🎀🧿...Desi Girl Official...🧿🎀
707 views • 1 months ago
আজকে বাবার ১৩৬ তম তিরোধান দিবস!
এ যাবৎ বাবা লোকনাথ কে যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে একটি কথা খুব সহজেই বলা যায় বাবার তিরোধান হয়েছে সেটা বলা অনেকাংশে ভুল। অথচ বাবার সমসাময়িক অন্যান্য মহামানবের ক্ষেত্রে আমরা তিরোধানই বলে থাকি। কিন্তু ভক্তের হিতের কারণে যিনি সর্বদা জাগ্রত, যিনি ভক্তদের বলছেন রণে-বনে, জলে-জঙ্গলে যেখানেই থাকো , বাবাকে স্মরণ করবে, বাবা রক্ষা করবেন। সেক্ষেত্রে এত সহজে কি তিরোধান বলা যায়?
আজ বাবার নশ্বর দেহটির পঞ্চভূতে বিলীন হবার দিবস বলতে পারি। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষায় শক্তির নিত্যতা সূত্রের মতোই বাবার উপস্থিতি এখনো ভক্তদের রক্ষা করে চলেছে। ভক্তদের জীবনের বহু ঘটনা তার সাক্ষী।
বাবার জীবদ্দশায় বাবার এক অনুগামী অত্যন্ত জোর করেছিলেন যাতে তিনি তার মেয়ের বিয়েতে গিয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা করেন, মেয়েকে আশীর্বাদ করেন। প্রথমটায় আপত্তি থাকলেও ভক্তের জোরে তিনি না বলতে পারেন নি।
বিবাহ পর্ব সমাপ্ত হলে বাবাকে না দেখতে পেয়ে ভক্ত সোজা তাঁর কাছে চলে যান, কেন তিনি গেলেন না সে বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন তিনি এতদিন পর্যন্ত মিথ্যা কখনো বলেন নি, তাই শত আপত্তি থাকা সত্ত্বেও যেহেতু বাবা কথা দিয়েছিলেন, তিনি গিয়েছিলেন।
ভক্ত অবাক। কারণ বাবা আসবেন বলে সেই ব্যক্তি সকলকে অগ্রিম জানিয়েও রেখেছিলেন। তাই ভিড়ের মধ্যে যে তিনি বাবাকে ঠাওর করতে পারবেন না এ সম্ভব নয়।
বাবার চোখের কোণায় জল আসে। তিনি ভক্তকে স্মরণ করালেন যে ঐদিন কোনো পথের কুকুরকে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন কিনা!
এখানে ভক্তের অবাক লাগে। হ্যাঁ সত্যিই এক পথের কুকুর সেদিন জোর করে রান্নার হেঁসেলে ঢুকে পড়ছিল। ঐ ব্যক্তি চ্যালা কাঠ নিয়ে সেই প্রাণীকে প্রহার করেন।
বাবা ঘুরে গিয়ে নিজের পিঠ তাকে দেখালেন, তিনি দেখতে পেলেন সেই চ্যালা কাঠের ছাপ, আঘাতের চিহ্ন!
ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেলেন, বদলে ভক্ত বসিয়ে দিলো চ্যালা কাঠের ছাপ! বাবা বুঝিয়ে দেন সেদিনের সেই কুকুরের মধ্যেও তিনি ছিলেন। সকল জীবের মধ্যে বিদ্যমান। নিরপরাধ কাউকে প্রহার করলে সে প্রহার যে বাবার গায়ে লাগে! এখানে বাবা শুধু একটি নির্দিষ্ট আত্মা নন, সাধনার দ্বারা বাবা নিজেকে পরমাত্মার সাথে স্থাপন করেছেন। যেমনটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে যত সৈন্যের পীড়ন হয়েছে সে পীড়ন কিন্তু তাঁরই, আবার বিজয়ও তাঁর!
ভক্ত যারপরনাই বিস্মিত। লুটিয়ে পড়েন বাবার পদতলে। বাবা এখানেও ভক্তের প্রতি দয়াবান। বুঝলেন অনুতাপের আগুনে পাপের অস্তিত্ব বিনাশ হয়েছে।
এই জগতে যত প্রাণ আছে, তার সবই এক পরমাত্মার অংশ। আমরা বাবাকে দেবাদিদেবের অংশ বলি, বাবা শুধুই মহাদেব নন, সাধনার দ্বারা তিনি সেই অখণ্ড ব্রহ্মের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছেন যার মধ্যে মিশে যায় জগৎপিতা-জগন্মাতা! সব অভিন্ন হয়ে যায়! তাই বিশ্বের কোনো প্রান্তে থাকা রাজদরবারের রাজাও তিনি আবার কোথাও পীড়ন সহ্য করা অবলা জীবটিও তিনিই!
আর যখন এইভাব সাধকের অন্তরে চলে আসে, সে কারোর ক্ষতি করতে পারে না। সে সকলের কষ্ট বোঝে, চেষ্টা করে তা নিরাময় করার।
১৮৯০ সাল, বঙ্গাব্দ অনুযায়ী তারিখটি ১২ই জ্যৈষ্ঠ ভক্তদের বাবা জানিয়েছেন এই দেহ খাঁচা থেকে তাঁর মুক্তির সময় আসন্ন। আর সত্যিই ১৯শে জ্যৈষ্ঠ তিনি দেহ খাঁচা পরিত্যাগ করলেন। কিন্তু ভক্তদের পরিত্যাগ করলেন না! বাবার সেই উক্তি রণে-বনে, জলে জঙ্গলে যেখানেই বিপদে থাকো, বাবাকে স্মরণ করলে বাবাই রক্ষা করবেন।
সেই বিশ্বাসে বহু ভক্ত আজকেও বাবার আশীর্বাদ পাচ্ছেন। এ বিষয় সকলের নয়, প্রত্যেকের কাছে তার গুরু সর্বশ্রেষ্ঠ। আমরা হয়তো অনেকেই ব্যঙ্গ করি এই গুরু নির্ভরতাকে, কিন্তু প্রত্যেকের বিশ্বাস নিজস্ব। তা মিথ্যা হয় না। আজকেও বহু ভক্তের কাছে যখন বাবার উপস্থিতি শুনি , তখন মনে হয় সবকিছুই সম্ভব!
আজ সেই ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, বাবাকে স্মরণ করবো। জয় বাবা লোকনাথ! আপনাদের কল্যাণ হোক! শুভবুদ্ধির উদয় হোক! অন্যের কষ্টে আমাদের উল্লাস আজ বেশি, প্রার্থনা যেন সহমর্মিতা না চলে যায়... #🙂ভক্তি😊 #🙂সনাতন ধর্ম🙏 #জয় বাবা লোকনাথ ## আজ ১৯ জৈষ্ঠ্য বাবা লোকনাথের ব্রহ্মচারীর তিতোধন তিথি ১৪২৮, জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী #🙏🙏 #🙏জয় বাবা লোকনাথ 🙏🙏
15 likes
4 shares