গল্পের নাম: অচেনা ঠিকানার ভালোবাসা
রাতের শহরটা আলোয় ভরা হলেও কিছু ঘর অদ্ভুতভাবে অন্ধকারে ডুবে থাকে। নীলা ঠিক সেইরকম এক ঘরের মানুষ। চাকরির চাপে, একাকীত্বের অভ্যাসে সে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগত না, অথচ কাউকে না কাউকে বলার প্রয়োজনটা ভেতরে ভেতরে জমে উঠত।
একদিন হঠাৎ তার ইমেইলে একটি ভুল মেসেজ আসে। নামটা ছিল—আর্য। মেইলের শেষে ক্ষমা চেয়ে লেখা ছিল, “ভুল ঠিকানায় চলে এসেছে, দুঃখিত।” নীলা চাইলে মেইলটা মুছে ফেলতে পারত। কিন্তু সে উত্তর দিয়েছিল। সেই উত্তর থেকেই শুরু।
প্রথমে সাধারণ কথা—কাজ, বই, গান। ধীরে ধীরে রাত বাড়ত, কথাও বাড়ত। নীলা অবাক হয়ে লক্ষ্য করল, দিনের শেষে কারও মেইলের অপেক্ষা করতে তার ভালো লাগছে। আর্য কখনও তার ছবি চায়নি, কখনও দেখা করার কথা তোলেনি। শুধু লিখত—“আজ তুমি কেমন ছিলে?”
লেখার মধ্যেই তৈরি হচ্ছিল এক অদ্ভুত কাছাকাছি থাকা। নীলা নিজের না বলা কষ্টগুলো লিখে ফেলত। আর্য পড়ে বলত না “সব ঠিক হয়ে যাবে”, বলত—“আমি শুনছি।” এই শোনাটুকুই নীলার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্বাস হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু সব গল্পেই একটা ভয় থাকে। নীলার ভয় ছিল—এই মানুষটা যদি হঠাৎ হারিয়ে যায়? একদিন সাহস করে সে জিজ্ঞেস করেছিল, “আমরা কি কখনও দেখা করব?” আর্য উত্তরে লিখেছিল, “যদি দেখা হয় আর তোমার কল্পনার মানুষটা না হই?”
সেই প্রশ্নে নীলা বুঝেছিল—ভালোবাসা মুখে নয়, অনুভবে হয়। তবু সময় থামে না। একদিন আর্য জানাল, সে শহর ছাড়ছে, দেশের বাইরে। যোগাযোগ কমে যাবে। নীলার বুকের ভেতর অজানা শূন্যতা নামল, কিন্তু সে কিছু বলল না।
শেষ মেইলটা এসেছিল খুব ছোট— “ভালো থেকো। যদি কখনও আমাকে মনে পড়ে, এই অচেনা ঠিকানাটুকুই মনে রেখো।”
কয়েক মাস কেটে গেল। নীলা আবার নিজের জীবনে ফিরতে চেষ্টা করল। কিন্তু এক সন্ধ্যায়, বইমেলায়, এক অপরিচিত ছেলেকে দেখে থমকে গেল সে। চোখে সেই একই শান্ত দৃষ্টি। ছেলেটা এগিয়ে এসে বলল, “নীলা?”
নীলা চুপ করে রইল। আর্য হাসল। বলল, “ইমেইল ঠিকানাটা ভুল ছিল না। আমি শুধু সময়টা ঠিক করছিলাম।”
ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে নীলা বুঝল—কিছু ভালোবাসা অচেনা ঠিকানা নিয়েই আসে, কিন্তু ঠিক মানুষটাকেই খুঁজে পায়।
Follow now for more post's from #💕Express Emotion🎁 #💌প্রেমের কোটস💓 #📝মনের ডায়েরি ✍ #🌤মোটিভেশনাল কোটস✍ #😇আজকের Whatsappস্টেটাস 🙌


