🕉️ আশীর্বাণী "চৈতন্য হউক" 🕉️
✍️ বৈকুণ্ঠনাথ সান্যাল
যাহা হউক, কাশীপুর-উদ্যানে আগমনাবধি অনেকটা সুস্থ বোধ করিয়া ঠাকুর ভাবিলেন-এখনো এমন কতকগুলি লোক আছে, যাহাদের আশা না মিটাইলে, তাঁহার দায়িত্বের কতকটাও শোধ হইবে না। অনুমান, এই উদ্দেশ্যে কল্পতরু প্রভু তাহাদের এবং তৎসহ সকলের কল্যাণ-মানসে রাজবৎসরের প্রথম দিবসে অপরাহ্ণকালে দ্বিতল হইতে অবতরণ করিয়া, উদ্যানের দক্ষিণভাগে, যথায় গিরিশচন্দ্র প্রমুখ ভক্তগণ তাঁহার লীলামৃত অনুশীলন করিতেছিলেন, তথায় ধীরে ধীরে উপস্থিত হইলেন। বলা বাহুল্য যে, আপনাদের মধ্যে অতর্কিতভাবে প্রভুকে পাইয়া ভক্তকুল আনন্দে আত্মহারা হইল। নক্ষত্রভূষণ চন্দ্রমামতো ভক্তভূষণ প্রভু ভাবভরে গিরিশচন্দ্রকে কহিলেন, "আমাতে তুমি কী দেখেছ বা বুঝেছ?" তখন ভক্তির উচ্ছ্বাসে নতজানু হইয়া করজোড়ে গিরিশচন্দ্র নিবেদিলেন, "ব্যাস, বাল্মীকি যাঁহার মহিমা বুঝিতে পারেন নাই, দীন আমি কীরূপে তাঁহার মাহাত্ম্য বলিতে পারি?" গিরিশের ভক্তিতে প্রসন্ন হইয়া প্রভু ভক্তগণকে কহিলেন, "তোমাদের আর কী বলিব-আশীর্বাদ করি, তোমাদের চৈতন্য হউক।"
শুভাশিসে আশ্বস্ত হইয়া সকলে যখন শ্রীপদে প্রণতি করিতেছিল, প্রভু তখন ভাবাবেশে কোনো এক ভাগ্যবানের (নাম স্মরণ নাই) শিরে চরণদান করায় বোধ হইয়াছিল, পুরাকালে গয়শিরে পদার্পণ করিয়া নারায়ণ যেমন পিতৃগণের মুক্তিক্ষেত্র করিয়াছেন, ইদানীং শ্রীরামকৃষ্ণরূপী গদাধর আগন্তুককে সেইমতো কৃতার্থ করিলেন। পরে একে একে রামলালদাদা, অতুলচন্দ্র, কিশোর, অক্ষয়মাস্টার প্রমুখ অনেকের হৃদে 'মা জাগো জাগো' বলিয়া হস্ত প্রদান করিলে, অয়স্কান্তমণিযোগে কৃষ্ণকান্তি লৌহ যেমন কাঞ্চনে পরিণত হয়, দেখিয়া আনন্দ-বিভোর হইয়াছিল। অক্ষয়মাস্টার কিন্তু তাহার হৃদয়গ্রন্থি তাহাদের চিত্ত তদ্রূপ হইয়া সর্বদেবময় তনু প্রভুতে স্ব-স্ব ইষ্টরূপ ছিন্ন হইল বুঝিয়া ভাবের আবেগে কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল।
কল্পতরুতুল্য করুণা-বিতরণ দর্শনে অল্পবুদ্ধি বৈকুণ্ঠ মুগ্ধ হইয়া 'কে কোথায় আছিস আয়' বলিয়া রব তুলিলে প্রভু তাহাকে নিরস্ত
হইতে ইঙ্গিত করায়, যেন আরো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় সম্মুখে দাঁড়াইলে স্মিতমুখে কহেন, "তোর তো আগেই সব হয়ে গেছে।" মানি, তবু সাধ তো মিটে নাই মনে করায়, যেমনি তাহাকে কৃপা-স্পর্শ করিলেন, অমনি সে তাহার অন্তর-বাহিরে, পুত্তলিবৎ ভক্তমণ্ডলী, মধ্যে, উদ্যানের পাদপপত্রে ও গগনে সর্বময় শ্রীরামকৃষ্ণ-রূপ দেখিয়া এক অনির্বচনীয় অবস্থায় উপনীত হয়। পাণ্ডুরোগে আঁখিতে যেমন সকল পদার্থই হরিদ্রাভ দেখায়, তাহার ঠিক সেইরূপ হইয়াছিল। ক্ষণিক আবেগে এক-আধ ঘণ্টা বা এক দিন নহে, ক্রমান্বয়ে দিবসত্রয় এইরূপ দর্শনে সে যেন উন্মাদের মতো হইয়াছিল।
মানব আমরা, চিরদিনই বহুরস আস্বাদে অভ্যস্ত, সুতরাং একরস মাহাত্ম্য কী বুঝিব? আর আমাদের সে তপস্যাই বা কোথায়? ইহার জন্যই তো কঠোর সাধন-ব্যবস্থা। যখন সে দেখিল, তাহার ক্ষুদ্র ভাণ্ড ব্রহ্মাণ্ডেশ্বরের মহান ভাব আর ধারণা করিতে পারিতেছে না, তখন অন্তর্যামী প্রভুর পদে অক্ষমতা জানাইলে তাহার সে ভাব সাম্য হয়। বৈকুণ্ঠ তাঁহার একান্ত আশ্রিত এবং করুণায় তাহাকে আপনার করিয়া লইয়াছেন, তাই কৃপাময় প্রভুর কৃপায় তাহার এই সুদুর্লভ দর্শন পটিয়াছিল। বিনা সুতায় হার গাঁথা যাঁহার রীত, তিনি যে গোবরগাদায় পদ্মফুল ফুটাইবেন, এ কী আর বড় কথা!
আশ্রিত অক্ষম হইলেও প্রভু তো বিরূপ নহেন, তাই মধ্যে মধ্যে তাহাকে অবাধ দর্শন দেওয়ায় সে এতই আত্মহারা হয় যে, তাঁহাকে প্রণাম করিতেও ভুলিয়া যায়। এই হেতু তাহার দৃঢ় ধারণা এবং অনেককেও কহিয়াছে যে, প্রভু তাহার জীবন্ত-জাগ্রত দেবতা। এ তো গেল এক অবস্থার কথা। আবার পীড়িতাবস্থায়ও একবার দেখে যে, প্রভু তাহার ললাট হইতে বহির্গত হইয়া এমন মধুর নৃত্য করিতে থাকেন যে, তাহাতে সে বিমোহিত হইয়া যায়। প্রভুর করুণায় এমনটি যদি না দেখিত, তাহা হইলে 'অন্তর্যামী অন্তরে বিরাজ করিতেছেন', কথাটি তাহার নিকট কথার কথা হইত। #😊সারদা মা🌺 #রামকৃষ্ণ #মহাদেব #🙂ভক্তি😊 #🙏ভক্তি ভজন🎵
"তব কথামৃতং তপ্তজীবনং, কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম্ ৷
শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং, ভুবি গৃণন্তি যে ভূরিদা জনাঃ ৷৷"
🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️
শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব -
"পরমহংস দুই প্রকার। জ্ঞানী পরমহংস আর প্রেমী পরমহংস। যিনি জ্ঞানী তিনি আপ্তসার-'আমার হলেই হল'। যিনি প্রেমী যেমন শুকদেবাদি, ঈশ্বরকে লাভ করে আবার লোকশিক্ষা দেন। কেউ আম খেয়ে মুখটি পুঁছে ফেলে, কেউ পাঁচজনকে দেয়। কেউ পাতকুয়া খুঁড়বার সময়-ঝুড়ি-কোদাল আনে, খোঁড়া হয়ে গেলে ঝুড়ি-কোদাল ওই পাতকোতেই ফেলে #রামকৃষ্ণ #🌞সুপ্রভাত☀️ #🙂ভক্তি😊 #😊সারদা মা🌺 #দক্ষিনেশ্বর মন্দির দেয়। কেউ ঝুড়ি-কোদাল রেখে দেয় যদি পাড়ার লোকের কারুর দরকার লাগে। শুকদেবাদি পরের জন্য ঝুড়ি-কোদাল তুলে রেখেছিলেন। (গিরিশের প্রতি) তুমি পরের জন্য রাখবে।"
🕉️ জয়তু শ্রী রামকৃষ্ণ 🕉️
ধ্যান তো এইভাবেই হয়, ঠাকুরের লীলা ভূমিতে গিয়ে সেই দিনের সেই ঘটনার ধ্যান।🙏 #🙏ওম নম:শিবায়🔱 #মহাদেব #রামকৃষ্ণ #😊সারদা মা🌺 #🙂ভক্তি😊








