গল্পের নাম: “হাসির আড়ালে একা”
সবার সামনে হেসে চলেছি, কিন্তু নিজের কাছে আমি ভীষণ একা।
কথাটা কেউ জানে না, কেউ বোঝেও না।
অর্ককে দেখলে সবাই বলত, “ছেলেটা কী দারুণ! সব সময় হাসিখুশি থাকে।”
অফিসে হোক বা বন্ধুদের আড্ডায়—অর্ক যেন সব সময় আনন্দের মানুষ। সবাইকে হাসায়, মজা করে, গল্প বলে। কেউ মন খারাপ করলে অর্কই আগে এগিয়ে গিয়ে বলে,
—“এই দুঃখ করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
সবাই ভাবে, অর্কের জীবনে কোনো দুঃখ নেই।
কিন্তু দিনের শেষে যখন অর্ক বাড়ি ফেরে, দরজা বন্ধ করে একা ঘরে বসে থাকে—তখন সেই হাসিটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়।
টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা মাঝে মাঝে তুলে দেখে। হয়তো কেউ একটা মেসেজ পাঠাবে, কেউ জিজ্ঞেস করবে,
—“কেমন আছো?”
কিন্তু ফোনটা বেশিরভাগ সময় নীরবই থাকে।
একদিন রাতে তার বন্ধু রাহুল ফোন করল।
—“কিরে, তুই তো সবসময় এত হাসিস! তোর কি কখনো মন খারাপ হয় না?”
অর্ক একটু চুপ করে রইল। তারপর হালকা হেসে বলল,
—“সবাই তো হাসিটাই দেখতে পায়, রে। ভেতরেরটা দেখার সময় কার আছে?”
রাহুল মজা করে বলল,
—“আরে তোর আবার কিসের দুঃখ!”
অর্ক আর কিছু বলল না। শুধু বলল,
—“থাক, এসব কথা বাদ দে। বল তোর কি খবর?”
ফোনটা কেটে যাওয়ার পর অর্ক জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে হালকা বাতাস বইছে, দূরে শহরের আলো জ্বলছে। এত মানুষ এই শহরে—তবুও কেন যেন তার মনে হয়, সে একাই।
হঠাৎ সে নিজের প্রতিচ্ছবিটা কাচে দেখতে পেল।
সেই পরিচিত হাসিটা নেই।
সে ধীরে ধীরে নিজের মনেই বলল,
—“অদ্ভুত না? মানুষ যত বেশি হাসে, তত বেশি কষ্ট লুকিয়ে রাখে।”
তারপর আবার ফোনটা হাতে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ছবি পোস্ট করল—হাসিমুখের সেলফি।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনেক কমেন্ট এল—
“কী সুন্দর হাসি!”
“সব সময় এমন হাসিখুশি থাকিস!”
“তোর মতো পজিটিভ মানুষ খুব কম আছে।”
অর্ক সবগুলো কমেন্টে একটা করে হাসির ইমোজি দিয়ে রিপ্লাই করল।
কিন্তু কেউ জানল না, সেই হাসির ইমোজির আড়ালেই একটা মানুষ চুপচাপ নিজের একাকীত্বটাকে লুকিয়ে রাখছে।
কারণ পৃথিবী হাসিমুখ দেখতে ভালোবাসে।
কিন্তু ভেতরের নিঃশব্দ একাকীত্বের গল্প শোনার সময় খুব কম মানুষেরই থাকে।
Follow now for more post's from #😇আজকের Whatsappস্টেটাস 🙌


