ShareChat
click to see wallet page
search
🔥🔥 যেখানে পূজা শেষ হয় , সেখানেই শিব শুরু - জানুন শিবভক্ত ব্রাহ্মণ দেবপতির শিক্ষণীয় কাহিনী 🔥🔥 🟡 এক সময় পঞ্চক্রোশী কাশীর পার্শ্বেই বসবাস করতেন দেবপতি নামের এক প্রসিদ্ধ বিদ্বান ব্রাহ্মণ । বেদ, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, উপনিষদ, আগম ও পুরাণ ইতিহাস - সবই ছিলো তাঁর কণ্ঠস্থ । শৈব আগম মতে নিত্যক্রিয়া, প্রাতঃসন্ধ্যা, মধ্যাহ্ন ও সায়ংকালে তিনি শিবলিঙ্গে জল, দুধ, বেলপাতা, ধূপ-দীপ অর্পণ করতেন । লগ্নভেদে মন্ত্রের উচ্চারণে কোথাও সামান্যতম বিচ্যুতিও ছিল না তাঁর । কাশীর মানুষ যাকে দেখা মাত্রই বলত -"ইনি শিবজ্ঞ ব্রাহ্মণ ।" কিন্তু তাঁর অন্তরে ছিল এক অদৃশ্য গ্রন্থি - অহংকার । সেই অহং গর্জন করত না, কিন্তু ফিসফিস করে বলত - "আমি জানি, আমি সাধনা করি । আমি শিবের পরমভক্ত ও শাস্ত্রের মহাজ্ঞানী, তাই আমিই একমাত্র পূর্ণরূপে শিবকে চিনি ।" 🚩 শাস্ত্রে একটা কথা বলা আছে - "অহংকারঃ পুণ্যনাশকঃ" অর্থাৎ , অহংকার পুণ্যের শত্রু । একদিন অপরাহ্ণে, যখন দেবপতি শিব পূজা অভিষেকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন দ্বারে উপস্থিত হলেন এক নীরব সন্ন্যাসী । গায়ে জীর্ণ কৌপীন, চোখে গভীর স্থিরতা, হাতে ভিক্ষাপাত্র । কোনো শব্দ নেই , শুধু এক নিস্তব্ধ কিন্তু দৈব উপস্থিতি । সেই সন্ন্যাসী ব্রাহ্মণ দেবপতিকে বললেন - "দুটো ভিক্ষা দাও আমায়, গৃহস্থ । আমি অনেক দুর থেকে এসেছি খুব ক্ষুধার্ত ও পিপাসু এবং ক্লান্ত ।" পূজার আয়োজন কালে সন্ন্যাসীকে ভিক্ষা করতে আসতে দেখে, ব্রাহ্মণ দেবপতি খুব বিরক্ত হলেন এবং আপন মনেই বলতে লাগলেন - "মহাদেবের পূজার আয়োজনে বিঘ্ন ঘটাতে এসেছে এই সন্ন্যাসী ভিক্ষুক । এই সময়ে পূজা বিঘ্নিত করা পাপ হবে, শিবসাধনা ছেড়ে এই ভিখারীকে ভিক্ষা ?" 🔥 ব্রাহ্মণ কটুকণ্ঠে বললেন - "এই সন্ন্যাসী ! যাও এখন থেকে, এখন আমার শিবপূজার সময় । পরে এসো ।" ব্রাহ্মণের এমন ব্যবহার ও কটুস্বর শুনে, সন্ন্যাসী আর দ্বিতীয় কিছু না বলে চলে গেলেন । লিঙ্গে অভিষেক হল, মন্ত্রোচ্চারণ হল, কিন্তু সেই দিন মন অশান্ত রইল দেবপতির । সেই রাত্রেই দেবপতি স্বপ্নে দেখলেন - দিনের বেলায় তাঁর গৃহদ্বারে এসে ভিক্ষা চাওয়া সেই সন্ন্যাসীই ধীরে ধীরে আকাশে এক মহাভয়ংকর জ্যোতির্ময় দিব্যস্বরূপ ধারণ করলো । নীলকণ্ঠ, জটাজুট, অর্ধচন্দ্র, চর্মবসন, কপালে প্রজ্বলিত তৃতীয় নেত্র, হাতে ভিক্ষার কপালপাত্র ধরে, তিনি মহাদেব । তিনি সেই ভিক্ষার পাত্র হাতে ধরে ক্ষুধার্ত ও পিপাসায় ছটফট করতে করতে ধীরে ধীরে শান্ত হলেন । তার উপস্থিতিতে চারিদিক ধ্বংস ও করুণার যুগল স্পন্দনে স্পন্দিত হচ্ছে । 🔱 স্বপ্নে, মহাদেব তখন দেবপতিকে বললেন - "দেবপতি, তুমি আজ আমাকে পূজা করেছ ?" স্বপ্নেই ব্রাহ্মণ কাঁপা কণ্ঠে বললেন - "প্রভু, প্রতিদিনের মতো আজও শাস্ত্রমতে অনেকোপাচারে আপনার পূজাভিষেক করেছি ।" শিব গম্ভীর কণ্ঠে পুনরায় বললেন - "তুমি আমার লিঙ্গে জল ঢেলেছ, অনেক উপাদানে পূজা করেছো, কিন্তু জীবের মধ্যে আমাকে দেখলে না । তুমি লিঙ্গে আমাকে বেঁধেছ, অথচ আমি লিঙ্গাতীত ।" ব্রাহ্মণ বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করলেন - "প্রভু ! আপনি কোথায় ছিলেন ?" শিব বললেন - "আজ আমি তোমার দ্বারে ভিক্ষাপাত্রে দাঁড়িয়ে ছিলাম । ক্ষুধা পিপাসার কষ্ট প্রশমনের জন্যে আমি তোমার গৃহে গিয়েছিলাম । ভেবেছিলাম, আমার ভক্ত আমাকে আপন করে নিয়ে আমার ক্ষুধা তৃষ্ণার নিবারণ করবে । কিন্তু, তুমি তো আমাকে বিরক্তভাবে তাড়িয়ে দিলে । আমি আমার দিব্যস্বরূপে না এসে এক সামান্য ভিক্ষুক সন্ন্যাসীর রূপে এসেছিলাম বলেই তুমি আমাকে চিনলে না ? আচ্ছা দেবপতি ! আমি কি শুধুই লিঙ্গ আর দেবতার রূপেই বিদ্যমান ? এই সমগ্র সংসার ও প্রত্যেক জীবের মধ্যে কি আমি নেই ? এই তোমার শাস্ত্রের এত পাণ্ডিত্য ? এই তোমার জ্ঞানের নমুনা ? আর এই তোমার শিবভক্তি ?" 🪔 এই বাণী শুনে দেবপতির জ্ঞানচক্ষু পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হোলো ও তাঁর অহং চূর্ণ হল এবং স্বপ্নেই তিনি লুটিয়ে পরলেন শিবের চরণে । শিব তখন বললেন - "যেমন দক্ষযজ্ঞে সকলের কেবলমাত্র কর্মকাণ্ড ও আচার উপাচারের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার থেকে অজ্ঞান জন্মেছিল বলে আমি বিরাগে যজ্ঞভূমি ত্যাগ করেছিলাম এবং, আমি শেষে সেই যজ্ঞ ও দক্ষের অহংকারকে বিনাশ করেছিলাম , যেমন ঋষি ভৃঙ্গী কেবল আমাকে পূজা করতে গিয়ে আমার অর্ধাঙ্গ ব্রহ্মস্বরূপা শক্তিকে অবহেলা করেছিল বলে আমিও ভৃঙ্গীর সেই অর্ধাঙ্গ ও দেহের সমস্ত শক্তিকে শোষণ করে তাঁর দেহকে কঙ্কালসার করে দিয়েছিলাম , তেমনি তুমিও আজ শাস্ত্রের জ্ঞান ও আমার ভক্তির অহংকারে আমার সর্বাত্মক সত্যকে বিস্মৃত হয়ে আমারই স্বরূপ জীবকে অবজ্ঞা করেছ ।" 🕉️ শিবের বাণী পুনরায় প্রতিধ্বনিত হল - "যঃ পশ্যতি স পশ্যতি । অর্থাৎ, যে আমাকে সর্বত্র দেখে সেই আমার পরমভক্ত ও সত্যদর্শী প্রকৃতজ্ঞানী ।" স্বপ্ন ভাঙলো দেবপতির এবং দৌড়ে ছুটে গেলেন দ্বারে, কিন্তু সন্ন্যাসী নেই । তখন তিনি পুনরায় শিবলিঙ্গের সামনে এসে হাতজোড় করে চোখবন্ধ করে বসে পরলেন এবং তাঁর চোখ থেকে অনুতপ্তের অশ্রু অঝোরে নির্গত হতে লাগলো । তখন শিবলিঙ্গ থেকে শান্তসুরে ধ্বনিত হলো উপনিষদের আরেক বাণী - "সর্বং শিবময়ং ব্রহ্মণ শিবাৎ পরোঃ ন কিঞ্চনঃ" অর্থাৎ, হে ব্রাহ্মণ ! সমস্ত কিছুই শিবময় জানো, আমার অতিরিক্ত বা শিব ছাড়া আর কিছুই এই সংসারে নেই ।" 🌟 তারপর, সেই দিন থেকে তাঁর পূজা বদলে গেল । হাতের মন্ত্র কমল, হৃদয়ের মন্ত্র বাড়ল । শিবলিঙ্গের পূজায় অর্ঘ্য পরল কিন্তু, সেই সাথেই অধিকমাত্রায় জীবের সেবায় অর্ঘ্য বাড়ল । ভিক্ষুক, রোগী, দীন, সবার মধ্যে তিনি শিবকে দেখতে শিখলেন । তিনি বুঝলেন - যতক্ষণ "আমি পূজা করছি", ততক্ষণ শিব দূরে, কিন্তু যেদিন "আমিই পূজা", সেদিন শিব নিকটে । কারণ শিব কেবল মন্দিরে নন - শিব ক্ষুধার্তের আহারে, দুঃখীর অশ্রুতে, নীরব সন্ন্যাসীর দৃষ্টিতে । যেখানে বাহ্যিক পূজা শেষ হয়, সেখানেই শিবের পারমার্থিক উপস্থিতির শুরু । লেখনী ✍️-- রুদ্রনাথ শৈব 🥀 ©রুদ্রনাথশৈব #রুদ্রকণ্ঠthevoiceofrudra #রুদ্রনাথশৈব #postviralシ #souviksddas #শিবালয় #সনাতনধর্ম #হিন্দুধর্ম #সনাতন বি দ্রঃ- পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং পোস্টটি কপি করলে সম্পূর্ণ করবেন । নমঃ শিবায় ।। 🕉️ হর হর মহাদেব ।। 🚩 শিব ওম তৎ সৎ ।। 🔱 #হর হর মহাদেব #🙏ওম নম:শিবায়🔱 #🙏শিবের ওয়ালপেপার🙏 #🙏শিব-পার্বতীর কথা💗
হর হর মহাদেব - @রুদ্রনাথশৈব @রুদ্রনাথশৈব - ShareChat