জামাই ষষ্ঠীর কিছু ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন আমাদের দেশে সেই অতি প্রাচীনকাল থেকেই বহুদেবত্ববাদের পূজারি হিন্দু মুনিঋষিগণ বিভিন্ন দেবদেবীর পাশাপাশি কিছু উপদেবতারও পুজো করতেন ..‘ষষ্ঠী’ বা ‘মা ষষ্ঠী’ সেইরকমই এক উপদেবতা ..সম্ভবত শিশুমৃত্যু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার অত্যধিক বেশি হওয়ায় শিশুর জন্ম ও স্বাস্থ্যরক্ষা এবং প্রসূতির জীবনরক্ষার ভার ন্যস্ত করা হয় এই মা ষষ্ঠীর কাছে ..তাই সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা ষষ্ঠীর পুজো করে থাকেন.. মা ষষ্ঠীর ব্রত কথা পড়লে সেখানে সন্তানের সুস্থ থাকবার জন্য তাঁর পুজো করার কথা বলা হয়েছে..এখানে জামাই কি ভাবে এসেছে তাই নিয়ে বলছি.. ভারতবর্ষ তথা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একসময় সংস্কার ছিল কন্যা যতদিন না পুত্রবতী হয় ততদিন কন্যার পিতা বা মাতা কন্যাগৃহে পদার্পণ করবেন না ..এই ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিল — সন্তানধারণে সমস্যা বা সন্তান মৃত্যুর (শিশুমৃত্যু) ফলে কন্যার পিতামাতাকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হত কন্যার বাড়ি যাওয়ার জন্য.. সেক্ষেত্রে বিবাহিত কন্যার মুখদর্শন কীভাবে ঘটে? এখানে আমাদের সমাজে মেয়েদের উপর যে অত্যাচার করা হতো তা প্রকাশ পায়.. তাই সমাজের বিধানদাতা জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠীকে বেছে নিলেন জামাই ষষ্ঠী হিসাবে ..যেখানে মেয়ে জামাইকে নেমন্তন্ন করে সমাদর করা হবে ও কন্যার মুখ দর্শন করা যাবে আর সেইসঙ্গে মা ষষ্ঠীর পুজো করে তাঁকে খুশি করা যাতে কন্যা শীঘ্র পুত্রমুখ দর্শন করতে পারে.. বর্তমানে অবশ্য এই সংস্কার পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে — কন্যার পিতামাতা অথবা যে ব্যক্তি কন্যা সম্প্রদান করবেন তিনি এক বৎসর কন্যার বাড়ি যাবেন না বা গেলেও কন্যার বাড়ির অন্নগ্রহণ করবেন না.. যদিও আধুনিক শহুরে জীবনে এই সংস্কার বিশেষ গুরুত্ব পায় না ..কিন্তু এখনও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে কন্যাকে বিভিন্ন করনে শশুরবাড়ি থেকে অহেতুক কথা শুনতে হয়, তাই মেয়ের বাড়ির অন্ন গ্রহণ করেন না অনেকেই..সংস্কার যাই হোক না কেন, মেয়ে জামাইকে ডেকে এনে সমাদর করা ও সেইসঙ্গে কন্যা যাতে সন্তানবতী হয় সেই লক্ষ্যে ‘মা ষষ্ঠীকে’ জুড়ে দিয়ে উৎসবের নামকরণ হল জামাই ষষ্ঠী... জামাই ছেলের মতো তাই তাকে আদর যত্ন করা হয়..কারণ বিয়ের পরে মেয়ে পর হয়ে যায় সেটা বাজে কথা মেয়েকে অনেক সময় জোর করে পর করে দেওয়া হয়.. অযোগ্য অপদার্থ ছেলে হলেও যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে তাই সে জামাই তাই জামাই ষষ্ঠী করতেই হবে এটাই বিধান.. না হলে মেয়েকে এখনও যন্ত্রনা দেওয়া হয়... জমাইকে না ডাকলে মেয়ের অমঙ্গল হবে দেখে বাধ্য হয়ে অনেকে জামাই ষষ্ঠী পালন করেন.. তবে আজকাল ছেলেদের হৃদয় পরিবর্তন হয়েছে.. জামাইরা শশুর শাশুড়ির পাশে এসে দাড়ায়.. বউকে সম্মান দেন.. সকলের সম্মান রক্ষা করেন.. সেই জামাইকে আদর যত্ন করতে অসুবিধা নেই.. তবে দেখেছি জামাই ষষ্ঠী পালন করা মানে কন্যার পিতার উপর একটা চাপ দেওয়া.. আজকের জামাই ষষ্ঠী মানে গলায় সোনার চেন আর ফিনফিনে পাঞ্জাবি পরে জামাইয়ের শশুরবাড়িতে আসা.. তাকে ভাল খাওয়ানোর সাথে তাকে উপহার দেওয়ার নিয়ম আছে.. আমার মতে আপনি যাচ্ছেন জামাই ষষ্ঠী পালন করতে কিন্তু দেখে নিন আপনার এই আসা শশুরবাড়ির উপর অত্যাচার করা হয় যাচ্ছে না তো?? আপনি কি আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার কর্তব্য ঠিক ঠাক পালন করেন... যদি করছেন না তাহলে আপনি কিসের জামাই আপনার কিসের ষষ্ঠী?? আপনিও এমন জামাইকে আসতে বলবেন না যে আপনার কন্যাকে সুখি রাখতে পারে না.. হতে পারে এই জামাই ষষ্ঠী আপনার একটি প্রয়াস কন্যাকে ভাল রাখার যদি তাই হয় তাহলে এটাই যেন হয় আপনার ওই অপদার্থ জামাইয়ের শেষ জামাই ষষ্ঠী.. প্রতিজ্ঞা করুন যে জামাই অত্যাচারী তাকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বেন.. আপনার কন্যা আপনার গর্ব তার মুখের দিকে তাকিয়ে অন্যের ছেলেকে যদি নিজের মনে করতে পারেন তাহলে আপনার কন্যাকেও তার যোগ্য সম্মান এবং অধিকার দেওয়া উচিৎ.. সে তা না পেলে জামাই ষষ্ঠী পালন করা বৃথা..
#

জামাই ষষ্ঠী

জামাই ষষ্ঠী - ShareChat
121 জন দেখলো
4 মাস আগে
অন্য কোথাও শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp
লিংক কপি করুন
মুছে ফেলুন
Embed
আমি এই পোস্ট এর বিরুদ্ধে, কারণ...
Embed Post