#📲আমার প্রথম পোস্ট✨ অচিন পাখির গান
গ্রামের শেষ প্রান্তে, যেখানে বাঁশঝাড়ের ফাঁকে মেঘলা আকাশের ছায়া পড়ে, সেখানে থাকতো রিমি। ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর, পাশে একটা আমগাছ আর সামনে খেতের মাঝে ধানের শীষের নাচন। রিমির জীবন ছিল সাদামাটা, কিন্তু তার মনে ছিল অজানা একটা খোঁজ—যেন কিছু হারিয়ে গেছে, যা সে কখনো পায়নি।
এক বর্ষার দুপুরে, যখন আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়ে ঝিরঝির বৃষ্টি নামল, রিমি আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ কোথা থেকে একটা অদ্ভুত সুর ভেসে এল। মিষ্টি, কিন্তু অচেনা। সে তাকিয়ে দেখল, বাঁশঝাড়ের মধ্যে একটা ছেলে বসে বাঁশি বাজাচ্ছে। ছেলেটার চোখে একটা গভীর শান্তি, যেন সে পৃথিবীর সব দুঃখ ভুলে গেছে। রিমির পা দুটো যেন নিজে থেকেই এগিয়ে গেল।
"তুমি কে?" রিমি জিজ্ঞেস করল, তার কণ্ঠে কৌতূহল।
ছেলেটা বাঁশি নামিয়ে মুচকি হাসল। "আমি রাহুল। এই গ্রামে নতুন এসেছি। তুমি?"
"আমি রিমি। এই গানটা... এটা কীসের গান?"
রাহুল হাসল, "এটা কোনো গান নয়। এটা আমার মনের কথা, যা শব্দে বলতে পারি না, তাই বাঁশিতে বাজাই।"
সেই দিন থেকে রিমি আর রাহুলের দেখা হতো প্রায়ই। বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে, ধানখেতের আল ধরে হাঁটতে হাঁটতে তারা কথা বলত। রাহুল বলত তার ভ্রমণের গল্প, দূরের পাহাড়, নদীর গান, আর রিমি বলত তার ছোট্ট গ্রামের স্বপ্ন। রিমি জানত না ভালোবাসা কী, কিন্তু রাহুলের বাঁশির সুর আর তার গল্পে সে যেন একটা নতুন পৃথিবী খুঁজে পেত।
একদিন রাহুল বলল, "রিমি, আমি চলে যাব। আমার বাড়ি এখানে নয়। আমি একটা অচিন পাখি, যে কখনো এক জায়গায় থাকে না।"
রিমির বুকটা হিম হয়ে গেল। "তুমি ফিরবে না?"
রাহুল একটা ছোট্ট বাঁশি রিমির হাতে দিয়ে বলল, "এটা রাখো। যখনই এই বাঁশি বাজাবে, আমি তোমার কাছে থাকব।"
রাহুল চলে গেল। গ্রামের সেই বাঁশঝাড় আর আমগাছের নিচে রিমি একা দাঁড়াত। কিন্তু প্রতি বর্ষায়, যখন মেঘ ডাকত, রিমি সেই #কবিতা বাঁশি বাজাত। অদ্ভুতভাবে, সেই সুরে রাহুলের গল্প, তার হাসি, তার চোখের শান্তি যেন ফিরে আসত। রিমি বুঝতে পারল, ভালোবাসা মানে শুধু কাছে থাকা নয়, কখনো কখনো কারো স্মৃতিকে বুকে ধরে বেঁচে থাকা।
বছরের পর বছর কেটে গেল। রিমি বুড়ি হল, কিন্তু সেই বাঁশি আর তার সুর রইল তার সঙ্গী। গ্রামের মানুষ বলত, বর্ষার দিনে আমগাছের নিচে একটা অচিন পাখির গান ভেসে আসে। কেউ জানত না, সেটা রিমির ভালোবাসার গান, যা কখনো হারায়নি


