বগলা#বগলামুখী
(বাগলামুখী/বগলা মা) হিন্দু তন্ত্রসাধনায় অতি শক্তিশালী ও গূঢ় এক দেবীয়। তিনি দশ মহাবিদ্যার অন্যতম—অষ্টম মহাবিদ্যা । তাঁর সাধনা প্রধানত স্তম্ভন, বাগ্বন্ধন, শত্রুনিবারণ, বিজয় ও রক্ষা–এই উদ্দেশ্যে করা #বগলামুখী হয় ।
নিচে ধারাবাহিকভাবে বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছি : -
১) নাম ও অর্থ
বগলা/বাগলা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত “বল্/বাগ্” ধাতু থেকে—অর্থ বাকশক্তি ।
বগলামুখী অর্থাৎ যিনি শত্রুর বাক্, বুদ্ধি ও কর্মশক্তি স্তব্ধ করে দেন ।
তাই তাঁকে স্তম্ভন শক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলা হয় ।
---
২) মহাবিদ্যার মধ্যে স্থান
মা বগলামুখী দশ মহাবিদ্যার অষ্টমা ।
দশ মহাবিদ্যা হল : - কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী, কমলা ।
---
৩) রূপ ও ধ্যানমূর্তি
মা বগলামুখীর ধ্যানমূর্তির বৈশিষ্ট্য—
বর্ণ: উজ্জ্বল হলুদ (পীতাম্বরী)
বসন: পীত বসন
আসন: সিংহাসন বা স্বর্ণপদ্ম
হাতে:
এক হাতে শত্রুর জিহ্বা আকর্ষণ করে ধরেছেন
অন্য হাতে মুগুর বা গদা
মুখমণ্ডল: শান্ত কিন্তু ভয়ঙ্কর শক্তির প্রকাশ
এই রূপের অর্থ : -
👉 বাক্, মিথ্যা, কুৎসা ও অপশক্তির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ
---
৪) তাত্ত্বিক অর্থ (গূঢ় ব্যাখ্যা)
তন্ত্র মতে—
শত্রু মানে শুধু বাহ্যিক মানুষ নয়
অন্তরের শত্রু—কাম, ক্রোধ, লোভ, অহংকার, ভয়—এগুলোকেও স্তব্ধ করা
বগলামুখী সাধনা মানে—
চঞ্চল মনকে স্থির করা
বাকসংযম
অকারণ ভয় ও বিভ্রান্তি দমন
---
৫) পূজা ও সাধনার উদ্দেশ্য
মা বগলামুখীর আরাধনা করা হয়—
শত্রুনাশ বা শত্রু নিবৃত্তির জন্য
মামলা, বিবাদ, শত্রুতায় বিজয়ের জন্য
অপবাদ, মিথ্যা অভিযোগ থেকে রক্ষার জন্য
তন্ত্রসাধনায় বাকসিদ্ধি লাভের জন্য
গুরুতর বাধা ও সংকট কাটাতে
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ:
এই সাধনা স্বার্থপর বা অহিতকর উদ্দেশ্যে করলে প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হতে পারে—এজন্য গুরু নির্দেশ অপরিহার্য ।
---
৬) বিশেষ তিথি ও সময়
মা বগলামুখীর সাধনার শ্রেষ্ঠ সময়—
বকুল অমাবস্যা
বসন্ত পঞ্চমী
গুরুবার
মধ্যরাত্রি বা ব্রাহ্ম মুহূর্ত
---
৭) মন্ত্র (সাধারণ জপের জন্য)
একটি প্রচলিত মন্ত্র—
> ॐ ह्लीं बगलामुखि सर्वदुष्टानां
वाचं मुखं पदं स्तम्भय
जिह्वां कीलय बुद्धिं विनाशय ह्लीं ॐ स्वाहा
⚠️ এই মন্ত্র দীক্ষা ব্যতীত জপ করা উচিত নয় ।
সাধারণ ভক্তদের জন্য নামস্মরণ ও ধ্যানই যথেষ্ট ।
---
৮) প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান
ভারতে মা বগলামুখীর বিখ্যাত মন্দির—
দাতিয়া (মধ্যপ্রদেশ) – সিদ্ধপীঠ
নলখেরা (মধ্যপ্রদেশ)
কামাখ্যার উপাসনা ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত শক্তি রূপে
---
৯) ভক্তের জীবনে প্রভাব
যাঁরা নিয়মিত ও শুদ্ধভাবে মা বগলামুখীর উপাসনা করেন—
তাঁদের কথায় ও ব্যক্তিত্বে দৃঢ়তা আসে
অকারণ ভয় ও মানসিক দুর্বলতা কমে
শত্রু নিজে থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়
আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়
---
১০) সতর্কবাণী
মা বগলামুখী—
অত্যন্ত উগ্র ও তেজস্বিনী
ভুল নিয়ম, অহংকার বা কু-উদ্দেশ্যে আরাধনা করলে 👉 সাধকের উপরই শক্তি ফিরে আসতে পারে
তাই বলা হয়—
> “মা বগলামুখী ভক্তের রক্ষক, কিন্তু অযোগ্য সাধকের পরীক্ষক।
#জয়_মা_বগলামুখী ।।

