#শাড়ির আঁচলে ছোট্ট রিনা
মা — আয় রিনা, ভয় পাচ্ছিস কেন মা? আজ একটু অন্যরকম লাগছে জানি।
রিনা — মা… এই কাপড়'টা এত লম্বা কেন? আমি পড়ে যাব না তো?
মা — না রে সোনা, আমি আছি তো।
রিনা — আমি তো এখনও ছোট, তবুও শাড়ি পরতে হবে?
মা — হ্যাঁ মা, ছোট হলেও আজ তুই প্রথমবার শাড়ি পরছিস। এটা তোর জীবনের খুব স্পেশাল দিন।
রিনা আয়নার দিকে তাকিয়ে,
— মা আমাকে কি অদ্ভুত লাগছে?
মা — না রে পাগলি, খুব সুন্দর লাগছে। ঠিক আমার ছোট্ট মিষ্টি রিনার মতোই।
রিনা — তুমি যখন ছোট ছিলে, তখনও কি এমন ভয় পেয়েছিলে?
মা — পেয়েছিলাম রে। তোর দিদা আমাকে যেদিন প্রথম শাড়ি পরিয়েছিল, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম।
রিনা — কেন মা?
মা — মনে হয়েছিল, আমি আর আগের মতো থাকব না। আজ তোর চোখে আমি সেই ভয়টাই দেখছি।
রিনা — মা, আমি কি এখনও তোমার ছোট মেয়ে?
মায়ের গলা কাঁপে,
— সবসময়ই থাকবি রে সোনা। শাড়ি পরলে বয়স বড় হয় না মা, শুধু দায়িত্ব একটু বাড়ে।
রিনা — আমি কি খেলতে পারব না আর মা?
মা — কেন পারবি না! সব পারবি।তুই হাসবি, খেলবি, দৌড়াবি– সবই করবি। শুধু মনে রাখবি, তুই নিজের সম্মানটুকু আগলে রাখিস।
রিনা মায়ের আঁচল ধরে,
— মা, তুমি ছাড়বে না তো?
মা — কখনও না রে। আজ শাড়ি পরাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু হাত'টা ছাড়ছি না।
রিনা — ও মা আমার শাড়ি'টা খুলে গেলে কী হবে?
মা — খুলে গেলে আবার বেঁধে দেব। ঠিক যেমনটা তোকে আমার জীবনের সাথে গিট বেঁধে রেখেছি।
রিনা — মা আমি কি বড় হয়ে যাব আজ?
মা — না রে মা। তুই শুধু এক ধাপ এগিয়ে গেলি। আমার বুকের ভেতর তুই এখনও সেই ছোট্ট রিনাই আছিস।
রিনা হাসতে থাকে।
— তাহলে আমি ভয় পাব না।
মা — ভয় পাস না মা। আজ এই শাড়ির সঙ্গে আমি আমার আশীর্বাদ, ভালোবাসা, আমার স্বপ্ন—সব বেঁধে দিলাম।
রিনা — মা তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয়।
মা — আর তুই আমার পুরো পৃথিবী।