একটা শুভেচ্ছা, একজীবনের সাহস
ভোরটা আজ অন্যরকম।
ঘড়ির কাঁটা পাঁচ ছুঁতেই রাহুলের ঘুম ভেঙে যায়—ঘুম নয়, যেন দুশ্চিন্তাই চোখ খুলিয়ে দেয়। আজ মাধ্যমিক পরীক্ষা। বুকের ভেতরটা এমনভাবে কাঁপছিল, যেন পরীক্ষাটা শুধু খাতায় নয়, তার পুরো জীবনটাই লিখে নেবে।
মা চুপচাপ রান্নাঘরে বসে চা বানাচ্ছিলেন। চোখ দুটো লাল। সারা রাত ঘুম হয়নি। রাহুল বুঝতে পারে—পরীক্ষা তার হলেও দুশ্চিন্তা আসলে মায়েরই বেশি।
বাবা অটোটা আজ একটু আগেই স্টার্ট দিলেন। বললেন না কিছুই। শুধু বেরোনোর সময় ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললেন,
“ভয় পাস না। তুই যা লিখবি, সেটাই আমাদের গর্ব।”
এই কথাটুকু বুকের ভেতর জমে থাকা ভয়টাকে একটু একটু করে ভেঙে দিল।
পরীক্ষা সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল দেখল—কত হাসি, কত কান্না, কত প্রার্থনা। কেউ মাকে জড়িয়ে ধরছে, কেউ বাবার হাত শক্ত করে ধরেছে। আর সে? সে দাঁড়িয়ে আছে নিজের স্বপ্নটাকে আঁকড়ে ধরে।
হঠাৎ পিছন থেকে পরিচিত ডাক—
“রাহুল!”
ঘুরে দেখে স্কুলের সেই স্যার। যিনি খাতা দেখে কখনো বলতেন, “এই ছেলেটার চোখে আগুন আছে।”
স্যার ধীরে বললেন,
“মাধ্যমিক নম্বরের খেলা না। এটা নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধ। হারিস না, লড়াইটা শেষ পর্যন্ত করিস।”
ঘণ্টা পড়ল। পরীক্ষার হল।
প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে রাহুলের চোখ দু’টো ঝাপসা হয়ে এল। অক্ষরগুলো কাঁপছিল না, কাঁপছিল তার হাত। কিন্তু হঠাৎ মনে পড়ল—মায়ের আশীর্বাদ, বাবার নীরব ভরসা, স্যারের সেই বিশ্বাস।
কলমটা কাগজে নামল।
প্রতিটা উত্তরে শুধু লেখা নয়—লুকিয়ে থাকল বাবার ঘাম, মায়ের না বলা কান্না, আর একটা ছেলের না হার মানা স্বপ্ন।
পরীক্ষা শেষে বেরিয়ে এসে রাহুল আকাশের দিকে তাকাল। মনে হল—আজ সে শুধু একটা পরীক্ষা দেয়নি, আজ সে প্রমাণ করেছে—
ভালোবাসা আর বিশ্বাস থাকলে কোনো প্রশ্নপত্রই বড় হয় না।
মাধ্যমিকের শুভেচ্ছা মানে শুধু “অল দ্য বেস্ট” নয়—
এটা মানে, “তুই পারবি—আমরা তোর পাশে আছি।”
Follow now for more post's from #🤣মজাদার Tech মিম📱 #😇আজকের Whatsappস্টেটাস 🙌 #😁হাস্য কৌতুক😁


