#📰দেশের আপডেট📰RAW এর জন্ম
১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বরের লখনৌ— কুয়াশার সকাল, শান্ত রাস্তা, আর সেই শহরেই জন্ম নিলেন এক ছেলে— Rameshwar Nath Kao।
কেউই তখন জানত না— এই ছেলেটার মাথা একদিন ভারতীয় গোয়েন্দা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হবে।
শৈশব থেকেই Kao ছিলেন অদ্ভুত শান্ত, খুব কম কথা বলা, কিন্তু ভেতরে ছিল একটা অন্যরকম “অবজার্ভেশন”।
শ্রেণিকক্ষে তিনি পিছনের বেঞ্চে বসতেন— কিন্তু সব ছাত্রের আচরণ মুখস্থ রাখতেন।
বন্ধুরা বলত—
“ও কথা কম বলে, কিন্তু সব দেখে।”
১৯৪০–এর দশকে তিনি প্রবেশ করেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে।
তখন ব্রিটিশরা ভারতের নিরাপত্তা চালাত, আর দেশ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
Kao শিখলেন— তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করতে হয়, মানুষের ভাষা কীভাবে পড়তে হয়, মনস্তত্ত্ব কীভাবে ভাঙতে হয়।
কিন্তু স্বাধীনতার পরে তার জীবনে প্রথম বড় দায়িত্ব—
১৯৬2–এর চীন–ভারত যুদ্ধের সময় গোপন তথ্য সংগ্রহ।
তিনি বুঝে যান—
ভারতের দরকার একটা আলাদা বিদেশি-গোয়েন্দা সংস্থা, CIA–KGB–MOSSAD–এর মতো।
এবং এই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয়— R.A.W (Research & Analysis Wing)।
১৯৬8 সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে ডাকেন চুপচাপ একটি মিটিংয়ে।
শুধু দু’জন মানুষ বসেছিলেন ঘরে—
ইন্দিরা গান্ধী এবং R. N. Kao।
সেখানে বলা হয়—
“Kao Saheb, we need an external intelligence agency… build it.”
এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তিনি তৈরি করতে শুরু করেন
ভারতের সবচেয়ে গোপন— সবচেয়ে শক্তিশালী— সবচেয়ে নিঃশব্দ সংস্থা:
RAW।
১৯৭১: যে দিনে Kao–এর মাথাতে জন্ম নিল “Bangladesh”
১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চলছে, লাখো শরণার্থী ভারতে আসছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অত্যাচার করছে—
ভারত কী করবে, সেটাই ছিল প্রশ্ন।
ইন্দিরা গান্ধীর টেবিলে তখন যে রিপোর্টগুলো যেত—
তার প্রতিটা পাতাই লিখতেন Kao।
তিনি ইন্দিরাকে বলেছিলেন—
“If India waits, the blood will never stop.”
Kao প্রস্তুত করেন—
👉 মুজিবনগর সরকারের সুরক্ষা পরিকল্পনা
👉 মিত্র বাহিনীর জন্য গোয়েন্দা ম্যাপ
👉 পাকিস্তানের ট্রান্সমিশন ব্লক করার স্ট্র্যাটেজি
👉 মেজর Zia ও Mukti Bahini–র জন্য মাঠের ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক
👉পাকিস্তানের নৌবাহিনীর রুট-কাট স্ট্রাকচার
RAW–এর তৈরি করা তথ্য ছাড়া ভারতীয় সেনা ১৩ দিনের মধ্যে যুদ্ধ জিততে পারত না— এটা সকল ইতিহাসবিদের মত।
কিন্তু Kao কখনো সামনে আসেননি।
১৯৭১ শেষ, বাংলাদেশ জন্ম— কিন্তু মানুষ জানেও না এই ছায়ামানুষটার নাম।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গুপ্তচর সংস্থাগুলো তাকে ভয় করত
MI6 একবার Kao–কে বলেছিল—
“You are the Asian spymaster.”
CIA–এর এক রিপোর্টে তাকে বলা হয়েছে—
“The man who built his own intelligence galaxy.”
কিন্তু তিনি সবসময় সাধারণ পোশাক পরতেন—
কখনো টাই পরেননি,
কখনো VIP গাড়ি নেননি,
কখনো প্রেসের সামনে আসেননি।
তিনি বলতেন—
“স্পাই যদি আলো চায়, সে স্পাই না।”
১৯৮4 – অপারেশন ব্লু স্টার
এটা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরামর্শ—
কারণ ভুল হলে পুরো দেশ জ্বলে যেত।
Kao সেদিনও ছিলেন চুপচাপ, টেবিলের পাশে।
তিনি পুরো অপারেশনের রূপরেখা দেন, বিস্ফোরক কোথায়, কত অস্ত্র, কোন টানেল— সবই তার ইনপুটে ডিজাইন হয়।
কিন্তু অপারেশনের ব্যর্থতা বা জটিলতা— তিনি কখনো দায় অন্যের ওপর চাপাননি।
তিনি শুধু বলেছিলেন—
“দেশের ক্ষতি না হওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
জীবনজুড়ে ছায়া, মৃত্যু পর্যন্ত নিঃশব্দ
২০০2 সালে Kao মারা গেলে—
ভারতের সাধারণ মানুষ তখনও জানত না—
এই মানুষটার অবদান কী।
তিনি কোনো আত্মজীবনী লেখেননি।
কোনো সাক্ষাৎকার দেননি।
কোনো অনুষ্ঠানে যাননি।
তার জীবনের মূল সূত্র—
“A good spy dies a stranger.”
আজ ভারতের গোয়েন্দা দুনিয়ায় একটা কথা খুব বিখ্যাত—
“RAW–এর রক্তে Kao আছে।”
কারণ ভারতীয় স্পাইডমের ভিত্তিই তিনি।
ফাউন্ডেশন।
ছায়া।
ঈশ্বরের মতো নীরব এক ভরসা।
সোর্স:
The Hindu – R. N. Kao archives
Hindustan Times – “The man who built RAW”
India Today – Bangladesh 1971 intelligence files
BBC – India’s Secret Spymaster profile
Book: “Kao: The Gentle Spymaster” (Nitin A. Gokhale)

