কয়েকটা কথা বলছি। এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে অসম্মান করার জন্য নয়। কিন্তু দয়া করে একটু মন দিয়ে শুনবেন, এবং প্যানিকগ্রস্ত হওয়ার আগে সম্ভব হলে একটু তলিয়ে ভেবে দেখবেন। আজকের সারাদিনে প্রথম পর্বের যে ভোটটা হলো, সেখানে নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা দেখলেন। আসুন, এক এক করে কয়েকটি পয়েন্টের ওপরে আলোকপাত করা যাক।
(১) প্রায় কোনোপ্রকার রক্তপাতবিহীন, কোনোরকম খুনোখুনির ঘটনাবিহীন, কোনোরকম আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারবিহীন এরকম নির্বাচন শেষ কবে আপনারা এই রাজ্যে প্রত্যক্ষ করেছেন? আমি তো অন্ততঃ অদ্যব্ধি, এই জন্মে কোনোদিনও দেখি নি।
(২) ছাপ্পা ভোটের ঠিক কতগুলো অভিযোগ আজকে সামনে এসেছে? সারাদিন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ঘুরিয়ে আমার চোখে অন্ততঃ ১-২ টোর বেশি অভিযোগ চোখে পড়ে নি। একবার কল্পনা করুন। ১৫২ টা বিধানসভা কেন্দ্রের আনুমানিক ৪০-৪৫ হাজার বুথ, ধরে নিলাম, তার সমানুপাতিক ভোটার প্রায় তিন কোটি, তাও পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি রাজ্যে, যে রাজ্যটি অবাধ ছাপ্পা ভোটের কারণে কুখ্যাত (এমনকী ২০১১ এর সেই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ভোটেও যার কোনো ব্যত্যয় ঘটে নি), সেখানে সংবাদমাধ্যম অব্ধি সারাদিন হাতে গোনা কয়েকটি ঘটনা ছাড়া ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ আনতে পারে নি। রিপাবলিক বাংলা এবং এবিপি আনন্দের মতো সংবাদমাধ্যম শিয়ালের কুমির ছানা দেখানোর মতো করে সারাদিন ধরে শিলিগুড়ির যে ঘটনাকে হাইলাইট করে গেলো, আচ্ছা, এর কি গ্যারান্টি আছে, যে ওই মহিলাটি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যে কথা বলে নি? আপনাদের একবারও কেন এটা মনে হচ্ছে না যে she might be a part of TMC's game plan? আবার এমনও হতে পারে যে উনি যেটা বলেছেন, সেটা সত্যি। বেনিফিট অফ ডাউটের কারণে ধরেও নিলাম যে সেটা সত্যি। তাহলেও বলতে হয়, বিক্ষিপ্ত কিছু বুথ ছাড়া ছাপ্পা ভোটের কোনও মেজর অভিযোগ এখনও সেভাবে সামনে আসে নি। অন্ততঃ আমার চোখে পড়ে নি। আমার যদি ভুল হয়, তাহলে শুধরে দেবেন, আমি হাসিমুখে আমার ভুল স্বীকার করে নেবো।
(৩) এর আগের প্রতিটি নির্বাচনে আমরা লক্ষ্য করেছি, বহু কেন্দ্র থেকেই ইভিএম বিকল হওয়ার ভুরি ভুরি অভিযোগ আসতে থাকে সারা দিন ধরে। সিসিটিভি ক্যামেরা যবে থেকে চালু হয়েছে, সেই সিসিটিভি বন্ধ থাকা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আজকে সারাদিন, ওই ৪০-৪৫ হাজার বুথে ইভিএম বিকল হওয়ার অভিযোগের সংখ্যা কী দেখলাম? মাত্র একটি, বিশ্বাস করুন, মাত্র একটি। রিপাবলিক বাংলা সেইটা নিয়েই সারাদিন সেনসেশন তৈরীর চেষ্টা করে গেলো। হয়তো অন্য কোনো চ্যানেলে আরো কিছু অভিযোগ দেখিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু বুকে হাত রেখে বলুন তো, তাদের সংখ্যা কতো? ১০ টার বেশি হবে কি? আর সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে এখনও অব্ধি অভিযোগের খতিয়ান কতো? আমার চোখে শূন্য, জাস্ট শূন্য। আপনাদের চোখে পড়লে দয়া করে জানাবেন। আমি শুধরে নেবো।
তাহলে একবার মাথা ঠাণ্ডা করে ভেবে দেখার চেষ্টা করুন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু, এবং পক্ষপাতহীনভাবে পরিচালনা করার জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন কী অসাধ্যসাধন করেছেন। ওনারা সর্বতোভাবে চেষ্টা করে গেছেন যাতে এই নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের পাহাড় যেন না জমে (হ্যাঁ, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অনেকেরই অনেক অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু সেটা ভিন্ন প্রশ্ন)। একবার শুধু ভেবে দেখুন, কী বিপুল পরিমাণ সময় নিয়ে আজকের এই দিনটার জন্য ওনারা নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিকল্পনা করেছেন, এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের সর্বশক্তি ঢেলে দিয়েছেন। এবং এর কারণে ওনাদের জন্য কোনো প্রশংসায় যথেষ্ঠ নয়। তাহলে যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সমস্ত স্টেপ নিয়ে এতখানি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, এতখানি পরিকল্পনা করেছেন, তাহলে আজ আপনাদের এটা কেন মনে হচ্ছে যে নির্বাচনের আসল যে ইকুইপমেন্ট, অর্থাৎ ইভিএম মেশিন, সেই নিয়ে ওনারা সতর্ক নন? মানে ওনারা ঠিক মোক্ষম জায়গায় এসে এতখানি ক্যালাস্ হবেন যে ইভিএম মেশিন নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে ইচ্ছেমতো খেলতে দেবেন? এটা যে অসম্ভব নয়, সেটা আমি দাবী করছি না। কিন্তু সেটা একমাত্র তখনই সম্ভব যদি না কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের একদম শীর্ষস্তর থেকে বুথ লেভেল অফিসার অব্ধি সকলেই কম্প্রোমাইজড হন (আমার আগের একটি পোস্টেই লিখেছি, একবার ভোট হয়ে গেলে ইভিএম ট্যাম্পারিং করা কেন সম্ভব নয়)। কিন্তু সেটার সম্ভাবনা কতটুকু, একটু ভেবে কি আপনারা ভেবে দেখবেন না?
পরিশেষে একটাই কথা বলবো। এবারের নির্বাচন কোনও বিজেপি ভার্সেস তৃণমূল নয়, এবারের নির্বাচন রাজ্যের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে এক ভয়ঙ্কর দেশবিরোধী, আসুরিক শক্তির (তৃণমূল যার একটা অংশমাত্র)। আচ্ছা, আপনাদের এটা কেন মনে হচ্ছে না যে সেই দানবিক শক্তি ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নানারকম গেমপ্ল্যান সাজিয়ে রাখতে পারে? এই যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে যে দেখানো হচ্ছে যে ৩-৪ টি গাড়ি বা বাসে অসুরক্ষিত অবস্থায় কয়েকটি অব্যবহৃত ইভিএম ধরা পড়েছে, আপনাদের এটা কেন মনে হচ্ছে না যে এটা পুরোটাই সেই ভয়ঙ্কর আসুরিক শক্তির পূর্বনির্ধারিত গেমপ্ল্যানের অংশবিশেষ। তারা কিন্তু বেশ ভালোভাবেই জানে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে যদি জনগণের মনোবল এইভাবে ভেঙ্গে দেওয়া যায়, তাহলে কিন্তু তাদের হারা বাজির জেতার পথ প্রশস্ত হয়। এবং যেভাবে আমার ফিডে একের পর এক পোস্ট আসছে, সেখানে যেরকম ধরণের প্যানিকগ্রস্ত মানুষের কমেন্ট দেখছি, আমার তো মনে হচ্ছে, তারা তাদের পরিকল্পনার দিকে সঠিক পথেই এগোচ্ছে, নয় কি? এরকম বেশ কিছুজনের মন্তব্য চোখে পড়লো, আর কোনো আশা নেই, রাজ্যের শাসকদল খেলে দিয়েছে, সমস্ত কেন্দ্রের ইভিএম বদলে দেওয়া হচ্ছে, ৪ তারিখ ওরাই শেষ হাসি হাসবে, এরপরেও কি আপনাদের মনে হয় না সেই আসুরিক শক্তি যে সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার খেলতে চেয়েছিলো, আপনারা অনেকেই ঠিক সেই ফাঁদে পা দিচ্ছেন? একইসঙ্গে এটাও ভেবে দেখতে অনুরোধ করবো যে, এই ঘটনাগুলি কিন্তু শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়াতেই রিপোর্টেড হচ্ছে। কোনও মেইনস্ট্রিম মিডিয়াকে দেখছেন, এই নিয়ে খবর করতে? তারা কিন্তু করছে না। কেন করছে না বলুন তো? এইভাবে কোনোদিক তলিয়ে না দেখে, দুমদাম কয়েকটি ভিডিও চোখে পড়লো বলেই সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার করে দিলাম, এই কাজগুলি কি ঠিক হচ্ছে? কী মনে হয় আপনাদের? কমেন্ট করে জানাবেন।
একদম শেষে সকল শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে এটাই বলবো, নির্বাচন কিন্তু এখনও শেষ হয় নি। আরোও এক দফার ভোট বাকি আছে সেই ১৪২ টি আসনে, যেগুলো সেই আসুরিক শক্তির গড় হিসেবে বিখ্যাত। তাই সকলকে আবারও একবার একান্ত অনুরোধ, অন্য কিছু না ভেবে আগামী ৪ তারিখ অব্ধি এতদিন সকলে যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে এসেছেন, সেইভাবেই লড়াইটা চালিয়ে যান। এই লড়াই আমার, আপনার, কারোর একার লড়াই নয়, এই লড়াই এই রাজ্যের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কয়েক কোটি মানুষের, এই লড়াই আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই, এই লড়াই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার লড়াই। তাই মাথা ঠাণ্ডা রেখে আর মাত্র কয়েকটা দিন আমাদের সকলকে সমবেতভাবে এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এবং অবশ্যই গণনার দিন নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলকে সবরকম ভাবে সতর্ক থাকতে হবে। যদি কোনো খেলার চেষ্টা হয়, তবে সেটা ওই গণনার টেবিলেই হবে, ইভিএম ট্যাম্পারিং করে নয়। সবাইকে আরও একবার সনির্বন্ধ অনুরোধ, কথাগুলো একবার হলেও ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন।
পোস্ট এডিট:
যে ইভিএমগুলোয় ভোট হয়েছে, তার প্রত্যেকটায় QR Code দেওয়া আছে, এবং তাদের প্রতিটার Chassis Number note down করা আছে। এগুলো প্রত্যেকটা মেশিনের ইউনিক আইডেন্টিফায়ার হিসেবে কাজ করে (অনেকটা আমাদের হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো), যা ম্যাচ না করলে ওই ইভিএমে কাউন্টিং হওয়া সম্ভব নয় (বাকি সবকিছু যদি তর্কের খাতিরে কম্প্রোমাইজড হয়েছে ধরেও নেওয়া হয়)। ব্যস, এটুকুই শুধু বলার ছিলো। #📢রাজনৈতিক আপডেট🙏 #📰রাজ্যের আপডেট📰 #👩বিজেপি - BJP🧑 #📰জেলার আপডেট📰

