ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম
(দহনকালে ভালোবাসার উপন্যাস)
অনেকদিন পরে অন্ধকারে একা সেই কৃষ্ণচূড়া গাছটার দিকে সাগর চেয়ে থাকে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে যেন ছায়া ছায়া মায়া হয়ে আজও পরস্পরের দিকে চেয়ে আছে এখানে। কত ছোট থেকে এই চৌহদ্দিটা তার চেনা। সাগর কিংবা প্রতিভার বয়স তখন কত! দশ-এগারো হবে। সাগর হয়তো একটু বড়। এদেশে এসে থিতু হতে হতে ব্যর্থতায় ছোটবেলার একটা-দুটো বছর কাটা। তবু কো-এড স্কুলে একসঙ্গে পড়তে পড়তে তাদের বেড়ে ওঠা। ক্লাসে প্রতিভা ফার্স্ট, সাগর সেকেন্ড। কোনো সময় প্রতিভাকে টপকাতে তার ইচ্ছে করত না। এই নিয়ে বন্ধুরা তাকে অনেক কথা বলত, ওকে টপকাতে না পারলে কোনোদিন ওকে কাছেও পাবি না।
সাগর গুম মেরে বলত, পেতে চাই না।
সেই সময়ে হঠাৎ কী হলো সাগরের, স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন প্রতিভার পিছু নিল।
কী হয়েছে রে?
একটা কথা বললে রাগ করবি না?
ইস, কোনো বদমাইশির তালে নেই তো?
আমি যদি একদিন তোকে বিয়ে করি?
প্রতিভা বিনুনি দুলিয়ে খিলখিল করে হেসেছিল, বিচ্ছু কোথাকার, গোঁফ ওঠেনি বর হবে! বলে দেব, বলে দেব সবাইকে।
সাগর হঠাৎ ওর মুখে হাত চেপে ধরেছিল, একদমও না। আমার দিব্যি।
হঠাৎ একটা খড়খড় আওয়াজে চমকে ওঠে সাগর। কাছাকাছি একটা খড়ের গাদা। আড়াল থেকে ভেসে আসছে অসংলগ্ন কথাবার্তা। সাগর এগোতে সাহস পায় না। পা দুটো হঠাৎ আটকে যায়। কানদুটো খরগোশের মতো তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। একটা মেয়েলি কণ্ঠস্বর আবেগে ডুবে যেতে যেতে ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে, আমার শরীর-মন জ্বলছে, আর পারছি না, আমাকে নিয়ে চলো...
কিন্তু তোমার বর, ছেলেমেয়ে...
কাউকে চাই না আমি, শুধু তোমাকে চাই।
সাগর চমকে ওঠে। শিরীষের গাঢ় ছায়ায় কৃষ্ণচূড়ার আড়ালে সে। বুকের ভেতরে একটা ময়াল যেন কুণ্ডলী পাকায়। নিভৃতচারীদের কেউ তাকে দেখে ফেলবে না তো? তার ভয় করে। একটা তোলপাড় করা ঢেউ এসে যেন তার বুকের কুঠুরিগুলোকে দমবন্ধ করে তোলে। সে এক প্রকার পালায়।
কারা এরা! একটা বাঁসাকে তছনছ করে দিয়ে পালাতে চায়। দুটো বাচ্চাকে মাতৃহারা করে। এটা যদি চূড়ান্ত স্বার্থপরতা বা নোংরামি না হয়, তাহলে কোনটা?
টলতে টলতে হাঁটতে থাকে সাগর। প্রতিভাকে আর জোর করতে ইচ্ছে করে না। বরং তার ভয় করে। এই ঘূর্ণিচক্রের দিনে সুমন কিংবা বকুলের ভালোবাসা অক্ষত থাকবে তো?
প্রকাশক মাথামোটার দপ্তর, মুদ্রিত মূল্য ৩৮৯/-
# #বই #বাংলাবই #নতুনবই #📚ভালোবাসার গল্প💑

