💸পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী

💸পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী

নরেন্দ্র মোদি বলেছিলন মাত্র ৫০ দিনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু দুবছর কাটলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। উল্টে ভারতীয় অর্থনীতিতে তৈরি হয়ে গিয়েছে এক দুরারোগ্য স্থায়ী ক্ষত। ২০১৬ সালে আজকের তারিখে মোদি দেশবাসীকে বলেছিলেন, কালো টাকা ফেরত আসবে, দুর্নীতি শেষ হয়ে যাবে এবং ভারতের বাজার থেকে জাল নোটের উপদ্রব মুছে যাবে। তার জন্য দেশবাসীকে সামান্য কষ্ট করতে হবে। তাঁর আশ্বাস ছিল, এছাড়া আর কোনও প্রভাব পড়বে না অর্থনীতির ওপরে। দুবছর পর ঠিক কোন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে ? প্রথমত, নোটবন্দির পরে বাতিল হওয়া ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট ৯৯ শতাংশই ফিরে এসেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে। অর্থাৎ কালো টাকা তো ধরা পড়েই নি, উল্টে যার কাছে যত হিসাব বহির্ভূত টাকা ছিল, তাও ব্যাঙ্কের মারফৎ সাদা হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশে ঘুষ নেওয়া, অবৈধ লেনদেন, হাওয়ালা কারবার যে নোটবন্দির পরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এমন দাবি স্বয়ং মোদিও করতে পারবেন না। তৃতীয়ত, নোটবন্দির সময়ে ভারতীয় অর্থনীতিতে তিন শতাংশেরও কম জাল নোট ছিল। নোটবন্দির ফলে প্রাথমিকভাবে ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট অচল হয়ে গেলেও এক বছরের পর থেকেই নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার হতে শুরু করেছে। যে তিনটি কারণে মোদি আজ থেকে দুবছর আগে দেশবাসীকে সাময়িক কষ্ট সহ্য করতে বলেছিলেন, সেই কারণগুলি একটিও ফলপ্রসূ হয়নি নোটবন্দির ফলে। কিন্তু আমজনতার কষ্টটি কেবল সাময়িক হল না। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেইদিনই ৪০ মিনিটের মধ্যেই নোটবন্দির তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। নোটবন্দির ফলে ব্যাঙ্কের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে নোট বদলাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। নোটবন্দির ফলে সরাসরি কাজ হারিয়েছেন ৩৭ লক্ষ মানুষ। ব্যবসা বন্ধ ইত্যাদি কারণে জীবিকা হারিয়েছেন আরও এক কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ। চামড়া, পোশাক, কৃষি এবং কৃষিজাত পণ্যের বাণিজ্যে স্থায়ী প্রভাব পড়েছে। কেননা এই সমস্ত বাণিজ্যে নগদের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে বড় কথা নোটবন্দির ফলে দেশের খুচরো ব্যবসায় একটি স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। যা গত দুবছরে নিরাময় করা সম্ভব হয়নি। বিস্তর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রফতানি বাণিজ্যেও। আচমকা নোটবন্দির ফলে দেশের অর্থনীতিতে অজস্র নেতিবাচক প্রভাব যে পড়তে পারে, সে বিষয়েয়কি মোদি ওয়াকিবহাল ছিলেন না ? ছিলেন, যথেষ্টই ছিলেন। আসলে নোটবন্দি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক মহলের মতে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সপা, বসপা এবং কংগ্রেসকে ঠুঁঠো জগন্নাথ করে দেওয়ার জন্যই এই মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছিলেন মোদি। হাতেনাতে তার ফল পাওয়া গিয়েছে। বিজেপি জিতেছে উত্তর প্রদেশ বিধানসভা ভোটে।
#

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝 - ShareChat
5.3k views
4 months ago
নোট বাতিল আসলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রকে বিঁধলেন মমতা এদিন টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, 'আজ নোটবাতিল বিপর্যয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। প্রথম দিন থেকে আমি একই কথা বলে আসছি। এখন খ্যতনামা অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষও একই কথা বলছেন।' নিজস্ব প্রতিবেদন: নোট বাতিলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ফের একবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন একগুচ্ছ টুইট করে কেন্দ্রীয় সরকারের মুন্ডুপাত করেন তিনি। এমনকী এই সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছে, জনগণ তাদের শাস্তি দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মমতা। বৃহস্পতিবার নোট বাতিলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে কালা দিবস হিসাবে পালন করছে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল। সেই তালিকায় রয়েছে তৃণমূলও। এদিন #DarkDay-তে টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী। পর পর টুইটে নোটবাতিলকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। এদিন টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, 'আজ নোটবাতিল বিপর্যয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। প্রথম দিন থেকে আমি একই কথা বলে আসছি। এখন খ্যতনামা অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষও একই কথা বলছেন।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, 'সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে সরকার।' নোট বাতিলকে একটি 'দুর্নীতি' বলে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের শাস্তি দেবে জনগণ। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নোট বাতিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে টুইটে প্রতিবাদ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিক কোমর ভেঙে দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর পরও এই ইস্যুতে একাধিকবার সরব হয়েছেন মমতা।
#

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝 - ShareChat
4.2k views
4 months ago
নোট বাতিলের ২ বছর পরও তার ক্ষত এখনও দগদগে। এমনই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।বৃহস্পতিবার ছিল মোদী সরকারের নোটবন্দির দু’বছর পূর্তি। এনিয়ে বিরোধী ও সরকারের মধ্যে এখনও চাপানউতোর চলছে। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মনমোহন সিং। কেন্দ্রকে নিশানা করে মনমোহন বলেন, বলা হয় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু মানুষ ভুলে যায়। কিন্তু নোটবন্দির ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। সময় যত বেড়েছে ততই নোট বাতিলের ক্ষত আরও দগদগে ভাবে বেরিয়ে পড়ছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের অর্থনীতিতে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে এর জন্য দেশের মানুষকে বহুদিন ভুগতে হচ্ছে। বুঝতে হবে অর্থনৈতিক নীতি তৈরির ক্ষেত্রে আরও সাবধানী হওয়া প্রয়োজন। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর আচমকাই ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পর থেকে দেশে প্রবল হইচই পড়ে যায়। এনিয়ে বরাবরই সরব ছিলেন মনমোহন সিং। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, নোট বাতিলের নামে যা করা হয়েছে তা একেবারেই বিবেচনাহীন পদক্ষেপ। দেশের অর্থনীতিতে এর কুফল এখনবও দেখা যাচ্ছে। জিডিপি বৃদ্ধির হার কমার পাশাপাশি দেশের ছোট ও মাঝারি মাপের ব্যবসায়ীরা প্রবল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বয়স, পেশা, ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের ওপর এর কু-প্রভাব পড়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নোট বাতিল পর বিজেপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে কালোটাকার বিরুদ্ধে জেহাদ বলে বর্ণনা করলেও বাস্তবে তা হয়নি। মনমোহন বলেন, দেশের অর্থনীতি ও কাজের বাজারে এর প্রবল প্রভাব পড়ে। এখনও এর প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপরে রয়েছে।
#

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝 - ShareChat
1.2k views
4 months ago
নোট বাতিলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ফের একবার মুখ বাঁচাতে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। জেটলির দাবি, কালো টাকা উদ্ধার নয়, নোট বাতিলের লক্ষ্য ছিল করফাঁকি রোখা। সেই লক্ষ্যে সফল হয়েছে সরকার। দু'বছর আগে ৮ নভেম্বর রাতে দেশের সমস্ত ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিল বলে ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দূরদর্শনে এক ভাষণে মোদী বলেন, দেশে কালোটাকার কারবার রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার। এমনকী এই পদক্ষেপে কাজ না হলে দেশবাসী যে সাজা দেবে তা তিনি মাথা পেতে নেবেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শুরু থেকেই নোট বাতিলের বিরোধিতায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, নোট বাতিলের ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উলটে পুরনো নোট বদলাতে গিয়ে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি তোলে একাধিক বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার নোটবাতিলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে এক ফেইসবুক পোস্টে সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দেন অরুণ জেটলি। তাতে তিনি লিখেছেন, 'প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির প্রসারের জন্য সরকার যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে তারই একটি নোট বাতিল।' রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুসারে সেই সময় বাজারে থাকা ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের ৯৯.৩ শতাংশই ব্যাঙ্কে জমা পড়েছিল। ফলে নোট বাতিলের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদিন জেটলির বক্তব্যে স্পষ্ট, কালো টাকা উদ্ধারের জিগির তুলে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাতে সফল হয়নি সরকার। ফলে নোটবাতিলের পরোক্ষ পাওনাগুলিকে প্রত্যক্ষ হিসাবে দেখাতে চাইছেন জেটলি।
#

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝 - ShareChat
2.2k views
4 months ago
নোট বাতিলের দ্বিতীয় বার্ষিকী আর ঘটা করে ‘পালন’ করছে না কেন্দ্রীয় সরকার বা কেন্দ্রের শাসকদল। প্রায় সব তথ্যেই প্রমাণ দুবছর আগের ওই পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল তো দেয়ইনি, বরং ক্ষতি করেছে অর্থনীতির বহু ক্ষেত্রে। ২০১৬-র ৮ই নভেম্বর নোট বাতিলের কথা ঘোষণার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দাবি ছিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট প্রত্যাহার করে নিলে কালো টাকা ধরা পড়ে যাবে। ওই দুই মূল্যের নোটই ছিল মুদ্রা বাজারের ৮৬শতাংশ। নোট বাতিলের পরে ২০১৬সালে সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, সরকার আশা করছে ২৫থেকে ৩০শতাংশ নোট জমাই পড়বে না। ওই পরিমাণ কালো টাকাই নষ্ট হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ওই টাকা ‘মূল্যহীন কাগজের টুকরোয়’ পরিণত হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ২০১৭-১৮ রিপোর্টে জানানো হয়েছে ২০১৬-র ৮ই নভেম্বর বাজারে ওই দুই মূল্যের যত নোট ছিল তার ৯৯.২শতাংশই ব্যাঙ্কে ফেরত এসে গেছে। সরকারের কাহিনি শুধু ছেলে ভুলানো গল্প বলেই প্রমাণিত হয়নি, উলটে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা হয়ে গেছে। কালো টাকার বৈধতা দাওয়াই নোট বাতিলের প্রথম ফলাফল। প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় দাবি ছিল জাল টাকার কারবার বন্ধ হয়ে যাবে। বাস্তবে ৫০০ ও ১০০০টাকার প্রায় সব নোটই ব্যাঙ্কে জমা পড়ে যাওয়ায় জাল টাকাও জমা পড়ে গেছে। ফলে প্রাথমিক গণনায় ঘোষিত জাল টাকার সংখ্যা কিছু বেড়েছিল। নতুন সিরিজের ২হাজার টাকার নোট চালু হবার পর ২০১৭-১৮সালেই ১৮ হাজারটি জাল ওই মূল্যের নোট ধরা পড়েছে। চলতি আর্থিক বছরে তা আরও বাড়বে। নোট বাতিলের সময়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশে ঢাক বাজিয়ে প্রচার করা হয়েছিল নতুন নোটে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে যে তা কোথায় আছে তা বের করা যাবে। ফলে ওই নোট দিয়ে বেআইনি কাজ করা যাবে না। এখন সকলেই জানেন বহুলপ্রচারিত ওই গল্পটি অসত্য। সরকারের তৃতীয় দাবি ছিল, সন্ত্রাসবাদীদের টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাবে। কাশ্মীর প্রমাণ করছে মোটেই তা হয়নি। বরং গত দুবছরে উগ্রপন্থী তৎপরতা অনেক বেড়েছে। নোট বাতিলের সময়ে ঘোষিত সবকটি যুক্তিই অকেজো প্রমাণিত হওয়ায় সরকারের তরফে নতুন নতুন ভাষ্য দেওয়া শুরু হয়। তার একটি হলো কর সংগ্রহ বেড়েছে। প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে বাস্তবতা হলো ২০১৪-১৫আর্থিকবর্ষে প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ বেড়েছিল ৬.৬শতাংশ, ২০১৬-১৭-তে বাড়ে ১৪.৫শতাংশ, ২০১৭-১৮-তে সরকারের দাবিমতো ১৮শতাংশ। কিন্তু এই হারে বৃদ্ধির সঙ্গে যে নোট বাতিলের কোনও সম্পর্ক নেই তার প্রমাণ ২০১০-১১-তেও বৃদ্ধির হার ছিল ১৮শতাংশ। এই বৃদ্ধি স্থায়ীও হয় না, অনেক সময়েই হ্রাস পায়। পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে এখন পণ্য পরিষেবা কর চালু হয়েছে। হিসাব বলছে: ২০১২-১৩-তে পরোক্ষ কর বৃদ্ধির হার ছিল ১২.৬৪শতাংশ, ২০১৩-১৪-তে ছিল ২০শতাংশ, ২০১৬-১৭-তে ২৮ শতাংশ ( নোট বাতিলের আগে ৮মাসসহ), ২০১৭-১৮-তে ২০শতাংশ। ২০১৭-১৮-তে হয়েছে ৫.৬শতাংশ, ২০১৮-১৯-এর প্রথম ছমাসে ১.৮৩ শতাংশ। নোট বাতিলের পরেই কেন্দ্রের শ্রমমন্ত্রকের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল তিন মাসেই দেড় লক্ষ কাজ খোয়া গেছে। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি (সি এম আই ই) ২০১৭-র জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের হিসাবে ১৫লক্ষ লোকের কাজ চলে যাবার রিপোর্ট করেছিল। ২০১৮-র মার্চে সি এম আই ই সমীক্ষা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দেশে শ্রমশক্তি ব্যবহারের হার কমে গিয়েছে। ১৫বছরের বেশি কর্মসক্ষম মানুষের মধ্যে কর্মরতদের শতাংশ হিসাব করে বের করা হয় এই হার। ২০১৮-তে শ্রমশক্তি ব্যবহারের হার ৪০শতাংশ। ২০১৬-তে এই হার ছিল ৪৩শতাংশ। কমেছে ৩শতাংশ। তার মানে প্রায় ১.৪৩কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছোট ও মাঝারি ক্ষেত্র। নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে প্রথম ৩৪দিনের মধ্যেই শিল্প ক্ষেত্রে কাজ হারিয়েছেন ৩৫শতাংশ শ্রমিক, আয় কমেছে ৫০ শতাংশ। যেসব মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা বড় মাপের রাস্তা তৈরি‍‌র কাজে যুক্ত, সেগুলি ৩৫ শতাংশ শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছিল। রপ্তানিতে যুক্ত বিদেশি কোম্পানিসহ মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প সংস্থাগুলিতে কাজ হারিয়েছেন ৩০ শতাংশ শ্রমিক কর্মচারী। পরবর্তীকালে পরিস্থিতি কিছু স্থিতিশীল হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে ঋণদানের পরিমাণ কমে গেছে। কৃষি ও গ্রামীণ ক্ষেত্রে নোট বাতিলের প্রাথমিক প্রভাব পড়েছিল ফসলের দাম কমে যাওয়ায়। সেই ধাক্কা থেকে দুবছর পরেও কৃষিক্ষেত্র মুক্ত হতে পারেনি। সরকার বর্ধিত সহায়কমূল্য ঘোষণা করলেও দেখা যাচ্ছে সহায়কমূল্যের থেকে অনেক কম দামে ফসল বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ কৃষি বাজারে। প্রধানমন্ত্রী দুবছর আগে অর্থনীতি ‘নগদহীন’ হয়ে যাবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। পরে অবশ্য তা ‘কম নগদ’ স্তরে নেমে আসে। একথা ঠিকই যে নোট বাতিলের পরপরই বিশেষ দুএকটি সংস্থার মাধ্যমে লেনদেন দ্রুত বেড়ে যায়। অস্বাভাবিক মুনাফাও করে তারা, প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপনও দেয়। বাস্তবে ভারতীয় অর্থনীতিতে নগদের ব্যবহার আদৌ কমেনি। খুচরো লেনদেনের ৯৭শতাংশ হচ্ছে নগদে বা ব্যাঙ্কের চেকে। বাতিল নোটের ৯৯.২% ফেরত এসেছে। জাল টাকার কারবার ফের চালুই। নগদের ব্যবহার কমেনি।6 লক্ষ লক্ষ কাজ খোয়া গেছে, তা আর ফেরত আসেনি। কৃষি বাজারে ধাক্কা এখনও সামলানো যায়নি। সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ক্ষেত্রে ।
#

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝

পুরনো নোটের মৃত্যুবার্ষিকী 😝 - ShareChat
7.8k views
4 months ago
No more posts
Share on other apps
Facebook
WhatsApp
Copy Link
Delete
Embed
I want to report this post because this post is...
Embed Post