ShareChat
click to see wallet page
search
https://shuru.co.in/dl/FZU7BU #সাহিত্য
সাহিত্য - ShareChat
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর বিবর্তনের রূপরেখা নির্ণয় করতে গিয়ে ভাষাতাত্ত্বিকদের কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। কারণ একটা আদিম কমন ভাষা যার বিস্তার দুটো মহাদেশ জুড়ে ও যা প্রায় সবকটা ক্লাসিকাল ভাষার জননী তার শাখাপ্রশাখা ট্রেস করাটা ইস নট আ ম্যাটার অফ জোক। বহুক্ষেত্রে ভাষাগত মিল খুঁজে বের করতে গিয়ে যেমন নানান মিসিং লিঙ্ক-এ আটকে যেতে হয়েছে, তেমনই অনেকসময় কোনো একটা শব্দের বুৎপত্তি নিয়ে ভৌগোলিক সীমানাভেদে নানা মুনি নানা মতে বিস্তর জলঘোলা করেছেন। ভাষাতত্ত্ব নিয়ে পড়তে গিয়ে ‘আর্য আকাশ’ (Arya Akasha) –র পেজে সেরকমই একটা দ্বন্দের ইঙ্গিত পেলাম। সেটার কথায় আসি: ‘ব্যাকট্রিয়া–মার্জিয়ানা আর্কিওলজিকাল কমপ্লেক্স’ (BMAC) বা অক্সাস সিভিলাইজেশন নামে ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতার একটা বিস্তীর্ণ ঘাঁটি রয়েছে — মধ্য এশিয়া থেকে পশ্চিম পর্যন্ত তার সীমানা। এর মধ্যে পড়ছে উজবেকিস্তানের দক্ষিণ অংশ (উত্তর ব্যাকট্রিয়া), উত্তর আফগানিস্তানের একটা বেল্ট (দক্ষিণ ব্যাকট্রিয়া), ইস্টার্ন তুর্কমেনিস্তান ও ওয়েস্টার্ন তাজিকিস্তান। আমু দরিয়া নদীকে কেন্দ্র করে এখানকার কৃষি-নির্ভর সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। BMAC সভ্যতার ভাষা কি ছিল তা এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে ভাষাতাত্ত্বিকেরা ঠাওর করে উঠতে পারেননি, স্বাভাবিকভাবেই মতোবিরোধ রয়েছে। কেউ বলেন এখানকার ভাষাটা ছিল ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর একটা লিঙ্গুইস্টিক এক্সটেনশন তো কেউ সেটাকে এক্সক্লুসিভলি নন-ইন্দো-ইউরোপিয়ান (non-IE) হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছেন। Non-IE মতাবলম্বীদের মতে এখানকার ভাষাটা ছিল ‘এলামো-দ্রাবিড়িয়ান’ বা ‘হুরো-ইউরেশিয়ান’- এর কাছাকাছি কোনো একটা ‘সাবস্ট্রেট’ ভাষা। সাবস্ট্রেট ভাষা হল এমন একটা ভাষা যা থেকে শব্দ ধার করে আরেকটা ভাষা রূপ নেয়। এক্ষেত্রে BMAC ভাষাকে IE এর সাবস্ট্রেট বলে অনেক লিঙ্গুইস্ট ভাবনা করেছেন। মাইকেল উইটজেল আর আলেক্সান্দার লুবৎস্কি এদের মধ্যে অন্যতম। তাদের মতে IE এর অন্তর্গত ভারতীয় উপমহাদেশের বৈদিক সংস্কৃত ও ইন্দো–ইরানীয় শাখাদুটোর সাবস্ট্রেট BMAC ভাষা, যার কারণে এরা মূল IE গোষ্ঠী থেকে একরকম স্বতন্ত্র। এখন সংস্কৃত ও আবেস্তান ইরানীয় যেহেতু ইটিমোলজিকালি ভীষনই রিলেটেড একে অপরের সাথে তাই এরকম ভাবনার একটা গ্রাউন্ড তৈরি হয়েছে। কিন্তু যারা IE এর পক্ষে তারা গ্রীক থেকে জার্মেনিকের সাথে সংস্কৃতের ধাতুগত মিল খুঁজে সেই থিওরি নস্যাৎ করতে চেয়েছেন, সেক্ষেত্রে সংস্কৃতের কৌলীন্য রক্ষা হয় বটে। ‘ইন্দ্র’-কেই উদাহরণ হিসাবে ধরা যাক। ঋগ্বেদের ইন্দ্র, গ্রীকদের জিউস, নর্সদের থর আর লিথুয়ানিয়ান পারকুনস – একই সারির বজ্রধারী ঝড়জলের দেবতা। এদের IE লিনিয়েজ সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে BMAC থিওরিস্টদের মতে ইন্দ্র আসলে এসেছে ‘পর্জন্য’ থেকে যা নাকি আদতে এক BMAC দেবতা (পুরোটাই হাইপোথেটিকাল)। আর্যরা BMAC রিজিয়ন পার করার সময় ‘পর্জন্য’-র কনসেপ্টকে তুলে আনেন এবং ধীরে ধীরে ইন্দ্র ‘পর্জন্য’কে রিপ্লেস করে সেই স্থান দখল করে। ঋগ্বেদে ‘পর্জন্য’ ইন্দ্রের এক epithet, যার রূপ কল্পনা করা হয়েছে মেঘের দেবতা হিসাবে, ‘পর্জন্য’ মেঘের গর্জনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন, পৃথিবীকে শস্যময় করে তুলতে বৃষ্টি নামান ইত্যাদি ইত্যাদি। ওদিকে IE পন্থীরাও ইন্দ্রকে ছেড়ে দিতে নারাজ। তারা সরাসরি ভাষাগত প্রমান টেবিলে রেখে দাবী করেছেন — লিথুয়ানিয়ানে প্ল্যানেট জুপিটারকে বলা হয়েছে ‘ইন্দ্রজা’, জুপিটার (জিউস) বা জোভ আদি পিতা ‘দিউস প্টার’, যা বৈদিক সংস্কৃতের ‘দৌঃ পিতা’ অর্থাৎ আকাশ বা sky father, দৌঃ আর পৃথিবীর সন্তান ইন্দ্র — অর্থাৎ সরাসরি প্রোজেনি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। তাই লিঙ্গুইস্টদের একটা বড়ো অংশ হাইপোথেটিকাল BMAC এর থেকে IE কে এগিয়ে রেখেছেন সবসময়। বৃত্রহন্তা, সোম তথা যজ্ঞ হবির মূলভাগের অধিকারী হিসাবে ইন্দ্রের অবস্থান সেদিক থেকে স্বমহিমায় বিরাজমান। লুবৎস্কি ‘শর্ব’, शर्व শব্দটাকে BMAC বলে ক্লেম করেছেন। IE পন্থীরা Ćarwa বা অ্যাঙ্গলিসাইজড ‘Śarva’ বা ‘Zarva’ কে বৈদিক তথা ইন্দো–ইরানীয় ভাষার বুৎপত্তি-নির্ণায়ক শব্দ হিসাবেই মান্যতা দিয়ে থাকেন। ‘শর্ব’ কথার অর্থ ধনুর্ধারী, archer। এটা রুদ্র–শিবের একটা epitheth। শিব একাধারে পিনাক ধনুক এবং ত্রিপুর ধ্বংসকারী অজগব ধনু-র মালিক। शरु (শরু) থেকে शर (শর) অর্থাৎ তির এসেছে। ওদিকে সংস্কৃতে शृणाति বা ‘শৃণাতি’ শব্দের অর্থ আঘাত করার মাধ্যমে কোনোকিছু ধ্বংস করা বা demolish করা। দুটো শব্দর ধাতু একই ‘শৃ’। আচ্ছা কাউকে তির মা/রলে সে তো আহত হবে, তাই নয় কি? ‘শৃ’ থেকে যেমন ‘শর’ এসেছে তেমনই তার কাছাকাছি মিলযুক্ত প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ধাতু ‘ক্রা’ (কের > কেরা > ক্রা > কেরেউ) বা ‘ক্রেই’ থেকে এসেছে horn বা শৃঙ্গ বা শিং। শিং-এর মতো অ্যারোহেডও একটা তীক্ষ্ণভাগ যা স্কিন পেনিট্রেট করে ঢুকে যায় শিকারের শরীরে। শুক্লযজুর্বেদীয় রুদ্রাধ্যায় বা শতরুদ্রীয়তে রুদ্রের সংহার ও কল্যাণময় রূপের বর্ণনায় পাই — যোগং যোগেশ্বরং শর্বং সর্বলোকেশ্বরেশ্বরম্ । সর্বশ্রেষ্টং জগচ্ছ্রেষ্টং বরিষ্টং পরমেষ্ঠিনম্ ॥ ৭ পিনাকিনং খড্গধরং লোকানাং পতিমীশ্বরম্ । প্রপদ্য়ে শরণং দেবং শরণ্য়ং চীরবাসনম্ ॥ ৩৩ ধনুর্ধরায় দেবায় প্রিযধন্বায় ধন্বিনে । ধন্বংতরায় ধনুষে ধন্বাচার্য়ায় তে নমঃ ॥ ৩৫ আবার শিবের প্রধান অস্ত্র ত্রিশূল, তিনটে শার্প-এন্ডেড প্রঙ তীরের ফলার মতোই সুতীক্ষ্ণ। ঐতেরেয় ব্রাহ্মণে পাই রুদ্রর অস্ত্র ‘ত্রিকান্ড’ র উল্লেখ যার অর্থ করলে দাঁড়ায় a weapon with a three-parted arrowhead। ত্রিকান্ড একরকম অগ্নিময় ক্ষেপনাস্ত্র (fiery missile) যেটা রুদ্র ছুঁড়েছিলেন মৃগরূপী প্রজাপতিকে তাগ করে। এই ত্রিকান্ড-ই কি পরবর্তীতে ত্রিশূলে পরিণত হয়েছে? সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। Interesting ব্যাপার হল শিবের যেমন ত্রিশূল, তেমনই ওডিনের (নর্স) বর্শা গুঙনির, হেডিসের বাইডেন্ট (গ্রীক) বা দুই ফলাযুক্ত শূল, পোসাইডনের ত্রিশূল, দিওনিসাসের পাইন কোন-যুক্ত লাঠি থিরসাস — ব্যাপারগুলো খুব কাছাকাছি। অর্থাৎ IE গোষ্ঠীভুক্ত দেবতাদের অস্ত্র হিসাবে শর বা ঐজাতীয় ধারালো ফলাযুক্ত অস্ত্র বারবার ঘুরেফিরে এসেছে। তাই মহাদেব বা রুদ্র-শিবের epithet হিসাবে ‘শর্ব’-এর BMAC হওয়া ভিত্তিহীনতাই প্রমান .