#☪ইসলামিক জ্ঞানের আলো ☪ আমরা কি সত্যিই মুসলিম, নাকি শুধু ঐতিহ্যের গোলাম?
আজকের সমাজ দেখে মনে হয়, আমরা ইসলামের মূল ‘আকিদা’ আর ‘তৌহিদ’ ভুলে গিয়ে কেবল কিছু আচার-সর্বস্ব আনুষ্ঠানিকতায় আটকে পড়েছি। আমাদের চারপাশের এই অবক্ষয় দেখে কি আমাদের একটুও বুক কাঁপে না? হক কথা বলতে আমি ভয় পাই না, কারণ সত্য প্রকাশ করাই মুমিনের কাজ।
⚠️ আমাদের আজকের করুণ বাস্তবতা:
বিলাসিতার নর্দমা: একদল মানুষ যখন দুবেলা খাবারের জন্য হাহাকার করছে, তখন তথাকথিত মুসলিম দেশগুলো ‘সোনার গাড়ি’ আর ‘সোনার টয়লেটে’ হাগতে ব্যস্ত। কারুনের সেই অহংকার আর বিজাতীয় অন্ধ অনুকরণ কি আমাদেরও গ্রাস করল?
ধর্ম নিয়ে ব্যবসা: সুরা ইয়াসিনে আল্লাহ বলেছেন সেইসব মানুষের অনুসরণ করতে যারা দ্বীনের জন্য কোনো বিনিময় কামনা করে না। অথচ আজ আমাদের অনেক ইমাম ও আলেম ‘ভাতা’ আর ‘হাদিয়ার’ দরদামে ব্যস্ত। কোরবানি থেকে শুরু করে ঘরের দোয়া—সবকিছুই এখন চুক্তিতে চলে। যে জাতি নিজের হাতে কোরবানি দিতে ভয় পায় বা ২৫০ টাকার জন্য ইমামের সাথে দরদাম করে, তারা কীভাবে বিশ্ব শাসন করবে?
আমানতের খেয়ানত: রাষ্ট্রের সম্পদ বিক্রি হচ্ছে, ঋণের বোঝা আকাশচুম্বী, আর সেই টাকা দিয়ে মস্তান পোষা হচ্ছে ভোট কেনার জন্য। আমরা কোন ইসলামের কথা বলছি যেখানে জনগণের আমানত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়?
সাংস্কৃতিক দাসত্ব: কাফেরদের চালচলন আর ডিজে গানের তালে আমাদের সমাজ আজ আসক্ত। আমরা মুখে আল্লাহকে ডাকি, কিন্তু চালচলনে অন্য জাতির গোলামি করি।
📖 আল্লাহর সেই চূড়ান্ত সতর্কবাণী:
পবিত্র কোরআনে (সুরা মুহাম্মাদ: ৩৮) আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন—যদি তোমরা দ্বীনের হক আদায় না করো এবং রাসূলের আদর্শ থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আল্লাহ তোমাদের বদলে অন্য জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন, যারা তোমাদের মতো অলস হবে না।
আজ আমরা ভারতবর্ষে বা বিশ্বে যে লাঞ্ছনা ভোগ করছি, তা আমাদেরই কর্মের ফল। আমরা তৌহিদ ছেড়ে দুনিয়াদারিতে মত্ত হয়েছি, তাই আল্লাহ আমাদের জব্দ করার জন্য অন্যদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন।
শেষ কথা:
আমরা যখন সত্যের দলিল নিয়ে কথা বলি, সমাজ আমাদের ‘পাগল’ বলে। নূহ (আ.)-কেও তাঁর জাতি পাগল বলেছিল। কিন্তু মনে রাখবেন, কিয়ামতের ময়দানে আমাদের এই চকমকে বাড়ি, সোনার গাড়ি বা মস্তানদের দাপট কোনো কাজে আসবে না। সেখানে বিচার হবে কেবল আমল আর ইনসাফের।
আসুন, হুজুগে না মেতে কোরআনটাকে অর্থসহ বুঝি। ধর্মকে ভাড়ার জিনিস না বানিয়ে আল্লাহর সরাসরি দাসত্ব করতে শিখি।


