কৃষ্ণকথা

কৃষ্ণকথা

★★একবার এক বিদেশী মেয়ে এক সাধুকে এসে বলে "আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।" 👉স্বামীজি বলেন: কেন? আমি তো ব্রহ্মচারী। মেয়েটি বলে: কারণ আমি আপনার মতন একজন সন্তান চাই ,যে সারা পৃথিবীতে আমার নাম উজ্জ্বল করবে সেটা আপনাকে বিয়ে করলেই সম্ভব। স্বামীজি বলেন: সেটার জন্য আরও একটি উপায় আছে।মেয়ে জিজ্ঞেস করে: কি উপায়? স্বামীজি মৃদু হেসে বলেন : আমাকে আপনার পুত্র বানিয়ে নেন।আর আমিও আপনাকে মা বলে ডাকব। এর ফলে আপনার মনোবাসনাও পূর্ণ হবে আর আমার ব্রহ্মচর্যও অটুট থাকবে। এমনটাই হলো মহাত্মাদের বিচারধারা। চানক্য পন্ডিত বলেছেন, মাতৃ বত পর দারেসু"সাধুর হ্রদয় কামবাসনা থেকে মুক্ত নিরমল -হরে কৃষ্ণ।
#

কৃষ্ণকথা

কৃষ্ণকথা - ShareChat
107 views
5 days ago
💖💖আসলে প্রেম কি?💖💖 💖💖কাকে এটা নিবেদন করা উচিৎ??💖💖 💖💖কিভাবে নিবেদন করতে হবে???💖💖 আনন্দ অন্বেষণের উপায়টি হচ্ছে কোন ব্যক্তিতে বা কোন বস্তুতে প্রেম নিবেদন করা। কিন্তু আমরা দেখছি তারফলে আনন্দ লাভ হচ্ছে না। পক্ষান্তরে চরমে দুঃখেই পর্যবসিত হচ্ছে, দুঃখই প্রাপ্তি হচ্ছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে,, এখানে আমাদেরকে বুঝতে হবে আমাদের হৃদয়ে থাকা সুপ্ত প্রেম কোথায় এবং কিভাবে প্রয়োগ করলে আনন্দ পেতে পারি, এই হৃদয়ের প্রেমটি কাকে, কোথায়, কিভাবে অর্পণ করতে হবে তা আমাদের কে অবশ্যই জানতে হবে।অন্যথায়,আমাদের আনন্দ পাবার যে অভিলাস,তা কখনো সফল হবে না,বরং বার বার ব্যর্থ হবে।আর সেই শিক্ষাই শাস্ত্রে দেওয়া হয়েছে। "তাহলে শাস্ত্রের শিক্ষাটি কি?"----- “চৈতন্য চরিতামৃতে" বলা হয়েছে “আত্মেন্দ্রিয়প্রীতি-বাঞ্ছা—তারে বলি,’কাম’—কৃষ্ণেন্দ্রিয়প্রীতি-ইচ্ছা ধরে ‘প্রেম’ নাম"—(শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত আদি ৪/১৬৫)—নিজের ইন্দ্রিয় তৃপ্তি সাধনের যে চেষ্টা তাকে বলা হয় কাম আর, কৃষ্ণের ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তি সাধনের যে চেষ্টা তাকে বলা হয় প্রেম। অতএব আমরা কি দেখতে পাচ্ছি এই যে প্রেম এটি কৃষ্ণকে নিবেদন করা না হলে কামে পরিণত হয়ে যাবে। কৃষ্ণকে ছাড়া প্রেম যদি আমরা অন্য কাউকে অর্পণ করি, তাহলে সেটা কাম—“অতএব কাম-প্রেমে বহুত অন্তর—কাম—অন্ধতমঃ,প্রেম—নির্মল ভাস্কর (শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত আদি ৪/১৭১)।” এই যে জড় জগতে তথাকথিত যে প্রেম সেটি নিজের ইন্দ্রিয় ভোগের একটি চেষ্টা মাত্র, তা প্রেমিক প্রেমিকারই প্রেম হোক, পিতা পুত্রেরই প্রেম হোক, মাতা পুত্রেরই প্রেম হোক,বন্ধুবান্ধবেরই প্রেম হোক এগুলি কোনটিই প্রেম নয়, এইগুলি সবই কাম। প্রেম সংগাটি তখনি আমরা ব্যবহার করতে পারব যখন সেটি কৃষ্ণের প্রতি অর্পিত হবে। আমাদের সকলের হৃদয়ে প্রেম রয়েছে, কেবল মানুষেরই নয় পশু পাখির হৃদয়েও প্রেম রয়েছে,সরীসৃপের হৃদয়েও প্রেম রয়েছে, একটা সাপ তারও হৃদয়ে প্রেম আছে। যেখানেই কোন জীব আছে,সেখানেই আত্মা আছে , আর যেখানেই আত্মা আছে সেখানেই প্রেম আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই প্রেমটি আমরা কোথায় অর্পণ করবো? যদি আমরা এই প্রেমটি উপযুক্ত স্থানে অর্পণ করি তখনই এই প্রেমটি সার্থক হয়। এখন শাস্ত্র আমাদের দেখাচ্ছে, শাস্ত্র আমাদের বোঝাচ্ছে সেই প্রেমটি কোথায় কিভাবে এবং কাকে নিবেদন করতে হবে। আর সেই শাস্ত্রে বলা হচ্ছে একমাত্র প্রেমাস্পদ হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ, আর তাঁর তদিয় মানে সেই কৃষ্ণের সঙ্গে সম্পর্কিত যা তাদের প্রতিও সেই প্রেমটি অর্পণ করা যাবে। কিন্তু কৃষ্ণকে বাদ দিয়ে প্রেম হবে না। কৃষ্ণকে বাদ দিয়ে তথাকথিত প্রেমের যে আনন্দ সেটা লাভ হবে না। আমাদের এই পৃথিবীর সমস্ত পরিস্থিতিতেই আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সর্বত্র যে প্রেমের আকাঙ্ক্ষা, সকলেই চাইছে কাউকে না কাউকে ভালবাসতে এবং কারও না কারও ভালবাসা প্রাপ্তি হতে,এটি সকলেরই বাসনা, এটা সকলেই চায়, কেন? কেননা আমাদের সকলের হৃদয়ে প্রেম রয়েছে। যেহেতু হৃদয়ে প্রেমটি রয়েছে, আমরা চাই এটি কাউকে অর্পণ করতে। কিন্তু আমাদের জানতে হবে কোথায় সেটি অর্পণ করতে হবে, কাকে সেটি অর্পণ করতে হবে, তাহলেই সেটি সার্থক হবে। যেমন ঘি আছে, ঘি কে যদি আগুনে দেওয়া হয় , তাহলে ঘি এর মান সার্থক হবে, আর ঘি যদি ছাইয়ের গাদায় ফেলা হয় তাহলে কি,ঘি এর মান সার্থক হবে, তাহলে কি,ঘি থেকে আগুন জ্বলবে? ঠিক তেমনি এই ঘি এর পরিণতি যেমন আগুন তেমনি প্রেমের পরিণতি হচ্ছে আনন্দ। এটি যদি উপযুক্ত স্থানে ঢালা যায় তাহলে আনন্দ আপনা থেকেই আসবে কিন্তু সেই স্থানে না ঢেলে যদি আমরা ছাইয়ের গাদায় ঢালি তাহলে কি প্রকৃত বস্তুটা লাভ হবে? না! সেই বস্তুটির অপচয় করা হবে। ছাইয়ের গাদায় ঘি ঢাললে লাভ হয় কখন? ঠিক তেমনি আমাদের প্রেম উপযুক্ত স্থানে অর্পণ করতে হবে। আমাদের প্রেম যদি ঘি হয় তাহলে আগুনটি কে? " কৃষ্ণ" আর আমাদের প্রেম যদি ঘি হয় তাহলে ছাইয়ের গাদাটি কি? ঐ আগুন ছারা আর যা কিছু তা সব। আগুনের চারপাশে আর যা কিছু রয়েছে আগুন ছাড়া তা সবই ছাইয়ের গাদা। “একলে ঈশ্বর কৃষ্ণ”—তিনি আমাদের একমাত্র প্রেমাস্পদ। সেই শিক্ষাটি দেওয়া হচ্ছে এবং তার বিশেষভাবে বিশ্লেষণ ও করা হচ্ছে যে কেন, কেন আমরা কৃষ্ণের প্রতি প্রেমাশক্ত হব?”----- শ্রীমদ্ ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজ মায়াপুর ২ নভেম্বর ২০০৯
#

কৃষ্ণকথা

কৃষ্ণকথা - 18 . Valentina - ShareChat
107 views
5 days ago
#

কৃষ্ণকথা

বৈষ্ণবের অমানীত্ব প্রাচীনকালে একজন দিগ্বীজয়ী পন্ডিত পান্ডিত্য প্রভাবে চতুর্দিক জয় করে সর্বশেষে প্রবীন পন্ডিত সার্বভৌম পন্ডিতের নিকট উপস্থিত হলেন। এই প্রবীন পন্ডিতকে পরাজিত করতে পারলেই দিগ্বীজয়ী পন্ডিত সার্বভৌম পন্ডিতের পদ লাভ করতে পারেন। তিনি ভারতের সমস্ত পন্ডিতমন্ডলীকে পরাজিত করে সবশেষে প্রবীন পন্ডিতের নিকট এসেছেন। এই কথা সার্বভৌম পন্ডিতকে জানিয়ে তার সহিত প্রবীন পন্ডিত মহাশয়কে শাস্ত্রবিচার করতে অথবা নির্বিচারে জয়পত্র লিখে দিতে প্রস্তাব উত্থাপন করলেন। সার্বভৌম পন্ডিত মহাশয়ের প্রস্তাব শ্রবণ করে নীরবে নির্বিচারে অচিরেই জয়পত্র লিখে দিগ্বীজয়ী পন্ডিতের হস্তে অর্পণ করলেন এবং তাঁদের অদ্য হতে সার্বভৌম পন্ডিত বলে তিনি স্বীকার করলেন এবং নানা মধুর বাক্যের দ্বারা তাকে আপ্যায়ন করনান্তর বিদায় নিলেন। অনন্তর দিগ্বীজয়ী পন্ডিত উল্লাসভরে গর্বিত বক্ষে হাস্যোৎফুল্ল বদনে স্বদেশ যাত্রা করলেন। কিন্তু পথিমধ্যে বাধা পেলেন। ঐ পথে প্রবীন পন্ডিতের জনৈক শিষ্য কোনো কার্যোপলক্ষে আসতে ছিলেন। তিনি দিগ্বীজয়ী পন্ডিতের হস্তে জয়পত্র দর্শণ করে এবং সমস্ত বৃত্তান্ত অবগত হয়ে তার সহিত শাস্ত্রবিচারে উদ্যোগী হইলেন। তাঁর গুরুদেবকে যে অপরে পরাজিত করতে পারে না তা প্রদর্শনের জন্যই তাঁর ঐ বিচারে আত্মনিয়োগ। রাস্তার মধ্যেই তুমুল শাস্ত্রযুদ্ধ বাধল। উভয়ই মহারথী। সুতরাং বহুসময় ধরে ভীষণ সংগ্রাম চলল। অবশেষে দুর্ভাগ্যবশে দিগ্বীজয়ী পন্ডিতেই পৃষ্ঠভঙ্গ দিয়া জয়পত্র প্রত্যার্পণ করিলেন। শাস্ত্রবিচারে গুরুমহিমার ম্লানকারীর জিহ্বা স্তব্ধ করতে পেরে ঐ প্রবীন পন্ডিতের উপযুক্ত শিষ্য আত্মপ্রসন্নতা লাভ করলেন। । হিতোপদেশ। ‘জিগীষা’ শব্দের অর্থ জয়ের ইচ্ছা। প্রকৃত পন্ডিতগণ জয়ের ইচ্ছা সম্পন্ন ব্যক্তির জড় পান্ডিত্যকে পান্ডিত্য বলে স্বীকার করেন না। যেহেতু ভগবদ্ভক্তি ও অমানী মানদ বা বিনম্রতাই পান্ডিত্যের প্রধান লক্ষণ। তাঁর জয়ের ইচ্ছা সম্পন্ন পান্ডিত্যকে অতীব ঘৃণা করেন। অপরদিকে সৎ শিষ্য শ্রীগুরুদেবের মহিমার ম্লানকারীর জিহ্বা স্তব্ধ করতে পেরে আত্ম প্রসন্নতা লাভ করেছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর গুরুদেবকে যে অপরে পরাজিত করতে পারে না, ইহা প্রদর্শনের জন্যই তাঁর ঐ বিচারে আত্মনিয়োগ। এই প্রকার শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে অচলা শ্রদ্ধা না থাকার জন্যই আমাদের এই দুরাবস্থা।
120 views
2 months ago
Share on other apps
Facebook
WhatsApp
Copy Link
Delete
Embed
I want to report this post because this post is...
Embed Post