মাধ্যমিক: পরীক্ষার হলে ঢোকে একজন, বাড়িতে পাস করে দশজন 😄
মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন।
পরীক্ষা দিতে যায় একজন ছাত্র, কিন্তু টেনশন করে পুরো পরিবার।
ঘর থেকে বেরোনোর আগে ঠাকুমা বললেন,
“কলমে ফুঁ দে মা, খালি থাকলে চলবে না।”
রাহুল বুঝল—আজ বিজ্ঞান নয়, ভরসার পরীক্ষা।
মা ব্যাগ খুলে আবার চেক করলেন—
কলম আছে, পেন্সিল আছে, রাবার আছে,
কিন্তু ছেলের মাথায় পড়া আছে কি না, সেটা চেক করার কোনো যন্ত্র নেই।
বাবা শেষ অস্ত্র ছুড়লেন,
“যা জানিস, পরিষ্কার করে লিখবি। বেশি স্মার্ট হতে যাস না।”
রাহুল ভাবল—এই কথাটা বইয়ে থাকলে পাশটা নিশ্চিত ছিল!
পরীক্ষা সেন্টারের বাইরে দেখা গেল, অভিভাবকদের আলাদা সংসদ বসেছে।
একজন বলছেন,
“আমার ছেলে তো রাতে একদম ঘুমোয়নি।”
আরেকজন বলছেন,
“আমারটা ঘুমিয়েছে—এইটাই ভয়।”
পরীক্ষার হলে ঢুকে রাহুলের প্রথম কাজ—ঘড়ি দেখা।
দ্বিতীয় কাজ—প্রশ্নপত্রের দিকে এমনভাবে তাকানো,
যেন প্রশ্নগুলো লজ্জা পেয়ে উত্তর নিজে থেকেই লিখে দেবে।
একটা প্রশ্ন দেখে মনে হল,
“এইটা তো পড়েছিলাম!”
পরের লাইনে পড়েই মনে হল,
“কিন্তু এইভাবে পড়িনি!”
কলম থামে, আবার চলে।
মাথা চুলকানো, দীর্ঘশ্বাস, জানালার বাইরে তাকানো—সব মিলিয়ে পুরো একটা রুটিন।
পরীক্ষা শেষে বাইরে বেরোতেই মা–বাবা একসাথে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন,
“কেমন হলো?”
রাহুল এক সেকেন্ড ভেবে বলল,
“যা পড়েছিলাম তার অর্ধেক এসেছিল… আর বাকি অর্ধেক প্রশ্নপত্রে ছিল।”
বাড়ি ফেরার পথে বাবা বললেন,
“চল, আজ তোর প্রিয় চা খাওয়াব।”
রাহুল বুঝল—পাশ–ফেল যাই হোক, এই শুভেচ্ছাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মাধ্যমিক আসলে নম্বরের গল্প না।
এটা জীবনের সেই সময়,
যেখানে একটা “অল দ্য বেস্ট” পুরো পরিবারকে একসাথে দাঁড় করিয়ে দেয়।
সব মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য—
ভয় নয়, চেষ্টা বড় হোক। শুভকামনা! 😊
Follow now for more post's from #📝মনের ডায়েরি ✍


