রাতটা ছিল অদ্ভুত শান্ত। শহরের আলো নিভে যাওয়ার পর আকাশের দিকে তাকালে শুধু একটা পূর্ণচাঁদ দেখা যাচ্ছিল — উজ্জ্বল, একা, অথচ অচেনাভাবে সুন্দর। ঠিক এমন রাতেই আরহাম প্রথম দেখেছিল মেহরীনকে।
সেটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেহরীন গাইছিল মঞ্চে — রবীন্দ্রসংগীত, “তুমি রবে নীরবে।” দর্শকভরা অডিটোরিয়ামে আরহাম হঠাৎ নিজেকে খুঁজে পেল সেই গানের সুরের ভেতর। মেহরীনের কণ্ঠে ছিল এক ধরনের কোমলতা, যেন প্রতিটা শব্দ হৃদয়ে নরমভাবে গেঁথে যায়। সে জানত না, গানটা শেষ হওয়ার আগেই তার গল্প শুরু হয়ে গেছে।
অনুষ্ঠান শেষে আরহাম ভিড় ঠেলে বাইরে এল, কিন্তু মেহরীনকে খুঁজে পেল না। তার মনে হলো, সে যেন একটুখানি আলো দেখেছিল, তারপর সেটি মিলিয়ে গেল অন্ধকারে। সেদিন থেকেই মেহরীন তার মনে জায়গা করে নিল — অচেনা এক নামহীন ভালোবাসার মতো।
দিন গড়াতে লাগল। কয়েক সপ্তাহ পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে হঠাৎ আবার দেখা। মেহরীন টেবিলের এক কোণে বসে বই পড়ছিল। আরহাম সাহস সঞ্চয় করে এগিয়ে গেল।
“তুমি মঞ্চে গান গেয়েছিলে, তাই না?”
মেহরীন মুখ তুলে তাকাল, একটু অবাক হলেও হাসল। “হ্যাঁ, কিন্তু তুমি কিভাবে মনে রাখলে?”
আরহাম হেসে বলল, “যে গান মন ছুঁয়ে যায়, সেটা ভুলে যাওয়া যায় না।”
সেই দিন থেকেই তাদের বন্ধুত্ব শুরু। ক্লাস শেষে একসাথে হাঁটা, লাইব্রেরিতে বই খোঁজা, ক্যাম্পাসের চা স্টলে গল্প — ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের ভিতর একটা অনুচ্চারিত অনুভূতি গড়ে উঠল।
মেহরীন ছিল প্রাণবন্ত, চঞ্চল মেয়ে। তার হাসিতে ছিল জীবনের সহজ আনন্দ, আর আরহাম ছিল একটু শান্ত, চিন্তাশীল প্রকৃতির। কিন্তু তাদের দু’জনের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল ছিল — দুজনেই একা থাকলে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালোবাসত।
একদিন সন্ধ্যায়, ক্যাম্পাসের ছাদে বসে তারা চাঁদ দেখছিল। হালকা বাতাস বইছে, মেহরীন বলল, “জানো, চাঁদটাকে আমি খুব হিংসে করি।”
আরহাম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “হিংসে? কেন?”
মেহরীন হেসে বলল, “কারণ চাঁদ কখনো কারো হয় না, তবু সবাই ওকে ভালোবাসে।”
আরহাম একটু চুপ করে থেকে বলল, “কিন্তু কিছু ভালোবাসা অধিকার চায় না, শুধু থেকে যাওয়াই যথেষ্ট।”
সেই রাতেই তারা বুঝল, কিছু সম্পর্কের নাম দেওয়া যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায় প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
কিন্তু জীবনের গল্পে মোড় আসে হঠাৎই। মেহরীনের বাবা বিদেশে চাকরি পেয়ে পরিবার নিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। সে খবর শুনে আরহামের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। শেষ দিনে তারা আবার ছাদে দেখা করল, ঠিক সেই চাঁদের নিচে।
মেহরীন বলল, “আমি যাচ্ছি, হয়তো অনেকদিনের জন্য। জানি না ফিরে আসব কি না।”
আরহাম কিছু বলল না। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল, যেন কথা বলছে চাঁদের সঙ্গে। তারপর ধীরে বলল, “যদি কখনো চাঁদ দেখো, মনে করো আমি তাকিয়ে আছি একই আকাশের নিচে।” #aso amra golpo kori🤗👻👻 #Golpo Buro #amar golpo #ভালোবাসার গল্প #গল্প