ShareChat
click to see wallet page
search
নিঝুম রাত। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুটো। টেবিলের ওপর রাখা ল্যাম্পের মৃদু আলোয় বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছিলাম। চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা, শুধু মাঝে মাঝে জানালার বাইরে নারকেল গাছের পাতার খসখস শব্দ ছাড়া আর কোনো আওয়াজ নেই। নীল রঙের জমকালো শাড়িটার আঁচল মেঝেতে লুটিয়ে আছে। সব কিছু এত শান্ত যে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমের দিকের বড় দেয়াল ঘড়িটা অদ্ভুতভাবে বেজে উঠল। একটা, দুটো... তিনটে... চারটে... এভাবে চলতেই থাকল। ঘড়িটা বারো বারের বেশি কখনোই বাজে না, কিন্তু আজ যেন থামার নামই নেই। আমি বইটা বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালাম। শাড়ির খসর-খসর শব্দ তুলে আস্তে আস্তে ঘরের দরজার দিকে এগোলাম। অদ্ভুত ব্যাপার, ঘর থেকে বের হতেই ঘড়ির আওয়াজটা একদম বন্ধ হয়ে গেল। পুরো বাড়ি আবার সেই নিটোল নীরবতায় ডুবে গেল। হঠাৎ মনে হলো, আমার ঠিক পেছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। একটা হালকা চন্দনের সুবাস বাতাসে ভেসে বেড়াল—ঠিক যে সুবাসের পারফিউম আমি নিজে ব্যবহার করি। সাহস সঞ্চয় করে যেই না পেছনে তাকালাম, দেখলাম কেউ নেই। কিন্তু দেওয়ালের বড় আয়নাটার দিকে চোখ পড়তেই আমার শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেল। আয়নায় আমার প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে আমি সোজা দাঁড়িয়ে নেই, বরং আয়নার ভেতরের 'আমি' গভীর মনোযোগ দিয়ে একটা বই পড়ছে! তার পরনেও হুবহু এই নীল শাড়িটা। চমকে উঠে নিজের হাতের দিকে তাকালাম—আমার হাতে কোনো বই নেই, সেটা আমি টেবিল ল্যাম্পের পাশেই রেখে এসেছি। কিন্তু আয়নার ভেতরের অবয়বটি ধীরলয়ে বইয়ের পাতা উল্টাল, তারপর মুখ তুলে সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি দিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরের টেবিল ল্যাম্পটা দপ করে নিভে গেল। পুরো ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার। বুকের ভেতর হাতুড়ির শব্দ শুনতে শুনতে আমি যখন অন্ধকারের মধ্যেই টেবিলের দিকে হাতড়াচ্ছি, ঠিক তখনই আমার কানের কাছে খুব ফিসফিসিয়ে কেউ একজন বলে উঠল—"গল্পটা কেমন লাগল?" #গুড নাইট শায়েরী😍
গুড নাইট শায়েরী😍 - |8 ~ গল্পগুচ্ছ 9 8 |8 ~ গল্পগুচ্ছ 9 8 - ShareChat