📝 আমার গল্প

📝 আমার গল্প

#

📝 আমার গল্প

রাতে ঘরে না ফিরলে ওর বৌ ওকে বাটাম দিয়ে মারবে- দৌপদীর জন্য জল আনতে গিয়ে চার ভাই অর্জুন, ভীম, নকুল ও সহদেব লাপাতা হয়ে গেল.! বিরক্ত যুধিষ্ঠীর মুখটা ভেটকি মাছের মত করে নিকটস্থ সরোবরে গিয়ে দেখে চারভাইএর লাশ.!!! মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে যুধিষ্ঠীরের। হঠাৎ দেখে এক ব্রাহ্মণ সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রাহ্মণ জানায় সে আসলে এক যক্ষ। তার অনুমতি ছাড়া চারভাই সরোবরের মিষ্ট জল পান করতে গেছিলো বলে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। ভাইদের প্রাণ ফিরে পেতে গেলে যক্ষের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যুধিষ্ঠীর বাধ্য হয়ে যক্ষের প্রশ্নের উত্তর দিতে সম্মত হয়… যক্ষঃ সূর্য অস্ত যায় কেন.? যুধিষ্ঠীরঃ সূর্য রাতে ঘরে না ফিরলে ওর বৌ ওকে বাটাম দিয়ে মারবে তাই.! যক্ষঃ স্বর্গের চেয়ে উঁচু কি.? যুধিষ্ঠীরঃ দু ছিলিম গাঁজা। খেলে স্বর্গ, মর্ত পাতালের হদিশ পাওয়া যায়না.! যক্ষঃ মানুষের দেবত্ব লাভ কি প্রকারে হয়.? যুধিষ্ঠীরঃ বড়লোক শ্বশুর মশাইএর একমাত্র কন্যাকে বিবাহ করার পর, যদি শ্বশুরমশাই কন্যাসমেত পটলডাঙার টিকিট কনফার্ম করেন, তখন.! যক্ষঃ কার পরাজয় অসম্ভব.? যুধিষ্ঠীরঃ ঝগড়ায় নারীজাতির.! যক্ষঃ মগজের চেয়ে দ্রুত কি.? যুধিষ্ঠীরঃ সন্দেহ.! যক্ষঃ অসুস্থের বন্ধু কে.? যুধিষ্ঠীরঃ হাসপাতালগুলোর যা ছিরি, তাতে শ্মশানবন্ধুরাই আসল বন্ধু.! যক্ষঃ সুখী কে.? যুধিষ্ঠীরঃ যাদের হজমশক্তি বেশী, তারা.! যক্ষঃ কি ত্যাগ করলে মনুষ্য ধনলাভ করে.? যুধিষ্ঠীরঃ নীতি এবং আদর্শ.! যুধিষ্ঠীরের উত্তর শুনে, যক্ষ যার পরনাই সন্তুষ্ট হয়ে চারভায়ের জীবনদান করে বল্লেন : হে রাজা যুধিষ্ঠির তুমিই পারবে এই মহান ভারতবর্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে.!!!
126 views
1 months ago
#

📝 আমার গল্প

“চাঁপী” ২ ঘন্টা যাবত আমার নগ্ন লাশটা পোস্ট মর্টেমের জন্য পরে আছে। পুলিশ ইন্সপেক্টর অমল ঘোষ আমার লাশটার দিকে তাকিয়ে নিজের মনেই হেসে বলে উঠলেন এই বয়সেও বিয়ের শখ যায়নি। এরপরই ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে বললেন তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করুন তো। এরপর লাশ আবার পরিবারকে ফেরত দিতে হবে। যত্তোসব ঝামেলা। বলেই আমার কালো বেঢপ শরীরের দিকে আবার তাকালেন। বিয়ের জন্য পরা চন্দনের দাগ মুখে এখনো রয়ে গেছে। আমি চাঁপা চক্রবর্তী। ডাক নাম চাঁপী। জন্মের সময় কালো গায়ের রং দেখে বাবা এই নাম রেখেছিলেন। বাবা আমার মুখ দেখেই নাকি বলেছিলেন “দেখো, এই মেয়েই আমাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে।” ভগবান বোধ করি বাবার দিকে চেয়ে ব্যাঙ্গ হাসিটা সেদিনই হেসেছিলেন। ছোটোবেলা থেকেই দাদা বৌদি আর পড়শিদের খোটা শুনেই বড় হয়েছি। হেসেলে ঢুকলে বৌদিরা পাতিলের তলার সাথে আমার তুলনা করতে পারলেই যেন সার্থক হতেন। একদিন বড় বৌদি আমার গালে কালি দিয়ে বলছিলেন আরে ও ঠাকুরঝি তোমার মুখের কোথায় যে কালি লাগিয়েছি তাতো ঠাওরই করতে পারছিনে গো। এ নিয়ে বাড়ির সবার কি হাসাহাসি! আমিও সবার সাথে হেসেছিলাম। ওসব কথা এখন আর অমার গায়ে লাগে না। তবে মায়ের বোধ হয় সহ্য হলো না। সারা রাত মুখে আঁচল গুজে কেঁদেছিলেন। জীবনে প্রথম ভালোবাসা ছিলো রবিদা। ছোটো থাকতে পাশের বাড়ির সুধা কাকীমার বাড়ি প্রায়ই দৌড়ে চলে যেতাম আর রবিদার কাছে রাজ্যের গল্প শুনতাম। প্রায়ই পাঠশালা ফাঁকি দিয়ে তার বই পড়তাম। একদিন রবিদা আমার হাত ধরে বলেছিলেন “হ্যা রে চাঁপী বড় হয়ে আমায় বিয়ে করবি?” সেদিন লজ্জায় কিছু বলতে পারি নি মুখ ফুটে। ঘরে ছুটে এসেছিলাম। এরপর থেকে রবিদার সামনে যেতে ভারি লজ্জা পেতাম। তখন থেকে সেই ছিলো আমার কল্পনার রাজকুমার। বড় হতে থাকি আর কল্পনার রাজ্য বিস্তৃত হতে থাকে। কল্পনার সবটাই ছিলো রবিদাকে ঘিরে। ভাবতাম রবিদার কল্পনাও বুঝি আমায় নিয়ে। কিন্তু সে কল্পনা বেশিদিন টিকলো না যখন জেনেছিলাম আমার সই সুহেলির সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে। ছুটে গিয়ে রবিদাকে সুধিয়েছিলাম তবে বললে কেন আমায় বিয়ে করবে? রবিদা ঘর ফাটানো হাসি হেসে বললেন সে তো মজা করেছিলাম। তোর মত কালিকে কে বিয়ে করবে রে? আমিও রবিদার সাথে হেসেছিলাম, তাকে যে সত্যিই ভালোবেসেছিলাম সেই লজ্জা ঢাকতে। ফিরে আসার সময় নির্লজ্জের মত হাসতে হাসতে বলেছিলাম রবিদা তোমার বিয়েতে কিন্তু আমায় একখানা লাল পেড়ে শাড়ি দিতে হবে বলে রাখলাম। রবিদা সেই কথাখানা রেখেছিলো। শাড়িখানা পরে নিজেকে আয়নায় অনেকবার দেখেছিলাম। সত্যিই রবিদার পাশে আমি বড্ড বেমানান। কি রাজপুত্রোর মত চেহারা ওর। খুব কেঁদেছিলাম সেদিন। ভগবানের উপরও বড্ড রাগ হচ্ছিলো। আমার দাদা দিদিরা তো কত্ত সুন্দর আর আমায় গড়ার সময়ই বুঝি ভগবানের সাদা রঙের কমতি পরলো! বাবা আমার বিয়েরও তোর জোর শুরু করলেন। ১৫ তে পা দিয়েছি।। এখন বিয়ে না দিলেই নয়। কিন্তু একখানাও বাবার পছন্দমত প্রস্তাব আসে না আমি কালো বলে। কোনো ছেলের দুই বউ, কারো বয়স বাবার চেয়েও বেশী, কারো আবার পণ বেশি চায়। বৌদিরা বলাবলি করে ঠাকুর মশাই ঠাকুর ঝির জন্য কোন রাজপুত্তুরের আশায় বসে আছে গো? যে গায়ের রং এর ছিরি! আস্তে আস্তে আমার বয়স বাড়তে থাকে। বয়স ২৫ এ এসে ঠেকেছে। ছেলেপক্ষের সামনে নিজেকে হাজির করতে করতে আমি বড় ক্লান্ত। কোনো শুভ অনুষ্ঠানে আমার যেতে বারণ। পাছে তাদের কোনো অমঙ্গল হয়। আমি যে অপয়া, অলক্ষী। ২৫ এ এসেও একখানা বর জুটোতে পারলাম না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম যেদিন বড়দিদি ওর মেজো মেয়ের বিয়েতে আমায় ছাড়া সবাইকে নেমন্তন করেছিলো। আমি একখানা শাড়ি ঠিক করে রেখেছিলাম ওর বিয়েতে পরবো বলে। কিন্তু বিয়ের দিন শুনি আমার নেমন্তন্ন নেই। একথা শুনে মাও আর যায়নি। সারারাত মায়ের বুকে মুখ গুজে কেঁদেছিলাম। মায়েরও ভারি কষ্ট হয়েছিলো সেদিন। আজ আমার বিয়ে। ৩৭ এ এসে অবশেষে একখানা বর জুটোতে পারলাম। বরের বয়স নাকি ৬৫’র ঘরে। তবে এ নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। পুরুষের আবার বয়স কি গো? তাছাড়া শুনেছি সে নাকি ভারি সুপাত্র। যদিও তাদের দাবী একটু বেশী। ১০ ভরি সোনা আর নগদ ৫,০০০ টাকা। কি জানি দাদারা জোগাড় করতে পারলো কিনা! মা যদিও রাজি ছিলেন না কিন্তু বাবা স্বর্গে যাওয়ার পর মাযের কথার কোনো মূল্য নেই এখন আর এ বাড়িতে। দাদা বৌদিরাই সব। আমায় সাজানো শেষ। লাল বেনারসী অার চন্দন। কালো চামড়ার ওপর সাদা চন্দনটা ভারি চোখে পরছে। ঠোঁটের লাল রং টাও কেমন বেমানান ঠেকছে। ও নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। শেষ পর্যন্ত বিয়েটা তো হচ্ছে। এখন আর আমায় কেউ অপয়া অলক্ষী বলবে না। কারো খোটা শুনতে হবে না আর। বর চলে এসেছে। সবাই খুব হইচই করছে। কেউ কেউ আবার বুড়ো বর বলে খোটাও দিচ্ছে। আমি ওসব গায়ে মাখছি না। একটু পরই লগ্ন শুরু হবে। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। বিয়েটা আর হল না শেষ পর্যন্ত। পণের টাকা গয়না কিছুই জোগাড় হয়নি। দাদারা ভেবেছিলেন কোনো ভাবে বিয়েটা চুকে গেলেই হয়ে যাবে। কিন্তু বরপক্ষ বেজায় চালাক। পণের টাকা না নিয়ে বিয়ে শুরু করবে না। মা তাদের পায়ও ধরেছিলেন। লাভ হয়নি কোনো। বিয়ে ভেঙে দিয়ে সবাই চলে গেল। আমি একা ঘরে মূর্তির মত বসেছিলাম। কাঁদার শক্তিটুকুও ছিলো না আর। রাত হয়েছে অনেক। সবাই ঘুমুচ্ছে। মা বোধহয় পাশের ঘরে বসে এখনও কাঁদছে। বড় বৌদি বলে দিয়েছে মাকে কাল সকালেই আমায় নিয়ে কাশী চলে যেতে। আমায় অার ঘরে তারা রাখবে না। কিন্তু আমার বৃদ্ধ মা এই বয়সে আমায় নিয়ে কোথায় যাবেন। অতকিছু আর না ভেবে বিয়ের শাড়িখানা দিয়েই গলায় ফাঁস দিলাম। যে শাড়িখানা পড়ে আমার শ্বশুড় বাড়ি যাবার কথা ছিলো সেটাই এখন আমার ফাঁসের দড়ি। সারারাত লাশখানা ঝুলেছে আমার। কেউ টের পেল না। আমার লাশটা অনেক আগেই পোড়ানো শেষ। ছাইগুলো ছড়িয়ে আছে। কালো ছাই। আমার রঙের সাথে খুব মিল আছে। আচ্ছা ফর্সা আর কালো মানুষের ছাইয়ের মধ্যে তো কোনো পার্থক্য নেই তবে মানুষগুলোর মধ্যে কেন এত পার্থক্য? মৃত্যর পর তো এই কালো রঙেই সবাইকে ফিরতে হবে। ওরা সবাই তা জানে তবুও ওরা আমায় ঘেন্না করতো। বড্ড ঘেন্না করতো।
122 views
1 months ago
#

📝 আমার গল্প

এই পোস্টটি ভ্রমণ সংক্রান্ত ট্রেনের অভিজ্ঞতা মাত্র- কিছু মাস আগে আমরা পুরী যাওয়ার পথে ট্রেনে রাতে খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বানিয়ে নিয়ে যাওয়া খাবার বের করি। কয়েকবার খাবার মুখে নেওয়ার পর এক ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে( দেখে মনে হলো প্লাটফর্ম এ রাত কাটায়) আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে -"তোমরা লুচি খাচ্ছ??আমি লুচি খেতে খুব ভালোবাসি,আমায় একটা দাও,খুব খিদে পেয়েছে" দেখে খুব মায়া হল আমাদের ,বাবার জন্য রাখা লুচি থেকে ওকে দুটো লুচি তরকারি সন্দেশ দিল বাবা নিজেই। ওর খাওয়ার আনন্দ দেখে আমার চোখেই জল চলে এসেছিল। যাই হোক খাবার শেষ হওয়ার আগেই ও চিৎকার করে ট্রেনে শুয়ে পরে কাঁদতে লাগলো বলল খুব পেটে ব্যথা করছে,এনারা আমাকে বিষ খাইয়েছেন। আমারা কি বলবো কি করবো বুঝতে না বুঝতেই একদল লোক চলে এল,বাবা বলল আমরা যা খাচ্ছি বাড়িয়ে থেকে বানিয়ে আনা খাবার ই ওকে দিলাম,ওরা বাবাকে কটা আজে বাজে কথা শুনিয়ে বললো সামনের স্টেশনে ওকে নামিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা হবে,দশ হাজার টাকা দিন।কি আর করা যাবে ভদ্র ঘরের মানুষ তাই মুখ বুজে দেওয়া হলো,চরম লজ্জায় দিশাহীন হয়ে পড়েছিলাম আমরা তখন,টাকা যায় যাক মেয়েটা যেন সুস্থ হয়ে ওঠে। পরের স্টেশন আসতেই মেয়েটা ঝট করে উঠে ট্রেন থেকে লাফ মেরে দৌড়ে মিলিয়ে গেল,বাকি দের ও কোনো টিকি পেলাম না😑 অবাক আমরা নাটকের ঝড় চলে গেল 10-15 মিনিটের মধ্যে। আমার এক বন্ধু একটা travel group এর member . সেখান থেকে জানলাম . আমি হলেও তো একই কাজ করতাম , তাই ভাবলাম share করি . অনেকেই এভাবে বিপদে পড়তে পারে
574 views
1 months ago
No more posts
Share on other apps
Facebook
WhatsApp
Copy Link
Delete
Embed
I want to report this post because this post is...
Embed Post