একজন পুরুষ নারীকে দেখার সময় তাকে একজন মানুষ হিসেবে নয় একটা শরীর হিসেবেই দেখে কিন্তু কেনো?
পুরুষ কেন নারীর শরী,রে,র পাগল—সমাজের এক তিক্ত বাস্তবতা
কথাটা শুনতে নেগেটিভ লাগে, প্রায়ই অস্বস্তি তৈরি করে।
কিন্তু সমাজের অন্দরমহলে তাকালে আমরা দেখব—এ প্রশ্নের উত্তর কোনো এক লাইনে মেলে না।
এর ভিতরে আছে মনোবিজ্ঞান, সমাজের কাঠামো, লালন-পালন, দৃষ্টিভঙ্গি, অশিক্ষা, মিডিয়ার প্রভাব—সব মিলে এক জটিল বাস্তবতা।
১. পুরুষকে ছোটবেলা থেকেই “শরীরকেন্দ্রিক” করে তোলা হয়
ছোটবেলা থেকে আমাদের ছেলেদের শেখানো হয় না নারীর সম্মান কী, তার অনুভূতি কী, তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা কী।
“নারীর শরীর লুকানোর জিনিস।”
“মেয়েদের শরীর মানেই লজ্জার, গোপনের।”
“না তাকালে নাকি ছেলে কম পুরুষ মনে হয়।”
এই থেকেই পুরুষের মনে নারীকে মানুষ হিসেবে নয়—শরীর হিসেবে দেখার বীজ রোপণ হয়ে যায়।
২. সমাজ নারীর শরীরকে এক রহস্য বানিয়ে রেখেছে
নারীর শরীর নিয়ে শত নিষেধ:
এটা ঢাকো
ওটা পেঁচিয়ে রাখো
এভাবে হাঁটো না
ওভাবে কথা বলো না
যে জিনিস সমাজ যত লুকায়, মানুষ ততই কৌতূহলী হয়।
ফলে বহু পুরুষ নারীর শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে নয়—রহস্য, উত্তেজনা ও নিষিদ্ধ আকর্ষণ তৈরি হয় —ফলে পুরুষের মধ্যে নারীর শরী,র দেখার আকর্ষণ যাগে।
৩. মিডিয়া, সিনেমা, বিজ্ঞাপন পুরুষকে ভুল বার্তা দেয়
আজকের মিডিয়াতে নারী মানেই—
গ্ল্যামার
সৌন্দর্য
শরীরের প্রদর্শন
পুরুষের বিনোদনের উপাদান
সিনেমাতে নায়কের শক্তি দেখাতে নায়িকার শরী--র ব্যবহার করা হয়।
বিজ্ঞাপনে সাবান দেখাতে নারীর শরী"""র, শ্যাম্পু দেখাতে চুল—সবকিছুতেই নারীকে পণ্য বানানো হয়।
ফলে বহু পুরুষের মাথায় বসে যায়—
“নারীর মূল্য = শরী"""""র”
৪. জৈবিক আকর্ষণ থাকলেও সেটাকে নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা নেই
পুরুষ নারীর প্রতি জৈবিকভাবে আকৃষ্ট হবে—এটি প্রকৃতি।
কিন্তু সমস্যা তখনই হয় যখন—
আকর্ষণকে সম্মান করা হয় না,
ইচ্ছে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখানো হয় না,
নারীর ‘না’ এর মূল্য বোঝানো হয় না,
ফলে স্বাভাবিক আকর্ষণ অসভ্য আকর্ষণে রূপ নেয়।
৫. চরিত্রবান পুরুষ কম নয়—কিন্তু সমস্যার উৎস সংখ্যায় নয়, চিন্তায়
সব পুরুষ খারাপ—এ কথা সত্য নয়।
কিন্তু সমাজে এমন একটি মানসিকতা তৈরি হয়েছে যেখানে— নারীর গুণকে নয়, আগে দেখা হয় তার গঠন
চরিত্রের আগে মূল্যায়ন হয় সৌন্দর্যের
সম্মান নয়, প্রাধান্য দেয় কামনাকে
এই চিন্তাভাবনাই আমাদের সমস্যার মূল।
শেষ কথা
পুরুষ নারীর শরীরে"""র পাগল হয়—এটা কেবল প্রকৃতির কারণে নয়, সমাজের তৈরি এক বিকৃত সংস্কৃতি।
যে সমাজে—
সম্মান শেখানো হয় না
নারীকে মানুষ হিসেবে দেখা হয় না
শরী"র"কে রহস্য বানিয়ে রাখা হয়
মিডিয়া নারীকে প""ণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে
সেখানে নারীর শরী""র নিয়ে পাগলামি নয়—সম্মানহীনতা, কৌতূহল, কামনা, আধিপত্য—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা জন্ম নেয়।
মানুষ পরিবর্তন হবে তখনই—
যখন নারীকে শরী"""র নয়, একজন সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা ঘর থেকেই শুরু হবে।
✍️ সংগ্রহীত
লেখা সংগৃহীত
#s


