শিরোনাম: নিঃশ্বাসের দেনা
“জীবন হেরে যায় নিঃশ্বাসের কাছে, আর মানুষ হেরে যায় বিশ্বাসের কাছে!”
এই কথাটা প্রথম শুনেছিল নীলা হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে। কাচের ওপাশে শুয়ে ছিল তার বাবা—অক্সিজেন মাস্কে বাঁধা একটা নিঃশ্বাস, আর অপেক্ষায় থাকা একটা জীবন।
ডাক্তার বলেছিল, “আর কিছুক্ষণ…।”
কিন্তু ‘কিছুক্ষণ’ যে কতটা দীর্ঘ হয়, তা শুধু অপেক্ষা করা মানুষরাই জানে।
নীলার বাবার জীবনে কখনো অভাব ছিল না বিশ্বাসের। মানুষকে বিশ্বাস করেই ব্যবসা শুরু করেছিলেন, বিশ্বাস করেই কাগজে সই দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসই একদিন তাকে শূন্য করে দিয়েছিল। নিজের মানুষগুলোই যখন মুখ ফিরিয়ে নিল, তখন ভেঙে পড়েছিল তাঁর শরীর। ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস হয়ে উঠেছিল ভারী, আর জীবনটা যেন হার মানতে শুরু করেছিল সেই নিঃশ্বাসের কাছেই।
হাসপাতালের বাইরে নীলা বসে ছিল। হাতে বাবার পুরোনো ডায়েরি। সেখানে লেখা—
“মানুষ ঠকায় না বিশ্বাস, ঠকায় বিশ্বাসের ভুল জায়গা।”
নীলা হঠাৎ বুঝল, তার বাবার হারটা শুধু শরীরের ছিল না, বিশ্বাসেরও ছিল। তিনি মানুষকে ভুলভাবে চিনেছিলেন, কিন্তু মানুষ হওয়া ভুলে যাননি। তাই শেষ মুহূর্তেও কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল না তাঁর চোখে।
ভেতর থেকে নার্স ডেকে বলল, “আপনি শেষবারের মতো দেখা করতে পারেন।”
নীলা ঢুকল। বাবার চোখ খুলল একটু। ঠোঁট নড়ে উঠল—
“বিশ্বাস হারাস না মা… মানুষ হারালেও।”
সেই মুহূর্তে মনিটরের রেখাটা সোজা হয়ে গেল।
বাইরে বেরিয়ে নীলা কাঁদেনি। সে জানত, জীবন আজ নিঃশ্বাসের কাছে হেরেছে ঠিকই, কিন্তু তার বাবার বিশ্বাস হারেনি। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই নীলা বাঁচবে—সাবধানে, তবু মানবিক হয়ে।
কারণ মানুষ হার মানায় বিশ্বাসের কাছে, কিন্তু বিশ্বাস হার মানায় না মানুষের কাছে।
Follow now for more post's from #❤জীবনের কোটস 🖋 #❤তোমার অপেক্ষায়💑 #🌤মোটিভেশনাল কোটস✍ #💌প্রেমের কোটস💓


