🔥🔥 শিব হতেই উৎপন্ন দুই সত্ত্বার যুদ্ধ - অহংকারী অসুর অন্ধক এবং অহংকারবিনাশক দেবদেব মহাকালের কাহিনী 🔥🔥
🚩🚩 যখন কেবল মাত্র সৃষ্টি ছিল এবং দেবতা ও অসুর একে অপরের প্রতিবিম্ব মাত্র ছিল , সেই সময় জন্ম নিল এক সত্তা অন্ধক ।
সে জন্মেছিল অন্ধকার থেকে তাই সে ছিল অন্ধ । চক্ষুহীন এক দানব , যার চোখ ছিল না , তবু যার দৃষ্টি ছিল অহংকার ও ক্ষমতার লোভে পূর্ণ ।
🔱 একদিন কৈলাসে দেবী পার্বতী কৌতুকবশতঃ শিবের নয়ন ঢেকে ধরলেন । মুহূর্তেই সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড অন্ধকারে নিমজ্জিত হল । সেই অন্ধকার জমাট বেঁধে , শিবের তৃতীয় নয়নের অগ্নিতাপের স্পর্শ পেয়ে জন্ম নিল - অন্ধক ।
পার্বতীর মাতৃস্নেহ ও করুণায় সে বেঁচে রইলো এবং শিবের অংশ হওয়ায় পেল অমরত্ব । কিন্তু , শর্ত ছিলো - "যতদিন সে দেবীকে মাতৃস্বরূপ বলে মনে জানবে , ততদিন তার বিনাশ হবে না ।
কিন্তু অন্ধক দেবীকে মাতৃরূপে জানলো না , সে চিনল কেবল ক্ষমতা ।
তাই সে ক্ষমতা লাভের আশায় শুরু করলো ব্রহ্মার মহাতপস্যা , তার সেই তপস্যার বলে পুরো ইন্দ্রলোক কেঁপে উঠল ।
অন্ধকের এমন তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা তাকে বর দিলেন - “তুমি অজেয় হবে ততদিনই , যতদিন তুমি দেবীকে মাতৃরূপে দেখবে । কিন্তু কখনো যদি তুমি শক্তির অপব্যবহার করো ও দেবীর প্রতি আসুরিক মনোভাব পোষণ করো তবে , তুমি শিবাংশ হওয়ায় সকলের কাছে অবধ্য হলেও মহাদেব বা তার কোনো অংশের দ্বারা ধ্বংস হবে ।”
কিন্তু অসুরের বুদ্ধি তো কুটিল তাই অন্ধক ভাবলো - "আমি যখন শিবেরই অংশ তাই যিনি শিবের , তিনি আমারও হবেন । আর এমনিতেও শিবের পত্নীই সর্বশক্তিময়ী দেবী , তাই সে আমার হলে আমিও সর্বশক্তি সমন্বিত হয়ে অজেয় হবো ।"
এই থেকেই , তার অন্তরে জন্ম নিল বিকৃত কামনা , আর এই কামনাই তাকে অন্ধক থেকে অন্ধকাসুর বানাল ।
তার সেই আসুরিক বিকৃত কামনা থেকেই যখন অন্ধক কৈলাস আক্রমণ করল , আকাশ রক্তিম হল , পাহাড় কাঁপল , দেবলোক আদি সর্বলোক ভীত হয়ে পড়ল, সপ্ত সমুদ্রাদি গঙ্গার জল স্তব্ধ হয়ে গেল ।
শিব তখনও ধ্যানমগ্ন ও শান্ত । কিন্তু সেই শান্তি ছিল যেনো বীভৎস প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের আগে নিস্তব্ধতা বা শ্মশানের নীরবতা ।
অন্ধক , ধ্যানস্থ শান্ত বসে থাকা শিবের দিকে চেয়ে হাসল , আসুরিক মনোভাবাপন্ন চক্ষুহীন মুখে দাঁতের সারি ঝলসে উঠল ।
তখন শিবের শরীর থেকে বেরিয়ে এলেন এক বীভৎস করাল মুখ ও বিকৃত দাঁতের রুদ্র রূপ অবতার - মহাকাল ভৈরব । তাঁর গলায় নরকঙ্কাল , জিহ্বা লাল , চোখে মৃত্যু , নখ গুলি যেনো একেকটি ধারালো অস্ত্র আর অট্টহাসিতে - প্রলয়ের সঙ্গীত ।
বিভৎস অথচ সুন্দর সংহার রুদ্রস্বরূপ সেই
ভৈরব যখন ত্রিশূল নিক্ষেপ করলেন অন্ধকের দিকে তখন প্রতিটি রক্তবিন্দু থেকে জন্ম নিল আরও অন্ধক । সেই সহস্র অন্ধক চারদিকে ছুটে বেড়াল ।
তখন ভৈরব যা করলেন , তা ভয়ংকর কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে অপূর্ব । তিনি প্রতিটি অন্ধককে নিজের দেহে শোষণ করতে লাগলেন ।
রক্ত, মাংস, অহংকার - সবই তাঁর মধ্যে বিলীন হল ।
ভৈরব অন্ধককে বিনাশ করতে করতে বললেন - “অহংকার যত জন্ম নেয় , ততই আমি তাকে ধারণ করতে সজাগ হয়ে উঠি । কারণ বিনাশ আমি নই , আমি পরিবর্তন , আমি অহংকারের কাল ।”
শুলাঘাতে মৃতপ্রায় অন্ধক যখন শিবের বুকে মিলিয়ে গেল , তখন এক শিশুর কান্না শোনা গেল এবং সেই মিলিয়ে যাওয়া দেহ থেকে এক নব দৈব শিশুর উৎপন্ন হোলো ।
কিন্তু , এই শিশু অন্ধকার থেকে উৎপন্ন অসুর অন্ধক ছিল না , এই শিশু ছিল ত্রিনয়ন যুক্ত এক দেবাংশ , যার নাম ছিল জ্ঞানাক্ষ । সেই শিশু এসে নতমস্তকে শিবের চরণে লুটিয়ে পড়ল । অন্ধক তার আসুরতা ও অজ্ঞান থেকে মুক্তি পেল ।
শিব তখন সেই জ্ঞানাক্ষ নামক শিশুটিকে বললেন - “যে নিজেকে অন্ধকার ভাবে , সে কখনো জ্ঞানের আলো পায় না এবং সে অন্তিমে শিবের অংশজাত হয়েও অসুর অন্ধকে পরিণত হয় । কিন্তু যে নিজের ভেতরে থাকা অজ্ঞান রূপী অন্ধকারকে চিনে নেয় ও সে সেই অসুরত্ত্ব থেকে মুক্ত হয় , তবে সে আমার অংশজাত না হয়েও আমারই সাযুজ্যতা লাভ করে ।”
লেখনী ✍️--- রুদ্রনাথ শৈব 🥀
©রুদ্রনাথশৈব #রুদ্রকণ্ঠthevoiceofrudra #রুদ্রনাথশৈব #postviralシ #সনাতনধর্ম #souviksddas #সনাতন #হিন্দুধর্ম #Shivalaya
বি দ্রঃ - পোস্টটি কপি করলে সম্পূর্ণ করবেন ।
নমঃ শিবায় ।। 🕉️
হর হর মহাদেব ।। 🚩
শিব ওম তৎ সৎ ।। 🔱
#জয় মাকালী #🙏শিব-পার্বতীর কথা💗 #🙏শিবের ওয়ালপেপার🙏 #🙏ওম নম:শিবায়🔱 #🙏নমস্কার