সূর্য তখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে। আকাশ জুড়ে কমলা আর গোলাপি রঙের এক অপরূপ মেলা। বাতাসে হালকা শীতলতা, যেন প্রকৃতি নিজেই একটা নরম কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছে। গ্রামের পথ ধরে হাঁটছে রিমি, একটা ছোট্ট মেয়ে, যার হাতে একটা বাঁশের ঝুড়ি। সে ফুল তুলতে বেরিয়েছে, কিন্তু তার চোখ আটকে গেছে বিকালের এই মায়াবী রূপে।
পথের পাশে ধানক্ষেত। হাওয়ায় ধানের শীষ নুয়ে-নুয়ে নাচছে, যেন তারা গান গাইছে। দূরে একটা বক উড়ে গেল, তার সাদা ডানায় সূর্যের আলো ঝিকমিক করে উঠল। রিমি থমকে দাঁড়াল। তার কানে ভেসে এলো একটা মিষ্টি সুর—পাখির কিচিরমিচির, আর দূরের নদী থেকে আসা পানির কলকল শব্দ।
সে পথ ছেড়ে একটা ছোট্ট টিলার দিকে এগিয়ে গেল। টিলার ওপর একটা পুরোনো বটগাছ, যার ডালপালা ছড়িয়ে আছে চারদিকে। গাছের নিচে বসে রিমি তার ঝুড়িটা পাশে রাখল। সামনে দিগন্তে সূর্য ডুবছে। আকাশে এখন আরও গাঢ় রঙ—লাল, বেগুনি, আর একটু নীলের মিশেল। মনে হচ্ছে, কেউ যেন আকাশে রং তুলি দিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে।
রিমি হঠাৎ লক্ষ করল, তার পাশে একটা ছোট্ট খরগোশ কখন যেন এসে বসেছে। তার কান দুটো খাড়া, আর চোখ দুটো ঝকঝকে। রিমি হাসল। সে ভাবল, এই বিকালটা যেন তাকে গল্প শোনাচ্ছে। খরগোশটা একটু নড়েচড়ে বসল, আর তখনই একটা প্রজাপতি উড়ে এসে রিমির হাতের কাছে বসল। তার ডানায় ছিল হলুদ আর সবুজ রঙের ছোঁয়া।
“তোমরা কি আমার সঙ্গে খেলতে এসেছ?” রিমি ফিসফিস করে বলল। খরগোশ আর প্রজাপতি যেন তার কথা বুঝল। খরগোশটা একটু লাফিয়ে গাছের কাছে গেল, আর প্রজাপতিটা তার পিছু নিল। রিমি হেসে উঠল। সে দৌড়ে তাদের পিছু নিল। টিলার ওপর দিয়ে ছুটতে-ছুটতে সে দেখল, চারপাশে ফুলের মধ্যে আরও প্রজাপতি উড়ছে। কখন যেন বিকালের আলো ফিকে হয়ে এল, আর তার জায়গায় আকাশে জ্বলে উঠল প্রথম তারাটি।
রিমি থামল। তার হাতে এখন কয়েকটা বুনো ফুল। সে ফুলগুলো ঝুড়িতে রাখল আর মনে মনে ভাবল, এই বিকালটা তার জন্য একটা উপহার। প্রকৃতি যেন তাকে বলছে, “দেখ, আমি কত সুন্দর! তুইও এই সৌন্দর্যের একটা অংশ।”
সন্ধ্যার আঁধার নামার আগে রিমি বাড়ির পথ ধরল। তার পিছনে বটগাছটা দাঁড়িয়ে রইল, যেন প্রকৃতির এক নীরব প্রহরী। আর আকাশে, সূর্যের শেষ আলো মিলিয়ে যাওয়ার আগে, একটা শান্তির গল্প লিখে গেল।
সমাপ্তি #😍আমার পছন্দের স্টেটাস😍 #🎄গাছ🎄 #🌄প্রকৃতি ও পশু-পাখি প্রেমী🐕 #😮লাইফ হ্যাকস🤩 #📸ফোটোগ্রাফি টিপ্স ও ট্রিক্স✨


