ShareChat
click to see wallet page
search
#👩সি পি আই এম -CPIM🧑 #👩বামফ্রন্ট🧑
👩সি পি আই এম -CPIM🧑 - রবিবার দেগঙ্গার কেয়াডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সিপিআই ( এম ) ' র সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মীনাক্ষী মুখার্জি । ছবি : সৌদীপ দাস দেগঙ্গায় বিরাট সমাবেশে মীনাক্ষী মুখার্জি গরিবের জন্য লড়াই চলবেই , জোট বাঁধুন সুভাষ পারিয়াল ■ দেগঙ্গা ২৮ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে যে শ্রমজীবী মানুষরা প্রাণ হারালেন , তাঁদের শিশুসন্তান সহ পরিবারের ভবিষ্যৎ কি হবে ? ১০ লক্ষ টাকায় তাঁদের জীবন চলবে ? এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের সকলের বিচার হবে তো ? রবিবার দেগঙ্গার কেয়াডাঙা স্কুল মাঠে এক সমাবেশে একথা বলেন সিপিআই ( এম ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি । তিনি বলেন , বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই রেল হকার উচ্ছেদ , রেল বস্তি উচ্ছেদ , অনুদান সীমিত করার মধ্যে দিয়ে রাজ্য জুড়ে এক আতঙ্ক , অস্থিরতা তৈরি করেছে । ভয় পাবেন না । আন্দোলনে থাকতে হবে । লাল পতাকা সামনে থাকবে । লড়াইয়ের রাস্তায় জোট বাঁধুন । সাহস করে মোকাবিলা করতে পারলে পুলিশ ও সরকারের ঘাম ছোটানো যায় । সিপিআই ( এম ) দেগঙ্গা -১ এরিয়া কমিটির ডাকে এদিনের সমাবেশে ভিড় ছিল নজরকাড়া । মহিলাদের বিপুল উপস্থিতি ছিল । দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির ১৩ টি পঞ্চায়েতের মধ্যে সবচেয়ে সন্ত্রাস কবলিত অঞ্চল ছিল কেয়াডাঙা । সেই কেয়াডাঙার মাঠেই এদিনের লাল পতাকা নিয়ে কয়েক সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে , মানুষ ক্রমশ ভয়মুক্ত হচ্ছেন । এদিনের সমাবেশে সিপিআই ( এম ) উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক পলাশ দাশ শোনান , “ হাবড়া স্টেশনের উচ্ছেদ হওয়া এক হকার ক্ষোভের সাথে বলেছেন , নির্বাচনে পরিশ্রম করলাম ; প্রচারে নিজের টাকা খরচ করলাম ; অনেক আশা নিয়ে বিজেপি'র প্রার্থীকে জেতালাম ; আর বিজেপি ক্ষমতায় এসে প্রথমেই আমাদের স্টেশন থেকে উচ্ছেদ করল ! রেললাইন সংলগ্ন রেল বস্তি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল ! আমাদের পরিবার সহ খোলা আকাশের নিচে দাঁড় করিয়ে দিল ! রুটি রুজি বন্ধ করে মাথার ওপর থেকে ছাদ কেড়ে নিল বিজেপি ! আর ১৩ দিন অতিক্রান্ত , দু'বেলা আমাদের পরিবারগুলিকে দু'বেলা ভাত দিচ্ছে সিপিআই ( এম ) । ” পলাশ দাশ বলেন , শাসক বিজেপি'র বুলডোজারে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ অসহায় পরিবারের মুখে দু'বেলা ভাত তুলে দেওয়া হচ্ছে । এই সমস্ত মানুষ তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতায় শত্রু আর মিত্র চিনে নিচ্ছেন । এদিন মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন , অনেক গালভরা প্রতিশ্রুতি শুনিয়ে রাজ্যের ১০ কোটি মানুষের জন্য বাজেট পেশ হলো । বাজেটে শ্রমজীবী মানুষ , বেকার শিক্ষিত যুবক - যুবতীর কর্মসংস্থান , পরিযায়ী শ্রমিক , অটো , টোটো , গিগ ওয়ার্কারদের জন্য কোনও বাস্তব আশ্বাস মিলল না । এঁদের জীবন - জীবিকার যন্ত্রণা নিয়ে কোনও আলোচনা হলো না । মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি শর্তের মধ্যে রাখা আছে । মমতা ব্যানার্জির ৪২ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল , যা বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনায় কমে হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা । স্বাস্থ্যসাথী'র কার্ড সকলের জন্য থাকলেও আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের শর্ত ৭০ বছরের ওপরে বয়স হতে হবে । কাদের স্বার্থে এই প্রকল্প ? যদি কর্মক্ষম মহিলাদের কাজ থাকতো , তাহলে কি তাঁরা এই সব ভাণ্ডারের দিকে চেয়ে বসে থাকতেন ? আসলে কাজের কোনও দিশা নেই । আগের তৃণমূল সরকার যেমন ৫৪ রকমের অনুদান প্রকল্প রেখেছিল , বর্তমান বিজেপি সরকারও সেই জুতো পায়ে হাঁটতে চলেছে । এদিন মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন , এসআইআর'এ ২৭ লক্ষ নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ গেল । প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬৩ জন মহিলার নাম বাদ ! ভোটার লিস্টে অন্যায়ভাবে বাদ পড়া মহিলাদের অনুদানের তালিকা থেকেও ছেঁটে ফেলা হচ্ছে ! এসবেই প্রমাণ হয় , বিজেপি'র এই সরকার কতখানি মহিলা - বিরোধী । তিনি বলেন , ভোটে জিতলেই মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান করা যায় না । ভোটে না জিতেও মানুষের পাশে থেকে তাঁদের জীবনের সমস্যার সমাধানে সাহায্য করা যায় । বাংলার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন । কারণ তৃণমূলের অত্যাচারে মানুষের বেঁচে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছিল । সমস্যা শোনার জন্য পঞ্চায়েত থেকে বিধায়ক , এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও সহযোগিতা পাওয়া যেত না । তাই সরকার পালটানোর কথা ভেবেছিলেন মানুষ । এক্ষেত্রে মানুষ দূরের চিন্তা করেননি , ভুল প্রচারে বিশ্বাস করে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপি'কে জিতিয়েছেন । কিন্তু এবার স্পষ্ট হচ্ছে এই সরকারের আসল চেহারা । মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন , শ্রমজীবী খেটেখাওয়া মানুষের স্বার্থে লড়াই চলবে , এই সরকারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন চলবে । সেই লড়াই চলবে রাস্তায় , বুথে । তাই লড়াইয়ের রাস্তায় থাকুন , লাল ঝান্ডা পাশে থাকবে । এদিনের সমাবেশে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পার্টিনেতা আহমেদ আলি খান , নারায়ণ চক্রবর্তী , ইমতিয়াজ হোসেন । সভাপতি ছিলেন শেখ সাদি । - ShareChat