বুকের পাটা লাগে, সবাই পারে না...! সেইদিনটা ছিল ২০১১ সালের ২০ মে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে প্রথম তৃণমূল সরকারের শপথগ্রহণ রাজভবনে। সামনের সারিতেই বসে ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, অসীম দাশগুপ্ত। রাজনীতিতে মতের লড়াই থাকতেই পারে, কিন্তু এমন মানসিক দৃঢ়তা ও গণতান্ত্রিক সৌজন্য - সবাই দেখাতে পারে না।
✅ বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে ২০১১ সালের মে মাসটি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের ছিল না, সেটি ছিল এক বিরল সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাক্ষী। সেই দিনগুলোর স্মৃতি আজও অনেককে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
স্মৃতিচারণের সেই রঙিন মুহূর্তগুলো:
🕒 ১৩ই মে, ২০১১ (অকাল দুপুর): ভোটের ফলাফল তখনও পুরোপুরি আসেনি, কিন্তু পরিবর্তনের হাওয়া ছিল স্পষ্ট। ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটছে বুঝে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
🚗 অ্যাম্বাসেডরের সেই যাত্রা: দুপুর তিনটে নাগাদ মহাকরণ থেকে পদত্যাগপত্র লিখে নিয়ে সটান রাজভবনের পথে ছুটল তাঁর চিরচেনা সাদা অ্যাম্বাসেডর। টিভির পর্দায় সেই ছবি দেখে সেদিন অনেকেরই বুক ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছিল।
🤝 বাঙালীর আভিজাত্য: হার মেনে নেওয়ার মধ্যেও যে একধরণের রাজকীয় গাম্ভীর্য থাকে, বুদ্ধ বাবু সেদিন তা প্রমাণ করেছিলেন। কোনো অজুহাত নয়, কোনো হাঙ্গামা নয়— কেবল জনমতের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা।
🏛️ ২০শে মে, ২০১৩ (রাজভবন চত্বর): মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। মঞ্চের ঠিক প্রথম সারিতে বসে আছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু এবং অসীম দাশগুপ্ত।
💪 বুকের পাটা: নিজের গড়া ক্ষমতার অলিন্দে অন্যের অভিষেক দেখা— এটা করতে যে বিশাল হৃদয়ের প্রয়োজন হয়, তা সবাই পারে না। এটাই ছিল বাঙালীর আসল কৃষ্টি আর সৌজন্যের নজির।
ক্ষমতা আসবে আর যাবে, কিন্তু বুদ্ধবাবুর সেই সৌজন্যবোধ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরকাল ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। রাজনীতিতে মতভেদ থাকবেই, কিন্তু এমন 'বুকের পাটা' আর কজনার আছে?
পরাজয়ের মুহূর্তেও সৌজন্য ও রাজনৈতিক ভদ্রতার এক দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছিলেন তিনি।
ছবি ও লেখা "বং info 24×7" পেজ থেকে সংগৃহীত
#স্যালুট #স্যালুট জানাই