চিরকুটের শব্দ
#চিরকুটের শব্দ
💞 কেমন আছো বন্ধুরা ☺️ আমি গোলুমোলু #চিরকুটের শব্দ
অদ্ভুত প্রেমের গল্প লাল মরিচের ঝাঁঝ আর কতক্ষন যে লাগবে মোটিটার আসতে আল্লাহই জানে। সেই কখন থেকে বলতেছে ৫ মিনিট দাড়া, আজ সিউর ক্লাসের বাইরে দাড় করিয়ে রাখবে শয়তান ম্যাডামটা। বজ্জাত মেয়ে একটা কোন অলুক্ষনে সময় যে মেয়েটার সাথে পরিচয় হইল। - কি রে চিকন আলী ভাল আছস তো ?? - দেখ তো কয়টা বাজে ??? - জানি ২০ মিনিট লেইট হইছে, জানতাম আজ ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে থাকতে হবে আর একা একা দাড়িয়ে থাকলে ওই বদি নামে বজ্জাত ছেলেটা হা কইরা তাকাই থাকে। আর আজে বাজে কথা বলে, তাই তুই থাকলে একটু আড্ডা মারতে পারব। - তুই তো দেখি বদিরুলের থেকে বজ্জাত। একটু আগে বের হইতে পারিস না ?? - আর বলিস না ঘুম থেইক্কাই উঠতে পারি না। জানিস আজ অনুপম মানে ভূতুম আমার সপ্নে আসছিল। - সারাজীবন সপ্নেই শুধু দেইখা যাবি চল এইবার। - কি ব্যাপার রে চিকনা মুড বন্ধ কেন ?? - দেখ নিয়াশা মেজাজ খুব খারাপ। রিমুকে দেখলাম একটা ছেলের হাত ধরে রিক্সায় যাচ্ছে। - হা হা হা তুইও যেমন রিমুও তেমন। তুই যদি একটা ধইরা আর একটা ধরতে পারিস তাইলে ও কেন পারবে না ?? শোন দোস্ত চিন্তা করিস না, আজকের মধ্যে আরেকটা জুটাই ফেলবি। - হ্যা রে মোটি দোয়া কর আজকের মধ্যে যেন পাইয়া যাই। এই নিয়াশ দেখ দেখ মাইয়াটা কত্ত কিউট। দোস্ত আমি গেলাম, ভাগ্য বুঝি আমার খুলছেরে। - এ্যাঁ কি বলে ছেলে, এর মধ্যে আবার ?? শয়তান ছেলের জন্য আজ আবার একা একা বাইরে দাড়াইতে হবে। তোর এই শোধ আমি নিবই। .. .. ক্লাস শেষে বাসার দিকে যাচ্ছি হঠাৎ দেখি চিকন আলী ওই কিউট মাইয়া মানে আমাদের দুই ব্যাচ জুনিয়র মেয়ে টুম্পার হাতে হাত রেখে বটতলা বসে আছে। এই পোলায় পারেও বটে এর মধ্যে পটিয়ে ফেলছে। মেয়েরাও আছে চিকন আলী বলতে দেরী করে রাজি হইতে সময় লাগে না। যেই সব ছেলেদের চেহারা গুলু গুলু হয় তারা হাজারটা প্রেম করে। আরাফ ঠিক তেমনই, সিনিয়ার আপুদের পর্যন্ত ছাড়ে না। ছাড়বেই বা কেন ? আন্টিদের উপর ক্রাশ খায় এই বদ পোলায়। তবে ওর আরেকটা গুন আছে খুব ভাল গান গাইতে পারে। কলেজে মোটামুটি নাম ডাক আছে। কেন যে আমার মত এত সাধারন মেয়ের বন্ধু হইল সেইটা বুঝলাম না। যেদিন প্রথন কলেজে আসলাম মাথায় একটা গাট্টি মেরে আমার পাশে বসল। - আরে কি আজব আপনি আমার মাথায় গাট্টি মারলেন কেন ? - এই তুই আর আমি একই সাথে পড়ি, তাইলে আপনি কইরা কথা বলিস কেন ?? - হুম (ভ্রু কুচকে) কি অসভ্য ছেলে প্রথম কথাই তুই, ভদ্রতার খাতিরেও তো মানুষ আপনি অথবা তুমি বলে। সেদিন থেকেই এই বদ পোলা আস্তে আস্তে ভাল বন্ধু হয়ে উঠে। কিভাবে যে এতটা সময় পার হয়ে গেল বুঝতেই পারি নাই। শুধু বলে অনেক মেয়ের সাথেই চলাফেরা করছি তোর মত বেহায়াপনা মায়াবী মেয়ে একটাও দেখি নাই। - আমিও তোর মত ইনোসেন্ট মার্কা লুইচ্চা একটাও দেখি নাই। যে কিনা আন্টিদের উপর ক্রাশ খায়। - ওই নিয়াশ তোর সাথে আমি কি করছি? আন্টিরা যদি কিছু না কয় তোর এত গায়ে লাগে কেন ?? - ওই হারামি আমার নাম নিয়াশা কত্ত কিউট একটা নাম আর তুই কি না... - এত বড় নাম আমি ডাকতে পারব না। - শয়তানের হাড্ডি একটা। এর পর থেকে কখনো ভাল নামে ডাকে নাই। আমিও ওরে ভাল নামে ডাকি না, আমিও কম নাকি ?? .. .. এই মোটি এই মোটি কানে কম শুনিস নাকি ?? কার কথা ভাবিস ?? (ওর ডাকে ঘোর কাটল) - কি রে লম্বু ডেটিং শেষ ? - ধুর আর বলিস না মাইয়া আমারে নিয়া শপিংয়ে যাইতে চায়, তাই ফাক বুইজা দৌড়। - হি হি হি হি - দেখ ওই ভাবে হাসিস না কইলজাডা মোচর দিয়া উঠে। - এ্যাঁ কি বললি ??? ওই কুত্তা তুই আমার লগেও মজা নিতাছস ?? আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। - আরে আরে আমি কি পাগল তোর মত মেয়ের লগে মজা নিমু। কলার ছাড় বলছি, এইটা মেয়ে নাকি লেডী কিলার। পাক্কা লাল মরিচ একটা। - ওই চল ক্ষিধা লাগছে ফুচকা খামু। - এইরকম মারামারি করলে তো ক্ষিধা লাগবেই। .. .. মামা দুই প্লেট ফুচকা দেন তো॥ একটাতে বেশি করে খুইদ্দা মরিচ দিবেন। - দেখ লম্বু মাইর খাওয়ার কাজ করিস না। এই মাইয়ারে ফুচকা খাওয়াইতে পারলেই মাথা ঠান্ডা হয়। খাইতেছি এমন সময় নিশা হাজির। - এই আরাফ তুমি না বললা ফুচকা ভাল না, এই গুলা খাইলে পেট খারাপ করে আর তুমি খাইতেছ ?? (নিশা) - আরে বেবী তোমার মত কিউট মেয়ে এগুলা খাইলে পেট খারাপ করবে, আর এই মোটি তো খুইদ্দা মরিচ ওর এতে কিছু হবে না। - মুখের মধ্যে বাকি একটা ফুচকা দিয়ে, ওর দিকে তাকালাম। (আমি) - এই নিয়াশ রাগ করিস না মজা করতেছি (আস্তে আস্তে বলল)। ওর হাত থেকে ফুচকার প্লেট নিয়া টপাটপ খেয়ে ফেললাম। - এটা কি হল (হা করে তাকিয়ে) - লাল মরিচ তো তাই বুঝলি, বলেই উঠে দাড়ালাম। যাচ্ছি গো বেএএবী ***************** - এই মেয়েটা দিন দিন বেহায়াপনা বেড়ে চলেছে। এই তো সেই দিন রিমুর সাথে বসে ছিলাম। হঠাৎ কোথা থেকে যেন মোটি উদয় হইল, শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে নিয়া আসল রিমুর কাছ থেকে। শুধু শুধুই কি বলি লাল মরিচ !! ঝাঝটা একটু বেশিই। আমার জীবনটারে তেজপাতা বানাই ফেলছে। তবে ও অন্যদের থেকে একটু আলাদা, যখন প্রথম কলেজে আসলাম। মেয়েটাকে দেখে মনে করেছিলাম ইনোসেন্ট হবে হয়ত। ওর পোষাক আসাক ছিল অন্যদের থেকে আলাদা। কালো বোরকা আর কালো স্কার্প পরা, তাই ভুল ভাবছিলাম। আমার সব ধারনা পাল্টে দিল যখন ওর সাথে মিশছি। কিন্তু ওর ভিতর অদ্ভুদ এক শক্তি আছে। যা অন্য মেয়েদের মধ্যে নাই। খুব সহজে মানুষকে আপন করে নিতে পারে। - এই আরাফ কি ভাবছ চল ওইখানে বসি। (নিশা) - ও বেবী তুমি তো জানো দুই দিন পর কলেজে ফাংশন আছে অনেক কাজ করতে হবে বলেই দৌড়। এই মেয়ে গুলা অসময় খালি বিরক্ত করে। এখন যদি মোটি থাকত হাসতে হাসতে গাল দুটো লাল করে ফেলত। তখন ইচ্ছা করে থাপ্পর দিয়া আরো লাল করে দেই বদ মেয়ে একটা। **** ভূমিকম্পে আমার আরামের ঘুম হারাম করছে। মেজাজটা চরম মাত্রায় পোছে গেছে। লম্বু আইজকা তোর খবর আছে। ওই হারামি কল করার আর সময় পাইলি না ??? - কয়টা বাজে দেখছস জলদি কলেজে আয়। কলেজে আসলাম কিন্তু লম্বুকে কোথাও খুজে পাচ্ছি না। এই দিকে চাচাত বোন ফোন দিছে, ওর ননদ মানে আখি আপু খুব অসুস্থ বেবীটা নাকি মারা গেছে, এখন নাকি তার রক্ত লাগবে। আরাফকে কত করে কল করতেছি, কিন্তু কাইটা দিতাছে। হবে হয়ত কোন মেয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। খুব রাগ লাগতেছে। উপায় না দেখে মিল্টনকে বলছি। ও নাকি ম্যানেজ করতেছে, হসপিটালে যেতে হবে। বট তলায় আইসা দেখি টুম্পার সাথে বইসা রইছে। - দোস্ত একটু অপেক্ষা কর আসতাছি। (আরাফ) - বান্দর ছেলে তুই জীবনে আমার সাথে কথা বলবি না। লুইচ্চামির একটা সীমা থাকে, কখনও ফোন দিবি না তুই আমারে। কত বার ফোন দিছি তোরে, একবারো বুঝলি না। ভাল থাক তুই এই সব মেয়েদের নিয়া। - এই নিয়াশ কি হইছে বল, ফোন আমার কাছে ছিল না। টুম্পার কাছে ছিল, কান্না করিস না প্লিজ। - কই যাচ্ছিস এই বৃষ্টির মধ্যে ? - খবরদার সাথে আসবি না। বলেই চলে আসলাম .. .. ফোনটা অনবরত বেজেই চলেছে, মোটি ফোন ধরছে না। তিন দিন থেকে কলেজে আসে না। ওরে ছাড়া যে কলেজটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে সেইটা বুঝতে পারছি ও না থাকায়। ফাজিল মেয়েটা এখনও ফোন ধরে না। আসছি দাড়া তোর খবর আছে। এত রাগ কিসের ?? আমি মিল্টন, দিপু, আর নাফিসা চলে গেলাম মোটির খোজ নিতে। কলিং বেল চাপতেই আন্টি দরজা খুলে দিল। - আরে নাফিসা তোমরা? আসো ভিতরে আসো। - না মানে আন্টি নিয়াশা কলেজে যাচ্ছে না তাই দেখতে চলে আসলাম। (নাফিসা) - আর বইল না জ্বর বাধাই বসে আছে, যাও গিয়া দেখ। .. .. বাহ ঘরটা তো বেশ পরিপাটি, ওর পড়ার টেবিলের উপরে দেয়ালে আমার আর নিয়াশে ছবিটা সুন্দর করে বাধান। আর কাগজের প্রজাপতি দিয়ে দেয়ালটা সুন্দর করে সাজান। নাফিসা গিয়ে ডাকতেই ঘুম ঘুম চোখে অবাক হয়ে বলল তোরা কখন আসলি। ভাবতেই পারে নাই আমরা আসব। এই প্রথম নিয়াশকে বোরকা ছাড়া দেখলাম। মোটি আমারে বলে চিকন আলী আয়নায় নিজেকে দেখছে কখনও ? কালো একটা থ্রি পিছ পরা, চুল গুলো খোলা, ঘুম জড়ানো চোখ, অবাক করা দৃষ্টি, আর ঠোটের পাশে কাল তিল টা ওর রুপের উজ্জলতা বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে অন্য রকম মায়া কাজ করছে। - এই তুই আসছস কেন ?? (নিয়াশা) - তুই ফোন ধরস না কেন ?? তাইতো ছুটে আসতে হলো রে পাগলী। - কেন এখন আর টুম্পা, নিশা, রিমুর সাথে কথা হয় না ? আর তোর সেই আন্টি গুলা কই ?? যাদের দেখলে তোর মাথা ঠিক থাকে না!! - ধুর মোটি ওদের সাথে তো ফাইজলামি করি। তুই তো সব জানস। তারপরও এমন করিস কেন ?? এই দেখ কান ধরে আছি কিন্তু তুই মুখ ফিরিয়ে থাকিস না। জানিস কত কষ্ট হইছে, এই তিন দিনে। - এই চুপ থাক শয়তান ছেলে। - এই নিয়াশ জানিস আমার মনে হয় আমি সত্যি সত্যি প্রেমে পরছি। - আবার ?? তুই জীবনেও শুধরাবি না যা এইখান থেকে। - হ্যা দোস্ত সত্যি তোকে ছাড়া এক মূহুর্তও থাকা যায় না। - তোর সাহায্য লাগবে রে নিয়াশ। - ঠিক আছে। - কাল কিন্তু আসতেই হবে, বোরকা ছাড়া আসবি, বলে উঠল নাফিসা। - আচ্ছা ওরা চলে গেছে কেন জানি খুব কষ্ট হচ্ছে। আরাফের কথা শুনে মনে হল সত্যি প্রেমে পরছে। আরে চিকন আলী কলিং ? মাত্রই গেল আবার ফোন !! - হুম বল - কিরে মন খারাপরে চিকনী ?? - নাহ - তোকে কিন্তু আজ সেই লাগছেরে। - আমারে কি টুম্পা মনে হইতেছেরে হারামি ?? - রাগ করিস কেন দোস্ত ?? - আচ্ছ পরে কথা বলব। আজ আমার এমন লাগছে কেন, যাক গে ও ওর মত থাক। .. .. কি ব্যাপার কলেজের সবাই কই ?? কোথাও খুজে পাচ্ছি না কাউকে, অডিটরিয়ামে ঢুকতেই সবাই এক সাথে বলে উঠল "শুভ জন্মদিন নিয়াশা"। খুশিতে লোনা পানি টুকু আটকে রাখতে পারলাম না। হঠাৎ কাধে শীতল ছোয়ায় ঘুরে তাকালাম। একি আরাফ হাটু গেরে বসে আছে। কি হচ্ছে এসব!! - এই নিয়াশা তোর ভূতুম হইতে চাই দিবি তো সেই সুযোগ ?? সুযোগ দিবি, তোর পুচকুর বাবা হতে ?? তোর চলার পথের সঙ্গী হতে পারি ? আমি আমার লাল মরিচের বর হইতে চাই দিবি তো বল ?? তোর ওই হাতটা শক্ত করে ধরতে দিবি ?? সবাই এক সাথে বলে উঠল হ্যা হ্যা রাজি হয়ে যা নিয়াশা। - চুপ করে থাকিস না নিয়াশ তোর জন্য আমি সব ছাড়তে পারব। - শয়তান ছেলে আর যদি লুচু গিরি করতে দেখছি। তাইলে তোর একদিন কি আমার একদিন বলেই হাতটা শক্ত করে ধরলাম। হয়ত টুম্পা রিমু নিশা আরো অনেকে হিংসায় জ্বলছে। জ্বলছে জলুক তবে ভূতুম তোরে এইবার আমি জ্বালামু। তখন বুঝবি লাল মরিচের কত ঝাঁঝ॥ #চিরকুটের শব্দ
আমি : আচ্ছা, পৃথিবীর সব প্রেমিকাই তার প্রেমিককে সিগারেট খেতে নিষেধ করে, নানা রকম ভয়ানক শর্ত জুড়ে দেয়! তুমি আমার সব বিষয়ে বিধি-নিষেধ আরোপ করলেও সিগারেট প্রসংগে কিছুই বলোনা, ব্যাপারটা কি বলো তো? তুমি আমায় নিষেধ করোনা কেন ?? সে : আমি নিষেধ করলেই তুমি সিগারেট ছেড়ে দিবে ? আমি: উমমম... (কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে) না! না আবার হ্যাঁ... সে: না আবার হ্যাঁ কেন ? আমি: নিষেধ করার সাথে সাথেই তো ছেড়ে দিতে পারব না (কিছুটা বিব্রত ভঙ্গিতে আমতা আমতা করে)! সে: আর হ্যাঁ কেন? আমি: তুমি একটা কাজ নিষেধ করবে আর আমি সেটা করবো ?? সে: হুমমম... এই কারণেই আমি তোমাকে নিষেধ করিনি। আমি: বুঝিনি, বুঝিয়ে বলো... সে: শোন, তোমাকে একদিন সিগারেট প্রসংগে জিজ্ঞেস করেছিলাম । তখনো তোমাকে আমি ভালবাসতে শুরু করিনি... তোমার মনে আছে ? আমি: নাহ্। কি জিজ্ঞেস করেছিলে ? আর আমি কি উত্তর দিয়েছিলাম ? সে: আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, সিগারেট কেন খান? কি মধু আছে এতে? তুমি বলেছিলে, কেন খাই জানিনা, তবে সিগারেট নিঃসঙ্গতার অনুষঙ্গ । হুমায়ুন আহমেদের ভাষায়, সিগারেট এক ধরণের আশ্রয়। আমি: তো ? সে: দ্যাখো, আমি জানি, আমি যদি তোমাকে নিষেধ করি, তুমি সিগারেট ছেড়ে দিবে। ৩-৪ দিন কিংবা এক সপ্তাহ তুমি সিগারেট খাবে না। কারণটা হলো, ঐ যে-তুমি বলেছিলে, সিগারেট নিঃসঙ্গতার অনুষঙ্গ, সিগারেট এক ধরণের আশ্রয়। এক সপ্তাহ পর তুমি আবার সিগারেট ধরবে। তখন হয়তো তুমি আমাকে বলবেওনা যে সিগারেট খাচ্ছ। কারণ তাতে আমি কষ্ট পাবো। আবার সিগারেট যেহেতু তোমার অনেক দিনের অভ্যাস এবং তোমার নিঃসঙ্গতার অনুষঙ্গ, তুমি সেটাকে ছাড়তেও পারবেনা। তখন কি হবে জানো? আমাকে মিথ্যে বলার কারণে তুমি নিজে নিজেকে অপরাধী ভাববে এবং এক সময় এই অপরাধবোধটাও আর কাজ করবেনা। আর অপরাধবোধ কাজ না করলে কি হবে জানো? তোমার-আমার মধ্যে বিশ্বাসটুকু হালকা হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি এও চাই না, তোমার আর মাঝখানে সিগারেট প্রতিদ্বন্দী হয়ে দাঁড়াক... আমি: (ওর কথায় পুরোপুরি তাজ্জব বনে গেছি) তুমি এত চিন্তা করেছ এটা নিয়ে? সে: হুমমম... অনেক ভেবেছি। আমি তোমার কাছ থেকে দোকানে আড্ডা মারা, সক্রিয় রাজনীতি করার ইচ্ছা, ওষুধ না খাওয়ার প্রবণতা, ক্লাস না করা, সারা-রাত ইন্টারনেটে বসে থাকা, সকালের ঘুম-সবই কেড়ে নিয়েছি। সিগারেটটাও নিতে পারতাম। কিন্তু ঐ যে, তোমার নিঃসঙ্গতার অনুষঙ্গ!! সিগারেটটাও যদি কেড়ে নিই, তাহলে তোমার নিজের আর কি থাকলো বলো? তাতে যদি তুমি আরো একলা হয়ে যাও... আমি: (আমার চোখ টলমল করছে ওর কথায়! স্রষ্টা আমার প্রতি এতটা করুণাময় হবেন ভাবিনি। ও এত মায়াবতী কেন ?) হুমমম... সে: হুমমম... কি? এখন আমি যেটা চাই সেটা শোন, তুমি আস্তে আস্তে সিগারেটটা ছেড়ে দাও। আমি খুব খুশি হবো... আমি তোমাকে জোর করব না। তুমি নিজের মত করে চেষ্টা করবে। একটু একটু করে কমাতে চেষ্টা করবে। তুমি যেভাবে পারো, সেভাবে প্ল্যান করে চেষ্টা করো। আমি লক্ষ্য করেছি, সিগারেটের প্রতি আসক্তির পাশাপাশি তোমার এক ধরণের মায়াও আছে। এত সুন্দর সিগারেট বক্স আর লাইটারই তার প্রমাণ। এটা স্বাভাবিক, এত দিনের পুরোনো অভ্যাস, মায়া থাকবেই। যেদিন তুমি একদম ছেড়ে দিতে পারবে সেদিন আমাকে বলো... আমি খুউব খুউব খুউব খুশী হবো। আমার চেয়ে খুশী আর কেউ হবেনা... আমি: হুমমম... চেষ্টা করবো, অবশ্যই করবো। সে: আমি কি তোমার মন খারাপ করিয়ে দিলাম? আমি: না, একদম নাহ্। কেন? সে: এমনি বললাম ... (তারপর অনেক্ষণ চুপ) আচ্ছা শোন... তোমায় খুব জরুরী একটা কথা বলতে ভুলে গেছি.... আমি: কি?? বলো... সে: কথাটা শুনে আবার রাগ করবে নাতো? আমি: রাগ করবো কেন?? (কিছুটা টেনশান হচ্ছে, বাসায় কি কোন প্রোপোজাল আসলো নাকি??) সে: (অনেক্ষণ চুপ) ...... আমি তোমায় ভালোবাসি, অনেক অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি... আমি কিছু বলার আগেই লাইনটা ও কেটে দিয়েছে। তবু ফোন সেটটা হাতে নিয়ে অনেক্ষণ বসে রইলাম চুপচাপ... তোমার আর আমার মাঝখানে সিগারেট প্রতিদ্বন্দী হতে পারেনা ! তুমি মিশে থাকো আমার শুদ্ধতার পৃথিবীতে... সিগারেটের ধোঁয়ায় সে পৃথিবীটা আমি কলুষিতকরবোনা। । (উৎসর্গ: আমার আজন্ম আকাঙ্খিত সৌভাগ্যের দেবী'কে, যে আছে বলে পৃথিবীটা এখনো অক্সিজেনহীন হয়ে যায়নি...) #চিরকুটের শব্দ
আমি বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে, ছোটবেলা বাবা মারা যায়,কিন্তু আমাদের ফ্যামিলি অনেক ভালো হওয়াতে কন প্রবলেম হয়নি, নিজের ভাই নেই কিন্তু আমার চাচার ২ ছেলে আমার আপন ভাইয়ের মতো ওদেরও কোন বোন নেই। বড় ভাইয়া ছোট ভাইয়ার কাছেই আমার যত বায়না। ছোটবেলা থেকে আমি একটু অন্যরকম ছিলাম, আমার জগতটা একদম আলাদা ছিল । যা চাইতাম তাই পাইতাম, কিছু বলতে দেড়ি হত কিন্তু জিনিসটা সামনে পেতে দেড়ি হত না। আম্মু-খালামনি, নানু, ভাইয়াদের চোখের মনি আমি, বড় আম্মু আমার নিজের আম্মুর থেকেও বেশিকিছু, ৪ বছর আগে ভাইয়াদের কাছে বায়না ধরেছিলাম নেট ইউজ করবো ভাইয়ারা না করলো না। প্রথম ইউজ করতাম migg33 নতুন ছিলাম জানতাম না কি করতে হয় একটা ছেলের সাথে অল্প অল্প চ্যাট হত ওর আইডি টা আমি ভীষণ পছন্দ করতাম এরপর রাতদিন চ্যাট শুরু হয় আমাদের, কত গল্প কত দুষ্টামি, ফোন নাম্বার দেয়া নেয়া হল, আমি মেয়ে বলে ফোন দিলাম না ওই প্রথমে ফোন দিলো, ভয়ে রিসিভ করলাম না, এরপর দিতেই থাকলো ফোন, তারপর রিসিভ করলাম, কথা হলো । তারপর সারাদিন কথা হত আমাদের,রাতেও কথা হত। কথা বলতে অসুবিধা হলে mig তো আছেই । মাঝখানে কিছুদিন যোগাযোগ কম হল তখনি বুঝতে পারলাম ওকে ঠিক কতটা মিস করতেছি। বেস্ট ফ্রেন্ড অপুকে বিষয়টা বললাম, ও বলল তুই প্রেমে পরেছিস। তারপর অপু ওই ছেলেকে সব বলল । ওর নাম ছিল সাইফুল, পড়তো MMC তে । তখন ও আমায় ফোন করে বলল আমরা যেন ভালো বন্ধু হিসেবে থাকি,আমি রাজি হয়ে গেলাম কারন ওর সাথে কথা বলতে পারাটাই ছিল আমার জন্য অনেক আনন্দের একটি বিষয় । এভাবে দিন যেতে লাগল,ফ্রেন্ড হিসেবে আর ভাবতে পারতাম না । আমি খুব দুষ্টু ছিলাম, সারাদিন শুধু দুষ্টামি আর লাফালাফি করতাম । আমি আইসক্রিম আর চকলেট খুব পছন্দ করতাম, তুমি বলতে আমাদের জখন দেখা হবে তুমি আমাকে অনেক আইসক্রিম আর চকলেট খাওয়াবে, এভাবে আমাদের দিন যেতে থাকলো। আমি বিবিএ তে ভর্তি হলাম আর ও এম এম সি তে ফাইনাল পরীক্ষা শেষ এক সাবজেক্ট খারাপ হইছে, ওর কষতগুলো শেয়ার করতাম, ওকে পাগলের মতো ভালবাসতাম এখনো পাগলের মতই ভালবাসি, আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না ওর জখন কোনও অসুখ হতো বা বিপদে পড়ত সবার আগে আমি বুঝতে পারতাম কিভাবে যেন, পরে বুঝছি মনের মিল থাকলে এমন হয়, একবার ও সিরি থেকে পরে পা ভেঙে ফেললো আমার অস্থির লাগছিলো ফোন দিলাম বলল পায়ে ভেঙে ফেলেছে। আরেকবার পহেলা বৈশাখে ১ টা অনুষ্ঠানে গান গাইতে মঞ্চে উঠলাম কিন্তু কেন যেন অস্থির লাগছিলো তাড়াতাড়ি শেষ করে ওকে ফোন করলাম ওর ফ্রেন্ড বলল ও অসুস্থ...শুনে অনেক কাঁদলাম, ও থামাল আমাকে ওই দিনই আমার খুব জ্বর হয়, ওর ফ্রেন্ডের কাছ থেকে ও শুনেও কোনও খবর দিলো না, খুব রাগ হল, অভিমানে ফোন দিলাম না...ফেসবুকে সারাদিন ওর ছবি দেখতাম, ওর ছবি সেভ করে রাখতাম, ৩ মাস আমাদের কোনও কথা হল না... আমার ভাইয়ারা জেনে গেলো সব, খুব মারল আমাকে, যে ভাইয়ারা কোনদিন ধমকও দেয়নি সেই ভাইয়াদের হাতে মার খেলাম!!! আমার ফোন নিয়ে নিলো, বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো..। আসতে আসতে পরিবেশ হালকা হল ৩ মাস পর, ফোন হাতে পেলাম, হাতে পেয়েই ওকে মেসেজ দেই সাথে সাথে উত্তর পেলাম, আমার খবর জানতে চাইল, ওই দিন সারারাত আমাদের কথা হল, ও কিছুতেই মানতে পারলো না, এরপর আরও দুর্বল হয়ে পড়লো আমার প্রতি, খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি, আমার অপারেশনের দরকার হয় ও বলল ভয় নেই ও পাশে থাকবে, আমায় ঢাকায় নেয়া হল টেস্ট এর পর টেস্ট চলছিলো, আমি সুযোগ পেলে ওকে ফোন দিতাম, সারারাতই লুকায় লুকায় migg এ চ্যাট করতাম, ও ভালো কবিতা লিখতে পারতো আর আমাকে শোনাতো, আমি বললাম আমি মরেও যেতে পারি ও বলল মরেই যদি যাবে তবে এতো মায়ায় ফেললে কেন? কেঁদে ফেললো, এরপর শুরু হল আমার লাইফের কালো অধ্যায়...। একটা মেয়ে migg এ আমার খবর নিলো ও নাকি আমার সব জানে, আমায় বলল ওরা নাকি জাস্ট ফ্রেন্ড আমি বোকার মতো বিশ্বাস করলাম, অপারেশনের আগের দিন মেয়ে ফোন দিলো বলল ভয়ের কিছু নেই ঠিক হয়ে যাবে সব,সাইফুলকে বললাম মেয়েটা কে সাইফুলও বলল ওরা ফ্রেন্ড আমার অপারেশন হল ওই মেয়ে খালামনির ক্লাছে ফোন দিয়ে খবর নিতো, এরপর আমি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসলাম হঠাৎ সাইফুল বদলে যেতে লাগলো!, আমি ফোন দিলেও ধরত না ধরলেও বলত বিজি, ওই মেয়েকে ফ্রেন্ড ভাবতাম তাই মনের সব কথা ক্লহুলে বলতাম, মাঝে মাঝে খারাপ ব্যাবহার করত, আমার সন্দেহ হতে লাগলো একদিন জিজ্ঞেস করলাম ভালবাসে কিনা সাইফুলকে, ও বলল না, কিন্তু ২ দিন পর বলল সরি ক (আমি) মিথ্যা বলেছি আমি সাইফুলকে ছাড়া বাঁচবো না, ওইদিনই ওই মেয়ে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খায় অনেক খারাপ অবস্থা দেখে আমি কথা দেই আমি সরে যাবো সাইফুলের লাইফ থেকে, সাইফুলকে বললাম কেন এমন করলো ও তো জানত ওই মেয়ে ওকে ভালবাসে মেয়েটিকে কেন আশা দিয়ে রাখলো, আমার সাথেই বা কেন অভিনয় করলো? ও বলল তোমরা আমায় পাগল বানায় দিচ্ছ, ওই মেয়েকে আমি ভালবাসি না এখন তোমাকেও ভালবাসি না সাইফুলকে বললাম আমি কথা দিছি তাই সরে গেলাম তোমার জীবন থেকে তুমি ওকে ভালোবাসো, ও বলল কাউকে ভালোবাসে না কিন্তু ওরা দুজন সারাদিন ফোনে কথা বলে ফেসবুকে চ্যাট করে, মিগ এ চ্যাট করে। ওই মেয়ে আমায় ফোন দিয়ে খুব বাজে ব্যাবহার করলো আমার সাথে, তবুও আমি মাঝে মাঝে ওকে ফোন দিয়ে সাইফুলের কথা শুনতাম, বলল ওরা খুব ভালো আছে দুজনেই অনেক ভালোবাসে দুজনকে, আমি খুশি ওরা তো সুখে আছে কিন্তু কেন যেন খুব কষ্ট হয়, ওকে মাঝে মাঝে ফোন দিলে রিসিভ করে না, করলেও অনীহা দেখায়। এখনো ভালবাসি আজ ৪ বছর হল ওকে ভালবাসি, ভুলতে পারি না, অপেক্ষায় থাকি জানি ফিরবেনা তবুও আশায় থাকি, এখনো আমি কিছুটা অসুস্থ কিন্তু সাইফুল কোনও খবরও নেয় না... বলতে পারিনা আমার ভুলটা কোথায়? কেন এমন হল আমার সাথে? (ওরা এখনো আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে তাই নাম চেঞ্জ করে লিখলাম, এখনো প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত ওর আশায় বুক বেঁধে রাখি) #চিরকুটের শব্দ
💟 Golu-Molu 💟 #চিরকুটের শব্দ
#চিরকুটের শব্দ
#চিরকুটের শব্দ
#চিরকুটের শব্দ
💞 অবুঝ রাজকুমার 💞 #চিরকুটের শব্দ