গল্পের নাম: চায়ের কাপের তাপ
পুরোনো পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানটা খুব সাধারণ—দুটি বেঞ্চ, একখানা কাঠের টেবিল আর সারাদিন ফুটতে থাকা কেটলি। কিন্তু সেই দোকানটাই ছিল শোভনের দিনের শেষ আশ্রয়। অফিস শেষে সে সেখানে বসে থাকত, চায়ের কাপের ধোঁয়ার মধ্যে নিজের ক্লান্তি গলিয়ে দিত।
এক সন্ধ্যায় দোকানে নতুন একজন এল। মেয়েটার নাম তৃষা। হাতে ফাইল, চোখে অস্থিরতা। শোভন খেয়াল করল—তৃষা চা হাতে নিয়ে বসে আছে, কিন্তু ছুঁয়েও দেখছে না। কেটলি থেকে ওঠা বাষ্পের মতোই তার মনটা যেন ছুটে বেড়াচ্ছে কোথাও।
পরের দিনও তৃষা এল। তারপর নিয়ম হয়ে গেল। কথা শুরু হলো খুব সামান্য— “চিনি দেবেন?” “আজ বৃষ্টি হবে মনে হয়।”
এই সামান্য কথার ফাঁকেই পরিচয় জমে উঠল। শোভন জানল, তৃষা নতুন চাকরি পেয়েছে, শহরটা তার কাছে এখনও অচেনা। তৃষা জানল, শোভন অনেক কিছু বলেও কাউকে বোঝাতে পারেনি। চায়ের কাপের তাপের মতো তাদের কথোপকথন ধীরে ধীরে উষ্ণ হয়ে উঠছিল।
একদিন হঠাৎ তৃষা আসা বন্ধ করে দিল। শোভন অকারণে চায়ের দোকানের দিকে তাকিয়ে থাকত। কেটলি ফুটত, কাপ বদলাত, কিন্তু বেঞ্চের এক কোণা ফাঁকাই থাকত। শোভন বুঝল—অভ্যাস তৈরি হয়ে গেলে শূন্যতাটা কতটা তীব্র হয়।
প্রায় এক মাস পর তৃষা আবার এল। মুখে হাসি নেই। বসে বলল, “আমার বদলি হয়ে গেছে। কালই চলে যাচ্ছি।” কথাটা খুব সহজ, কিন্তু তার গলায় জমে থাকা কষ্টটা শোভন টের পেল। সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “চা ঠান্ডা হয়ে গেলে যেমন ফেলে দিতে ইচ্ছে করে, মানুষকেও কি তেমন ফেলে যেতে হয়?”
তৃষা প্রথমবারের মতো শোভনের দিকে তাকিয়ে রইল। চোখ ভিজে উঠল। সে বলল, “থাকলে মায়া বাড়ে, তাই চলে যাচ্ছি।”
সেই রাতটা শোভন ঘুমোতে পারেনি। বুঝেছিল—যা বলা হয় না, সেটাই সবচেয়ে বেশি ভারী। পরদিন সকালে, তৃষা যখন শেষবারের মতো চায়ের দোকানে এল, শোভন একটা কাগজ এগিয়ে দিল। তাতে শুধু লেখা ছিল— “চা ঠান্ডা হলে আবার গরম করা যায়। মানুষকেও।”
তৃষা কিছু বলল না। কাগজটা ভাঁজ করে রেখে চলে গেল।
ছয় মাস পর, এক শীতের সকালে, শোভন চায়ের দোকানে বসে ছিল। হঠাৎ পরিচিত গলা— “এক কাপ চা হবে? দু’চিনি।”
শোভন তাকিয়ে দেখল—তৃষা। হাতের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছিল। চায়ের তাপের মতোই, তাদের গল্পটাও আবার উষ্ণ হতে শুরু করল।
Follow now for more post's from #😇আজকের Whatsappস্টেটাস 🙌 #📝মনের ডায়েরি ✍ #💌প্রেমের কোটস💓 #🌤মোটিভেশনাল কোটস✍ #💕Express Emotion🎁


