রেললাইনের ধারে বসে থাকা বেঞ্চটায় সে একা বসেছিল। সন্ধ্যা নামছে, ট্রেনের শব্দের ভেতর হারিয়ে যাচ্ছে দিনের শেষ আলো। ফোনটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ স্ক্রল করল, তারপর হঠাৎ থেমে গেল একটি নামের কাছে। নামটা এখনও সেভ করা আছে—কিন্তু আর কোনো ডাক নেই।
সে মনে মনে প্রশ্ন করল—
অভিমান?
না, এখন আর অভিমান করার মতো মানুষই নেই। অভিমান টিকিয়ে রাখতে হলে তো সম্পর্ক লাগে।
অভিযোগ?
একসময় ছিল। খুব চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করত—“তুমি বুঝলে না কেন?” এখন সেই প্রশ্নটাই অর্থহীন লাগে।
হাওয়ায় ওড়া একটা কাগজ এসে তার পায়ের কাছে থামল। কেউ হয়তো কিছু লিখে ফেলেছিল, ফেলে দিয়েছে। সম্পর্কগুলোও কি এমনই? ব্যবহার শেষে ফেলে দেওয়া?
সে চোখ বন্ধ করল। হঠাৎ কিছু দৃশ্য ভেসে উঠল—রাত জেগে কথা বলা, অকারণে হাসা, ছোট্ট ঝগড়া আর তার পরেই মিষ্টি মান-অভিমান।
প্রেম?
হয়তো ছিল। কিন্তু সেটা আর বাস্তব নয়, এখন সেটা শুধু স্মৃতির একটা ফোল্ডার—খুললে ব্যথা হয়।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় যে প্রশ্নটা, সেটা সে আজও এড়াতে পারে না—
বন্ধুত্ব?
থাকা উচিত ছিল। প্রেম না থাকলেও অন্তত একজন চেনা মানুষ থাকা যেত। আজ কথা বলার জন্য নতুন মানুষ আছে, কিন্তু নিজের মতো করে চুপ থাকার মানুষটা আর নেই।
একটা ট্রেন এসে দাঁড়াল। মানুষ নামছে, উঠছে—কেউ কাউকে চেনে না, তবু সবাই নিজের গন্তব্যে যাচ্ছে। সে হঠাৎ বুঝতে পারল, মানুষও ঠিক এমনই—এক স্টেশনে এসে কিছু সময় থাকে, তারপর নেমে যায়।
শেষ প্রশ্নটা নিজের কাছেই রাখল—
আর এখন?
এখন দু’জন দু’টি আলাদা লাইনে চলা অপরিচিত মানুষ। কখনো এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিল, তাই মনে হয়—চেনা ছিল কোনও একদিন।
ট্রেন ছেড়ে দিল। সে উঠে দাঁড়াল। আর ফিরে তাকাল না। কিছু সম্পর্ক পিছনে রেখে সামনে হাঁটাই বেঁচে থাকার সবচেয়ে নীরব সাহস। #💕Express Emotion🎁 #❤জীবনের কোটস 🖋 #💌প্রেমের কোটস💓 #❤তোমার অপেক্ষায়💑


