ShareChat
click to see wallet page
search
ব্রাহ্মণের ছেলে কি ব্রাহ্মণই হবে? শূদ্রের ছেলে কি শূদ্রই হবে? জন্ম নয়, কর্ম—শাস্ত্র আসলে কী বলে? আজ সমাজে একটি ভুল ধারণা ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হয়— 👉 “যে ব্রাহ্মণ, তার ছেলে ব্রাহ্মণ হবেই” 👉 “যে শূদ্র, তার ছেলে শূদ্রই থাকবে” এই ধারণাকে অনেকেই সনাতন ধর্ম ও শাস্ত্রের বিধান বলে প্রচার করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— 🔴 বেদ, ভগবদ্গীতা বা পুরাণে কি সত্যিই এমন কোনো বিধান আছে? উত্তর এক কথায়— ❌ না, নেই। এমন কোনো জন্মভিত্তিক বিধান শাস্ত্রে নেই। এখন প্রমাণসহ বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক। --- ১️⃣ ভগবদ্গীতা জন্মভিত্তিক জাতব্যবস্থা মানে না ভগবদ্গীতা ৪.১৩-এ শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন— > “চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণ-কর্ম বিভাগশঃ” অর্থাৎ— চার বর্ণ সৃষ্টি হয়েছে গুণ (স্বভাব, যোগ্যতা) এবং কর্ম (কাজ ও দায়িত্ব) অনুযায়ী। 👉 এখানে “জন্ম” শব্দটি একবারও নেই। যদি জন্মই একমাত্র পরিচয় হতো, তাহলে শ্রীকৃষ্ণ সরাসরি বলতেন— “জন্ম বিভাগশঃ” কিন্তু তিনি তা বলেননি। অতএব— ব্রাহ্মণের ছেলে জন্মালেই ব্রাহ্মণ হবে শূদ্রের ছেলে জন্মালেই শূদ্র থাকবে 👉 এটি গীতাবিরোধী ধারণা। --- ২️⃣ গীতা বলে—সব মানুষের আত্মা এক ভগবদ্গীতা ৫.১৮— > “বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি শুনি চৈব শ্বপাকে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ” অর্থাৎ— জ্ঞানী ব্যক্তি ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, কুকুর, হাতি— সবাইয়ের মধ্যে একই আত্মাকে দেখেন। 👉 যখন আত্মা এক, তখন জন্মের ভিত্তিতে মানুষের মূল্য নির্ধারণ করা শাস্ত্রসম্মত হতে পারে না। --- ৩️⃣ বেদ কী বলে? — কর্মই পরিচয় ঋগ্বেদ ও অন্যান্য বৈদিক দর্শনে বারবার বলা হয়েছে— মানুষকে চেনা হয় তার কর্ম, চরিত্র ও গুণ দিয়ে। বেদের মূল দর্শন— > “মানুষ তার কর্মের দ্বারা পরিচিত হয়।” বেদে কোথাও বলা নেই— “অমুক পরিবারে জন্মালে অমুক বর্ণ” “জন্ম বদলানো যাবে না” বরং বৈদিক যুগে মানুষ আশ্রম ও কর্ম অনুযায়ী পরিচিত হতো— ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বনপ্রস্থ, সন্ন্যাস। --- ৪️⃣ পুরাণ ও ইতিহাস কী প্রমাণ দেয়? পুরাণ ও ইতিহাস নিজেই জন্মভিত্তিক জাতব্যবস্থাকে অস্বীকার করে। কিছু উদাহরণ— 🔹 মহর্ষি বাল্মীকি প্রথমে ছিলেন ডাকাত। পরে তপস্যা ও জ্ঞানের মাধ্যমে ব্রাহ্মর্ষি হন। 👉 জন্ম নয়, কর্মই পরিচয়। 🔹 বেদব্যাস জেলে পরিবারের সন্তান। কিন্তু তিনি বেদের সংকলক ও মহর্ষি। 🔹 বিদুর দাসীপুত্র ছিলেন। কিন্তু মহাভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ নীতিবিদ। 🔹 নারদ মুনি কোনো রাজবংশ বা ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মাননি, তবু দেবর্ষি। 👉 যদি জন্মই শেষ কথা হতো, তাহলে এরা কেউই ঋষি হতে পারতেন না। --- ৫️⃣ তাহলে আজকের জন্মভিত্তিক জাতপাত এলো কোথা থেকে? সরাসরি উত্তর— 👉 শাস্ত্র থেকে নয়, মানুষের স্বার্থ থেকে। পরবর্তী যুগে— ক্ষমতা ধরে রাখতে সমাজ নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে শাস্ত্রকে বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে— 🔹 শাস্ত্রের অপব্যবহার ≠ শাস্ত্র 🔹 ধর্মের বিকৃতি ≠ ধর্ম যেমন— চুরি হলে আইন দোষী হয় না, ভুল ডাক্তার হলে চিকিৎসাবিজ্ঞান দোষী হয় না— ঠিক তেমনই জাতপাতের নামে অন্যায় করলে সনাতন ধর্ম দোষী নয়। --- ৬️⃣ শাস্ত্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শাস্ত্রসম্মত সিদ্ধান্ত একদম পরিষ্কার— ❌ “ব্রাহ্মণের ছেলে ব্রাহ্মণ হবেই”—এমন বিধান নেই ❌ “শূদ্রের ছেলে শূদ্রই থাকবে”—এমন বিধান নেই ✔ মানুষ পরিচিত হয় তার কর্মে ✔ গুণ ও আচরণই আসল পরিচয় ✔ আত্মা সবার এক ✔ ধর্ম মানে ন্যায়, সত্য ও দায়িত্ব --- 🔥 উপসংহার (কঠিন কিন্তু শাস্ত্রসম্মত) > সনাতন ধর্ম জন্ম দিয়ে মানুষকে ছোট–বড় করে না। মানুষ নিজেই নিজের কর্ম দিয়ে বড় বা ছোট হয়। যারা জন্মভিত্তিক জাতব্যবস্থা প্রচার করে, তারা শাস্ত্র নয়—নিজের সুবিধার কথা বলে। এইটাই বেদ, গীতা ও পুরাণের প্রকৃত শিক্ষা। #sanatandharma #hinduism #shreekrishna #📰জেলার আপডেট📰 #📰রাজ্যের আপডেট📰
📰জেলার আপডেট📰 - ShareChat