কিছু কিছু গাছের প্রজাতি হতে কি ভাবে বারো মাস ফুলফল ধরে এমন গাছ তৈরি করা যেতে পারে?
বিষয়টা সহজে বুঝতে একটা বুনো কুল গাছ দিয়ে শুরু করি। মে মাসে সাধারণত কুল গাছে ফুল ধরে না। কিন্তু একটা কুল গাছ দেখলাম পহেলা মে-তেই ছোট ছোট কুলও ধরেছে এবং সেই সাথে ফুলেও পরিপূর্ণ। মে মাসের শুরুতেই কুল গাছে সাধারণত এতো ফুল ফল আসতে দেখা যায় না। পাশের আর একটা বুনো কুল গাছ লক্ষ্য করে দেখলাম সেই গাছে কিন্তু একটা ফুলও নেই।
এমন কি বর্তমান সময়ের বিভিন্ন উন্নত মানের কুলের প্রজাতি যেমন আপেল, রেড আপেল, বল সুন্দরি, ভারত সুন্দরি ইত্যাদি গাছে এই সময়ে ফুল আসে না। কিন্তু আগস্টের শেষের দিকে অধিকাংশ প্রজাতির কুল গাছে ফুল আসে। এ সময়েও এই বুনো কুল গাছ যদি ফুলে ফলে ভর্তি থাকে তবে ধরে নিতে হবে এটা একটা বারোমাসি কুল গাছ। কিন্তু এর কুল টক এবং কষ বিশিষ্ট ও ছোট ছোট সবুজ রঙের। অপর দিকে যদি রেড আপেল কুলের কথা ধরি তবে এর রঙ লাল মিষ্টি এবং আকারে বেশ বড়। কিন্তু বছরে ১ বারের বেশি হতে চায় না এবং সারা বছর গাছে তেমন কুল থাকে না।
কুল গাছে সাধারণত পাতার গোড়ায় গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল আসে যার ভেতরে স্ত্রী ও পুরুষ ফুল মেশানো থাকে। যে ফুলগুলোতে পরাগায়ন করতে হবে সেই ফুলগুলো (স্ত্রী ফুল) রেখে পুরুষ ফুলগুলো ফোটার আগেই কেটে ফেলতে হবে যাতে স্বাভাবিক পরাগায়ন না ঘটে। এমন কি কীটপতঙ্গের মাধ্যমেও যাতে পরাগায়ন না ঘটতে পারে সে জন্য নেট দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে যাতে স্বাভাবিক আলো বাতাস পায়। ফুল ফোটার পর বুনো কুল গাছ হতে পুরুষ ফুল সংগ্রহ করে পরাগায়ন সম্পূর্ণ করতে হবে। সাথে বুনো কুল গাছেও রেড আপেলের পরাগ সংগ্রহ করে পরাগায়ন করা যেতে পারে।
এরপর পরাগায়িত কুলের বীজ সংগ্রহ করে তা যত্ন সহকারে লাগাতে হবে। সাধারণত দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কুল গাছ তৈরি হবে। তবে বেশ বড় কুল গাছের সাথে যদি নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এসব কুলের চারা বা ডাল গ্রাফ্টিং করা হয় তবে আরও দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
শংকর জাতীয় গাছ তৈরির এই পদ্ধতি অনেক পুরনো এবং নির্ভুলতা বেশি। তবে DNA Marker ব্যবহার করে আগেই ভালো চারা বাছাই করা যায় কিন্তু নির্ভুলতা কম। ধন্যবাদ। #🎄গাছ🎄


