mystery

Ojana Shotyo
477 views
14 days ago
AI indicator
যে মামলা বদলে দিয়েছিল অপরাধ তদন্তের ইতিহাস #mystery #📰ক্রাইম আপডেট😲
Ojana Shotyo
428 views
22 days ago
খুনের অস্ত্র ছিল… জীবাণু | কলকাতা, ১৯৩৩#রহস্য গল্ল
Anusmita Kundu
595 views
2 months ago
এই উপন্যাসের প্রথম পর্ব ভালো লাগলে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।🙏😊 পর্ব - ১ ## মেঘলা দিন আর 'অচিন্ত্যপুরের' ডাক সকাল থেকেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি। শ্রাবণের অঝোর ধারায় চারপাশটা কেমন নিঝুম আর ঝাপসা। জানলা দিয়ে ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ আসতেই আমার মনটা কেমন অলস খাই-খাই করে উঠল। আমি মাকে ডেকে বললাম, "মা, আজ দুপুরে গরম-গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা করো না!" যেমন বলা, তেমনি কাজ। ঘি-চপচপে খিচুড়ি আর মচমচে ইলিশ ভাজা খেয়ে মুখে একগাল মৌরি পুরে দিলাম। এমন বৃষ্টির দিনে জমিয়ে একটা 'খিচুড়ি ঘুম' না দিলে দিনটাই বৃথা। ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে প্রিয় রহস্য উপন্যাস হাতে নিলাম। বৃষ্টির একঘেয়ে শব্দে কখন যে চোখের পাতা ভারী হয়ে এল, টেরই পেলাম না। ঘুম ভাঙতে ধড়মড়িয়ে বসে পড়লাম। ঘড়ি দেখে তো চোখ চড়কগাছ! বাপ রে! অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। বিকেলে লেকের ধারে ঝিনুকের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। এতক্ষণে ও নিশ্চয়ই রাগে ফুঁসছে! মনে মনে নিজেকে শাপশাপান্ত করছি, ঠিক তখনই দরজার কাছ থেকে একটা পরিচিত গলা ভেসে এল: "নেরু দা! ও নেরু দা! লেকের ধারে গেলে না কেন?" তাকিয়ে দেখি দরজায় ঝিনুক দাঁড়িয়ে। বৃষ্টির জলে ওর চুল মুখের ওপর লেপ্টে আছে। আমি অপ্রস্তুত হয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললাম, "ভুল হয়ে গেছে রে ঝিনু। এমন ঘুম পেয়েছিল যে হুঁশ ছিল না। আই অ্যাম ভেরি ভেরি সরি!" ঝিনুক মুখ গোঁজ করে বলল, "ঠিক আছে, মাফ করে দিলাম। এবার যে জরুরি দরকারে এসেছি, সেটা বলব?" ওর ভেজা জামাকাপড়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু ধমক দিয়ে বললাম, "আরে থামো! আগে ভেতরে গিয়ে মায়ের কাছ থেকে শুকনো জামাকাপড় চেয়ে বদলে এসো। তারপর সব কথা শুনব।" ঝিনুক আর তর্ক না করে চলে গেল। ঝিনুক আমাদের পাড়ারই মেয়ে, কিন্তু ও নিজের বোনের চেয়েও বেশি আপন। কারেন্ট ছিল না। অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই মোমবাতি জ্বেলে সিগারেট ধরালাম। ঠিক তখনই ঝিনুক ঘরে ঢুকল। ওর চোখ দুটো রাগে বড় বড় হয়ে গেল। "নেরু দা! আবার সিগারেট খাচ্ছ?!" সিগারেটটা জানলা দিয়ে ফেলে হাতজোড় করে বললাম, "সরি সরি! এবার বলো, কোন খবর তোমাকে এই ঝড়ের মধ্যে টেনে আনল?" ঝিনুক গম্ভীর হয়ে বলল, "তাহলে শোনো। এখান থেকে দক্ষিণ দিকে সাত ক্রোশ দূরে 'অচিন্ত্যপুর' বলে একটা জায়গা আছে। শুনলাম সেখানে একটা বিশাল, পুরোনো রাজবাড়ি আছে। ওটা এখন ভূতের ডেরা! মাঝরাতে অদ্ভুত সব ছায়ামূর্তি দেখা যায়। সূর্যাস্তের পর কেউ ওদিকের সীমানাও মাড়ায় না।" আমার কৌতুহল চরমে। "তাই নাকি? কেউ তদন্ত করতে যায়নি?" ঝিনুক মাথা নাড়ল। "যারা গেছে, তারা কেউ ফিরে আসেনি! সেই কারণেই সবাই ওটাকে বলে 'অচিন্ত্যপুরের অভিশপ্ত রাজবাড়ি'।" মা চা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। মুচকি হেসে বললেন, "তা কী ঠিক হলো, ডিটেকটিভ নরেশ চক্রবর্তী? নতুন কেসটা হাতে নিচ্ছো? সঙ্গে তো অ্যাসিস্ট্যান্ট ঝিনুক রায় রয়েইছে!" মায়ের রসিকতায় অপ্রস্তুত হয়ে মাথা চুলকে বললাম, "ধুর মা! আমি কোনও মস্ত গোয়েন্দা নই।" মা হেসে চলে গেলেন। আমি ঝিনুকের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, "জানি ঝিনু, অনেকদিন ধরে একটা জবরদস্ত রহস্যের জন্য মন ছটফট করছিল।" ঝিনুক হেসে উঠল। "তাহলে আর দেরি কেন নেরু দা? কাল সকালেই রওনা দেওয়া যাক!" আমি সাগ্রহে মাথা নাড়লাম। ঠিক সেই মুহূর্তে ল্যান্ডলাইন ফোনটা বেজে উঠল—ট্রিং! ট্রিং! রিসিভার তুলে বললাম, "হ্যালো, কে বলছেন?" ওপাশ থেকে কোনও উত্তর এল না। শুধু একটা ভারী নিঃশ্বাস পড়ার শব্দ। ফোনটা কেটে গেল। ঝিনুক জিজ্ঞেস করল, "কে ছিল, নেরু দা?" আমি বললাম, "কে জানে! লাইনে গোলমাল হয়েছে।" ফোনটা আবার আর্তনাদ করে উঠল—ট্রিং! ট্রিং! এবার বিরক্ত হয়ে রিসিভার তুলে চেঁচিয়ে উঠলাম, "দেখুন মশাই, কী চান আপনি?" কয়েক সেকেন্ডের নীরবতার পর, ওপাশ থেকে একটা ভারী, গম্ভীর কন্ঠস্বর ভেসে এল: "অচিন্ত্যপুরে আসবেন না... এলে আর জ্যান্ত ফিরতে পারবেন না, বাবুমশাই..." কপালে ঠাণ্ডা ঘাম জমে উঠল। "হ্যালো! কে বলছেন?" কিন্তু লাইন কেটে গেছে। ফ্যাকাশে মুখ দেখে ঝিনুক ভয় পেয়ে গেল। "নেরু দা, কী হয়েছে?" আমি কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে রইলাম। সেই 'বাবুমশাই' শব্দটা কানে বাজছিল। ঝিনুক কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে বলল, "ও নেরু দা! কী ভাবছ?" বাস্তবে ফিরে এসে মাথা নাড়ালাম। "কিছু না রে। কাল সকাল আটটার মধ্যে চলে আসিস।" ঝিনুক ছাতা মাথায় দিয়ে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। মা খাবারের জন্য ডাকলেন। পোস্ত, ডাল, বেগুন ভাজা, চারা পোনার ঝাল—প্রিয় সব পদ। কিন্তু প্রথম গ্রাসটা মুখে তুলতেই সেই কন্ঠস্বর মাথায় বিঁধল—'বাবুমশাই, আসবেন না...' শোওয়ার ঘরে মোমবাতির আবছা আলোয় শার্লক হোমসের বই খুললাম। কিন্তু বইয়ের অক্ষরের বদলে মাথার ভেতর কেবল ওই সতর্কতা ঘুরপাক খাচ্ছিল—'বাবুমশাই, বাবুমশাই'। শোওয়ার আগে জানলার পর্দাটা টেনে জল খেতে গ্লাসটা তুলতে গেছি, ঠিক তখনই—ঝনঝন! একটা পাথর গ্লাসটা চুরমার করে দিল। পাশের ঘর থেকে মা চিৎকার করে উঠলেন, "কীসের শব্দ হলো রে নেরু?" আমি বললাম, "কিছু না মা! হাত থেকে গ্লাসটা পড়ে গেছে।" জানলার কাছে ছুটে উঁকি দিলাম। ঘুটঘুটে কালো রাতে কিচ্ছুটি দেখা যাচ্ছে না। পাথরটার গায়ে একটা ভেজা কাগজ জড়ানো ছিল। সাবধানে কাগজটা খুললাম। হাতের লেখাটা কাঁপাকাঁপা এবং বিকৃত, লেখা আছে: "বাবুমশাই, যাবেন না, বাবুমশাই... গেলে কিন্তু প্রাণ হারাবেন।" এই হুমকি আমার জেদ বাড়িয়ে দিল। "আরে, আমি তো যাবই! দেখি কে আটকায়।" কাগজটা টেবিলের ওপর রেখে শুতে গেলাম। অক্ষরগুলো ভাঙা ভাঙা, আ আলুথালু। ইজিচেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোরের প্রথম আলোর ছটা চোখে পড়তেই চোখ খুলে গেল। মা হাতে চা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। "উঠেছিস? চটপট হাত-মুখ ধুয়ে নে।" ৭:১৫। বাথরুমের দিকে যাব, এমন সময় একটা তীক্ষ্ণ চিৎকার ভেসে এল—"নেরু দা... ও নেরু দা..." ঝিনুক হাজির! স্নান সেরে বিছানায় শার্ট আর ট্রাউজার্স ইস্ত্রি করে রাখা। মা ব্রেকফাস্ট রেডি। লুচি, আলুর দম, পায়েস। ঝিনুক আর মা আমাকে পরিবেশন করছিলেন। ঝিনুক খেয়ে হাত ধুতে চলে গেল। মা একটু কাছে এগিয়ে এসে গম্ভীর মুখে বললেন, "নেরু, তোকে একটা কথা অনেকদিন ধরে বলব ভাবছিলাম..." খাওয়া থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "বলো না মা।" কিন্তু মা ইতস্তত করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ঝিনুক হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকে আমার হাত ধরে টান দিল। "নেরু দা! চলো চলো, ওঠো! মায়ের কথা পরে শুনো। আটটা বাজতে চলল!" ও আমাকে টেনেই বাড়ি থেকে বার করে নিয়ে এল। মায়ের জরুরি কথাটাই আর শোনা হলো না। সেই কথা, যা আমাদের যাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত, যা আমাদের অচিন্ত্যপুরের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে পারত। গাড়িতে বসে মেঘলা আকাশের দিকে তাকালাম। অজানা রোমাঞ্চ আর বিপদের গন্ধ। আমাদের গাড়ি ছুটে চলল কুয়াশায় ঘেরা 'অচিন্ত্যপুরের রাজবাড়ি'-র দিকে। কিন্তু অচিন্ত্যপুরের রাজবাড়িতে পৌঁছানোর আগেই, আমাদের যাত্রার পথেই এক বড় বিপদের মুখে পড়তে হল। আমাদের গাড়ির টায়ার ফেটে গেল। আমরা মাঝরাস্তায় আটকে পড়লাম। চারপাশের পরিবেশ অচেনা আর রহস্যময়। আমি বুঝতে পারছিলাম না, আমরা কি অচিন্ত্যপুরে পৌঁছাতে পারবো? রাজবাড়ির রহস্য উদঘাটন করতে পারবো? আমাদের এই যাত্রার ভবিষ্যৎ কী হবে? আমি জানি না, আমি জানি না, আমি জানি না। #রহস্য ভূতের গল্প #রহস্য গল্ল #সতি ভূতের গল্প এবং ভৌতিক রহস্য👻💀👹👽