.........মানাপমানয়োস্তল্যস্তল্যো মিত্রারিপক্ষয়োঃ
সর্ববারম্ভ পরিত্যাগী গুনাতীতঃ স উচ্যতে
ব্রহ্মঅভেদ অবতার বরিষ্ঠ শ্রী শ্রী গনেশ পাগল সত্ত্ব,রজঃ ও তমোগুণের অতীত। তিনি মর্ত্যধামে স্থূল দেহে বিরাজ কালে এই তিন গুণকে অতিক্রম করে ত্রিগুনাতীত রূপে নারায়ণ দেবের অবশিষ্ট কার্যাদি পরিসম্পন্ন করতেন। স্বয়ং জগৎ হরি নারায়ণ তানার সর্বশক্তি ও সর্বাংশ প্রদান করে শ্রী শ্রী গনেশ কে পাগল রূপে মর্ত্যধামে অবতরণ করিয়েছিলেন। মান-অপমান, শত্রু- মিত্র, স্বর্ণ-পাথর এবং সর্ব কর্মে স্থিতি রেখে ত্রিগুণের অতীত হয়ে শ্রী শ্রী গনেশ পাগল জীবের ভবোবন্ধন খণ্ডন করে অগণন জীবকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি কলির এই সন্ধিক্ষণে নারায়ণ দেবের আলয়ে অবস্থান করা সত্ত্বেও সূক্ষ্ম দেহ ধারণ করে রণে বনে জলে জঙ্গলে অগনন বিপর্যস্ত জীবের সম্মুখে সাকার রূপে আবির্ভূত হয়ে জীবের বিপর্যস্ত দশা হইতে মুক্তি দিয়ে চলেছেন। যাহা কিনা সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলির একমাত্র যুগান্তকারী নির্দেশন।
......যুগান্তকারী নারায়ন অংশাবতার শ্রী শ্রী গনেশ পাগল ....
সেবা শান্তি মুক্তি দিতে জীবের তরে মর্ত্যধামে আগমন
শ্রীহরি নারায়ণের বচন একমাত্র গণেশ পাগল তারই সমতন
নিশান তুলে জয় পাগলের ধ্বনি দিয়ে কাটাও জীবের অমঙ্গল #🙂ভক্তি😊
ভক্ত প্রিয় কার্তিক ও গণেশের প্রতি গ্রামবাসীর সামাজিক অত্যাচারে যুগান্তকারী অংশাবতার শ্রী শ্রী গনেশ পাগলের নিদারুণ দুর্দমনীয় আশ্চর্যজনক ভূমিকা.......
অত্যাচারিত ভক্ত দ্বয়ের প্রতি পাগলের ভূমিকা
এই নিদারুণ চরিত্র কথা শ্রবণে পাগল করে কৃপা
পূর্ববঙ্গের যশোহর জেলার এক মুসলিম ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি তার স্ত্রীর ছিল মহাব্যাধি। পূর্ববঙ্গের সমস্ত বড় বড় ডাক্তার কবিরাজের চিকিৎসায় ব্যর্থ হওয়ার অন্তে সর্বশেষ চিকিৎসা হয় পশ্চিমবঙ্গের কলিকাতাতে। কিন্তু বহুদিন যাবত চিকিৎসার পরেও কলিকাতার নামীদামী ডাক্তার গুলিও স্ত্রীর চিকিৎসায় ধরাশায়ী বিপর্যস্ত এবং সম্পূর্ণরূপেই ব্যর্থ হয়। অবশেষে হতাশাগ্রস্ত হয়ে এবং মৃত্যুর দিশায় ধাবিত হয়ে ফিরতে হয় নিজ দেশ পূর্ব বঙ্গে। ব্যাধির চিন্তায় পরিবারের সবাই প্রতিনিয়ত থাকে অনাহারী। একে একে মৃত্যুর দিন অতি আসন্ন, প্রহর গুনতে থাকে কখন যমরাজ নিতে আসে। এমন অবস্থায় যমরাজের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে ধরায় নারায়ণ দেবের একমাত্র বর পুত্র মহাত্মা শ্রী শ্রী গনেশ পাগল।
স্বপ্নযোগে রোগীর নিকট আবির্ভূত গনেশ পাগল
লাটেঙ্গা গ্রামে ওঝা বাড়ি গেলে হবেনা তোর মরণ
ধরা মাঝে ধরাশাহী বিপর্যস্ত জীবের উপর সর্বদা নজর রাখে একমাত্র ঈশ্বর পুত্র শ্রী শ্রী গনেশ পাগল। নিশিযোগে নিশিভোরে দিব্যজ্যোতি ভেদ করে কৃপাময় সে পাগল মরণাবস্থা রোগীর সামনে উপস্থিত হলেন.. নাম মোর গনেশ পাগল থাকি আমি কোটালীপাড়ার লাটেঙ্গা গ্রামে ওঝা বংশী গৃহাশ্রমে। এখান হইতে সে লাঠিঙ্গা বহুদূর কষ্ট করে আমার কাছে একবার উপনীত হলে মরণাপন্ন মহাব্যাধি মুহূর্তেই বিদায় নেবে। এই কথা বলার সাথেই হয় পাগল অদর্শন এবং মুহূর্তেই স্বপ্ন ভেঙে স্ত্রী জাগিল তখন। স্বপ্ন ভেঙে স্ত্রী স্বামীকে বলে যথারীতি পাগলের নিশিযোগের দিব্যরুপী সমস্ত কাহিনী কথন। রোগীর স্বামী পাগল রুপি ঈশ্বরের স্বপ্নাদেশ শুনে পূর্ব শশী গগনে উদিত হতেই প্রতিবেশীর নিকট জেনে নেয় কোটালীপাড়া যাওয়ার রাস্তা ঘাটের সমস্ত বিবরণ।
নৌকা যোগে রওনা হয় দূরবর্তী কোটালীপাড়ায়
মনের অনুমানে বহুদিন লাগিবে পৌঁছতে সেথায়
অনুমানের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চাল চিড়া তরি তরকারি মাছ মুরগী সমস্ত কিছু নৌকা ভরে জলপথে রওনা হলেন। কোথায় সে যশোহর জেলা কোথায় সে কোটালীপাড়া জলপথে নেই তার ঠিকানা। বহু দেশ বহু গ্রাম ঘুরিতে ঘুরিতে একপক্ষ কাল অর্থাৎ দিন ১৫ পর, ভাদ্র মাসে যাত্রারম্ভে আশ্বিনের মাঝামাঝিতে ঝিম ঝিম বৃষ্টি সন্ধ্যার গোধূলিতে লাটেঙ্গার তীরে ওঝাদের খেয়া ঘাটে তরী ভিড়ায়েছে রোগাক্রান্ত স্বামী-স্ত্রী দ্বয়ে। ঝিমিঝিমি বর্ষার সন্ধ্যায় নৌকা বেঁধে মন স্থির করে নেয় ভোর হতেই যাত্রা করবে ওঝা বাড়ির দিশায়
খাওয়া দাওয়া শেষে তারা নৌকাতে ঘুমায়
অন্তর্যামী পাগল প্রস্থানের খবর জেনে যায়
ব্রহ্মঅভেদ পাগলের অবাক করা চরিত্রে পাগলের ঘাটে নৌকা পৌঁছতেই রোগীর মহাব্যাধি স্বনির্মূলে তিরোহিত হয়ে যায় এবং সারানিশি রোগী সুস্থিতে ঘুমায়। পূর্ব দিক ফর্সা হতেই নৌকায় বাঁধা তাদের দুই মোরগ উচ্চস্বরে ডাক দেয়। মোরগের ডাক শুনে গ্রামবাসী প্রত্যেকে আচম্বিত হয়ে ধেয়ে আসে ওঝাদের খেয়া ঘাটে। এসে দেখে মোরগ দুটি বসে আছে অপরিচিত দম্পতির নৌকার উপর। সহসা গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তেঁড়ে ওঠে অপরিচিত দম্পতি দ্বয়ের প্রতি এবং গ্রামবাসীর আক্রমণে ভীত হয়ে চিৎকার করতে থাকে তারা লাল বর্ণের পূর্ব শশী হালকা গগনে উদিত সেই প্রভাতে।
স্বামী স্ত্রী হাতজোড়ে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীর প্রতি
পাগল নিকট এসেছি মোরা রোগের দায়ী
স্বামী স্ত্রীর করুন নিবেদনে কর্ণপাত না করে গ্রামবাসী সবাই মিলে প্রহার শুরু করে আচমকা তাদের উপরে এবং মাল বোঝাই নৌকা খানিও এমনাবস্থায় ডুবে গেল জলে। গ্রামবাসীর বক্তব্য হিন্দু পাড়ায় প্রভাত বেলায় মোরগের ডাক অতি অসহ্যনীয়। মোরগ কেন ঢুকিল হিন্দু পাড়ায় এই বলে অদম্য প্রহার অবিরাম চালায়। এমন মুহূর্তে পাগল কিছু দূর হইতে গ্রামবাসীদের ডাক দিয়ে বলেন মর্মান্ত রোগী নিয়ে এসেছে ওরা মোর কাছে.. প্রহার কেন করিতেছ ওদের বিনা দোষে। মুহূর্তেই সে পাগল ঘুর্ণিত নয়নে প্রতিবেশীদের টপকিয়ে বেড় দিয়ে ধরে তাদের রক্ষার্থে। এমনাবস্থায় গ্রামবাসী সর্বজনে ভালো-মন্দ বিচার না করে পাগলকে গালিগালাজ দিতে শুরু করে। এমন মুহূর্তে পাগলের ভক্তপ্রিয় ভ্রাতা দ্বয় কার্তিক ও গণেশ সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গ্রামবাসীর উপর গর্জে ওঠে এবং দুই পক্ষের রেষারেষি চলতে থাকে অধিকক্ষণ।
গ্রামে মোরগ ঢোকার কারণ একমাত্র পাগল
হইল আজ গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের পতন
গ্রামবাসী একত্রে বলে বিধর্মী এই পাগলকে গ্রাম থেকে উৎখাত করিতে হইবে। ইহাতে যদি কার্তিক গণেশ বাঁধা ঢালে অবশ্যই এই ভ্রাতা দ্বয় রহিবে গ্রামবাসীর অত্যাচার অবকুণ্ঠে। দেখিবেনা কেহ সুনজরে পড়ে রইবে একঘরে বিপদে-আপদে যাবেনা কেহ এগিয়ে। প্রতিবেশীর এই বিচারে কার্তিক গণেশ গম্ভীর হয়ে বলে তাদের মোদের ঘরে রহিবে পাগল রহিব মোরা একই সনে.. কাহারো কি করার আছে করে নিও যথাসময়ে। হই মোরা পাগল ভক্ত মোদের উচিত তার সেবা কর্ম। ভ্রাতা দ্বয়ের কথা শুনে গ্রামবাসী বিমুখ হয়ে ফিরে গেল নিজেদের যথাস্থানে। সেই থেকে হয়ে রইল কার্তিক গণেশ একঘরে একাবস্থায় আবদ্ধ হয়ে।
অবশেষে রোগীর নৌকা গনেশ কার্তিক জাগায়
মালামাল সবকিছু জল হইতে বুঝে পড়ে দেয়
সমস্ত ঘটনা দাঁড়িয়ে থেকে পরিলক্ষিত করার পর পাগল রোগাক্রান্তদের অভয় বচন প্রদান করেন.. তোমাদের রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আর রইল না ভয়. নৌকায় উঠিয়া নিজের দেশে যাত্রা করো দূরবর্তী যশোহর জেলায়। অসুরের অত্যাচার সহ্য করেছ মর্মান্তক রোগী হয়ে.. দেশে পৌঁছানোর পূর্বেই অসুরের এই বংশ স্বনির্মুলে যাবে ক্ষয় হয়ে। বাতি জ্বালানোর মত রহিবে না কেহ এদের পরিবারে। ধরা মাঝে পাগল বাণী কভু মিথ্যা হয় নাই, রোগী দেশে পৌঁছতে না পৌঁছতেই অসুর গুলো স্বনির্মুলে মরে হল ছাই।
রোগীর অত্যাচার ও একঘরে যারা করেছিল
বংশে তাদের বাতি দিতে কেহ বেঁচে নাহি ছিল
লাটেঙ্গার এই বিশ্বস্ত ইতিহাস রয়েছে লেখা ভিন্ন ভিন্ন বহু পুস্তকে.. শ্রীমান বলাই মন্ডল পাগল কৃপায় করেছে লিপিবদ্ধ শ্রীশ্রী গনেশ পাগল লীলামৃত খন্ডে প্রবন্ধকারে। লাঠেঙ্গার গ্রামবাসী সেই হইতে ঘরে ঘরে পাগল মন্দির স্থাপনে প্রতিনিয়ত সকাল সন্ধ্যায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রীশ্রী গনেশ পাগল যুগল চরণে। তাই অভাগা অধম হয়ে করিলাম গদ্যে প্রকাশ ভক্ত জনের হিতে। মূঢ় হয়ে জন্ম নিয়ে পড়েছিলাম মহাবিপাকে.. অন্তিমে ভেলুর ব্যাঙ্গালোর ব্যর্থ হয়ে জীবন যখন যায় চলে অতি মুমূর্ষ অবস্থাতে শ্রীশ্রী গনেশ পাগল কান্ডারী হয়ে রেখেছে কৃপা হস্তে অধমের দেহ প্রাণ এই পৃথিবী মাঝে।
শ্রী শ্রী গনেশ পাগল চরিত্র কথা মধুতে ভরা
অধম কয় ভক্ত হিতে গনেশ পাগল দেয় দেখা
_______________________
🌺🌺🌺 পাগল সহায় অধম 🌺🌺🌺
#🙂ভক্তি😊
সর্ব মূলাধার বাবা গনেশ, তুমি আমার পরম গুরু ও পরম ঈশ্বর
পুত্ররূপে নারায়ণ দেবের অংশ নিয়ে ধরায় অবতীর্ণ অবতার
পাপী দেহে দাঁ শানিয়ে অসুর বলি দিতে তা অতি বিস্ময়কর
ব্রহ্মের অভেদ ক্ষমতা পারিনি দর্শাতে আর কোন অবতার
........🌹🌷 যুগান্তকারী নারায়ণ অংশাবতার🌷🌹......
........... দয়াময় শ্রী শ্রী গনেশ পাগল..............
🙏 সুন্দর সুপ্রভাতে বাবা তোমার শ্রীচরণে প্রণাম🙏
🌹🌹 জয় বাবা শ্রী শ্রী গনেশ পাগল ভরসা 🌹🌹 #🙂ভক্তি😊
শুভ সন্ধ্যা
জয় পাগল - জয় হরিবোল - জয় শ্রী রাম - জয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জয়। #🙂ভক্তি😊
যুগান্তকারী নারায়ণ অংশাবতার দয়াময় শ্রীশ্রী গনেশ পাগলের অস্বাভাবিক লীলা অতি সংক্ষেপে বর্ণনা।....... বাংলাদেশের বড়ই ভিটা নামক গ্রামের জন্ম অন্ধ নিতাইয়ের পাগল কৃপায় অন্ধত্ব মোক্ষণ
পাগলের অন্ধত্ব মোক্ষন মধুর লীলা লহরী
শুদ্ধমন শ্রবণে হ্রাসেনা কভু চোখের দৃষ্টিশক্তি
বড়ই ভিটা নামক গাঁয়ের বিধাতা বিমুখ জন্ম অন্ধ নাম তার নিতাই। চির অন্ধের কারণে সে ছটফট করতে থাকে এবং জন্ম অন্ধ মনে করে নিতাই অতি দুঃখ কষ্ট নিয়ে জনম কাটায়। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে জগতের মুখ দেখতে পায়না এবং কে পিতা কে মাতা কে ভগ্নি কে ভাই সবই তার অদৃশ্য। তার এই পৃথিবীতে জন্ম নেয়া ব্যর্থ, সে নিজেকেই অপদার্থ মনে করে। তার এই পৃথিবীতে বেঁচে থেকে কি লাভ, বাঁচার থেকে তার শতগুনে মৃত্যুই ভালো এই তার সদা চিন্তা।
না দেখিনু চন্দ্র সূর্য পশু পাখি কীটপতঙ্গ
পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া সবই মোর ব্যর্থ
এই বিশাল ধরণী মাঝে কু পদার্থ হয়ে জন্ম নিয়ে গৃহ মাঝে দিনের পর দিন অন্ধকারে পড়ে থাকতে হয়। এই চিন্তায় তার অসহ্য যন্ত্রণার সীমা অতিক্রম করতে করতে তার পূর্ব জন্মাকৃত অভাগা ভাগ্যের হঠাৎ সু- উদয় ঘটে।.. পাড়কোনা জঙ্গল মাঝে সুবিশাল বট বৃক্ষের অন্তরালে বসে থাকা সর্বভূতেষুর্যামী শ্রীশ্রী গনেশ পাগলের দিব্য চক্ষুতে চলচ্চিত্রের পর্দার ন্যায় ভেসে ওঠে বিধাতা বিমুখ জন্ম অন্ধ নিতাইয়ের ব্যথিত করুন চিত্র।.. সেই ব্যথিত নেতাইয়ের মনকে নাঁড়িয়ে তোলে ব্রহ্মশক্তিধারী সে পাগল পাড়কোনা বটবৃক্ষের নিচে বসে। নেতাইয়ের মনকে অদ্ভুতভাবে জাগিয়ে তোলে পাগল স্মরণে। ধরাধামে কি ক্ষমতা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে মহাত্মা শ্রী শ্রী গনেশ পাগল ভাবলে বিস্ময় বোধ হয়।
পাগল লাগিয়া নেতাইয়ের মন হইল চঞ্চল
তারই কৃপায় হতে পারে জন্মান্ধত্ব মোক্ষণ
পাগলের কাছে যাওয়ার জন্য নিতাই প্রচন্ড অস্থির হয়ে পড়লেন। এবং সে বহু মানুষের মুখে শুনেছে পাগলের কাছে যে যাহা বাসনা করে পাগল তা পূরণ করে দেয়। কিন্তু নেতাইয়ের মনে সংশয় জাগে সবার বাসনা পূরণ করলেও আমার বাসনা কি পূরণ করবে পাগল ? আমাকে কি পাগল করিবে কৃপা, আমি তো বিধাতা বিমুখ জন্ম কানা। কিন্তু দিনকে দিন পাগলের তরে নেতাইয়ের মন অতি চঞ্চল হতে থাকে। শেষমেষ একদিন বাড়ির অন্য সদস্যদের নিয়ে নেতাই পৌঁছে যায় পাড়কোনা স্থিত শানিত দাও নিয়ে বসে থাকা সেই মুক্তিদাতা পাগলের নিকট। হামাগুড়ি দিয়ে সে অন্ধ নেতাই হাত চালিয়ে পাগলের চরণ ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার চেষ্টার ফল বিফল না হয়ে হাত দুটো পৌঁছে যায় পাগল চরণে। পাগল চরণে নেতাইয়ের হাত স্পর্শ হতেই.. শ্রী শ্রী পাগল অবিরাম ধারায় হাতে থাকা শানিত দাঁয়ের কোপ বর্ষণ করতে থাকে একের পর এক নেতাইয়ের সারা অঙ্গে। ফোয়ারার ন্যায় রক্ত ছুটতে থাকে। এদিকে পাগলের অবিরাম কোপে সে নিতাই ধুলায় গড়াগড়ি খেয়ে লুটিয়ে পড়ে, কিন্তু কোনমতেই পাগল চরণ হাতছাড়া করেনা, চরন সে ধরেই থাকে।
অবিরাম কোপে নিতাই পদ না ছাড়িল
নিতাইয়ের ভক্তিতে সবাই বিস্ময় মানিল
পাগল নেতাইয়ের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে বললেন.. দুষ্টু অসুরটা আজ বলি হয়ে গেল, আজ থেকে যত অমঙ্গল তোর দূর হয়ে গেল, এখনই হইলো তোর অন্ধত্ব মোক্ষণ। বলতেই জন্ম অন্ধ সে নিতাই তৎক্ষণাৎ পূর্ণদৃষ্টি লাভ করে জগৎ ভূমিকে দেখতে পেল। ধরাধামে পাগলের প্রতিটা লীলাই অস্বাভাবিক। তারপর থেকে সে নিতাই নিত্যানন্দ হয়ে অতি আনন্দে চলে ফিরে কাজ কর্ম করে পরিবারের তরে, একমাত্র পাগলের কৃপায়।
জন্ম অন্ধ সে নিতাই পূর্ণদৃষ্টি পায়
ধরায় একমাত্র গণেশ পাগল কৃপায়
ধরাধামে অবতীর্ণ শ্রী শ্রী গনেশ পাগল কতই না ক্ষমতার অধিকারী, ভাবতে বিস্ময় হয়। হাজার হাজার বিপদগ্রস্ত রোগাতুরকে তিনি মুক্তি দিয়েছেন। তানার হাজার হাজার এইরকম অবিস্মরণীয় লীলা মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে, তা কোথাও প্রকাশ হয়নি। রোগাতুরদের মুক্তি দিয়েছেন শরীরে শানিত দায়ের কোপ বসিয়ে। ওই শানিত দায়ের কোপে শরীরের সমস্ত অসুর বলি হয়ে গিয়েছে। হাত লাগাতেই রক্ত বন্ধ এবং কোপানো স্থানের চিহ্নটুকু তৎক্ষণাৎ বিলুপ্ত। জগৎ মাঝে এরকম দূরদর্শ ক্ষমতা আগে পরে কখনো দেখা বা শোনা যায় না।
পাগলের লীলা কথা ভক্তিতে শোনে যেই জনে
অভাগা এই অধম প্রণাম জানায় তার শ্রীচরণে
__________________________
🌺🌺🌺 পাগল সহায় অধম 🌺🌺🌺 #🙂ভক্তি😊
...........................হে পাগল দয়াময়....................
তুমি মোর ঘোর বিপাকে সেজে মাঝি
করো আমায় ভবপার
আমি সাধন ভজন বুঝিনা গো
আমি যে অতি দুরাচার
যদিও তোমার পারের মাশুল
বোঝার ক্ষমতা নেই আমার
আমি অধম বলে ফিরাইও না মোরে
নিও তুলে নায়ে তোমার
প্রভাত বেলায় শত শত প্রণাম রাখি
রাঙা ঐ চরণে তোমার
........🌹🌷 যুগান্তকারী নারায়ণ অংশাবতার🌷🌹......
........... দয়াময় শ্রী শ্রী গনেশ পাগল..............
🙏 সুন্দর সুপ্রভাতে বাবা তোমার শ্রীচরণে প্রণাম🙏
🌹🌹 জয় বাবা শ্রী শ্রী গনেশ পাগল ভরসা 🌹🌹 #🙂ভক্তি😊
কে যাবিরে ভবপারে তোরা চিনলি নারে গণেশ পাগল কে
আমি তরী নিয়ে বসে আছি নারায়ণের অংশ অবতারে
দিন-দুখী যত আছিস আয় রে তোরা আয় ছুটে
আমি পাগল রূপে বসে আছি নদীর কিনারে
........🌹🌷 যুগান্তকারী নারায়ণ অংশাবতার🌷🌹......
........... দয়াময় শ্রী শ্রী গনেশ পাগল..............
🙏 সুন্দর সুপ্রভাতে বাবা তোমার শ্রীচরণে প্রণাম🙏
🌹🌹 জয় বাবা শ্রী শ্রী গনেশ পাগল ভরসা 🌹🌹 #🙂ভক্তি😊
..............বাবা তুমি সর্ব জীবের মঙ্গল কারী...........
যুগের শ্রেষ্ঠ যুগান্তকারী একমাত্র বাবা তুমি
তুমি পিতা ত্রিনয়নী নারায়ণ দেবের অংশধারী
অভাগা অধম হয়ে তব চরিত্র কথা সর্ব মাঝে প্রকাশ করি
........🌹🌷 যুগান্তকারী নারায়ণ অংশাবতার🌷🌹......
........... দয়াময় শ্রী শ্রী গনেশ পাগল..............
🙏 সুন্দর সুপ্রভাতে বাবা তোমার শ্রীচরণে প্রণাম🙏
🌹🌹 জয় বাবা শ্রী শ্রী গনেশ পাগল ভরসা 🌹🌹 #🙂ভক্তি😊
.............................হে করুণাময় পিতা......................
ডাকো তোমার পথে, এই সাধনহীন জনে
অকুল সাগরে দিওনা ভাসিয়ে, পাপে তাপে জীর্ণ এ দেহে
মরণ মাঝারে স্মরণ দাও হে বাবা রাখো এ দুর্বল ক্ষীনজনে
জগৎ মাঝে শুধু তোমায় ভরসা করে এই অভাগা অধম জনে
শতকোটি প্রণাম সুন্দর প্রভাতে বাবা তোমার শ্রীকমল চরণে #🙂ভক্তি😊
যুগান্তকারী নারায়ন অংশাবতার দয়াময় শ্রীশ্রী গনেশ পাগলের অতি বিস্ময়কর চিত্রের কলেরা আরোগ্য চরিত্র কথা সংক্ষেপে বর্ণনা।.......
পাগলের বিস্ময়কর চিত্রের কলেরা আরোগ্য কথা
ভক্তিভর শ্রবণে কেটে যায় জীর্ণ জীবের মরণ দশা
পূর্ব বাংলার তারাইল নামক গ্রামে একবার মারন মহামারী কলেরার ছায়া নেমে আসায় সম্পূর্ণ তারাইল গ্রাম ভীষণভাবে সংক্রমণিত এবং সমস্ত গ্রামবাসী মৃত্যু ভয়ে আতঙ্কিত। এমন সময় শ্রীশ্রী গনেশ পাগল দুর্গাপুরে কবিয়াল মনোহর সরকার গৃহে অবস্থানরত। এই মহামারীর থেকে বাঁচার তাগিতে গ্রামের দুই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি অতিসত্বর দুর্গাপুর এসে শ্রী শ্রী পাগল চরণ ধরে কান্নাকাটি শুরু করে। শ্রী শ্রী পাগল কোমল সুরে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই মহামারীর কথা তারা রোদন স্বরে ব্যক্ত করেন।
ধরায় তুমি বিনে এই মহামারী আর কে করিবে দূর
প্রভু তুমিই পারো দূর করতে জীবের বেদনা-বিধুর
তাই এসেছি তোমায় নিতে মোরা দুই ভাই মিলে চলো শীঘ্র মোদের তারাইল গ্রামে। কিন্তু সে পাগল কোনমতে তাদের সঙ্গে যেতে চায় না। কিন্তু তাদের করুন আর্তনাদ পাগল হৃদয়ে আঘাত হানায় করুণাময় সে পাগল দুইজনকে বিধির বিধান বেঁধে দেয় নতুন হাড়ি আর সরা আনার জন্য। পাগলের বিধান শুনতেই তারা বিলম্ব না করে অতি শীঘ্র হাড়ি ও সরা এনে পাগল হস্তে অর্পণ করেন এবং পাগল তা হাত পেতে গ্রহণ করেন। অবশেষে উপস্থিত সর্বলোকের সামনে বিধান অনুযায়ী সেই নতুন হাড়ি ভরে পাগল পায়খানা করে সরা দিয়ে ঢেকে দুজনার হাতে দিয়ে বলেন
সুস্থ মনে গিয়ে ইহা রোগীদের খাওয়াও
অবশ্যই সারিবে কলেরা কহিনু নিশ্চয়
যা দিয়েছি তা খাইলে সমস্ত রোগী বাঁচিবে থাকবে না কোন ভয়। ঐশ্বরিক পাগলের পাগলামি সহজে কেউ মেনে নিতে পারেনা। কিন্তু জীবন রক্ষার্থে মানতে তো হবেই। শেষে হাড়ি ভরা পায়খানা অতি ঘেন্নায় দুজনে দুই আঁখি বন্ধ করে হাত পেতে নিয়ে পথ বেয়ে হাঁটা শুরু করে। কিন্তু কিছুদূর যেতেই তাদের মন মধ্য অভিলাষ জেগে ওঠে ওই পায়খানা ভরা হাড়ি খুলে দেখার জন্য। হাড়ি খুলতেই তারা দেখতে পায় মিছরি বোঝাই হাড়ি। মিছরি চোখে পড়তেই তারা আনন্দে আত্মহারা। এবং তারা ভাবতে থাকে জগৎ হরির অংশ নিয়ে ধরায় অবতীর্ণ পাগল রুপী সেই ঈশ্বরের কথা। ভাবতে ভাবতে ক্ষনিকের মধ্য তারা পৌছে যায় আক্রান্ত তারাইল বাসীদের নিকটে। পৌছেই সবার কাছে ব্যক্ত করে পাগলরূপী ঈশ্বরের অবাস্তব অলৌকিক লীলার কর্মকাণ্ড।
সেই মিছরি অতি ভক্তি ভরে সর্ব রোগী খায়
নিমেষেই পাগল কৃপায় সবাই সুস্থ হয়ে যায়
গ্রামে যত আক্রান্ত রোগী ছিল নিমেষে সেই হাড়ি ভরা মিছরি খেয়ে সবাই আরোগ্য লাভ করেন। এই ঘটনার কিছুদিন পরে পাগল দেহত্যাগ করেন এবং পাগলের দেহ ত্যাগে সমস্ত তারাইল বাসি বিরহ বেদনায় ভেঙে পড়েন। বেশ কয়েকদিন ধরে গ্রামবাসীদের মনে পাগল স্মরণে জ্বলতে থাকে বিরহ বেদনার আগুন। অবশেষে সেই বেদনার আগুন নেভানোর জন্য কৃপাময় সে পাগল সূক্ষ্ম দেহ ধারণ করে তারাইল বাজারের পূর্ব পাশে এক পতিত ভিটায় গোধূলি লগ্নে চণ্ডীচরণের পুত্র বলরাম বৈরাগীর সম্মুখে নিজ গুণে দর্শন দেয়। ধরায় অতি ভাগ্যবান সে বলরাম পাগলের সূক্ষ্ম দেহের বাস্তব চিত্র সর্বলোকের নিকট ব্যক্ত করেন। পাগলের সূক্ষ্ম দেহের অবস্থিতির কথা শুনে সমস্ত গ্রামবাসী মিলে পাগল নামের ধ্বনি তুলে সেই স্থানে পূজা ভোগ সম্পন্ন করেন। এই মধুর পাগল লীলা ধরাধামে এখনো বহু মানুষের অজানা। তাই পাগলের সিকি ভাগ লীলা ভাগ্যবান শ্রীমান বলাই মন্ডল দ্বারা পাগল স্বয়ং সদয় হয়ে পাগল চরিতামৃত নামে অপূর্ব লীলাগ্রন্থটি পদ্য রূপে লিপীকরণ করেছেন। পাগলের হাজারো লীলা মাটির নিচে অতল গভীরে চাপা পড়ে গেছে তা কোথাও প্রকাশিত হয়ে উঠতে পারিনি। তাই পাগল সহায় এই মৃতবত অধম শ্রীমান বলাই মন্ডল রচিত পদ্য রূপের অমৃতময় পাগল চরিতামৃতের সহায় গদ্য রূপে সহজ সরল ভাষায় রচিলাম। নেই আমার ভাষা নেই আমার যোগ্যতা ভাষা থেকে লিখনি সব পাগলের।
গণেশ পাগল চরিতামৃত ধরায় সুধার সমান
অধম কহিছে শোনে যারা তারা মহা পূণ্যবান
____________________
🌺🌺🌺 পাগল সহায় অধম 🌺🌺🌺 #🙂ভক্তি😊











![🙂ভক্তি😊 - শান্তি . সুপ্রভাত] আশ্রম পাঁচপোতা সুটিয়া ভারতবর্ষ যুগান্তকারী_নারায়ন অংশাবতার শ্রী শ্রী গনেশ পাগল শান্তি . সুপ্রভাত] আশ্রম পাঁচপোতা সুটিয়া ভারতবর্ষ যুগান্তকারী_নারায়ন অংশাবতার শ্রী শ্রী গনেশ পাগল - ShareChat 🙂ভক্তি😊 - শান্তি . সুপ্রভাত] আশ্রম পাঁচপোতা সুটিয়া ভারতবর্ষ যুগান্তকারী_নারায়ন অংশাবতার শ্রী শ্রী গনেশ পাগল শান্তি . সুপ্রভাত] আশ্রম পাঁচপোতা সুটিয়া ভারতবর্ষ যুগান্তকারী_নারায়ন অংশাবতার শ্রী শ্রী গনেশ পাগল - ShareChat](https://cdn4.sharechat.com/bd5223f_s1w/compressed_gm_40_img_805993_1cb94527_1777338802496_sc.jpg?tenant=sc&referrer=user-profile-service%2FrequestType50&f=496_sc.jpg)

