📖 গল্প 📖

📖 গল্প 📖

1.8K
2.2K পোস্ট
304.4K জন দেখলো
📖 গল্প 📖
#📖 গল্প 📖 #বাঙালীর আড্ডা🤝 #💔ভগ্নহৃদয় শায়েরি প্লিজ সবাই পরো এটা আমার জিবনে ঘটেছে।।
#প্যারাময়_লাভ❤❤ #📖 গল্প 📖 #part_33 ইভার আম্মু মুগ্ধর আম্মুকে রুহির নামে হাজিবাজি বলছে!বাট মুগ্ধর আম্মু সে কথা কাটিয়ে অন্য কথা বলতে শুরু করছে!রুহি ওদের বাসায় গিয়ে ওর বাপি আর আম্মুকে জড়িয়ে ধরলো।রুহি ওর বাপি আর আম্মু সাথে কথা বলে নিজের রুমে গেল।রুহি আম্মু হুট করে এসে একটা নীল শাড়ি ধরিয়ে দিলো কারন বিয়ের পরের দিন থ্রীপিস পড়ে থাকাটা বেমানান লাগছে!রুহি প্রথমে রাজি হচ্ছিল না পরে ওর আম্মু ওকে বোঝানোর পর রুহি শাড়ি পড়তে রাজি হলো। রুহি তো শাড়ি পড়তে পারে না তাই রুহির আম্মু রুহিকে শাড়ি পড়িয়ে দিলো.... - তারপর রুহি শাড়ি পড়ে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে মুগ্ধর বাসার দিকে!রুহি মুগ্ধদের বাসায় ঢুকতেই আগে মুগ্ধর বাবার সাথে হয়... মুগ্ধর বাবাঃ আরে রুহি মা তোকে তো একদম আমার মায়ের মত লাগছে... রুহিঃ এত সুন্দর করে শাড়ি পড়লাম আর তুমি কিনা বলছো তোমার বুড়ি মায়ের মত লাগছে (গাল ফুলিয়ে) মুগ্ধর আম্মুঃ তাই তো তুমি এসব বলছো কেন?? আমার রুহি মা তো দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে! রুহিঃ সত্যি তো!!! মুগ্ধর বাবাঃ হুমম একদম!অনেক সুন্দর লাগছে আমার মা টাকে... মুগ্ধর আম্মুঃ রুহি মা মুগ্ধকে গ্রীণ ট্রি টা দিয়ে আয় মুগ্ধর রুমে! আর তারাতারি ফ্রেশ হয়ে দুইজনই নিচে ব্রেকফাস্ট করতে আয়.. রুহিঃ আচ্ছা!!! - রুহি মুগ্ধর রুমে গিয়ে দেখলো মুগ্ধ রুমে নেই!মুগ্ধ ওয়াশরুমে আছে। রুহি তারাতারি করে ওর মাথায় ঘোমটা টেনে দেয়! আর হাতের কাপটা সেন্টার টেবিলের উপর রাখে!তখনই মুগ্ধ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসে!মুগ্ধ ভ্রু কুচকে সামনে দাড়িয়ে থাকা ঘোপটাওয়ালির দিকে তাকায় আর বলে.. মুগ্ধঃ কে আপনি??আর আমার রুমে কি চাই?? রুহিঃ..... মুগ্ধঃ আমার রুমে আসার সাহস হলো কি করে?যাই হোক চলে যখন এসেছেন! তাহলে চলেন একটু রোমাঞ্চ শুরু করি।কারন আমার এখন খুব রোমাঞ্চ করতে ইচ্ছে করছে। রুহিঃ.... - মুগ্ধ রুহিকে প্রথমেই চিনে ফেলছে আর মুগ্ধর রুমে হুট রুমে যে সে হুট করে ঢুকতে পারে না।মুগ্ধ দুষ্টু হেসে রুহিকে জড়িয়ে ধরে আর রুহির কাঁধে মুখ রেখে বলে... মুগ্ধঃ সকাল সকালে এভাবে পাগল করা হচ্ছে!হুট করে শাড়ি পড়তে ইচ্ছে কেন আমার বউটার?? রুহিঃব ব ব মুগ্ধঃ আরে আপনি তোতলাচেছন কেন?আমি চুপটি করে থাকুন প্লিজ! আর আমাকে আমার কাজ করতে দেন.. রুহিঃ.... - এরপর মুগ্ধ রুহির ঘোপটা সরিয়ে ফেলে!তারপর আরো গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে।আর এভাবে খুনশুটি চলতে থাকে ওদের মাঝে!তারপর দুইজন নিচে যায় ব্রেক ফাস্ট করতে!সবার সাথে রুহিও গিয়ে ডায়নিং টেবিলে বসে... ইভার আম্মুঃএই মেয়ে তুমি এখন খেতে বসলে কেন?তুমি এখন খেতে বসলে আমাদের সার্ভ করবে কে?? রুহিঃ আচ্ছা আমি সার্ভ করে দিচ্ছি (উঠে দাড়িয়ে) মুগ্ধঃ (মুগ্ধ রুহি উঠতে দেয় না!বরং রুহির হাত ধরে বসিয়ে দেয়) ইভার আম্মুঃ মুগ্ধ এসব কেমন ধরনের অসভ্যতামী!আমাদের সামনে এভাবে বউয়ের হাত ধরে রাখছো!তোমার থেকে তো এসব আশা করি নি.... মুগ্ধঃ..... ইভাঃ একদিনেই কেমন বউ পাগলা হয়ে গেছে মুগ্ধ ভাইয়া! এটাও দেখার বাকি ছিলো...হা হা হা ইভার আম্মুঃ বড় আপা তোমার কপালে দুঃখই আছে!এখনই তোমার ছেলের যে অবস্থা দেখছি আর তো দিন পরেই আছে... মুগ্ধর বাবাঃ এসব কথা থাক না!যে যার মত খাওয়া শুরু করো তো।কথায় কথা বাড়ে... রুহিঃ...... মুগ্ধর আম্মুঃ খাওয়ার সময় এত কথা বলা ঠিক না!এই টপিক বাদ দে আর মনোযোগ দিয়ে খাওয়া শুরু কর... - এসব কথা শুনে রুহির খুব খারাপ লাগছে!রুহি ভেবেছিলো মুগ্ধ উনাকে কিছু বলবে বাট মুগ্ধ কিছু বলছে না নিজের মত খেয়েই যাচ্ছে! রুহি মুখে খাবার দিয়ে আর গিলতে পারছে না! কারন রুহি বিনাদোষে কেউ কিছু বললে তাকে ছেড়ে দেয় না!বাট এখন এখানে বড় বাবা আর বড় আম্মু আছে তাই রুহিও কাউকে কিছু বলতেও পারছে না।রুহি রাগে ফোঁস ফোঁস করছে...মুগ্ধ রুহির দিকে তাকিয়ে দেখলো রুহি খাচ্ছে না!তাই মুগ্ধ রুহির দিকে তাকিয়ে বললো তারাতারি খেয়ে রুমে আসতে দরকারী কথা আছে!এই নিয়ে ইভার আম্মু আবার পকপক করা শুরু করলো!মুগ্ধর খাওয়া শেষ তাই মুগ্ধ উঠে গিয়ে বেসিনের হাত ধুয়ে আবার ওর চেয়ারেই বসে আর রুহিকে তারাতারি খাওয়ার জন্য তারা দিতে শুরু করলো।তারপর মুগ্ধ আরাম করে চেয়ারে বসে বললো... - মুগ্ধঃ খালামনি আপনি কি যেন বললেন?রুহি কে ব্রেকফাস্ট সার্ভ করার জন্য তাই না।তা আপনাদের হাত কি বাসায় রেখে এসেছে নাকি, যে নিজে নিজেরা সার্ভ করে খেতে পারবেন না!আর আপানারা কোন জমিদার যে আপনাদের সার্ভ করে খাওয়াতে হবে... ইভার আম্মুঃ মুগ্ধ তুমি কি আমাকে অপমান করতে চাচ্ছো?? মুগ্ধঃ না অপমান করছি না বাট আপনার ভুল গুলো ধরিয়ে দিচ্ছি!আর যদি অপমান ভাবেন তো ভাবতে পারেন আমি কিছু মনে করবো না।(শান্ত সুরে) মুগ্ধর বাবাঃ থাক না মুগ্ধ এসব বাদ দে.. মুগ্ধঃ বাবা আমার বউকে কেউ কটু কথা বলবে আর আমি তা শুনে যাবো সেই রকম কাপুরুষ আমি না।আর হ্যা ইভা তুই কি যেন বললি একদিনেই আমি বউ পাগল হয়ে গেছি তাই না!হুমমম বউকে সাপোর্ট করলে যদি বউ পাগল হতে হয় তো হলাম সমস্যা কি!আর খালামনি আমি অসভ্যতামির কিছুই করি নি বাট এর পর যদি সেইম কাজ আপানারা করেন তো আমি আমার মতো করে অসভ্যতামি কাকে বলে সেটা আপনাদের বুঝিয়ে দিবো। ইভার আম্মুঃ এই মেয়েটার জন্য তুমি আমাদের সাথে এইভাবে কথা বলতে পারলে??(ন্যাকা সুরে) মুগ্ধঃ এই মেয়ে না বলে ওর যেহেতু সুন্দর একট নাম আছে! তাই ওর নাম ধরে ডাকেন।আর নাম না জানলে মিসেস মুগ্ধও বলতে পারেন।আর হ্যা আর একটা কথা আমার বউকে যদি আর একবার আপনারা কোন রকম ভাবে অপমান বা কটু কথা শোনান! তো আমিও ভুলে যাবো আপনারা আমাদের রিলেটিভ হন.. - কথাটা বলে মুগ্ধ রুহির হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে ওপরে৷ চলে গেল।মুগ্ধর বাবা মা অবাক হন নি কারন এটা নতুন কিছু না।মুগ্ধ বরাবরই এইরকমই! সহজে কাউকে কিছু বলে না বাট বলতে শুরু করলে আর ছাড়ে না। - আজকে ওদের রিসিপশন তাই মুগ্ধ একটু ছোটাছুটি করতে থাকে!আরো একটি কারন আছে এর জন্য মুগ্ধও বাসার বাইরেও এসেছে কারন আজকে রুহির রেজাল্ট দিবে।রুহি বিয়ের আনন্দে রেজাল্টের কথাও ভুলে গেছে। - ১১ টার দিকে রুহিকে সাজানোর জন্য পার্লার থেকে লোক এসেছে। মুগ্ধর আম্মু রুহিকে একটা গয়নার বক্স দেয়!রুহি আজকে পড়ছে এ্যাশ কালার লেহেঙ্গা। লেহেঙ্গাতে গোল্ডেন সুতা আর পাথরের কাজ করা।এই ড্রেসটা মুগ্ধ বাইরের দেশ থেকে আনিয়েছে।রুহি সাজতে বসে বার বার ছটফট করছে! পার্লারের মেয়েঃম্যম নড়বেন না প্লিজ আমাদের সাজাতে সমস্যা হচ্ছে.. রুহিঃ নড়বো না মানে কি!আমি কি রোবট নাকি যে নড়াচড়া না করে থাকতে পারবো। ভাবিঃ একটু কষ্ট করো রুহি!আজকের দিনই তো... রুহিঃ ভাবি শরীরের মধ্যে কুটকুট করছে!মনে হচ্ছে কে জানি সুচ দিয়ে গুতো দিচ্ছে ভাবিঃ কাপড়ের মধ্যে সূচ আসবে কোথায় থেকে?? রুহিঃ তা তো জানিনা! - তারপর সাজগোজ শেষ করে! আর রুহি সেজেগুজে বসে লক্ষী বউয়ের মত বসে আছে!বাট মুগ্ধর কোন দেখা নাই।বাসায় মেহমানরা গিজগিজ করছে। রুহি চারদিকে চোখ বুলিয়ে মুগ্ধকে খুঁজছে। মুগ্ধ ফোনটাও রিসিভ করছে না।রুহি মন মরা হয়ে বসে আছে ঠিক তখনই মুগ্ধ বাসায় ঢুকে আর রুহির দিকে না তাকিয়ে হনহন করতে করতে রুমে চলে যায়।রুহি আহাম্মকের মত তাকিয়ে মুগ্ধর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে?৩০মিঃ পর মুগ্ধ কালো শার্টের সাথে এ্যাশ কালারে ব্লেজার পড়ে আসে!রুহি চোখ বড় বড় মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে আছে!রুহির পাশে মুগ্ধ বসলো তখন রুহি মনে মনে বিরবির করে বলে উঠলো... রুহিঃ এই বরটা কার রে!!ভাভা গো ভাভা আমি তো পাঁচ কেজি ওই সব খেয়ে ফেলছি!ওইসব মানে ক্রাস আর কি!ওমা এ তো দেখি আমার বাবার মেয়ের জামাই! এজন্য তো বলি এমন ভাব আর কার হতে পারে!কাল রাতে কত কামড়ালাম তাও চেহারাটা একটুও অসুন্দর হলো না বরং আরো হ্যান্ডস্যাম লাগছে...(মনে মনে) মুগ্ধঃ..... রুহিঃআজকে একবার সুযোগ পায়! তার পর তোর ভাব না কমাতে পারলে আমার নামও রুহি না।তোর মাথায় এমন ডগা মারবো যেন সাথে সাথে তোর মাথায় আলু উঠে যায়।শালা খাটাশ তোকে না কালো শার্ট পড়তে না করছি তাও কালো শার্ট পড়ছিস...মন তো চাচ্ছে এক খাবলা থুথু দিয়ে আসি!যাতে কারো নজর না লাগে... (মনে মনে) - মুগ্ধ রুহির সাথে কোন কথা বলছে না বাট অন্যদের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে!রুহি মনে মনে মুগ্ধর গুষ্ঠী উদ্ধার করছে আর সেটা খুব যত্নে।রুহি মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে বললো... - রুহিঃও স্বামী তুমি আমার সাথে কথা বলছো না কেন?? মুগ্ধঃ..... রুহিঃ কি এমন করছি আমি! যে কথা বলছো না তুমি!প্লিজ কথা বলো না আমার সাথে! তুমি কথা না বললে আমার মনটা আকুপাকু করছে। মুগ্ধঃ আজকে তোর পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে! তোর কি মনে আছে? রুহিঃ ওহহ আজকে রেজাল্ট!!!!!!! ইসস আজকের দিনেই হারামজাদা রেজাল্টকে বের হতে হলো!আর দুইদিন পর বের হলে কি হতো??যাই হোক দুপুর ১তো বেজে গেছে রেজাল্ট দিবে কখন... মুগ্ধঃতিনটা সাবজেক্টে ফেল করছিস!ছিঃ! ফেলের কথা মুখে বলতেও আমার লজ্জা লাগছে।তোকে এত কষ্ট করে পড়ানো টাই বৃথা.. (দাঁতে দাঁত চেপে) রুহিঃ যাক বাবা বাচলাম!তাহলে বাকি গুলোতে তো পাশ করছি!(অনেক খুশি হয়ে) মুগ্ধঃ পরীক্ষাতে ফেল করে তুই এত খুশি হচ্ছিস???তুই আসলেই কি মানুষ??? .. রুহিঃ যা বাবা তুমি তো কালকে রাতে আসার সাথে বাসর করলে আর আজকে বলছো আমি মানুষ কি না?? মুগ্ধঃ..... রুহিঃথাক মন খারাপ করো না!আসছে বছর আবার হবে!আর বাদ বাকি গুলোতে তো পাশ করছি! এর জন্য আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া..একটা কথা সব সময় মনে রাখবা... মুগ্ধঃ.... রুহিঃ অল্পতে খুশি হতে শিখো!তাহলে জীবনে কিছু করতে পারবে... মুগ্ধঃ তা তিনটা বিষয়ে ফেল করে তুই কি করবি শুনি??(অবাক হয়ে) রুহিঃ এমন একটা কাজ করবো! যেটা পড়াশোনা না জানলেও খুব ভালো ভাবে করা যায়।ঝাক্কাস কাজ আছে একটা আর আমি ওইটাই করে তোমাকে দেখাবো... মুগ্ধঃহুমম সেই মহৎ কাজটা কি?? যদি বলতি! তাহলে তোর কথা শুনে আমার কান দুটোকে ধন্য করতাম। রুহিঃফেল যখন করেছি তখন কি আর করবো! হালি হালি বাচ্চা পয়দা করবো...আর সেই ছালপাল কে মানুষ করবো।আর আমার এত পড়াশোনা করে কি হবে? আমার ছানাগুলো কে অ আ মুরগির ঠ্যাং শেখানোর পর টিচারের গলায় ঝুলিয়ে দিলেই তো ল্যাটা লুকে গেল! তাহলে হুদাই আমি পড়াশোনার করে ব্রেণ ক্ষয় করবো কেন? বলো! বলো! এটাও উওর দাও আগে আমাকে?? রুহির কথা শুনে মুগ্ধ কি বলবো বুঝতে পারছে না!আপাতত রুহিকে কি বলা উচিত মুগ্ধর জানা নেই.... To be continue...
#প্যারাময়_লাভ❤❤ #📖 গল্প 📖 #part_32 তারপর রোদ,আলো,মিষ্টু, রাসেল মুগ্ধ আর রুহিকে সাথে আর কিছুক্ষন কথা কথা বলে বিদায় নিলো! - মুগ্ধ রোদদের এগিয়ে দিয়ে গটগট করতে করতে ওর রুমে চলে গেল!তারপর ওর ড্রেস বদলে নিলো।মুগ্ধ রাগে ফোঁস ফোঁস করছে কারন রুহির এরকম লাগাম ছাড়া মুগ্ধকে বার বার সবার সামনে লজ্জাতে ফেলে।রুহি ওখানকারই স্থানীয় মেয়ে তারপরেও রুহিকে দেখার জন্য অনেকে ভিড় করছে!এভাবে বেশ কিছুক্ষন থাকার পরে রুহি মুখ তুলে আশে পাশে মুগ্ধকে খুঁজলো! বাট রুহি মুগ্ধকে কোথাও দেখতে পেলো না।রাত ১২ঃ৩০ টার দিকে মুগ্ধ ড্রয়িং রুমে এসে সোফাতে বসলো।রুহি একবার তাকালো!মৌমি রুহিকে মুগ্ধর রুমে গিয়ে রেখে আসলো আর ফ্রেশ হয়ে নিতে বললো।তারপর মৌমি নিচে গিয়ে একটা ট্রে তে মুগ্ধ আর রুহির খাবার ধরিয়ে দিয়ে রুমে পাঠিয়ে দিলো। - মুগ্ধ রুমে এসে দেখে রুহি রুমে নেই!রুহি একে বারে সাওয়ার নিয়ে তারপর বের হয়!একটা লাল কালার থ্রীপিস পড়ছে!চুল বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।রুহি ওয়াশরুমে দরজা খুলে রুমে আসতেই পা পিছলে ধপাস করে পড়ে গেল!মুগ্ধ তখন সোফায় বসে ফোন টিপছিলো!মুগ্ধ রুহির দিকে একবার তাকিয়ে আবার ফোনের দিকে মনোযোগী হলো। রুহি একা একাই উঠলো।মুগ্ধ রুহিকে সোফাতে এসে বসতে বললো!মুগ্ধর কথামত রুহি সোফাতে গিয়ে বসলো!মুগ্ধ রুহিকে খাইয়ে দিচ্ছে আর নিজেও খেয়ে নিলো।খাওয়া-দাওয়া শেষ করে মুগ্ধ এটো প্লেট গুলো নিচে রাখতে গেল! আর রুহিকে বললো বেডের উপর থেকে ফুলের পাপড়ি গুলো সরাতে। - মুগ্ধর রুম সাজানো নেই!শুধু বেডের উপর গোলাপের ফুলের পাপড়ি পড়ে আছে!এজন্য রুহি মুগ্ধর গুষ্ঠী উদ্ধার করতে শুরু করলো!মুগ্ধ রুমে এসে দেখে রুহি খাম্বার মত এখনো দাড়িয়ে আছে!মুগ্ধ দরজা আটকে রুহির দিকে এগোতেই! রুহি যে ফুল না সরিয়ে দাড়িয়ে আছে এটা ওর হুশ হতেই রুহি মুগ্ধকে দেখে দৌড়ে বেডের উপর উঠতেই হুড়মুড় করে খাট ভেঙ্গে নিচে পড়ে গেল।মুগ্ধ আবুলের মত বোঝার চেষ্টা করছে এটা কি হলো?রুহি খাট থেকে পড়ার সাথে সাথে চিৎকুর দিয়ে উঠলো! ওর চিৎকার শুনে বাসার সবাই এসে মুগ্ধ দরজা নক নক শুরু করলো... - মুগ্ধ দরজা খুলে দিতেই সবাই হুড়মুড় করে রুমের মধ্যে ঢুকে পড়লো!মৌমি গিয়ে রুহিকে টেনে তুলতে পারছে না!তাই মুগ্ধ গিয়ে রুহিকে টেনে তুললো।মুগ্ধ লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে! কারন ওর বাবা মায়ের সামনে এভাবে লজ্জায় পড়তে হবে! এটা ওরা ভাবে নি।মুগ্ধর বাবা মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে... মুগ্ধর বাবাঃ আহাম্মক একটা!...(বলে চলে গেল) মুগ্ধর আম্মুঃকি রে খাট ভাংলো কি করে?? মুগ্ধর বাবাঃ মুগ্ধর আম্মু রুমে এসো!!!(বাইরে থেকেই) মৌমির হাজবেন্ড(সবুজ)ঃবাহ্ আমার শালা বাবু এত তাড়া।যে সত্যি সত্যি খাটই ভেঙ্গে ফেলছে।শালাবাবু ছোট একটা মেয়ের উপর একদিনেই এত অত্যারচার করাটাই কিন্তু মোটেও ঠিক না! হা হা মৌমিঃ আমার ঘুম পাচ্ছে আমি গেলাম।(কথাটা বলে চলে গেল) সবুজঃ হা হা হা! শালাবাবু তুমি সত্যি রেকর্ড করে দিলো!তোমার মত হাজবেন্ড ঘরে ঘরে হোক মুগ্ধঃ ভাইয়া প্লিজ! ফাজলামি বাদ দেন।আর এসব কে করলো তাই বলেন।(বিরক্তের সুরে) সবুজঃ আমি তো জানিনা... রাহাতঃ এসব আবির করছে (দরজার কাছে দাড়িয়ে) মুগ্ধঃ ওই হারামিটা কই আগে তাই বল!আজকে ওকে মেরে! আমি উল্টো করে ঝুলাবো।(দাঁতে দাঁত চেপে) আরিয়ানঃ আমাদের রেখে আবির পালিয়েছে। সবুজঃ আচ্ছা এসব এখন বাদ দাও!আপাতত পাশের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো কেমন।এখন অনেক রাত হয়ে গেছে। - সবুজ রা সবাই চলে গেল!মুগ্ধ রুহির কাছে যেতেই দেখলো রুহি মাথা নিচু করে বসে আছে।মুগ্ধ রুহিকে কোলে তুলে নিয়ে তারপর পাশের রুমের দিকে হাটা ধরলো।রুহি মুগ্ধর বুকে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে দিলো!কারণ রুহি সত্যি খুব ভয় পেয়েছে।মুগ্ধ আর কিছু বললো না!ওরা পাশের রুমে ঢুকতেই দেখে রুমটা অনেক সুন্দর করে লাল গোলাপ,রজনীগন্ধা আর লাল অর্কিড ফুল দিয়ে সাজানো!বেডের উপর মুগ্ধ আর রুহির নাম লিখা!পুরো রুমে ক্যান্ডেল আর বেলুন দিয়ে সাজানো।মুগ্ধ আবিরকে এই এভাবেই রুম সাজাতে বলেছিলো বাট মুগ্ধ যখন এসে দেখলো রুম সাজানো নেই তখন ওর রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছিলো! বাট এমন সারপ্রাইজ পাবে মুগ্ধও আশা করে নি।মুগ্ধ আর বুঝতে বাকি নেই আবির ইচ্ছে করছে যাতে রুহি ইচ্ছেও পূরণ হয় আর ওদের আজকের মত পবিএ রাতটাও নিয়ে যাতে কারো মনে আফসোস না থাকে।আর এজন্য প্রতিটা মানুষের জীবনে এইরকম হারামি বন্ধু থাকা দরকার! - রুহি খাট ভেঙে পড়ে গিয়েও ব্যাথা পাইনি কারন মেঝেতে তোষক বিছানো ছিলো।রুম টা এত সুন্দর করে সাজানো দেখে রুহি মুগ্ধর কোল থেকে নেমে রুম টা ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে!রুহির ছলছল চোখের বদলে এখন রুহির মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠেছে।মুগ্ধও মুচকি হেসে রুহিকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে।রুহি কাঁপাকাপি শুরু করে দেয়!রুহি যে কাঁপতে শুরু করছে সেটা মুগ্ধও বুঝতে পারছে।মুগ্ধ রুহিকে ওর দিকে ঘুরালো তারপর দুই হাত রুহির গালে রাখলো! - মুগ্ধ রুহির চোখে চোখ রাখে!রুহি মুগ্ধর চোখের দিকে একবার তাকিয়ে সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নেয়!কারন আজকে মুগ্ধ চোখে এক ধরনের নেশা কাজ করছে।রুহি পেছাতে থাকে আর মুগ্ধ এক পা একপা করে রুহির দিকে এগোতে আছে।রুহি একটা সময় ঠাস করে বেডে পড়ে যায়।মুগ্ধও মুচকি হেসে রুহির দুই হাত বেডের সাথে চেপে ধরে। মুগ্ধ ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি!রুহির আজকে কেন জানি মুগ্ধকে খুব ভয় লাগছে!রুহির গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। মুগ্ধ রুহির ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে যাবে ঠিক তখনই রুহি ভ্য ভ্য করে কেঁদে দিলো। মুগ্ধঃ কি হলো কাদছিস কেন??আমি কি তোকে মেরেছি??(আদুরে কন্ঠে) রুহিঃ প্লিজ সরো! আমার কেমন জানি লাগছে। মুগ্ধঃ কেমন লাগছে?(দুষ্টু হেসে) রুহিঃ তোমাকে এখন আমার কেন জানি খুব ভয় লাগছে!!!!সরো প্লিজ মুগ্ধঃ কেন আমি কি বাঘ নাকি ভাল্লুক যে আমাকে তোর ভয় লাগছে।আর এতদিন তো খুব বলতি আদর লাগবে তাহলে আজকে কেন ভয় লাগছে?? রুহিঃ প্লিজ সরো!আমার হাঁটু কাঁপছে আর কান গরম হয়ে যাচ্ছে। বুকের মধ্যে ঢড়াস ঢড়াস করছে। মুগ্ধঃআমি আছি তো কাঁপাকাপি বন্ধ করে দিবো। রুহিঃ পি.... - মুগ্ধ মুচকি হেসে রুহির ঠোঁটে ঠোঁট রেখে কান্না বন্ধ করে দিল..... তারপর...... তারপর........(বাকিটা ইতিহাস!আর ইতিহাস জানতে চেয়ে লজ্জা দিবেন না) - সকালে ৬ঃ৩০ টা.. রুহি মুগ্ধর বুকে মুখ গুজে শুয়ে আছে!আর মুগ্ধ পরম যত্নে রুহিকে জড়িয়ে ধরে আছে।মুগ্ধ রুহির দিকে তাকিয়ে আছে! সকালে সোনালী রোদ এসে রুহির মুখে পড়ছে! আর নাকে নোজপিন টা চিকচিক করছে।মুগ্ধ মুচকি হেসে রুহির কপালে আদর দিয়ে দেয়।রুহিকে নড়তে দেখে মুগ্ধ সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান করতে থাকে... - রুহি পিটপিট করে চোখ খুলে আর দেখে রুহি মুগ্ধর বাহুডোরে বন্দী!রাতের কথা মনে হতে রুহি লজ্জা লাল,নীল, বেগুনী হতে শুরু করে! রুহি মুচকি হেসে মুগ্ধর চুলে হাত বুলিয়ে দিলো,দাড়িতে আঁকিবুঁকি করলো,মুগ্ধর কপালে,গালে,রুহি ঠোঁট ছোয়ালো।তারপর হালকা করে রুহি মুগ্ধর থুতনীতে কামড় দিলো।যদিও কামড় আস্তে দিতে গিয়ে একটু জোরেই দিয়ে ফেলছে!মুগ্ধ সাথে সাথে চোখ খুলে.. - মুগ্ধঃ আদর লাগবে এটা মুখে বললেই হয়!সকাল বেলা এমন ভাবে কামড়াকামড়ি করছিস কেন??(দুষ্টু হেসে) রুহিঃ না মানে..ইয়ে আসলে মুগ্ধঃতুই আসলেই একটা লুচু মেয়ে!যখনই দেখলি নিষ্পাপ একটা ছেলে ঘুমাচ্ছে তখনই... রুহিঃ কে নিষ্পাপ??? (চোখ বড় বড় করে) মুগ্ধঃ কে আবার আমি??(ভাব নিয়ে) রুহিঃ ওহহ!মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। মুগ্ধঃনে শুরু কর.. রুহিঃ কি শুরু করবো?(ভ্রু কুচকে) মুগ্ধঃ যখন ঘুমিয়ে ছিলাম তখন তো কামড়াকামড়ি করছিলি!এখন জেগে আছি নে আবার সেই কাজ শুরু কর।দেখি তুই কত কামড়াতে পারিস... রুহিঃ তুমি কি জানো!বিয়ের আগের তুমি কতটা ভদ্র ছিলে! বাট বিয়ের পর কতটা খাটাশ হয়ে গেছো। মুগ্ধঃ শোন বিয়ের পর কোন ছেলেই ভদ্র থাকে না বুঝলি!আর যে ছেলে বিয়ের পরও ভদ্র থাকবে! তাকে আর বাবা ডাক আর শুনতে হবে না।আর বেশি ভদ্র হলে আরেকটা সমস্যা আছে?? রুহিঃকি সমস্যা শুনি?? মুগ্ধঃ বেশি ভদ্র হলে বউ থাকবেনা।পাখি অন্য ডালে গিয়ে বাসা বাঁধবে ..(দুষ্টু হেসে) রুহিঃকেন বউ থাকবে না কেন??(ভ্রু কুচতে) মুগ্ধঃসময় হোক সব বুঝে যাবি.. - তারপর মুগ্ধ রুহিকে ওর ঠোঁটেদ দেখিয়ে ইশারা করে আদর দেওয়ার জন্য! রুহি মুগ্ধর বুকের উপর উঠে আর মুচকি হেসে মুগ্ধকে চোখ বন্ধ করতে বলে।মুগ্ধ রুহির কথামত চোখ বন্ধ করে।আর রুহি সুযোগ বুঝে দৌড় দেয় মুগ্ধ চোখ খুলে দেখে রুহি নেই!তারপর আর কি আপসোস করতে করতে মুগ্ধ আবার ঘুমিয়ে পড়ে... - রুহি দৌড় যাওয়ার সময় ইভার সাথে ধাক্কা লাগে আর দুজনেই পড়ে যায়!ইভার আম্মু এসে ইভাকে টেনে তোলে আর রুহির একা একা উঠে।ইভার আম্মু রুহিকে বলে... ইভার আম্মুঃ চোখের মাথা খেয়েছো নাকি??এভাবে দৌড়ে আসছো কেন? রুহিঃচোখের মাথা খেতে কেমন টেস্ট! আপনি যদি টেস্ট টা বলতেন,তাহলে আমিও খেয়ে দেখতাম। ইভার আম্মুঃআমি জানবো কি করে?? রুহিঃ জানেন না তো খাওয়ার কথা বললেন কেন?? ইভার আম্মুঃ এই মেয়ে তোমার লজ্জা শরম বলতে কিছু নেই নাকি!মুখে মুখে তর্ক করছো কেন??আর বড় কথা বিয়ের পরেরদিন নতুন বউ হয়ে এভাবে দৌড়ে বেড়াচ্ছো.. ইভাঃ ওর আবার লজ্জা! আম্মু তুমি এত ফানি কথা বলো না।(তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে) ইভার আম্মুঃ ছিঃ!ছিঃ! কেমন বেহায়া মেয়ে।ফরজ গোসলও তো দাও নি দেখছি!আর এই ভাবেই রুম থেকে ড্যাং ড্যাং করতে বাইরে যাচ্ছো... রুহিঃ ফরজ গোসল দিয়েছি কি না সেটা কি আপনাকে বলে দিতে হবে নাকি?আর আগে যদি জানতাম যে আমার ফরজ গোসল দেওয়া নিয়ে আপনার এত আগ্রহ তাহলে আপনাকে আমার ওয়াশরুমে নিয়ে যেতাম।তাহলে সরাসরি দেখে নিতেন!আফটার অল খালা শাশুড়ি আপনি আমার!আপনার ইচ্ছে কি আমি অপূর্ণ রাখতে পারি... ইভার আম্মুঃ তুমি আসলেই বেহায়া,বেশরম একটা মেয়ে! (কথাটা বলে চলে গেল) রুহিঃ ধন্যবাদ.. ইভাঃ সে আর বলতে!জানো তো রুহি আমার মনে হয় তুমি মুগ্ধকে শরীর দেখিয়ে পাগল করছে!আর তা না হলে মুগ্ধ মত ছেলে তোমাকে বিয়ে করবে কেন বলো?? রুহিঃ তুমিও বুঝি ছেলেদের শরীর দেখিয়ে বেড়াও।আর আমার মত এভাবেই বুঝি ছেলেদের পাগল করো তাই না। ইভাঃ মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ... রুহিঃ তুমি বললে দোষ নাই!আমি বললে ইংরেজি ঝাড়ছো।তোমার আর দোষ কিসের বলো! যে যেমন মন-মানসিকতা নিয়ে চলে! তার চিন্তা ধারা তো তেমনই হবে। ইভাঃ মুগ্ধকে আমি ভালবাসি!আমি দেখবো কতদিন মুগ্ধকে আটকে রাখতে পারো। রুহিঃহুমম অবশ্যই ট্রাই করে দেখো! এই ইভা জানো তো কালকে রাতে না মুগ্ধ আমাকে অনেক আদর করছে।(ইভাকে রাগানোর জন্য) ইভাঃআমি মুগ্ধকে ছিনিয়ে নিবোই... রুহিঃ ওকে!আপাতত তুমি যেহেতু এখন ওকে পাও নি! তাই তোমার জন্য দশ ড্রাম সমবেদনা। আর হ্যা কালকে রাতেই ফরজ গোসলটা দিয়েছিলাম এজন্য সকালে দেয় নি।কারন এসব লোক দেখানো কাজ আমার মোটেও পছন্দ না।রুমের ভেতরে কি করবো সেটা বাইরের লোকদের জানানো শোভনীয় না! তাই না... (ফিসফিস করে) - তারপর রুহি দুষ্টু হাসি নিয়ে নিচে গেল!আর ইভা রাগে গজগজ করতে করতে রুমে চলে গেল।রুহি নিচে মুগ্ধর আম্মুর সাথে দেখা করলো!তারপর রান্নাঘরে গিয়ে মুগ্ধর আম্মু সাথে গল্প জুড়ে দিলো!মুগ্ধর আম্মু রুহিকে খুব ভালোবাসে!মুগ্ধর আম্মু বললো... মুগ্ধর আম্মুঃ এই রুহি মা যা তোর বাপি আর আম্মুর সাথে দেখা করে আয়.. ইভার আম্মুঃ কেন বড় আপা?রুহি এখন ওই বাড়িতে যাবে কেন?? মুগ্ধর আম্মুঃরুহির বাবার কলিজা রুহি!ওদের বাসাটা ফাঁকা হয়ে গেছে!আর আমার বাসায় রুহিকে এত নিয়ম কানুন মানতে হবে না! কারন আমি ছেলের বউ হিসেবে ওকে নিয়ে আসিনি।রুহিকে আমি বাসায় এনেছি আমার মেয়ে হিসেবে রাখবো তাই! আর আমার ছেলের প্রাণ ভোমরা রুহি!আমার ছেলে যেটাতে ভাল থাকবে আমি মা হয়ে আমার ছেলের ভালোটাই আমি আগে দেখবো।আর ওরা ভাল থাকলে আমরাও ভালো থাকবো... ইভার আম্মুঃ আপা এত বার বাড়তে দিও না পরে দেখবে এর জন্য আপসোস না করতে হবে। মুগ্ধর আম্মুঃএই রুহি এই খাবার গুলো তোর আম্মুকে দিবি !আর ওদের সাথে দেখা করেই চলে আসবি কেমন।(রুহি হাতে খাবারের বক্স ধরিয়ে দিয়ে) রুহিঃ হুমমম - ইভার আম্মু মুগ্ধর আম্মুকে রুহির নামে হাজিবাজি বলছে!বাট মুগ্ধর আম্মু সেগুলো শুনেও না শোনার ভান করছে!আর এটা সেটা বলে কথা কাটিয়ে অন্য কথা বলতে শুরু করছে!রুহি ওদের বাসায় গিয়ে ওর বাপি আর আম্মুকে জড়িয়ে ধরলো।রুহি ওর বাপি আর আম্মু সাথে কথা বলে নিজের রুমে গেল।রুহি আম্মু হুট করে এসে একটা নীল শাড়ি ধরিয়ে দিলো কারন বিয়ের পরের দিন থ্রীপিস পড়ে থাকাটা বেমানান লাগছে!রুহি প্রথমে রাজি হচ্ছিল না পরে ওর আম্মু ওকে বোঝানোর পর রুহি শাড়ি পড়তে রাজি হলো।রুহি তো শাড়ি পড়তে পারে না তাই রুহির আম্মু রুহিকে শাড়ি পড়িয়ে দিলো.... To be continue...
#প্যারাময়_লাভ❤❤ #📖 গল্প 📖 #part_26 রুহিঃ আজকে না আমার গায়ে হলুদ!আমাকে ভালো করে সাবার মেখে গোসল দিতে হবে।আর এমন ভাবে গোসল দিতে হবে যে চকচক করে।আম্মু আর ৫মিঃ সময় দাও হয়ে গেছে..... - মুগ্ধ রুহির কথা হাবলার শুনলো!রুহি ওয়াশরুমে দরজা খুলতেই দেখে মুগ্ধ দাড়িয়ে। রুহি প্রথমে অবাক হয়ে তাকায় তারপর গটগট করে হেটে আগে রুমের দরজা আটকে দেয়।তারপর তাড়াহুড়ো করে ড্রেস নিয়ে দৌড় দিতে যাবে তখনই মুগ্ধ সামনে দুম করে পড়ে গেল!মুগ্ধ রুহিকে তোলা বাদ দিয়ে হা করে তাকিয়ে আছে।মুগ্ধ রুহির দিকে তাকিয়ে দেখে অরেন্জ কালার একটা টাওয়াল দিয়ে চুল গুলো পেচানো আর হালকা গোলাপি কালার টাওয়াল রুহির শরীরে পেচানো।মুগ্ধ রুহির দিক থেকে চোখ সরিয়ে নেয় কারন শেষ পযায়ে এসে কোন ভুল করতে চাই না! - রুহিঃইসস আমি উঠতে পারছি না আমাকে টেনে না তুলে খাম্বারমত দাড়িয়ে আছো কেন?? মুগ্ধঃ....(টেনে তুলো রুহিকে) রুহিঃ যাক বাবা টাওয়াল টাইট করে বেঁধেছিলাম বলে এই যাত্তায় বাঁচা গেল। - মুগ্ধ কিছু বললো না!কারন রুহি কিছু বলা আর কলা গাছের সাথে বকবক করা দুটোই সমান। রুহি মুগ্ধর হাত থেকে শপিং ব্যাগটা নিয়ে দেখে ওর ব্লাউজ আরো কিছু ড্রেস! এগুলো সেদিন টেইলার্সে বানাতে দিয়ে এসেছিলো সাথে মেহেদীও আছে...রুহি মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে বললো! - রুহিঃ আজকে তোমার মনের মত করে আমাকে সাজিয়ে দিয়ে তারপর যাবে!আমি তোমার হাতেই আজকে সাজতে চাই।চলে যেও না কেমন!যদি যাও তো টাওয়াল পড়েই আমি আজকে হলুদ দিতে বসবো মনে রেখ।ওয়েট আমি আসছি... মুগ্ধঃ..... - রুহি ওয়াশরুমে চলে গেল!মুগ্ধর মনে হচ্ছে সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে আর মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে। রুহি ওয়াশরুমে থেকে লাল রংয়ের ব্লাউজ পড়ে টাওয়াল পেচিয়ে মুগ্ধর সামনে এসে দাড়ায়।মুগ্ধ এই প্রথম রুহির দিকে নেশাভরা দৃষ্টিতে তাকায়। ফর্সা শরীরে লাল রং খুব বেশি ভালো দেখায়! তারপরে রুহির উন্মুক্ত পেট দেখে মুগ্ধর কেমন যেন পাগল পাগল লাগছে নিজেকে!মুগ্ধ সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আগে মেহেদীর টিউব হাতে নেয় আর তারপর রুহির থেকে টাওয়াল সরাতেই দেখে রুহি পেটিকোটের বদলে থ্রীকোয়াটার পড়ে আছে।মুগ্ধর হাসি পাচ্ছে খুব তারপরেও হাসি চাপিয়ে। রুহির দিকে ভ্রু কুচকে তাকালো!রুহি তখন দাঁত কেলিয়ে বললো... রুহিঃ আমি থ্রিকোয়াটারের উপরেই শাড়ি পরবো।তাছাড়া আমার শাড়ি খুলে যাবে আমি সিওর।আর থ্রিকোয়াটারের উপরে পড়লে খুলবে না...(বিশ্বজয় করা হাসি দিয়ে) - মুগ্ধ আর কিছু বললো না মেহেদীর টিউব হাতে নিয়ে রুহির সামনে হাটু গেড়ে বসে পড়লো।রুহি কিছু বলতে যাবে তার আগেই মুগ্ধ ইশারায় রুহিকে কোন কথা বলতে না করলো!মুগ্ধ একটু রুহির দিকে তাকিয়ে রুহির নাভিতে মেহেদী ধরতেই রুহি দুইপা পিছিয়ে গেল!মুগ্ধ রুহির পেছনে সরে যাওয়া দেখে মুগ্ধ রুহিকে ধাক্কা দিয়ে বেডে ফেলে দিলো।মুগ্ধর মুখে দুষ্টু হাসি!রুহি অবাক হয়ে মুগ্ধর দিকে আছে শুধু... মুগ্ধ রুহির কাছে এসে রুহির দিকে তাকিয়ে বললো। মুগ্ধঃভালবাসার চিহ্ন দিয়ে দিচ্ছি।আমার কাজে একদম বাধা দিবি না বলে দিলাম। - মুগ্ধ রুহির নাভিতে ওর নাম বার বার লিখছে আর এমন ভাবে নামটা লিখছে পুরোটা লাভ এর মত দেখাচ্ছে। তারপর মুগ্ধ ফু দিতে থাকে যাতে মেহেদিটা তারাতারি শুকিয়ে যায়।এর মধ্যে রুহির আম্মু এসে রুহিকে জিজ্ঞাসা করলো মুগ্ধ চলে গেছে কি না??রুহি একবার মুগ্ধর দিকে তাকালো! তারপর বললো মুগ্ধ চলে গেছে।আর রুহি ওর আম্মু কে বললো রুহি একাই সাজবে কাউকে পাঠানোর দরকার নাই।রুহির আম্মু চলে গেল।মুগ্ধ রুহির দিকে তাকিয়ে একটা তেডি স্মাইল দিলো। - তারপর মেহেদী শুকিয়ে গেলে মেহেদী ধুয়ে দেখে অনেক সুন্দর রং হয়েছে! আর মুগ্ধর নামটা লিখার স্টাইল টা দারুন ছিলো যার কারনে দেখতে একটু বেশিই ভালো লাগছে।রুহির এখন কেন জানি খুব লজ্জা লাগছে।মুগ্ধ রুহির লজ্জা মাখা মুখ দেখে মুচকি হাসে আর রুহির কপালে একটা আদর দেয়। - মুগ্ধ কথা অনুযায়ী রুহি থ্রীকোয়াটারের উপরে পেটিকোট পড়ে।মুগ্ধ শাড়িটা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে ভাবছে কি করে শুরু করবে।মুগ্ধ রুহির কোমরে শাড়ি গুজতেই রুহি লাফ দিয়ে উঠে!তারপর মুগ্ধ শাড়িটা কি করবে বুঝতে পারছে না!তাই ফোন বের করে ইউটিউবে দেখে দেখে রুহিকে শাড়ি পড়াতে থাকে!মুগ্ধ মনোযোগ দিয়ে শাড়ি পড়াচ্ছে আর রুহি মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে আছে।জামদানি হলুদ শাড়িটা রুহির ফর্সা শরীরে দারুন মানিয়েছে।শাড়ি পড়ানো হয়ে গেছে মুগ্ধ দেখে রুহি চুল ভেজা!মুগ্ধ রুহিকে ড্রেসিং টেবিলের সামনের টুল রুহিকে বসিয়ে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাতে থাকে।আর রুহি আয়নাতে মুগ্ধকে দেখতে থাকে!.. - এবার মুগ্ধ কনফিউজড হয়ে যায় রুহির সাজগোজের জিনিস দেখে।কোনটা দিয়ে কি করে সাজতে হয় সেটা মুগ্ধর জানা নেই।!মুগ্ধ ওর হাতে আইলানা,মাসকারা,কাজল,আইলেস,আই স্যাডো, নিয়ে ভাবতে থাকে এগুলো দিয়ে আসলে কি করে?রুহির মুগ্ধকে দেখিয়ে দেয় কোনটা কি কাজে লাগে!মুগ্ধ আইলেস,আইস্যাডো,রেখে দেয়।মুগ্ধ রুহির মুখে হালকা করে ফেস পাউডার দিয়ে দেয়!তারপর রুহির চোখে টানা করে আইলানা দিয়ে দেয়।তারপর কাজল দেয় খুব যত্ন করে।তারপর লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁট হালকা করে আঁকানোর পর লাল লিপস্টিক দেয়! তাও হালকা করে।আর মুগ্ধর ভাষ্যমতে মতে হালকা লিপস্টিকে নাকি রুহিকে ভালো দেখায়.. - তারপর রুহির চুলের মাঝখানে একটু সিথি করে তারপর অল্প একটু চুল ফুলিয়ে ক্লিপ আটকে নেয় আর সিথি করার পর যে চুল গুলো সামনে থাকে ওগুলোকে পেচিয়ে ক্লিপ আটকায়!তারপর রুহির চুল গুলো বেণী করে। রুহি মুগ্ধকে দেখিয়ে দিচ্ছে আর মুগ্ধ সেই অনুযায়ী করছে।তারপর মুগ্ধ রুহিকে কাঁচা ফুলের গয়না পড়ানো শুরু করে!গাদা আর লাল অর্কিড ফুল দিয়ে বানানো ফুলের গয়না!রুহির কপালে ঠিক মাঝখানে লাল অর্কিড আর চারপাশে গাঁদা ফুল। মুগ্ধ প্রথমে রুহির কপালে ফুলের গয়না পড়ায় তারপর ক্লিপ দিয়ে আটকায় তারপর দুল পড়ায় তারপর গলায় মালা।আর আর দুই হাতেও ফুলের গয়না পড়ায়। তারপর একটা করে গাদা ফুল নিয়ে রুহির চুলে বেণীর মাঝে একটা করে দেয় আর ফুল গুলো কালো চিকন ক্লিপ দিয়ে আটকানো হয়।চুলের বেণীর মাঝে চুল আটকানোর পর বেণীটা সামনে একপাশে এনে রাখে।তারপর মুগ্ধ বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে আরো একটা গয়না বাকি আছে! মুগ্ধ ওই মালাটা হাতে নিয়ে রুহি দাঁড় করাই তারপর ফুল দিয়ে বানানো কোমর বন্ধণীটাও রুহি পড়িয়ে দেয়। - এখন রুহির সাজ কমপ্লিট!এককথায় হলুদ পরী দেখাচ্ছে আর হালকা সাজে রুহি মানায়।চোখে টানা করে কাজল আর আইলানা দেওয়ার জন্য চোখ দুটো আরো মায়াবী মনে হচ্ছে.... - রুহি সাজ কমপ্লিট করে ! আর মুগ্ধ দুই টা পিছিয়ে রুহির দিকে তাকিয়ে দেখে কাঁচা ফুলের সাজে অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে। মুগ্ধ রুহির দিকে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ নয়নে!মুগ্ধ রুহির দিকে এগিয়ে আসে তারপর একটা লাল টিপ পড়িয়ে দেয়।মুগ্ধ রুহিকে হালকা করে জড়িয়ে ধরে!রুহিও আয়নাতে নিজেকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে! কারন মুগ্ধ যে ওকে এত সুন্দর করে সাজাতে পারবে সেটা রুহিও কল্পনা করে নি।আর কোন ছেলে যে এত সুন্দর করে আইলানা আর কাজল দিতে সেটা মুগ্ধকে না দেখলে জানা হতো না। - ওইদিকে মুগ্ধ বাসার লোক মুগ্ধকে খুঁজছে বাট কোথাও মুগ্ধ নেই!ফোন করলেও মুগ্ধ কল রিসিভ করছে না।রুহির বেডে উপর মুগ্ধ ফোন সাইলেন্ট মুডে পড়ে আছে।রাহাত,আরিয়ান,আর আবির মুগ্ধ রুমে বসে মুগ্ধর জন্য ওয়েট করছে। রাহাতঃ আচ্ছা মুগ্ধ কোথাও পালিয়ে গেল না তো.. আরিয়ানঃ দুজন দুজনকে ভালবেসে বিয়ে করছে তাহলে পাঠাবে কোন সুখে.. আবিরঃ ডাল মে কুচ আলু ভর্তা হ্যা!আচ্ছা মুগ্ধ যদি পালিয়েও যায় মুগ্ধর বাবা আমাদের ঠ্যাঙ্গাবে না তো। রাহাতঃ আচ্ছা আবির তোর ভুল ভাল না বকলে শান্তি হয় না তাই না।ভাল চিন্তা কি তোর মাথায় আসে না?? আরিয়ানঃ আর একটু পর অনুষ্ঠান শুরু হবে তাহলে ভাই গেল কোথায়??? আবিরঃ আমার মন বলছে মুগ্ধ রুহির কাছেই গেছে! রাহাতঃ এখন তো রুহি সাজগোজ করছে মে বি!জানিস না মেয়েরা বর ছাড়তেও রাজি বাট সাজ ছাড়তে রাজি না।আর রুহি এখন একা পাওয়ার কথাও না... আরিয়ানঃ রাহাত মুখে লাগাম দাও ভাই! কারন বিয়ে বাড়িতে ছেলেদের থেকে মেয়েদের সংখ্যা বেশি! যদি কোন মেয়ে ফাঁক ফোকর দিয়ে এসব কথা শুনতে পাই তাহলে! আমাদের মেরে চোখ মুখে আলু তুলে দিবে। রাহাতঃহা হা হা! তা ঠিক বলছো আবিরঃ বিয়ে বাড়ি যা খেতে দিবে তাই লাভ,,,,আলু,পটল বা ঝাড়ুর বারি। যা দিবে দুম করে স্বাদরে গ্রহন করবো।নো সমস্যা..... - ওইদিকে.... মুগ্ধ মুচকি হেসে বলে... মুগ্ধঃ আমার বউটা যে এত সুন্দর সেটা এমন সাজে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না। (রুহির মাথায় আঁচল তুলে ঘোমটা দিয়ে) রুহিঃ.... (তুমি ভালবাসা আর পরম যত্নে সাজিয়ে দিয়েছো! এজন্য আমাকে হয়তো সুন্দর দেখাচ্ছে। আমি জানি তোমার মনের মত করে সাজলে সেটা কখনোই অসুন্দর হবে না।মনে মনে...) - তারপর মুগ্ধ মুচকি হেসে রুহির কপালে আদর দিয়ে দেয়!তারপর মুগ্ধ বারান্দায় দিয়ে চলে যায়।কারন এখন দুইজনকে এক রুমে দেখলে অনেকেই অনেক কিছু ভাবতে পারে।মুগ্ধ চলে যাওয়ার পর রুহি ওর রুমের দরজা খুলে দিয়ে বেডে বসে আর ওমনি রুহির আম্মু রুহির রুমে আসে।রুহির আম্মু রুহির দিকে তাকায় আর এগিয়ে এসে আগে রুহির নখ কেটে দেয় আর একটু কাজলের কালি নিয়ে কানের পেছনে লাগায় দেয় যাতে কারো নজর না লাগে!রুহির আম্মু রুহির দিকে তাকিয়ে বলে.... রুহির আম্মুঃপাগলটাকে মানা করলি না কেন? বারান্দা দিয়ে যাওয়ার কি দরকার শুনি?পড়ে গিয়ে যদি পায়ে ব্যাথা পায়.... - To be continue.....
#প্যারাময়_লাভ❤❤ #📖 গল্প 📖 #part_23 পরেরদিন সকালে মুগ্ধ আর রুহিকে পাঠানো হয় ওদের বিয়ে শপিং করতে!আর ওখানে গিয়ে রুহি আরেক কান্ড বাধিয়ে বসে থাকে!মুগ্ধ শুধু পারছে রুহিকে তুলে আছাড় দিতে!রুহি ওর কাজ করে যাচ্ছে আর মুগ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে রুহির দিকে তাকিয়ে আছে.... - মুগ্ধ আর রুহি শপিংমলে এসে হেটে হেটে ভেতরে যাচ্ছে! আর রুহি মুগ্ধর হাত ধরে তিরিং বিরিং করে লাফাতে লাফাতে যাচ্ছে কারন রুহির বিয়ে বলে কথা এজন্য রুহির খুশির অন্ত নেই!রুহি গল্প করতে করতে পাশে তাকিয়ে দেখে অনেক গুলো পুতুলকে জামা পড়িয়ে রাখা আছে!হাস্যকর কথা হলো রুহি ছোট বেলা থেকেই এই পুতুল গুলোকে কেন জানি খুব ভয় পায়!রুহি হুট করে পুতুল গুলোর দিকে চোখ পড়তেই গগন ফাটানো একটা চিৎকুর দিয়ে এক লাফে মুগ্ধর কোলে উঠে পড়ে।হুট করে এমন করাতে মুগ্ধও আবুল সেজে হা করে রুহির দিকে তাকিয়ে আছে। - মুগ্ধও তখন রুহির চিৎকুরে ভয় পেয়ে যায়!আশে পাশে লোক দাড়িয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।মুগ্ধ রুহির দিকে চোখ বড় বড় করে তাকায়!মুগ্ধ যদি পারতো তাহলে এখনি রুহি গিলে খেয়ে ফেলতো।রুহি মুগ্ধর তাকানো দেখে সুড়সুড় করে কোল থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করে আর এমন ভাব করে যেন কিছুই হয় নি!তারপর ওরা একটা শাড়ির দোকানে যায়।মুগ্ধ পাশে বসে আছে আর রুহি শাড়ি দেখছে! এই পযন্ত রুহি ২২ টা শাড়ি দেখছে বাট একটাও চুজ করে পারে নি।মুগ্ধ বুঝে গেছে যা করার ওর নিজেরই করতে হবে তা না হলে ৬ মাসেও রুহির শপিং শেষ হবে কি না সন্দেহ!দোকানদার বেচারা রুহির দিকে তাকিয়ে বলছে... - দোকানদারঃম্যম আপনি তো দেখেই যাচ্ছেন এবার একটা তো চয়েজ করুন!আমার দোকানের এগুলো বেস্ট শাড়ি... রুহিঃ পছন্দ না হলে কি করবো?? বকবক কম হবে! আর বিশ টা শাড়ি দেখান।আর বিশটা দেখলে একটা পছন্দ হবে সিওর.. দোকানদারঃআপনি কি কালারের মধ্যে নিতে চাচ্ছেন বলুন তো...আমি ওই কালারের শাড়ি দেখায় আপনাকে। রুহিঃ পান্তা ভাতের মধ্যে গরুর মাংস ঢেলে দিয়ে! তার মধ্যে শসার পেষ্ট দিতে হবে।তারপর হলুদ ছাড়া পাস্তা মিশাতে হবে! তারপর হালকা পিংক কালার মেশাতে হবে!এবার একটু বাঙ্গি কালার একটু লাল আর একটু হালকা নীল কালার মেশাতে হবে।তারপর আমার রুমে যে বেডশীট আছে ওমন কালার টা মেশানো পর যে কালার আসে আমি ওই কালারের শাড়ি চাচ্ছি.... (অনেক খুশি হয়ে) - মুগ্ধ, সহ দোকানের উপস্থিত সবাই রুহির দিকে হা করে তাকিয়ে আছে!আর দোকানদার হয়তো ভাবছে এই পাগলিটা কোন পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে ভুল করে মনে হয় এখানে ঢুকে পড়ছে!মুগ্ধ রুহি দিকে না তাকিয়ে রুহির বাপি_আম্মু, মুগ্ধর বাবা-আম্মু, ইভার জন্য ড্রেস পছন্দ করে প্যাক করতে বললো!তারপর রুহির জন্য চারটা শাড়ি কিনলো একটা কালো,একটা ব্লু,একটা মেরুন আর একটা গোলাপি....মুগ্ধ নিজের পছন্দ মত রুহির শাড়ি চয়েজ করছে!মুগ্ধ রুহির দিকে না তাকিয়ে দোকানদার বলছে ওর আর যা লাগবে! মুগ্ধর কথা অনুযায়ী তেমন ড্রেস বের করে দিচ্ছে! আর মুগ্ধ পছন্দ করে বলছে আর দোকানদার মুগ্ধর কথা অনুয়ায়ী সেগুলো প্যাক করছে! - মুগ্ধ ওই দোকানের বিল পেমেন্ট করে শপিং ব্যাগগুলো গাড়িতে রেখে গাড়ি লকটা করে আসলো।তারপর রুহিকে নিয়ে মুগ্ধর কিছু ড্রেস,কিনে নিলো।গয়না কেনার দায়িত্ব মুগ্ধর আম্মুর তাই গয়না বাদে যতকিছু লাগে রুহি মুগ্ধকে দিয়ে সব কিনে নিয়েছে।মুগ্ধ আর রুহির বিয়ের আর রিসিপশনের ড্রেস মুগ্ধ আগের অর্ডার করে রাখছে... - মুগ্ধর জানা ছিলো না মেয়েদের এত কিছু লাগে। রুহির আজকে মুগ্ধ নাকানিচুবানি খাইয়েছে ছেড়েছে!সাজগোজ এর জিনিস থেকে শুরু করে পায়ের জুতা পযন্ত রুহি মুগ্ধর পছন্দ মত কিনেছে!মুগ্ধর জানা মতে রুহি সাজগোজ খুব একটা করে না!তারপরেও এত কিছু কেনার কি দরকার মুগ্ধর জানা নেই।রুহি তো বেশ খুশি কারন যা যা বলছে সব মুগ্ধ ওকে কিনে দিয়েছে!মুগ্ধ বেচারা রুহির দিকে তাকিয়ে বলছে... মুগ্ধঃ রুহি আমার মাথা ঘুরছে!চল বাকিটা শপিং পরে এসে করবো।এখন চল বাসায় যায়! রুহিঃ আর কিছু কেনার বাকি নেয় তো!ফুলের অর্ডার দিবো আর ব্লাউজের মাপ দিয়ে বাসায় যাবো। মুগ্ধঃ আজকে না দিলে কি হবে?? রুহিঃ না না আজকেই দিতে হবে। মুগ্ধঃ উফফ! তোকে নিয়ে আর পারি না।সব কাজ একসাথে করতে হবে। রুহিঃ যেহেতু এই কাজটা আমাকে করতেই হবে তাহলে ফেলে রেখে কি হবে শুনি..?? মুগ্ধঃচল! চল... - মুগ্ধ আরো এক গাদা শপিং ব্যাগ এনে গাড়ির পেছনের সিটের উপর পালা দেয়!তারপর গাড়ি স্টাট করে!একটা টেইলার্সে এসে রুহি ওর কাপড় গুলো দেয় আর তারাতারি বানাতে বলে।দোকানদার রুহিকে মাপ দিতে বললে রুহি বলে কোন জামার মাপ তো আনেনি !এখন যেন নতুন করে মাপ টা নিয়ে নেয়।একটা ছেলে এসে যখনি রুহি শরীরে ফিতা ধরতে যাবে মুগ্ধ সাথে সাথে ছেলেটির হাত ধরে ফেলে!তারপর মুগ্ধ ওই ছেলেটিকে ডেকে বলে... - মুগ্ধঃএখানে কোন মেয়ে নেই??তুমি কেন ওর মাপ নিতে আসলে... দোকানদারঃ মেয়ে আছে বাট এখন নেই ??আমি তো সবার মাপ নেই আর আমি তো আছি সমস্যা নেই ?? মুগ্ধঃ আপনার সমস্যা না থাকলেও আমার আছে..?? দোকানদারঃ.... মুগ্ধঃআপনি ওই পর্দার আড়ালে গিয়ে দাড়ান আমি আপনাকে মাপ লিখে দিচ্ছি। রুহিঃ এসবের মানে কি.??? মুগ্ধঃসব মানে তোকে বোঝাতে পারবো না।চুপ থাক. - তারপর মুগ্ধ নিজে পর্দা টেনে দেয়!তারপর ফিতা দিয়ে রুহির মাপ নিচেছ আর সেটা লিখছে।রুহি অবাক হয়ে মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে আছে!মুগ্ধ রুহিকে কিছু জিজ্ঞাসা করছে না বরং নিজের মনমত করে মাপ নিয়ে সেই মাপটা দোকানদারের হাত ধরিয়ে দেয়।আর কালকেই লাগবে বলে মুগ্ধ তারাতারি ওগুলো দিতে বলে।মুগ্ধ রুহির হাত ধরে নিয়ে ওরা ওখান থেকে বেরিয়ে যায়...মুগ্ধ গাড়ি ড্রাইভ করছে আর বলছে। - মুগ্ধঃ এবার থেকে মেয়ে টেইলার্সে গিয়ে ড্রেস বানাতে দিবি!এমন ভুল যেন না হয়... রুহিঃআমি তো জামার মাপ দিয়ে দেয় বাট আজকে তো কোন মাপ অনুযায়ী ড্রেস আনতে ভুলো গেছি।তাই আমার থেকে মাপ নিতে বলছি.. মুগ্ধঃএর আগে এটা হয়তো খেয়াল করি নি বাট এবার থেকে খুব এই ভুল যেন না হয়! রুহিঃ কেন কি এমন হবে ন করে মাপ নিলে শুনি??একটু বেশি বুঝো কেন তুমি??সবাই তো এভাবে মাপ দেয়। - মুগ্ধ রুহির কথা শুনে সাথে সাথে গাড়ি ব্রেক করে। আর রাগী চোখে রুহির দিকে তাকায়।মুগ্ধ রুহি গাল চেপে ধরে বলে... মুগ্ধঃ আমার বউকে আমি কাউকে টার্চ করতে দিবো না।আর আমি তো নিজেই তোকে এমন ভাবে টার্চ করিনি আর ওই ছেলেটাকে টার্চ করতে দিবো ভাবলি কি করে??? রুহিঃ.... মুগ্ধঃ তোকে জড়িয়ে ধরছি! বাট এমন ভাবে তোকে টার্চ করিনি যে তোর বুকের আর কোমরের মাপ আমি জানতে পারবো।আমি তো তোকে কোনদিন খারাপ ভাবেও তোকে টার্চ কথা চিন্তাও করিনি! তাহলে অন্য কাউকে তোর শরীরে মাপ নিতে দিবো ভাবলি কি করে??? রুহিঃ সবাই তো এই ভাবেই মাপ দেয়! মুগ্ধঃকে কি করে আমি জানিও না আর বুঝিও না!মুগ্ধ মুগ্ধর মত চলতে পছন্দ করে।আমি এসব পছন্দ করি না...মাইন্ড ইট রুহিঃহুমমম মুগ্ধঃ আসলে তোরা মেয়েরা বড্ড বোকা জানিস তো! রুহিঃ মানে?? মুগ্ধঃ কিছু না! - তারপর দুই রেস্টুরেন্ট খেয়ে একেবারে বাসায় ফেরে!রুহি ওর বাসায় চলে যায় আর মুগ্ধ দারোয়ানকে গাড়ির চাবি দিয়ে শপিং ব্যাগ গুলো ড্রয়িং রুমে রাখতে বলে আর নিজের রুমে চলে যায়।মুগ্ধ ওর রুমে গিয়ে ধপাস করে বেড়ে শুয়ে পড়ে ঠিক তখনই ওর ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে!মুগ্ধ ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে অফিসের স্যার ওকে ফোন দিয়েছে... - মুগ্ধঃআসসালামু আলাইকুম স্যার!কেমন আছেন?? স্যারঃওয়ালাইকুম সালাম!আমি ভালো আছি তা তুমি কেমন আছো?? মুগ্ধঃ আলহামদুলিল্লাহ স্যার আমিও ভালো আছি। স্যারঃ তোমার তো কালকে গায়ে হলুদ আর পরশু বিয়ে তাই না মুগ্ধঃ জি স্যার! স্যারঃহা হা হা! বিয়ের আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে চলবে!আজকে রফিক আমাকে জানালো তুমি নাকি দুই দিনের ছুটি নিয়েছো অসুস্থ তাই... মুগ্ধঃ জি স্যার.. স্যারঃএখন তুমি অসুস্থ তার উপরে আবার তোমার বিয়ে! তুমি কালকে অফিসে এসে আমার সাথে দেখা করো কেমন!কারন কয়েকদিন রেস্ট দরকার তোমার! মুগ্ধঃ ধন্যবাদ স্যার!আমি কালকে আপনার সাথে দেখা করবো। স্যারঃ ওকে!আল্লাহ হাফেজ.. মুগ্ধঃ আল্লাহ হাফেজ... - ওই স্যারের সাথে মুগ্ধ সম্পকটাও ভালো!আর মুগ্ধ খুব মিশুক তাই সবাই ওকে খুব ভালবাসে।ফোন রাখার পর মুগ্ধ হাফ ছেড়ে যেন বাঁচলো!তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়লো।মুগ্ধ ওর বেডে শুয়ে শুয়ে ভাবছে... মুগ্ধঃআর মাএ একটা দিন! তাহলে আমি আমার দুষ্টু বউটাকে সারাজীবনের জন্য বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে পারবো।কেউ কিছু বলতেও পারবে না আর না থাকবে কোন ভয়।আমি তখন আমি মিষ্টি বউটাকে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্য লুকিয়ে রাখবো...(মুচকি হেসে) - তারপর মুগ্ধ এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে।ওইদিকে রুহি ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে আকাশ-পাতাল চিন্তা করছে।রুহি কিছু সময় নিজের গাল টেনেটুনে বোঝার চেষ্টা করলো মটু হয়েছে নাকি শুকিয়ে গেছে!তারপর আয়নার দিকে তাকিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে পেটে হাত দিয়ে পরীক্ষা করলো পেটে মেদ জমছে কি না??তার হাত -পা ছড়িয়ে দিয়ে দুম করে বেডে শুয়ে পড়লো। To be continue.... ( ইয়ে মানে গল্প তোমাদের কেমন লাগছে 🙄🙄🙄....)
#প্যারাময়_লাভ❤❤ #📖 গল্প 📖 #part_21 রুহিঃ আমার বাসায় যদি রিপোর্ট করিস তো!তেতুল গাছের সব উপরের মগডালে তোকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখবো।আমাকে তো চিনিস যা বলি তাই করি....সো ভুলেও যেন আমার বাসার কেউ না জানে। - রুহিরা তেঁতুল ডাকাতি করে চলে গেল!কিছুক্ষন পরে নগেনের মা নগেন দেখে বাঁধন খুলে বাসায় নিয়ে যায়।নগেন ওর মাকে বলে এই কথা কাউকে না জানাতে।ওই দিকে রুহি বাসায় গিয়ে মনের সুখে তেঁতুল খায়!তারপর তিনজন অনেক সময় আড্ডা দেয়।রুহি, সুমি, ইরা তারপর ওদের বাসায় চলে যায়।সুমিদের এগিয়ে দিয়ে রুহি বাসায় ঢুকতে যাবে তখন মুগ্ধ বাইকে নিয়ে আসে!রুহি মুচকি হেসে মুগ্ধর দিকে তাকাতেই মুগ্ধর বাইকে ইভাকে কে রুহির হাসি মিলিয়ে গেল!রুহি দাড়িয়ে আছে মুগ্ধ দেখেও না দেখার ভান ইভাকে নিয়ে মুগ্ধ বাসায় ঢুকে গেল..... - রুহি মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে হনহন করতে করতে ওর বাসায় ঢুকে গেল!তারপর রুহি ওর রুমে গিয়ে বেডশীট, বালিশ, যা ছিলো সব ছুঁড়ে ফেলে দিলো।ড্রেসিং টেবিলে যা ছিলো সব এক এক বেডের নিচে ছুড়ে মারলো!বেডশীট তুলে ওয়াশরুমে গিয়ে বাথটাবের মধ্যে ঢুবিয়ে আসলো।কয়েক মিনিটেই রুমটার অবস্থা নাজেহাল করে ফেললো!তারপর মেঝেতে বসে ভ্য ভ্য করে কেঁদে দিলো!রুহির আম্মু কোন একটা কাজে বাইরে গিয়েছে।রুহি ৩মিঃ কাঁদার পর হনহন করতে করতে মুগ্ধর বাসায় চলে গেল!তারপর মুগ্ধর আম্মুর রুমে ঢুকে মুগ্ধর খাৎনার পিক গুলো নিলো!তারপর কি মনে করে মুগ্ধর রুমে গেল... - মুগ্ধ শার্টটা কেবল খুলে উল্টো ঘুরে তাকাতেই দেখে রুহি অগ্নিদৃষিতে রুহির দিকে তাকিয়ে আছে।মুগ্ধ টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে যেতে নিলেই রুহি সামনে এসে মুগ্ধর পথ আটকায়।মুগ্ধ ভ্রু কুচকে রুহির দিকে তাকিয়ে আছে।রুহিকে দেখে বোঝা যাচ্ছে রুহি প্রচন্ড রেগে আগে!মুগ্ধ খেয়াল করে রুহির হাতে কিসের যেন পিক!মুগ্ধ কিছু বলার আগে রুহি বলে ওঠে... - রুহিঃবাইকে তুমি ইভার সাথে লেপ্টে বসে ছিলে কেন? মুগ্ধঃ লেপ্টে কই বসে ছিলাম!আমাকে ইভা না ধরলে তো পড়ে যেত তাই ধরে ছিলো। রুহিঃতোমাকে বলিনি কোন মেয়ের এত কাছে যাবে না।বলিনি তুই কারো শরীর ঘেষে দাড়াবিও না।তুই আমার কথা শুনতে পাস না।(চিৎকার করে) মুগ্ধঃতুই আমাকে তুই বললি..তোর তো সাহস কম না।(অবাক হয়ে) রুহিঃতুমি সাহসের দেখছিস কি??(মুগ্ধ ধাক্কা দিয়ে) মুগ্ধঃসামান্য একটা বিষয় নিয়ে এবার কিন্তু তুই বাড়াবারি করছিস রুহি!(দাঁতে দাঁত চেপে) রুহিঃকিসের বাড়াবাড়ি তুমি লেপ্টে থাকবে আর আমি বললেই দোষ। আজকে যদি তোমার ইজ্জতের ফালুদা না করছি তো আমিও রুহি না।শুধু দেখে যাও... মুগ্ধঃকি করবি তুই শুনি?? রুহিঃতোমার খাৎনার পিক গুলো নেটে ছাড়বো!ফেসবুকে পোস্ট করে তোমাকে ট্যাগ করবো।তারপর দেখবা তোমাকে নিয়ে সবাই কি করে হাসাহাসি করে। মুগ্ধঃ ঠাস্!সামান্য একটা বিষয় নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করছিস কেন তুই??কয়েকদিন মার খাস নি তাই বেশি সাহস হয়ে গেছে তাই না। (থাপ্পড় মেরে) - রুহি মার খেয়ে ছবি গুলো নিয়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছিলো!মুগ্ধও দৌড়ে গিয়ে রুহিকে ধরে আবার রুমে নিয়ে আসে!রুহি রাগে ফোঁস ফোঁস করছে।মুগ্ধ রুহির থেকে জোর করে পিক গুলো নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে!রুহি রাগে মুগ্ধ জোরে একটা ধাক্কা দেয়।মুগ্ধ দুই পা পিছিয়ে যায়!মুগ্ধ জানে রুহি বাসায় গিয়ে ভাংচুর শুরু করবে যতক্ষণ না ওর রাগ কমে।মুগ্ধ রুহি কে জোর করে বেডের উপর বসিয়ে দেয় আর নিজেও বসে! তারপর দুই গালে হাত রেখে বলে... - মুগ্ধঃরাগ তো আমার উপর! তাহলে আমার উপরে তোর যত ইচ্ছে রাগ আছে তুলে যা।তুই যে শাস্তি দিবি আমি মাথা পেতে নিবো তাও মাথা ঠান্ডা কর। রুহিঃ....... মুগ্ধঃকি হলো কথা বলবি না আমার সাথে।ইভা তো আমার বোন তাই না!ভাইয়ের পাশে কি বোন বসতে পারে না! (শান্ত ভাবে) রুহিঃআমিও তোমার বোন ছিলাম!আমাকে বোন থেকে বউ করে ফেলছো।তাহলে ইভা করবে না গ্যারান্টি কি আছে?আমাকে এত বোকা মনে হয় তোমার!তুমি লুচু অনেক বেশি লুচু(রাগি চোখে তাকিয়ে) মুগ্ধঃতোকে আমি কোনদিন বোন ভাবি নি!আর ইভাকে আমি আমার বোন ভাবি।আচ্ছা বল কি করলে তোর রাগ কমবে। - রুহি উঠে দাড়িয়ে মুগ্ধ রুমটা সব এলোমেলো করে দিলো!তারপর রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে মুগ্ধকে এক ধাক্কা দিলো!মুগ্ধ বেডে পড়ে যায়।রুহি মুগ্ধর বুকের উপর উঠে ইচ্ছে মত মুগ্ধকে কামড়াতে থাকে!মুগ্ধও মুখ বুজে সব সহ্য করতে থাকে!মুগ্ধ ঠোঁটে,গালে,গলায়, বুকে, পেটে রুহি ইচ্ছে মত কামড়াতে থাকে যতক্ষণ না ওর রাগ কমছে!রুহির যে ঠিক কতটা রেগে আছে মুগ্ধ খুব ভাল করেই বুঝতে পারছে কারন রুহির কামড় গুলো।রুহি একটা সময় মুগ্ধ উপর থেকে উঠে দাড়ায় আর মুগ্ধর দিকে না তাকিয়ে হনহন করতে করতে ওর বাসায় চলে যায়। - মুগ্ধ উঠে আগে ওর রুমে দরজাটা ভালো করে আটকায়! তারপর ড্রেয়িং টেবিলের দাড়িয়ে নিজেকে দেখছে!ঠোঁট, গাল,বুকে,গলায়, পেটে রুহির দাঁত বসে আছে।কোন মেয়েকে যদি কেউ এমন অবস্থায় কেউ দেখে তো বলতো মেয়েটাকে রেপ করছে! কিন্তু কোন ছেলেকে কেউ এমন অবস্থা দেখলে তাকে কি বলা উচিত সেটা মুগ্ধরও জানা নেই!মুগ্ধর হাসিও পাচ্ছে আবার দুঃখও হচ্ছে, রাগও লাগছে আবার এখন শান্তিও পাচ্ছে।রুহি এত জোরে কামড় গুলো দিয়েছে যে মুগ্ধ শরীর লাল হয়ে দাঁত বসে আছে!কোন কোন জায়গায় রক্ত জমে গেছে..পুরো শরীর ব্যাথা হয়ে গেছে আর জ্বালা করছে!.রুহি যে মুগ্ধকে এমন শাস্তি দিবে সেটা মুগ্ধ কল্পনাও করে নি... - মুগ্ধ আয়নাতে নিজে দেখে মনে মনে ভাবছে.. মুগ্ধঃএত গুলো কামড় তো দিলো!এবার ইনজেকশন নিতে হবে না তো।আচ্ছা ডাক্তার যদি জিজ্ঞাসা করে এমন করে কে কামড়ালো?তখন কি বলবো আমি??আমার বউ তার রাগ কমানোর জন্য আমাকে এমন করে কামড়ে দিসে।ছিঃ!ছিঃ! কি লজ্জার কথা।সব বুঝলাম এখন আমি রুমে বাইরে যাবো কি করে?অফিসেই বা যাবো কি।উফফ খুব ব্যাথা করছে... - মুগ্ধ ওর ফোনটা নিয়ে অফিস থেকে নিয়ে দুইদিন ছুটি নিয়ে নিলো অসুস্থতার কথা বলে!তারপর মুগ্ধ সাওয়ার নিয়ে শরীর মুছে ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাড়িয়ে একা একা মলম লাগালো।মুগ্ধ বারান্দায় গিয়ে দেখলো রুহিকে দেখা যাচ্ছে না।মুগ্ধ একটা টি- শার্ট পড়ে শুয়ে পড়ে ভাবতে থাকে। মুগ্ধঃরুহি তোর ভালবাসা যে এত ভয়ঙ্কর আমি ভাবি নি!আর আর কোনদিন আমার বাইকে কোন মেয়েকে তুলবো না।এটা যদিও পাগলামি তারপরেও বলবো পাগলের মত কেউ কাউকে ভালবেসে না থাকলে এমন পাগলামি কেউ করবে না।পাগলীটাকে দুই বার বিয়ে করে বোঝালাম যে আমি শুধু তোর! তাও আজকে সামান্য বিষয় নিয়ে কামড়ে কি অবস্থা করে দিলো আমার।যদিও এমন ভালবাসা পেতে ভাগ্য লাগে... (মুচকি হেসে) - রুহি সাওয়ার নিচে দাড়িয়ে আছে প্রায় ২ ঘন্টা হলো!তারপর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে কয়েকটা ড্রেস আর টাকা নিয়ে হনহন করতে করতে বাসায় চলে গেল।রুহির আম্মু শুধু দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখলো কারন রুহি মুগ্ধর উপর রেগে গেলে ব্যাগ পএ নিয়ে ওর নানুর বাসায় চলে যায়!আর রুহি এখন এই কাজটাই করেছে।তারপর মুগ্ধ গিয়ে আবার নিয়ে আসে....।তবে আজকে রুহি ওর নানুর বাসায় যায়নি! গেছে সুমির বাসায়।সুমির বাড়ির লোকও রুহিকে খুব ভালবাসে... - ওইদিকে মুগ্ধর আম্মু দুপুরে খাওয়া জন্য মুগ্ধকে ডেকে যাচ্ছে কিন্তুু মুগ্ধ খেতে যেতে পারছে না।মুগ্ধ ওর আম্মুকে ফোন দিয়ে বললো ওর খাবারটা ওর রুমে পাঠিয়ে দেয়।মুগ্ধর আম্মু মুগ্ধর রুমে খাবার দিতে এসে দেখে মুগ্ধ ওর গলাতে টাওয়াল ঝুলিয়ে রেখে মনযোগ দিয়ে কাজ করছে!আর মুগ্ধ টাওয়াল নিয়ে মুখ মোছার ভান করে ঠোঁটে উপর হালকা করে ঘষছে!মুগ্ধর আম্মু চলে যেতে মুগ্ধ লেপটপে দিকে তাকিয়ে বললো.. - মুগ্ধঃ আম্মু আমার খাবারটা এবার থেকে উপরেই পাঠিয়ে দিও!অফিসের অনেক কাজ আমাকে এগুলো রেডি করতে হবে।আর এই কাজটা খুব জরুরি এজন্য বাসাতেই ঠান্ডা মাথা করতে হবে! তাই অফিস থেকে দুইদিন ছুটি নিয়েছি.... আম্মুঃ আচ্ছা... - মুগ্ধর আম্মু চলে গেল! মুগ্ধ উঠে তখন দরজা আটকে দিলো আর হাফ ছেড়ে বাচলো।তারপর মুগ্ধ খেয়ে একটা ঘুম দিলো!ওই দিকে সুমির রুমে রুহি বসে মুগ্ধকে কয়েক দফা গালি দিলো!সুমি রুহিকে জোর করে খাইয়ে দিলো।তারপর দুই বান্ধবী গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে গেল।রুহির আম্মু আর ওর বাপি রুহিকে ফোন দিচ্ছে পাচ্ছে না!রুহির আম্মু রুহির নানুকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিয়ে জানলো রুহি ওর নানুর বাসায় যায় নি!রুহির আম্মু আর বাপি টেনশনে পড়ে গেল।রুহির বাপি খোঁজাখুজি করলো বাট কেউ বলতে পারলো না রুহির খবর!রুহির বাপি উপায় না পেয়ে মুগ্ধকে ফোন দিলো।মুগ্ধ ঘুম ঘুম কন্ঠে ফোন রিসিভ করলো!... - মুগ্ধঃআসসালামু আলাইকুম মেজ বাবা রুহির বাপিঃওয়ালাইকুম সালাম আব্বু! আমি দুঃখিত তোমাকে বিরক্ত করা জন্য। মুগ্ধঃসমস্যা নেই মেজবাবা???বলুন রুহির বাপিঃ রুহির কোন খোঁজ পাচ্ছি না!রাগ করে এবার ওর নানুর বাসাতেও তো যায় নি।ওকে ফোন দিয়েও ফোন বন্ধ পাচ্ছি। টেনশন হচ্ছে ওর যা রাগ না জানি কি করে বসে...আব্বু রুহি কি কোন কারনে তোমার উপরে রাগ করছে। মুগ্ধঃজি মেজবাবা!রুহি সামান্য একটা বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছিলো তাই আমি..... রুহির বাপিঃবুঝেছি!! মুগ্ধঃ মেজবাবা আমি দেখছি রুহি কোথায় আছে?আপনি চিন্তা করবেন না কেমন.. রুহির বাবাঃ হুমম - মুগ্ধ এবার চিন্তায় পড়ে গেল রুহি তাহলে গেল কোথায়?মুগ্ধ রাহাতকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো ইরা বা সুমি বাসার ঠিকানা জানে কি না??মুগ্ধ রাহাতকে বললো আরিয়ান,রাহাত,সুমি আর ইরা যেন সবাই একসাথে মিট করে লেকের পাড়ে।আর মুগ্ধ যে জানে এটা যেন কেউ না জানে?রাহাত, ইরা,সুমি,আর আরিয়ানকে ফোন দিয়ে বললো লেকের পাড়ে আসতে!সুমি রুহিকেও জোর করে লেকের পাড়ে নিয়ে আসে!রুহি মুখটা ভার করে মাথা নিচু করে বসে আছে... সুমিঃ এই রুহি কি হলো তোর?মন খারাপ করে থাকবি এখনো??? রাহাতঃকি হয়েছে আমার মিষ্টি আপুটার!মন খারাপ কেন শুনি?? ইরাঃ এই রুহি সত্যি করে বলতো তোর কি হয়েছে?? রুহিঃআমি ঠিক আছে তোরা আড্ডা দে... আরিয়ানঃ আমার শালিকার মন খারাপ থাকলে আমরা আড্ডা দিবো কি করে?? সুমিঃদাড়া মুগ্ধ ভাইয়াকে ফোন দেয় যেন তোর একটা থাপ্পড় মেরে যায়।কারন ভাইয়ার থাপ্পড় না খেলে তোর মুড ভালো হবে না আমি জানি... রুহিঃওকে একদম ফোন দিবি না!ওর সাথে আর কোনদিন কথা বলবো না আমি.. রাহাতঃআবার ঝগড়া করছো তোমরা?? আরিয়ানঃআমাদের হিরো কই শুনি ?তবে মুগ্ধ ভাইয়ার সাথে দেখা বকে দিতে হবে। - সবাই আড্ডা দিচ্ছে আর রুহি আছে চুপ করে!বাইকে শব্দ পেয়ে রুহি পাশে তাকাতেই দেখে মুগ্ধ বাইক থেকে নামছে!মুগ্ধকে দেখে রুহি কোন কথা না বলে ভৌ দৌড়..... To be continue.... (
#প্যারাময়_লাভ❤❤ #📖 গল্প 📖 #part_16 মুগ্ধ ছটফট করতেই আছে আর রুহি ওর হাতে ছ্যাকা দিতে আছে!মুগ্ধর চোখে ছলছল পানি দেখে রুহি মুগ্ধর মুখ থেকে কাপড়টা খুলে নেয় আর হাতটাও খুলে দেয়!মুগ্ধ সাথে সাথে রুহিকে একটানে তুলে শরীর সর্বশক্তি দিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়!রুহি ছিটকে মাটিতে পড়ে যায়!মুগ্ধ রুহি কে মাটি থেকে তুলে আবার আরেকটা থাপ্পড় মারে তারপর রুহিকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে! মুগ্ধ রুহিকে ছেড়ে দৌড়ে পাশে দোকানে যায় আর ঠান্ডা পানি এনে রুহি হাতে ঢালতে থাকে!মুগ্ধ ওর রুমাল ভিজিয়ে রুহির হাতে জড়িয়ে দেয়! রুহি মুগ্ধ হয়ে মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে আছে!মুগ্ধ রুহিকে বললো... - মুগ্ধঃ আজকে তোকে বিয়ে করতে হবে তাই তো??ওকে আমি রাজি!নিজেকে এভাবে তাহলে কষ্ট দিলি কেন অসভ্য মেয়ে!একবার আমাকে বলার সুযোগ না দিয়েই এভাবে বার বার কষ্ট দেওয়ার মানে কি??আমাকে কি তোর কাপুরুষ মনে হয় যে আমি ভয় পাবো। আমাকে তোর বিশ্বাস হয় তাই তো! ওকে আজকে আমাদের বিয়ে হবে।(চোখ লাল করে) - রুহি সুমি, ইরাদের ডেকে নেয় তারপর কাজি অফিসে চলে যায়!মুগ্ধ কবুল বলে সাইন করে দেয় আর রুহি থম মেরে বসে আছে!মুগ্ধ কলমটা তুলে রুহির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে... মুগ্ধঃএতদূর এসে পিছিয়ে যাওয়ার কোন মানেই হয় না!আর এখন যদি তুই পিছিয়ে যাস তো আমি তোকে পিছাতে দিবো না।সাইন কর... - রুহি কাঁপা হাত আর দুরুদুরু বুক নিয়ে কবুলও বললো আর সাইনও করলো।তারপর মোনাজাত করে কাজি অফিস থেকে বের হয়ে গেল।তারপর সবাই মিলে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলো। সুমি,ইরা,রাহাত আর আরিয়ান আলাদা টেবিলে আর মুগ্ধ আর রুহি এক টেবিলে।মুগ্ধ রাহাতদের কাছে গিয়ে বললো... - মুগ্ধঃতোমাদের যা ইচ্ছে হয় খাও! আমি তোমাদের ট্রিট দিলাম। - মুগ্ধ রুহির আর ওর জন্য বিরিয়ানী,চিকেন ফ্রাই,সালাড,আইসক্রিম, দই ,অর্ডার দিলো!মুগ্ধ রুহির সামনে চেয়ারে বসলো। রুহি মাথা নিচু করে আছে!মুগ্ধ রুহির বামহাতটা টেনে রুমালটা খুলতে খুলতে বললো... মুগ্ধঃ বিয়ে করলি তাহলে মুখটা ভার করে আছিস কেন??এখন তো তোর খুশিতে নাচানাচি করার কথা... রুহিঃ না কিছু না!তুমি কি আমার উপর রাগ করে আছো?? মুগ্ধঃনা!রাগ করার কি আছে?? রুহিঃ এই বিয়ের কথা এখন কাউকে জানানোর দরকার নাই!দেখি এবার বাপিরা মিলে কি ঠিক করে?তোমাকে হারানো ভয়ে এমন কাজটা করতে বাধ্য হলাম।তবে আমার মনে কোন আফসোস নাই... মুগ্ধঃহাতে কি এখনো জ্বালা করছে?? রুহিঃনা! মুগ্ধঃ রুহি এমন বোকামি আর করিস না!একটা কথা মনে রাখিস! যে যেতে চাই তাকে হাজার চেষ্টা করে আটকে রাখা যায় না!আর যে থাকতে চাই তাকে বার বার লাথি দিলেও দেখবি তোর কাছেই ফিরে আসবে।আমিও তোকে চাই বাট এভাবে পেতে চাইনি।আর ইসলাম ধর্ম মতে বাবা মায়ের অনুপস্থিতিতে বিয়ে গ্রহনযোগ্য হয় না!আর যতদিন না আমাদের বাবা মায়েরা আমাদের আবার বিয়ে দিচ্ছে ততদিন আমি তোকে আমার কাছে টানবো না। রুহিঃহুমমম!এখন তুমি যা বলবে আমি তাতেই রাজি কারন আমার মনে তোমাকে হারানো ভয় আর নাই। - মুগ্ধ নিজেও খাচ্ছে আর রুহিকেও খাইয়ে দেয়!তারপর সবাই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যায়।সুমিরা সবাই চলে যায়!রুহি মুগ্ধর তাকিয়ে বলে... রুহিঃ এই যে মিঃ হাজবেন্ড তোমার বিয়ের ট্রিট দাও মুগ্ধঃতাহলে এখন কি দিলাম?? রুহিঃ এখন তো পেট ভরালে এবার মন ভরানোর ট্রিট দাও। মুগ্ধঃমন ভরানোর জন্য আবার কি ট্রিট লাগবে শুনি??(ভ্রু কুচকে) রুহিঃ তুমি এখন আমাকে নিয়ে বাইকে নিয়ে ঘুরবে!আজকে আমার মন খুব ভালো তাই আজকে অনেক অনেক ঘুরবো... মুগ্ধঃ ঘুরতেই হবে?? রুহিঃহুমম!ঘুরতেই হবে!আজকে অনেক দুরে চলো যেখানে তুমি আর আমি ছাড়া কেউ থাকবে না।যেখানে প্যা পু ভ্যা ভু এরকম কোন শব্দ থাকবে না।যেখানে প্রান ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবো!যেখানে গেলে তোমাদের কাঁধে মাথা রাখতে পারবো... মুগ্ধঃতাহলে মেজ আম্মুকে বল তুই আমার সাথে আছিস!তা না হলে চিন্তা করবে। - রুহি মুগ্ধকে বাসায় যেতে বললো!মুগ্ধও রুহি কথামত রুহিকে বাইকে বসিয়ে বাইক স্টাট দিলো!কারন কলেজ ড্রেসে ঘুরতে যাওয়ার মানেই হয় না!মুগ্ধকে দাড়াতে বলে রুহি একদৌড়ে ওর বাসায় চলে গেল!তারপর ঝটপট সাওয়ার নিয়ে কলাপাতা কালার একটা থ্রিপিস পড়ে নিলো আর মুখটা ধুয়ে মুখে ক্রিম লাগালো আর ঠোঁট চ্যাপষ্টিক।চুল গুলোকে ছেড়ে দিলো আর ছোট একটা ক্লিপ দিয়ে চুল আটকে নিলো!আর কিছু চুল সামনে দুইপাশে এনে রাখলো!সাদা পাথরের ছোট একটা টিপ দিলো কপালে।তারপর চুরিদারে পায়জামার কুচি গুলো ঠিক করতে করতে ওর আম্মুকে ডাকলো! - রুহিঃ আম্মু আমি তোমার মেয়ের জামাইয়ের সাথে ঘুরতে যাচ্ছি !আজকে সারাদিন ঘুরবো তাই আসতে লেইট হবে.. আম্মুঃকার সাথে ঘুরতে যাচ্ছিস???(ভ্রু কুচকে) রুহিঃ আমি মুগ্ধ ভাইয়ার সাথে যাচ্ছি !কানের মাথা খাইছো নাকি ভুলভাল শোনো। আম্মুঃতুই তো বললি...! রুহিঃআমি কিছু বলিনি! যা বলছি ভুলে বলছি।শোন মুগ্ধ ভাইয়া কোন বন্ধু ওয়াইফের বাচ্চা হয়েছে তাই দেখতে যাচ্ছি। বাই আম্মুঃ আচ্ছা... মুগ্ধঃ তোর কি মাথায় ঘেলু বলতে কিছু আছে??আমাকে এতক্ষণ দাড়িয়ে রাখার কোন মানে হয় (দাঁতে দাঁত চেপে) রুহিঃযা থাকার সব আছে!সময় হলো দেখতে পাবে। এবার তো চলো (বাইকে উঠে বসে) - রুহি ওর ব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে মুগ্ধকে দিলো!মুগ্ধ আর রুহি বাইক নিয়ে ঘুরতে বের হলো।মুগ্ধ বার বার বাইকের গ্লাসে তাকিয়ে রুহিকে দেখছে!আজকে কেন জানি মুগ্ধর কাছে রুহিকে দেখে মনে হচ্ছে রুহির মাঝে অন্যরকম একটা সৌন্দর্য এসে ভর করছে!মুগ্ধ রুহিকে বললো... - মুগ্ধঃএত সাজগোজ করছিস কেন??তোকে না বলছি সাজগোজ করবি না আর চুল ছেড়ে বাইরে বের হবি না। রুহিঃ কই সাজগোজ করলাম???তোমার বিয়ের দিন সাজবো।মুগ্ধর লাল টুকটাক বউ সাজবো আমি। মুগ্ধঃ..... - মুগ্ধ রুহিকে নিয়ে একটা শপিংমলে এসে জুয়েলারি শপে গেল!তারপর রুহিকে একটা রিং আর নোজপিন কিনে দিলো।নোজপিন রুহি নিজে ইচ্ছে করে কিনছে!শপেই মুগ্ধ নিজে হাতে রুহির অনামিকা আঙ্গুলে রিং পড়িয়ে দিয়েছে।আর রুহির নাক ফুটা করা নাই এজন্য রুহি যত্ন করে নোজপিনটা ওর কাছে রেখে দেয়।তারপর আবার ওরা বাইকে বসে আর মনের আনন্দে মুক্ত পাখির মত এক জন আরেকজনের সাথে সময় কাটাতে থাকে.... - ঘুরতে ঘুরতে মুগ্ধ একটা গ্রামের মধ্যে ঢুকে!গ্রামটা অনেক সুন্দর!ফসলের মাঠগুলো দেখতে অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে,সরিষার ক্ষেতের দিকে তাকালে চারদিকে হলুদ আর হলুদ!সরিষার ফুল গুলো হালকা বাতাসে নড়েচড়ে উঠছে।বাতাসে যখন সরিষার ফুল গুলো নড়ছে তখন সেই ফুলে রাখা মৌমাছি রাও নড়ে উঠছে।মুগ্ধ বাইক থামিয়ে এতক্ষণ এত মনোরম সৌন্দর্য টা উপভোগ করছিলো!মুগ্ধ ওর পাশে তাকিয়ে দেখে রুহি নেই।মুগ্ধ আশে পাশে তাকিয়ে রুহিকে খুঁজতে থাকে!মুগ্ধ রুহিকে দুইবার ডাকলো... - মুগ্ধ তিনবার যখন ডাকতে যাবে!তখন রুহি পাশের গর্ত থেকে মুগ্ধকে ডেকে উঠলো!মুগ্ধ ওর পেছনে ঘুরে রাস্তার দাড়িয়ে একটা নিচু হয়ে তাকিয়ে দেখলো একটা ছোট্ট গর্তের মধ্য রুহি বসে।মুগ্ধকে দেখে রুহি কাঁদো কাঁদো হয়ে ডাকলো... - মুগ্ধঃকি রে?? তুই ওখানে বসে আছিস কেন??? রুহিঃআমি পড়ে গেছি! আমাকে টেনে তোলো রে... মুগ্ধঃওয়েট....আমি আসছি। রুহিঃতারাতারি এসো। মুগ্ধঃএখানে আসলি কি করে??? রুহিঃ সরিষা ক্ষেতে পিক তুলতে গিয়ে গোবরের উপর পা তুলে দিছিলাম।ঘাসে গোবর মুছতে গিয়ে হড়হড় করে নিচে পড়ে এই গর্তে এসে আটকে পড়ছি। মুগ্ধঃইয়াক!ছিঃ!ছিঃ! রুহির তোর পায়ে গোবর লেগে আছে।ইয়াক কি গন্ধ???? রুহিঃইয়াক ইয়াক করা বন্ধ করে আমাকে তোলো তারাতারি! - মুগ্ধ রুহিকে টেনে তুলছে!মুগ্ধর কেন জানি খুব হাসি পাচ্ছে! মুগ্ধ এতক্ষণ হাসিটা কনট্রোল করছিলো বাট রুহির মুখের আকৃতি দেখে হো হো করে হাসতে শুরু করলো!মুগ্ধ হাসি দেখে রুহির রাগে কটমট করে মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে আছে।রুহির পায়ে গোবর নিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে হাটছে আর মুগ্ধ রুহির পেছন পেছন আসছে আর হাসছে!রুহি এমন ভাবে পায়ে গোবর লাগছে যে! রুহির পা দেখে মনে হচ্ছে কেউ রুহিকে গোবরের জুতা পরিয়ে দিয়েছে।ওদের পাশ দিয়ে দুইটা বাচ্চা যাচ্ছিলো বাচ্চা দুইটাও রুহির অবস্থা দেখে হাসছে!মুগ্ধর কেন জানি আজকে হাসি থামছে না!মুগ্ধ ওর পেট ধরে হাসতে হাসতে ঘাসের উপর বসে পড়ছে। - রুহি মুগ্ধকে অনেকপর পর এভাবে হাসতে দেখলো!রুহি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে মুগ্ধর হাসি দেখছে।রুহি মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো... রুহিঃ ইসসস রে এভাবে কেউ হাসে!জানেমান তোমার হাসি দেখে মন চাচ্ছে এখনই তোমাকে কামড়ে খেয়ে ফেলি!আর ছেলেদের যে এভাবে হাসতে নেই!ছেলেদের মুচকি হাসিতেই বেশি মানায়!আর এভাবে হাসলে যে ঘায়েল হয়ে যাবো রে টুনটুনির বাপ ।তবে এখন এই গোবরটাকে আমার ধন্যবাদ দিতে মন চাচ্ছে!কারন এই গোবরটার জন্য আমি আমার মুগ্ধর মনখোলা হাসিটা আজকে অনেকদিন পর দেখলাম।তবে একটা কথা না বললেই নয়,আর সেটা হলো.... গোবরের জুতা পড়ে যদি ভালো কিছু পাওয়া যায়!তাহলে তো বার বার এই জুতা পড়াই ভালো....😂 To be continue.....
#📖 গল্প 📖 #📖 স্বরচিত কবিতা