কলেজের প্রথম দিনটা ছিল অন্যরকম। নতুন ব্যাগ, নতুন খাতা, আর অজানা এক উত্তেজনা। সেই ভিড়ের মধ্যেই প্রথমবার দেখেছিলাম তাকে—নীল রঙের শাড়ি, চুলগুলো হালকা বাতাসে উড়ছে। নামটা পরে জানলাম—ঋতিকা।
প্রথমদিকে শুধু চোখাচোখি হতো। লাইব্রেরিতে একই টেবিলে বসা, ক্যান্টিনে দূর থেকে তাকানো—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই যেন দিনটাকে সুন্দর করে তুলত। একদিন হঠাৎ সাহস করে বলেই ফেললাম,
“তুমি কি নোটটা একটু দেবে? আমি ক্লাসে আসতে পারিনি।”
সে মুচকি হেসে বলল, “নোট তো দেব, কিন্তু কফি খাওয়াতে হবে।”
সেদিনই শুরু হলো আমাদের গল্প।
ধীরে ধীরে কফির কাপ থেকে কথার পরিমাণ বাড়তে লাগল। একসাথে প্রজেক্ট, একসাথে লাইব্রেরি, আর বিকেলের সেই দীর্ঘ হাঁটা—সবকিছুতেই যেন এক অদ্ভুত টান। ওর হাসি ছিল আমার দিনের সবচেয়ে প্রিয় অংশ, আর আমার গল্পগুলো ছিল ওর প্রিয় সময় কাটানোর উপায়।
একদিন কলেজের ছাদে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখছিলাম। হালকা লাল আকাশ, আর চারপাশে নিস্তব্ধতা। আমি বললাম,
“তুমি জানো, তোমার সাথে সময় কাটালে মনে হয় সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
ঋতিকা একটু চুপ করে থেকে বলল,
“তাহলে সারাজীবন পাশে থাকো না কেন?”
সেদিনই বুঝেছিলাম—এটা শুধু ভালো লাগা নয়, এটা ভালোবাসা।
কিন্তু কলেজ লাইফ তো চিরদিন থাকে না। শেষ বর্ষে এসে সবাই নিজের নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। চাকরি, উচ্চশিক্ষা—সবকিছু আমাদের দূরে ঠেলে দিচ্ছিল। শেষ দিনটা খুব কষ্টের ছিল।
বিদায়ের সময় ঋতিকা বলল,
“আমরা কি হারিয়ে যাব?”
আমি তার হাতটা ধরে বললাম,
“না, আমাদের গল্পটা এখানেই শেষ নয়।”
আজ অনেক বছর পরেও, সেই কলেজ ক্যাম্পাসে গেলে মনে হয়—ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না। সেটা থেকে যায় স্মৃতিতে, হাসিতে, আর সেই প্রথম দেখা মুহূর্তে।
ঋতিকা আজও আছে—আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় হয়ে। 💙 #রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প


