রহস্যগল্প: আঁতুড়ঘরের তালা
গ্রামের নাম শালিখপাড়া। বাইরে থেকে শান্ত, কিন্তু ভেতরে জমে থাকা প্রশ্নগুলো রাত হলে ফিসফিস করে ওঠে।
কাজের ঘরে মেয়ে চাই, শোবার ঘরে মেয়ে চাই, রান্না ঘরে মেয়ে চাই—সবাই চায়।
কিন্তু আঁতুড়ঘরের দরজায় এসে কেন হঠাৎ ফিসফিস থেমে যায়?
সেখানে ঢুকে শুধু একটাই শব্দ— “ছেলে”।
সেদিন রাতে ধাত্রী শশী বালার চোখে ঘুম ছিল না। আঁতুড়ঘরের জানালা দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকছিল, আর তার বুকের ভেতর জমে উঠছিল এক অদ্ভুত ভয়। প্রসূতি রেণুকা কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
— “দিদি… যদি মেয়ে হয়?”
শশী বালা উত্তর দিল না। উত্তরগুলো এই ঘরেই অনেক আগেই মরে গেছে।
ঠিক তখনই হঠাৎ আলো নিভে গেল। গ্রামের বিদ্যুৎ এমনিতেই বিশ্বাসঘাতক। আঁধারের ভেতর শিশুর কান্না ভেসে উঠল—তীক্ষ্ণ, জেদি। শশী বালা বাতি জ্বালাল।
মেয়ে শিশু।
দরজার ওপারে ফিসফিস। পায়ের শব্দ। কারা যেন অপেক্ষা করছে—রায়ের জন্য।
শশী বালার হাতে কাঁপুনি ধরল। কিন্তু সে আজ অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিল। শিশুটিকে কাপড়ে মুড়ে সে জানালার ধারে নিয়ে গেল। বাইরে দেখা গেল গ্রামের পুরনো দেবীমূর্তি—ভাঙা, তবু দাঁড়িয়ে।
হঠাৎ দরজা খুলে গেল। পঞ্চায়েতের লোক, আত্মীয়স্বজন—সবার চোখে একই প্রশ্ন।
— “কি হয়েছে?”
শশী বালা শান্ত গলায় বলল,
— “রহস্য।”
— “কীসের রহস্য?”
— “ছেলেটাকে জন্ম দিতে একটা মেয়েকেও তো প্রয়োজন—এই সত্যটাই এখানে সবাই ভুলে গেছে।”
নীরবতা নেমে এলো। শিশুর কান্না থামল না। যেন সে-ই প্রমাণ।
সেই রাতের পর থেকে শালিখপাড়ায় এক অদ্ভুত কথা ছড়াল—আঁতুড়ঘরে নাকি তালা পড়ে গেছে।
আসলে তালা পড়েনি।
খুলে গেছে বহুদিনের এক রহস্য—
সমাজের দরজায়।
Follow now for more post's from #💕Express Emotion🎁 #😇আজকের Whatsappস্টেটাস 🙌 #📝মনের ডায়েরি ✍


