ShareChat
click to see wallet page
search
আজ আপনাদের শোনাব গুরু ভক্তির এক রোমহর্ষক কাহিনী, যা শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে।🙏 একবার দেবর্ষি নারদ বৈকুণ্ঠে গেলেন ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সঙ্গে দেখা করতে। প্রভু তাঁকে খুব আদর যত্ন করলেন, পাশে বসালেন। কিন্তু যেই নারদ মুনি উঠে চলে গেলেন, অমনি ভগবান মা লক্ষ্মীকে ডাক দিয়ে বললেন, "শোনো দেবী, যে জায়গাটায় নারদ বসেছিল, ওই জায়গাটা ভালো করে গোবর দিয়ে লেপে পবিত্র করে দাও।" নারদ মুনি তখনও দরজার বাইরেই ছিলেন, নিজের কানে এই কথা শুনে তাঁর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল! তিনি দৌড়ে এসে প্রভুর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বললেন, "প্রভু, আমি কি এতই অপবিত্র? আপনি আমাকে এত আদর করলেন, আবার আমি উঠতেই গোবর ছড়া দিতে বললেন?" ভগবান তখন গম্ভীর হয়ে বললেন, "নারদ, তুমি দেবর্ষি হতে পারো, কিন্তু তুমি যে 'নিগুরা'। যার মাথায় গুরুর হাত নেই, তার ছোঁয়া লাগলে জায়গাও অপবিত্র হয়ে যায়।" নারদ তখন কেঁদে ফেললেন, বললেন, "প্রভু, তবে আমি এখন কী করি? কাকে গুরু মানবো?" ভগবান মুচকি হেসে বললেন, "পৃথিবীতে গিয়ে সবার প্রথমে যার মুখ দেখবে, তাকেই গুরু মেনে নাও।" নারদ ধরাধামে নেমে এলেন। আর এসেই তিনি কার দেখা পেলেন জানেন? এক জেলের! যে সারাদিন মাছ ধরে। নারদের তো মাথায় হাত! "এই অশিক্ষিত জেলে হবে আমার গুরু?" কিন্তু প্রভুর আদেশ, তাই অগত্যা তিনি ওই জেলেকেই গুরুমন্ত্র দিতে বললেন এবং গুরু মেনে নিলেন। কিছুদিন পর নারদ আবার বৈকুণ্ঠে গিয়ে বললেন, "প্রভু, আপনার কথা তো রাখলাম। কিন্তু ওই মূর্খ জেলে আমাকে কী শেখাবে? ওর তো নিজেরই কোনো জ্ঞান নেই!" যেই না এই কথা বলা, অমনি বিষ্ণুর চোখ লাল হয়ে গেল। তিনি বললেন, "নারদ! তুমি গুরুর নিন্দা করলে? যাও, আমি অভিশাপ দিচ্ছি, তোমাকে চুরাশি লক্ষ বার জন্ম নিতে হবে, অর্থাৎ চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে হবে!" নারদের তো প্রাণ শুকিয়ে গেল। তিনি কাঁপতে কাঁপতে বললেন, "প্রভু, দয়া করুন! এই অভিশাপ থেকে বাঁচার উপায় কী?" ভগবান মুখ ঘুরিয়ে বললেন, "এর উপায় আমি জানি না, গিয়ে তোমার ওই জেলের কাছেই জিগ্যেস করো।" নারদ দৌড়ালেন তাঁর গুরুর কাছে। জেলে সব শুনে হেসে বলল, "নারদ, চিন্তা করো না। তুমি এক কাজ করো, গিয়ে প্রভুকে বলো মাটিতে চুরাশি লক্ষ যোনির ছবি এঁকে দিতে। তারপর তুমি সেই ছবির ওপর একবার গড়াগড়ি দিয়ে বোলো—প্রভু আমি ঘুরে এসেছি, আমায় ক্ষমা করুন।" নারদ ঠিক তাই করলেন। ভগবান বিষ্ণু তখন হেসে বললেন, "দেখলে নারদ? যে গুরুর তুমি নিন্দা করছিলে, আজ তাঁর বুদ্ধিতেই তুমি আমার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেলে। গুরু মূর্খ হতে পারেন, কিন্তু গুরুর ওপর বিশ্বাস রাখলে স্বয়ং ঈশ্বরও হার মানেন।" এই গল্পটা আমাদের একটা কথাই শেখায়—গুরু যেমনই হোন, তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখলে শিষ্যের কল্যাণ নিশ্চিত। ধল্লা ভক্ত যেমন পাথরের মধ্যে ভগবানকে পেয়েছিলেন, ঠিক তেমনই গুরুর ওপর অটুট বিশ্বাসই আমাদের ভবপার করতে পারে। তাই সাধে কি আর বলে— "গুরু গোবিন্দ দোউ খড়ে, কাকে লাগু পায়? বলিহারি গুরু আপনার, গোবিন্দ দিও বাতায়।" (বিঃদ্রঃ এই কাহিনীটি গুরু মহিমা সংক্রান্ত একটি প্রচলিত লোককথা) ##জয়গুরু #🙂ভক্তি😊 #🔴আজকের ভক্তি ভিডিও স্ট্যাটাস😀