #🪷 শুভ শারদীয়া ২০২৫🔱 #🙏জয় মা দুর্গা🙏 #🙂ভক্তি😊
Sandy
4.4K জন দেখলো
6 মাস আগে
⚜️⭐⚜️⭐⚜️⭐⚜️⭐⚜️⭐⚜️ দুর্গাদেবীর আগমনী সংগীতই মহালয়া ‼️দানবীর কর্ণ ও মহালয়‼️ ⚜️⭐⚜️⭐⚜️⭐⚜️⭐⚜️⭐⚜️ ঐযে বলে নিয়তি কেনো বধ্যতে...‼️‼️ দানবহাভারতের আখ্যান মতে,কর্ণ কুন্তী পুত্র হয়েও নিয়তির খেলাতে নিজের অজ্ঞাতেই তিনি দুর্যোধনের সবচেয়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হন।বীরত্বের পাশাপাশি তিনি দাতা হিসেবে অদ্বিতীয় হয়ে ওঠেন।তার কাছে কিছু চেয়ে বিমুখ হয়নি কখনো কেউ।সোনা-দানা, মণিমাণিক্য যে যা চেয়েছে তাই দিয়েছেন তিনি।এমনকি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা অভেদ্য কবচকুণ্ডলও তিনি অবলীলায় হাসিমুখে দান করেছেন।কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কর্ণ নিহত হন।তবে পুণ্যময় কাজের পরিণামে স্থান পান স্বর্গে।নরলোকে যে পরিমাণ সম্পদ তিনি দান করেছিলেন তার সহস্রগুণ ফিরে আসে তাঁর কাছে।স্বর্ণ-সম্পদের বিপুল বৈভবের নিচে তিনি যেন চাপা পরে যান।তবুও দুঃখী তিনি। সব পাচ্ছেন তিনি কিন্তু পাচ্ছেন না খাদ্য।এই যন্ত্রণা তাকে অস্থির করে তোলে। ক্ষুধায় তৃষ্ণায় কাতর কর্ণ যান যমরাজের কাছে।ক্ষুব্ধ কণ্ঠেই বলেন,এ কেমন বিচার! অফুরন্ত স্বর্ণ রত্ন তিনি পাচ্ছেন,কিন্তু সেসব তো খাদ্য নয়।ক্ষুধার অন্ন নয়।কাজেই সোনাদানার তাঁর দরকার নেই।দরকার খাদ্য। কর্ণের এই জিজ্ঞাসার মুখে যমরাজ কিছুটা বিব্রত কণ্ঠেই বলেন,এর আমি কী করব? নরলোকে মানুষ যা দান করে,পরলোকে এসে তাই কয়েক সহস্রগুণ ফিরে পান।কর্ণ কুণ্ঠিত ভাবেই বলেন,আমি তো মর্ত্যে দানে কোনো ত্রুটি রাখিনি।আমার সব ধনসম্পদ আমি অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছি।তাহলে কেন বঞ্চিত থাকব খাদ্য-পানীয় থেকে?যমরাজ বলেন, তুমি ধনসম্পদ দান করেছ,এটা সত্য।কিন্তু তুমি কোনো দিন কাউকে অন্নদান করোনি। দাওনি কোনো তৃষ্ণার্তকে জল।সে কারণে এখানে বঞ্চিত তুমি সেসব থেকে।কিন্তু আমি যে ক্ষুধায় অস্থির।এর একটা বিহিত করুন আপনি।ফিরিয়ে নিন সম্পদ,পরিবর্তে দিন একটু খাদ্য।একটু জল।যমরাজ বলেন,আমি নিরুপায়।ঈশ্বরের বিধান বদলের কোনো ক্ষমতা আমার নেই।না জেনে অপরাধ করেছি।অন্ন-জল দান যে এত মহত্তোম দান, এটা জানা ছিল না।সেই অনিচ্ছাকৃত অপরাধ ক্ষমা করুন।একটা কিছু প্রতিবিধান করুন। কর্ণের প্রতি যমরাজ সদয় হন।বলেন,বেশ একটা সুযোগ তোমাকে দিচ্ছি।তুমি এক পক্ষের জন্য মর্ত্যলোকে ফিরে যাও।যথেচ্ছ দান কর অন্ন-জল।এরপর পনেরো দিনের জন্য কর্ণ ফিরে আসেন মর্ত্যে।এই পনেরো দিন তিনি অকাতরে দান করেন অন্ন-জল। পরিণামে ফিরে গিয়ে স্বর্গে,ফিরে পান অন্ন-জল।..... আশ্বিনের কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত পনেরো দিন কর্ণের ছিল দ্বিতীয় দফার মর্ত্য বাস।আর এই পনেরটি দিনই হিন্দু শাস্ত্রে পিতৃপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত।কর্ণ স্বর্গে ফিরে আসেন যে অমাবস্যা তিথিতে- সেটিই অভিহিত মহালয় বা মহালয়া নামে।‼️‼️.....আজ সেই দিন,তামাম ভারতবর্ষের বিভিন্ন মানুষ গঙ্গায় যান পিতৃ পক্ষের শেষ সময় পূর্ব পুরুষ দের অন্ন জল দান করেন।তাদের বিশ্বাস স্বর্গ থেকে তাঁরা পাপ মোচন করবেন আশীর্বাদ দেবেন। তবে শাস্ত্র-বিশেষজ্ঞরা বলেন,পিতৃপক্ষের অবসানে,অমাবস্যার অন্ধকার পেরিয়ে আমরা আলোকোজ্জ্বল দেবীপক্ষে আগমন করি,তাই সেই মহা-লগ্ন আমাদের জীবনে ‘মহালয়া’।এ ক্ষেত্রে দেবী দুর্গা কেই সেই মহান আশ্রয় বলা হয়ে থাকে এবং আঁধার থেকে আলোকে উত্তরণের লগ্ন টিকে বলা হয় মহালয়া।কিন্তু গত বছরের দগ-দগে ঘা শুকোলো না।অভয়ার পিতা মাতার চোখের জল কেউই পারেনি মোছাতে।খালি রাজনীতি সার।বাংলার মুখ্য মন্ত্রী মঞ্চে উঠে যে দান ক্ষয়রাতের আসফালন,নাচানাচি,চিৎকার করে,মানুষের করের অর্থে দম্ভ,এক দিন ছুটবে,কারণ প্রকৃত গরীব মানুষ,অসহায় ফুট পাথ বাসী গৃহ মঞ্চিত মানুষের অভিসম্পাত,তাদের অন্ন জল জোটে না,আমাদেরই হাল তলানিতে।পাপ খণ্ডাবে কে?শত "তর্পণ" এও খন্ডন সম্ভব নয়। কৃষ্ণপক্ষ বা পিতৃপক্ষের অবসান এবং শুক্লপক্ষ বা দেবীপক্ষের সূচনায় অমবস্যার একটি নির্দিষ্ট ক্ষণকে মহালয়া বলা হয়।আর এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে মহালয়া আসলে কী? মহালয়া শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল মহান যে আলয় বা আশ্রয়।অর্থাৎ মহা+আলয় জুড়ে এই শব্দ।যদিও সন্ধির নিয়ম মেনে শব্দটি‘মহালয়’ হওয়ার কথা।তবে‘মহালয়া’ বলার পিছনে কোনও ব্যকরণগত ব্যাখ্যা নেই। দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয় বলে শব্দটিকে স্ত্রীলিঙ্গ করে ‘মহালয়া’ বলা হয়।এক্ষেত্রে দেবী দুর্গাই হলেন,সেই মহান আলয়।আমাদের পরম আরাধ্য দেবী,দেবী দুর্গতিনাশিনী।মা তুমি এসো দেখো কী অনাচার টাই'না চলছে,গরীব গর্বারা খেতে পাচ্ছেনা,তাদের যে দুবেলা অন্ন জল জোটে না।শাসক শ্রেণী কোটি কোটি মানুষের করের টাকায়,ধন্দার টাকায় অপ্রয়োজনীয় দান করে চলেছে।সেদিন দেখছিলাম আমারই জানা একজন তাঁর পোষ্টে ট্যাগ লাইন দিয়েছেন....!!!কিছু পুরুষ আর কিছু নারী অত্যন্ত ভয়ংকর এই অ্যাপস এ।প্রকৃত নারী শক্তিকে জগাও মা তুমি।সর্ব শক্তি চেতনা যোগাও।তা না হলে ধ্বংস অনিবার্য।পুরাণ থেকে মহাভারত, মহালয়া ঘিরে বর্ণিত আছে নানা কাহিনি।পুরাণ মতে, ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর অমর হয়ে উঠেছিলেন।শুধুমাত্র কোনও নারীশক্তির কাছে তার পরাজয় নিশ্চিত ছিল।অসুরদের অত্যাচারে যখন দেবতারা অতিষ্ঠ,তখন ত্রিশক্তি ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও মহেশ্বর নারীশক্তির সৃষ্টি করেন।তিনিই মহামায়া'রূপী দেবী দুর্গা। দেবতাদের দেওয়া অস্ত্র দিয়ে মহিষাসুরকে বধ করেন দুর্গা।সেইকারণে বিশ্বাস করা হয়,এই উৎসবে অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা হয়।★যদিও মহালয়ার সঙ্গে দুর্গা পুজোর প্রত্যক্ষ ভাবে কোনও যোগ নেই। বরং মহালয়ার রয়েছে পৃথক মাহাত্ম্য। দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত উৎসব নয় মহালয়া। আসলে এই দিনটি পিতৃপুরুষের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানানোর দিন।সারাবছর কোনও সময় তর্পণ না করলেও মহালয়ার তর্পণে সর্বসিদ্ধি বলে মনে করা হয়।লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন,যা অকালবোধন নামে পরিচিত।এরপর থেকেই যুগ যুগ ধরে শারদীয়া দুর্গাপুজো চলে আসছে।আগে রাজবাড়ি কিংবা জমিদার বাড়িতেই দুর্গাপুজো হত।রথের দিন কাঠামো পুজো হত এবং মহাসপ্তমীর দিন নবপত্রিকা প্রবেশের পর দেবীর চক্ষুদান পর্ব হত।যেহেতু মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনা হয়,তাই পরবর্তীকালে মহালয়ার দিনই প্রতিমার চক্ষু আঁকার চল শুরু হয়। 👉🔱⚜️🔱 দেবী তোমার আগমনের ..প্রস্তুতি তাই, মহেশ তোমায় দিলেন বিদায় ..‼️ মহিষাসুরের নিধন করে, চলেই এসো পিত্রালয় …‼️ 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏 দেবী তুমি আসবে বলে,শিশির বিন্দু ঘাসে, মাঠে মাঠে শোভা বাড়ায়,শুভ্র বরণ কাশে …‼️ এটা ২১শ শতাব্দীর ২৫তম বছর; এমনি আশ্বিনের এক প্রাগৈতিহাসিক সকালে শ্রীরামচন্দ্র যে দুর্গার বোধন করেছিলেন স্বর্গের দেব'পুরুষগণ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে যে রণ'দেবীকে অসুর নিধনে পাঠিয়েছিলেন, সেই দুর্গাই একুশ শতকে নারীর ক্ষমতায়ন। তাঁর মহা তেজ চির'জাগরুক আগুন হয়ে জ্বলে উঠুক,মাটির পৃথিবীর প্রতিটি নারীর মধ্যে। 🔱🙏🌅🙏🌅🙏🌅🙏🌅🙏🌅🙏🔱 হে মহামানবী,দেবী তোমাকে সহস্র কোটি প্রণাম। সকলে খুশির জোয়ারে মেতে জান।পুজো খুশির হোক। #শুভেচ্ছা #🙏তর্পণ ২০২৫🙏 #🔱শুভ মহালয়া ২০২৫🌷 #🌷মহিষাসুরমর্দিনী ২০২৫🔱 #🙂ভক্তি😊
Sandy
3.4K জন দেখলো
6 মাস আগে
🌅ব্রহ্মাণ্ডের নকশা তৈরিকারী দেবতা🌅 🙏🌸🙏🌸🙏🌸🙏🌸🙏 সমুদ্র মন্থন বা সমুদ্র মন্থনের গল্পটি পুরাণ থেকে প্রাপ্ত একটি প্রাচীন কাহিনী,যেখানে সম্পদের দেবী,দেবী লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনার জন্য সমুদ্র মন্থন করা হয়েছিল।এই প্রক্রিয়া চলাকালীন,চৌদ্দটি মূল্যবান জিনিসের জন্ম হয়েছিল;এই চৌদ্দটি মূল্যবান জিনিসের মধ্যে একটি ছিলেন ভগবান বিশ্বকর্মা।সেপ্টেম্বর মাসে,দেশ এবং বিশ্বের হিন্দুরা ভগবান বিশ্বকর্মার সম্মানে একটি দিন পালন করে।এই দিনটি বিশ্বকর্মা পূজা বা বিশ্বকর্মা জয়ন্তী নামে পরিচিত।চিরাচরিত ১৭ই সেপ্টেম্বর...‼️‼️ তিনি স্বয়ম্ভু নামেও পরিচিত,অর্থাৎ,বিশ্বের স্রষ্টা এবং ঋগ্বেদের মতো ধর্মীয় গ্রন্থে তাঁকে ঐশ্বরিক স্থপতি হিসেবে সমাদৃত করা হয়েছে।যখন কৃষ্ণ সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি দ্বারকায় তাঁর রাজ্য স্থাপন করবেন,তখন ভগবান বিশ্বকর্মাকে এই কাজের জন্য ডাকা হয়েছিল।শাস্ত্র অনুসারে, ভগবান বিশ্বকর্মা দ্বারকা নগরী নির্মাণ করতে এবং কৃষ্ণের জন্য এটি প্রস্তুত করতে মাত্র একদিন সময় নিয়েছিলেন,এটাই তাঁর অপূর্ব শক্তি।আজও,বিশ্বকর্মা পূজার এই শুভ দিনে, যাদের পেশায় যন্ত্র ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত,তারা তাঁর পূজা করেন এবং সেই দিনের জন্য তাদের সরঞ্জাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন। ভগবানের একটি মূর্তি বা ছবি একটি পাদদেশে স্থাপন করা হয় এবং পূজা করা হয়। এই আধুনিক যুগেও,ভগবান বিশ্বকর্মা এতটাই প্রাসঙ্গিক যে,এমনকি যারা নতুন যুগের যন্ত্র বা কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেন তারাও এই দিনটি পালন করেন এবং কাজ করা থেকে বিরত থাকেন।যখন ভগবান বিশ্বকর্মা একদিনে কৃষ্ণের জন্য দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেছিলেন,‼️‼️তখন ভগবান কৃষ্ণ এতে কোনও দোষ খুঁজে পাননি।আমাদের কাজের ভিত্তি এতটাই শক্তিশালী হওয়া উচিত যে কেউ এতে কোনও দোষ খুঁজে পাবে না।ভগবানের আশীর্বাদে বৃন্দাবন কৃষ্ণভূমি বৃন্দাবনে তাঁর প্রথম উচ্চতম কৃষ্ণ মন্দির..এই সেদিন'কার কথা‼️ বিশ্বমানের আইকন বৃন্দাবন চন্দ্রোদয় মন্দির, বেঙ্গালুরুর হাতে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মন্দির। ভগবানের বাসস্থান তৈরি করা একটি দুরূহ কাজ এবং তাই আমরা ভগবান বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ কামনা করছি যাতে তিনি প্রাচীন দ্বারকার মতো নিখুঁতভাবে এই স্মৃতিস্তম্ভটি তৈরিতে যেমনটি আশীর্বাদ করেছিলেন বর্তমানেও আমাদের সকলকে কর্মে সহযোগিতা করুন।তাঁর কীর্তি কলাপের শেষ নেই..... বিশ্বকর্মা একবার ব্রহ্ম'বণে একটি যজ্ঞ করেছিলেন আকাশ'যান পুষ্পক রথটি বিশ্বকর্মা তৈরি করেছিলেন।তাঁর তৈরি একটি মায়াবী পতাকা রথের সামনে উড়িয়ে বিরাটে কৌরবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন অর্জুন।একবার বিশ্বকর্মা ইন্দ্রের সাথে ঝগড়া করে তিন মাথা বিশিষ্ট পুত্র বিশ্বরূপের সৃষ্টি করেন।বিশ্বকর্মা বিজয় নামক ধনুকটি তৈরি করে ইন্দ্রকে দিয়েছিলেন। ত্রিপুরা দহনের সময়,তিনিএকটি দিব্য রথ তৈরি করেছিলেন এবং শিবকে দিয়েছিলেন। ভরদ্বাজ কর্তৃক প্রদত্ত অভ্যর্থনা ও ভোজসভায়,যিনি বনে বসবাসের জন্য চলে যাওয়া শ্রীরামের সন্ধানে বনে যাচ্ছিলেন, বিশ্বকর্মা এবং ত্বাষ্টাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।তিনিই একবার একটি ঘোড়ার মুখ কেটে মহাবিষ্ণুর মাথাবিহীন দেহের সাথে সংযুক্ত করেছিলেন।সেই মূর্তিটির নামকরণ করা হয়েছিল হায়াগ্রীব।মহাবিষ্ণুর এই হায়াগ্রীব মূর্তিই অসুর হায়াগ্রীবকে হত্যা করেছিল। তাঁকে কারিগর এবং নির্মাণ,ছুতার কাজ ইত্যাদির সাথে জড়িত শ্রমিকদের দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।তিনি দেবতা বাস্তু এবং দেবী অঙ্গীশ্রীর পুত্র।ভগবান ব্রহ্মা এই সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পরিকল্পনা এবং সৃষ্টিতে ভগবান বিশ্বকর্মা দ্বারা সাহায্য ও সহায়তা পেয়েছিলেন।তিনিই এই সমগ্র বিশ্বের মানচিত্র তৈরিতেও জড়িত ছিলেন।বিখ্যাত এবং পবিত্র শ্রীকৃষ্ণের শহর দ্বারকাও যে ভগবান বিশ্বকর্মা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল,তার পেছনেও রহস্য ছিল।দ্বারকা ভগবান বিষ্ণুর অন্যতম অবতার ভগবান কৃষ্ণের শাসনাধীন ছিল।ভগবান কৃষ্ণ এবং যাদবরা মথুরা ত্যাগ করেছিলেন,মথুরা থেকে জরাসন্ধ এবং কালায়নের ভয়ঙ্কর আক্রমণের আশঙ্কায়।মথুরা ত্যাগ করার পর, তাঁরা সৌরাষ্ট্রের উপকূলে পৌঁছেছিলেন। উপকূলে পৌঁছানোর পর নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য,ভগবান কৃষ্ণ সমুদ্রদেবের পূজা করেছিলেন।কৃষ্ণের প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে তিনি ১২ যোজন আয়তনের ভূমি দান করেছিলেন। বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান বিশ্বকর্মা এই ভূমিতে সোনার দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেছিলেন। মহাভারত বলে,ভগবান বিশ্বকর্মা হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইন্দ্রপ্রস্থ নগরীতে পাণ্ডবদের জন্য মায়া সভা - মায়ার কক্ষ তৈরি করেছিলেন। এটাও বিশ্বাস করা হয় যে ঋগ্বেদে,যান্ত্রিকতা এবং স্থাপত্য বিজ্ঞান সম্বলিত বিভাগটি ভগবান বিশ্বকর্মা দ্বারা প্রণয়ন এবং লেখা হয়েছিল।এই সমস্ত নির্মাণ ও ভাস্কর্যের সৃষ্টি ছাড়াও,তিনি পুরাণে বর্ণিত বিভিন্ন যুদ্ধে বিভিন্ন হিন্দু দেবতাদের দ্বারা ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্রের নকশা'কার বলেও আলোচ্য।তাঁর করুণা এবং অবদান সর্বদা ছুতার শিল্পের ক্ষেত্রেও কৃতিত্ব পেয়েছে।তাঁকে স্বয়ম্ভু নামেও ডাকা হয়,যার অর্থ স্বয়ম্ভু বা মাতৃগর্ভে নয়,নিজের ইচ্ছায় জন্মগ্রহণ করা।প্রতি বছর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে বিশ্বকর্মা পূজা পালিত হয়।এইদিনে সূর্যদেব সিংহ রাশি ত্যাগ করে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করেন।এই কারণে,এই দিনটিকে কন্যা সংক্রান্তি দিবসও বলা হয়।হিন্দু সৌর পঞ্জিকা অনুসারে,বিশ্বকর্মা পূজা ভাদ্র মাসের শেষ দিনে পরে।কেউ কেউ এটিকে ভাদ্র সংক্রান্তি হিসেবে পালন করেন।আমি সকলকেই বিশ্বকর্মা পূজা উদযাপনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এবং একসাথে ভগবানের প্রশংসা করি এবং আমাদের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করি।সর্বোপরি,ভগবান বিশ্বকর্মা সকলের কাছে যেনো একই বার্তা পাঠান।সেটা হোক একসাথে একটি শক্তিশালী ভিত্তি,একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বার্তা।দেবতাদের স্থপতি সকলেই এবং সকলের পরিবারকে তাঁর সর্বোত্তম আশীর্বাদ বর্ষণ করুন। জয় বাবা বিশ্বেশ্বর শ্রী বিশ্বকর্মা কী জয় 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏 🌸🙏🌸🙏🌸🙏🌸 #শুভেচ্ছা #🛠️বিশ্বকর্মা পুজো Status🌼 #🛠️বিশ্বকর্মা পুজোর বিধি ২০২৫🌼 #ভক্তি #🌸বিশ্বকর্মা পুজোর শুভেচ্ছা ২০২৫🙏