💸পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী

💸পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী

নোট বাতিলের দ্বিতীয় বার্ষিকী আর ঘটা করে ‘পালন’ করছে না কেন্দ্রীয় সরকার বা কেন্দ্রের শাসকদল। প্রায় সব তথ্যেই প্রমাণ দুবছর আগের ওই পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল তো দেয়ইনি, বরং ক্ষতি করেছে অর্থনীতির বহু ক্ষেত্রে। ২০১৬-র ৮ই নভেম্বর নোট বাতিলের কথা ঘোষণার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দাবি ছিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট প্রত্যাহার করে নিলে কালো টাকা ধরা পড়ে যাবে। ওই দুই মূল্যের নোটই ছিল মুদ্রা বাজারের ৮৬শতাংশ। নোট বাতিলের পরে ২০১৬সালে সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, সরকার আশা করছে ২৫থেকে ৩০শতাংশ নোট জমাই পড়বে না। ওই পরিমাণ কালো টাকাই নষ্ট হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ওই টাকা ‘মূল্যহীন কাগজের টুকরোয়’ পরিণত হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ২০১৭-১৮ রিপোর্টে জানানো হয়েছে ২০১৬-র ৮ই নভেম্বর বাজারে ওই দুই মূল্যের যত নোট ছিল তার ৯৯.২শতাংশই ব্যাঙ্কে ফেরত এসে গেছে। সরকারের কাহিনি শুধু ছেলে ভুলানো গল্প বলেই প্রমাণিত হয়নি, উলটে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা হয়ে গেছে। কালো টাকার বৈধতা দাওয়াই নোট বাতিলের প্রথম ফলাফল। প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় দাবি ছিল জাল টাকার কারবার বন্ধ হয়ে যাবে। বাস্তবে ৫০০ ও ১০০০টাকার প্রায় সব নোটই ব্যাঙ্কে জমা পড়ে যাওয়ায় জাল টাকাও জমা পড়ে গেছে। ফলে প্রাথমিক গণনায় ঘোষিত জাল টাকার সংখ্যা কিছু বেড়েছিল। নতুন সিরিজের ২হাজার টাকার নোট চালু হবার পর ২০১৭-১৮সালেই ১৮ হাজারটি জাল ওই মূল্যের নোট ধরা পড়েছে। চলতি আর্থিক বছরে তা আরও বাড়বে। নোট বাতিলের সময়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশে ঢাক বাজিয়ে প্রচার করা হয়েছিল নতুন নোটে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে যে তা কোথায় আছে তা বের করা যাবে। ফলে ওই নোট দিয়ে বেআইনি কাজ করা যাবে না। এখন সকলেই জানেন বহুলপ্রচারিত ওই গল্পটি অসত্য। সরকারের তৃতীয় দাবি ছিল, সন্ত্রাসবাদীদের টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাবে। কাশ্মীর প্রমাণ করছে মোটেই তা হয়নি। বরং গত দুবছরে উগ্রপন্থী তৎপরতা অনেক বেড়েছে। নোট বাতিলের সময়ে ঘোষিত সবকটি যুক্তিই অকেজো প্রমাণিত হওয়ায় সরকারের তরফে নতুন নতুন ভাষ্য দেওয়া শুরু হয়। তার একটি হলো কর সংগ্রহ বেড়েছে। প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে বাস্তবতা হলো ২০১৪-১৫আর্থিকবর্ষে প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ বেড়েছিল ৬.৬শতাংশ, ২০১৬-১৭-তে বাড়ে ১৪.৫শতাংশ, ২০১৭-১৮-তে সরকারের দাবিমতো ১৮শতাংশ। কিন্তু এই হারে বৃদ্ধির সঙ্গে যে নোট বাতিলের কোনও সম্পর্ক নেই তার প্রমাণ ২০১০-১১-তেও বৃদ্ধির হার ছিল ১৮শতাংশ। এই বৃদ্ধি স্থায়ীও হয় না, অনেক সময়েই হ্রাস পায়। পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে এখন পণ্য পরিষেবা কর চালু হয়েছে। হিসাব বলছে: ২০১২-১৩-তে পরোক্ষ কর বৃদ্ধির হার ছিল ১২.৬৪শতাংশ, ২০১৩-১৪-তে ছিল ২০শতাংশ, ২০১৬-১৭-তে ২৮ শতাংশ ( নোট বাতিলের আগে ৮মাসসহ), ২০১৭-১৮-তে ২০শতাংশ। ২০১৭-১৮-তে হয়েছে ৫.৬শতাংশ, ২০১৮-১৯-এর প্রথম ছমাসে ১.৮৩ শতাংশ। নোট বাতিলের পরেই কেন্দ্রের শ্রমমন্ত্রকের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল তিন মাসেই দেড় লক্ষ কাজ খোয়া গেছে। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি (সি এম আই ই) ২০১৭-র জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের হিসাবে ১৫লক্ষ লোকের কাজ চলে যাবার রিপোর্ট করেছিল। ২০১৮-র মার্চে সি এম আই ই সমীক্ষা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দেশে শ্রমশক্তি ব্যবহারের হার কমে গিয়েছে। ১৫বছরের বেশি কর্মসক্ষম মানুষের মধ্যে কর্মরতদের শতাংশ হিসাব করে বের করা হয় এই হার। ২০১৮-তে শ্রমশক্তি ব্যবহারের হার ৪০শতাংশ। ২০১৬-তে এই হার ছিল ৪৩শতাংশ। কমেছে ৩শতাংশ। তার মানে প্রায় ১.৪৩কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছোট ও মাঝারি ক্ষেত্র। নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে প্রথম ৩৪দিনের মধ্যেই শিল্প ক্ষেত্রে কাজ হারিয়েছেন ৩৫শতাংশ শ্রমিক, আয় কমেছে ৫০ শতাংশ। যেসব মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা বড় মাপের রাস্তা তৈরি‍‌র কাজে যুক্ত, সেগুলি ৩৫ শতাংশ শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছিল। রপ্তানিতে যুক্ত বিদেশি কোম্পানিসহ মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প সংস্থাগুলিতে কাজ হারিয়েছেন ৩০ শতাংশ শ্রমিক কর্মচারী। পরবর্তীকালে পরিস্থিতি কিছু স্থিতিশীল হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে ঋণদানের পরিমাণ কমে গেছে। কৃষি ও গ্রামীণ ক্ষেত্রে নোট বাতিলের প্রাথমিক প্রভাব পড়েছিল ফসলের দাম কমে যাওয়ায়। সেই ধাক্কা থেকে দুবছর পরেও কৃষিক্ষেত্র মুক্ত হতে পারেনি। সরকার বর্ধিত সহায়কমূল্য ঘোষণা করলেও দেখা যাচ্ছে সহায়কমূল্যের থেকে অনেক কম দামে ফসল বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ কৃষি বাজারে। প্রধানমন্ত্রী দুবছর আগে অর্থনীতি ‘নগদহীন’ হয়ে যাবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। পরে অবশ্য তা ‘কম নগদ’ স্তরে নেমে আসে। একথা ঠিকই যে নোট বাতিলের পরপরই বিশেষ দুএকটি সংস্থার মাধ্যমে লেনদেন দ্রুত বেড়ে যায়। অস্বাভাবিক মুনাফাও করে তারা, প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপনও দেয়। বাস্তবে ভারতীয় অর্থনীতিতে নগদের ব্যবহার আদৌ কমেনি। খুচরো লেনদেনের ৯৭শতাংশ হচ্ছে নগদে বা ব্যাঙ্কের চেকে। বাতিল নোটের ৯৯.২% ফেরত এসেছে। জাল টাকার কারবার ফের চালুই। নগদের ব্যবহার কমেনি।6 লক্ষ লক্ষ কাজ খোয়া গেছে, তা আর ফেরত আসেনি। কৃষি বাজারে ধাক্কা এখনও সামলানো যায়নি। সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ক্ষেত্রে ।
#

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝 - + 2 - THE UPDATE NEWS - 2 . . . a # Demonetisation Disaster # নােট বাতিলের - ২ বছর নােট বাতিলের দ্বিতীয় বার্ষিকী আর ঘটা করে পালন করছে না কেন্দ্রীয় সরকার বা কেন্দ্রের শাসকদল , কারন প্রায় সব তথ্যেই প্রমাণ দুবছর আগের ওই পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল তাে দেয়ইনি , বরং ক্ষতি করেছে অর্থনীতির বহু ক্ষেত্রে 66209 | 1000 ব্দ জন্তা 8LF 42 1996 NET INDIA IDIA নােট বাতিলের দ্বিতীয় বার্ষিকী কেন বিজেপি আর ঘটা করে পালন করছে না জানলে অবাক হবেন | T . . . - ShareChat
7.8k views
3 months ago
Share on other apps
Facebook
WhatsApp
Copy Link
Delete
Embed
I want to report this post because this post is...
Embed Post