•• বৃষ্টি=ভালোবাসা ••
— ভাই, চল না গঙ্গার ঘাটে যাবি?
— এখন?
— হ্যাঁ!
— ধুর! তোর মাথাটা পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে।
— যাবি কিনা বল, নাহলে একাই চলে যাবো।
— এরকম পাগলামি কেন করিস, মেঘা?
— তোর সাথেই তো করি। ঠিক আছে তোর পছন্দ না হলে বলে দে, অন্য কারোর সাথে গিয়ে করবো।
— দুম্ করে মাথায় একটা চাটি মারবো। চল।
মুচকি হেসে মেঘা এগোতে লাগলো ঘাটে যাওয়ার দিকে।
এই যে মেঘা, ইনি হচ্ছেন আমাদের গল্পের নায়িকা, ইংলিশ অনার্স ফাইনাল ইয়ার। আর হিরো হলো সমুদ্র, ইঞ্জিনিয়ারিং করছে, তারও ফাইনাল ইয়ার। সমুদ্র ওকে ভালোবাসে, কিন্তু বলতে পারেনি। কিন্তু মেঘা সব বুঝতে পারে। তাই ও ঠিক করে যে আজকে ও—বাকিটা বলবো না। সাসপেন্স থাক। চলুন, গল্পে ফেরা যাক।
গঙ্গার ঘাটে যাওয়ার সময় ভীষণ জোরে বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে।
— হয়ে গেলো। নে, এবার গঙ্গার ঘাটে কী করে যাবি যা। ছাতাও নেই আমাদের কাছে। (পাশে তাকিয়ে দেখে মেঘা অলরেডি বৃষ্টিতে ভিজতে চলে গেছে।) এই, তুই এখন বৃষ্টিতে ভিজবি? তারপর ঠান্ডা লাগলে?
— সমুদ্র, কিছু কিছু মুহূর্ত উপভোগ করতে হয় পরে কী হবে সেই সব না ভেবে। চলে আয়।
— কী চলে আয়? আমি এই বৃষ্টিতে ভিজতে পারবো না। দিব্যি পড়ছিলাম, কালকে ভাইভা আছে। আর তুই তার মধ্যে টেনে নিয়ে চলে এলি ঘাটে যাওয়ার জন্যে। যেতে যেতে বৃষ্টি নেমে গেলো। ছাতাও নিতে ভুলে গেলাম। ধুর! আর এখন ভিজে কাল জ্বর বাধিয়ে বসলে আমার মার্কস পুরো জলে যাবে।
— এত কেন বকবক করিস? আসতে বলেছি, চুপচাপ আসবি। আর তুই কেমন পড়ছিলিস সেটা আমার জানা আছে। সব দেখেছি আমি।
— কী? কী দেখেছিস তুই?
— সামনে বই খুলে কে মুচকি হাসে রে? যাই হোক, এবার চলে আয়। বৃষ্টিতে ভিজে এই সময়টাকে উপভোগ কর,
সমুদ্র।
সমুদ্র বাধ্য হয়ে মেঘা'র সাথে তাল মেলায়।
বেশ খানিকক্ষণ পর, চারিপাশ ফাঁকা, বৃষ্টির মধ্যে কেউ বাইরে নেই, একমাত্র এই দুটো ছেলে মেয়ে ছাড়া। একজন মগ্ন হয়ে বৃষ্টির ছন্দে তাল মিলিয়ে নাচতে ব্যস্ত আর একজন? সে তো মগ্ন তার ভালোবাসার মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকতে।
মেঘা'র চোখ এড়িয়ে যায় না সেই দৃশ্য। সেটা লক্ষ্য করে আড় চোখে।
— জানিস সমুদ্র, সম্পর্কগুলো আসলে বৃষ্টির মতো। কেউ কেউ ভয় পায়, দৌড়ে পালায়। আবার কেউ কেউ ভেজে, হোক না যত ঠান্ডা, তবু থেকে যায় কারণ, ভালোবাসা মানে একসাথে ভিজে যাওয়া।
— ভালোবাসা?
— হুম, ভালোবাসা। তুই আমাকে ভালোবাসিস সেটা তোর চোখে মুখে স্পষ্ট। বলিসনি, তাই বলে কি বুঝতেও পারবো না? কী জানিস তো? মেয়েরা না এক হাত দূর থেকে বুঝতে পারে তাদের পেছনে কী চলছে। একটা কথা বলি সমুদ্র, ভালোবাসা মানে সবসময় কথায় বোঝানো যায় না! কখনও কখনও, কারো পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে ভিজে যাওয়া—সেটাই হয় সবচেয়ে গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। এই যে দেখ, তুই যে আমার সাথে দাঁড়িয়ে ভিজছিস, তুই তো চাসনি ভিজতে তাও ভিজছিস। একটা টান না কাজ করলে এটা হয় না।
— কিন্তু ওটা তো...
— প্লিজ সমুদ্র, এখন এটা বলিস না যে আমার কথা রাখতে তুই বাধ্য হয়ে এলি, বা তুই ছোট্ট বাচ্চা নোস যে তোকে আমি টানতে টানতে নিয়ে আসবো আর তুই'ও চলে আসবি। তোর'ও ভেতরে ভেতরে ইচ্ছে ছিলো যাতে আমার সাথে যেতে পারিস। স্বীকার কর, স্বীকার কর যে তুই ভালোবাসিস আমাকে।
— হ্যাঁ, ভালোবাসি তোকে আমি। শুধু বেস্ট ফ্রেন্ড বলে নিজেকে আটকে রাখতে পারছি না আর। তোকে না দেখলে মন অস্থির হয়ে ওঠে — জানিস? তুই একটুখানি কষ্ট পেলেও আমার বুকটা ধড়ফড় করতে থাকে। আমি ভয় পাই — যদি তোকে হারিয়ে ফেলি, এটা বন্ধুত্ব না, এটা ভালোবাসা। নিঃশব্দে জন্ম নিয়েছে, কিন্তু আজ বৃষ্টির শব্দের চেয়েও জোরে তোকে বলতে চাই — ভালোবাসি তোকে... নিঃশর্তভাবে। তোর পাশে ভিজতে ভিজতেই বুঝলাম—ছাতা ধরতে নয়, জীবনটাকে ভাগ করে নিতে তোর পাশে থাকতে চাই। থাকবি তো আমার পাশে? সারাজীবন?
— বুদ্ধু, এই কথাটা বলতে এত সময় লেগে গেলো তোর? হ্যাঁ, আমিও তোকে ভালোবাসি। যেদিন থেকে ফিল করি যে তোর আমার প্রতি কিছু আছে, সেদিন থেকেই আমিও তোর প্রতি দুর্বল হয়ে যাই। কথা দিলাম, সারাজীবন ঝগড়া করবো আর কয়েক বছর পর থেকে ঝগড়াটা এক ছাদের নীচে করবো। কেমন?
— তুই বদলাবি না। আমার সাথে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করেই যাবি।
— অবশ্যই।
— চল, এবার বাড়ি যাই।
— কী! পাগল নাকি? চল, বিরিয়ানি খাওয়া।
— গেলো, আজ আমার পয়সা জলে…
— ধুর কিপটে! চল তো।
— আচ্ছা ঠিক আছে, আগে বাড়ি চল, স্নিগ্ধা'র জামা পরে নিবি। তারপর বেরোবো। চল এবার।
— চল।
.
.
.
.
• কলমে:- তোমার অপ্রিয়
এক #ভালোবাসা #💗🌹💗ভালোবাসার গল্প💗🌹💗 #🥰লাভ goals❤ ভালোবাসার গল্প #🙏শুভ দুপুর


