আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৮ মার্চ নারী - কবি নজরুল : সাম্যের গান গাই-/ আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই! / বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।/ বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,/ অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।/ নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?/ তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান। / অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,/ ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।/ এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,/ নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল। তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখিয়াছে যত ফল, অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান। জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য লক্ষ্মী নারী, সুষমা-লক্ষ্মী নারীই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারি’। পুরুষ এনেছে যামিনী-শানি-, সমীরণ, বারিবাহ! দিবসে দিয়াছে শক্তি সাহস, নিশীতে হ’য়েছে বধূ, পুরুষ এসেছে মরুতৃষা ল’য়ে, নারী যোগায়েছে মধু। শস্যক্ষেত্র উর্বর হ’ল, পুরুষ চালাল হল, নারী সেই মাঠে শস্য রোপিয়া করিল সুশ্যামল। নর বাহে হল, নারী বহে জল, সেই জল-মাটি মিশে’ ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল সোনালী ধানের শীষে। ...................... আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ প্রতি বৎসর ৮ই মার্চ পালিত হয়, ১৯৭৭এ রাষ্টসঙ্ঘের আহ্বান অনুযায়ী। রাষ্ট্রসঙ্ঘের ঘোষণার অনেক আগে থেকেই ‘জাতীয় নারী দিবস’ পালিত হয়ে আসছে বিভিন্ন দেশে। প্রথমে বলা হ’ত ‘আন্তর্জাতিক কর্মরত নারী দিবস বা ‘ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কিং উইমেনস ডে’। বিশ্বে প্রথম ‘জাতীয় নারী দিবস’ পালিত হয় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ১৯০৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি , আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক পার্টির উদ্যোগে। ১৯১০এর আগষ্ট মাসে কোপেনহেগেন শহরে সমাজতান্ত্রিক পার্টিগুলির ২য় আন্তর্জাতিকে জার্মানীর সমাজতান্ত্রিক পার্টি প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রস্তাব করে। সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বের ১৭টি দেশের ১০০জন প্রতিনিধি, নারীর সমানাধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার হন। পরের বছর ১৮ই মার্চ অষ্ট্রিয়া, জার্মানী, হাঙ্গেরি, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক প্রভৃতি দেশে দশ লক্ষাধিক মানুষ ঐদিন ‘নারীর সমানাধিকার’, ‘চাকুরীতে লিঙ্গভেদের অবসান’ এবং অন্যান্য দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে যথারীতি ফেব্রুয়ারির শেষদিনে ‘নারী দিবস’ পালিত হতে থাকে ১৯০৯ সাল থেকেই। বিপ্লব-পূর্ব রাশিয়ায় প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালিত হয় ১৯১৩তে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম রবিবার লেনিন বলেছিলেন ‘নারী জাতি শৃঙ্খলিত হয়েছে সবচেয়ে আগে, তার শৃঙ্খল মুক্তি ঘটবে সবচেয়ে শেষে’। রুশ বিপ্লবের প্রাক্কালে ১৯১৭’র ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার সেন্টস পিটসবার্গে মহিলাদের যে প্রতিবাদ সমাবেশ হয় নানান দাবিতে, তা ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মর্যাদা পেয়েছিল। জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে সেই দিনটি ছিল ৮ই মার্চ। ১৯১৭’র পর থেকে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতে ৮ই মার্চ দিনটি ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ রূপে পালিত হতে শুরু করে। অবশেষে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৭৭এ আহ্বান জানান, প্রতি বৎসর ৮ই মার্চ দিনটিকে নারীজাতীর স্বাধিকার রক্ষার দিন হিসাবে পালন করার। সেই থেকে এদেশেও আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের রেওয়াজ শুরু হয়েছে। ( তথ্য সংগৃহীত) ................................ আমি নারী মৌ দাশগুপ্তা আমি নারী আমি পারি শুধু সৃষ্টিই নয় জানি ধ্বংস আমি যে মহাশক্তির অংশ ! আমি পারি প্রেমে বাঁধতে , পারি ভবিষ্যৎকে মুঠোয় ধরতে। হতে পারি ক্ষুদ্র কিন্তু উচ্চ আমার আশা, আমি স্বাধীন, আমি মুক্ত তাই আকাশে ভাসা। আমি জায়া, আমি মায়া, আমি শান্ত, ধীর-স্থির, আমি সুশীতল, আমি দেবীর প্রতীমা অবিকল , স্নেহ দেই, সেবা দেই, দেই বিশ্বস্ত সঙ্গ, ষোল কলাতেও পটু আমি, জানি হরেক তামাশা রঙ্গ। ভেবোনা অবলা অসহায় আমি কোরনা আমায় হেয় আমি কর্ত্রী আমি নেত্রী, আমিই উদ্দেশ্য এবং বিধেয়। আমি রমা আমি ক্ষমা লজ্জা পেতে পারি আমি আমি লজ্জাবতী লতা, হাসতে পারি, লুকিয়ে রেখে যত মনের ব্যথা। শাসন করতে পারি আমি , কথাও জানি কটু, প্রতিশোধটা নিতেও পারি, তাতেও আমি পটু। ত্যাগ আমার শক্তি, আবার ছিনিয়ে নিতেও পারি, দয়িতের সাথে এই ধরণীতে সুখের স্বর্গ গড়ি। আমি স্ত্রী, আমি সৃষ্টি , আমি পুরুষের পৃথিবীকে গড়ি, নানা রূপে নানা পরিচয়ে, পরম পুরুষের প্রকৃতি আমি, গরবিনী আমি নারী হয়ে। আমি পুরুষের অহং বোধ, আমি পুরুষের প্রেরণা , সহকর্মিনী, সহধর্মিনী ভাগ করে নিই দুঃখ যাতনা , পুরুষ করেছে নারীকে ভ্রষ্টা, দিয়েছে দেবীর মহিমা, আমি সৃষ্টি সুখের উৎস, আমিই স্রষ্টা , আমি যে মা। ................................. সোনামণি আ ফ রো জা অ দি তি সোনামণি, কিশোরী এক মেয়ে- বাবা গেছে তার সিডর ঝড়ে থাকে ফুটপাতে মায়ের সাথে মা তার কুড়ায় কাগজ কখনও ভাঙে ইট , পারে না জুটাতে মায়ের ইট ভাঙা হাতে দু’বেলা, দু’মুঠো সালুন ভাত মায়ের কষ্টে, চোখের জলে ভাসে মেয়ে বলে, মা, মাগো, তোর কষ্ট সয় না মা, ওই যে উঁচু উঁচু দালান, দে না কারও বাড়ি কাজ করি, নে সাথে ভাঙি ইট, কুড়াই কাগজ। ক্যাবল খিদা লাগে গো মা, ক্যান খিদা লাগে মা , কতোদিন খাই নি গো মা , ভরপেট তিনবেলা। মেয়ের কথায় ভয় ঢোকে মায়ের বুকে, ডাগর মাইয়া নজর দেয় যদি কেউ, ভয় পায় মা। কয়, না, রে মা, না সা’ব গো বাড়ি! না, মা, কতো কী যে শুনি যদি ভালা না হয়, যদি মাইরা ফ্যালায়, যদি দেয় ছ্যাকা কী করুম আমি, যামু কার কাছে, কার কাছে কমু তর কথা ? মায়ের কথায় হাসে মেয়ে, কী হইবো মা, আর হইলে হইবো খিদায় তো ভাত পামুরে মা, ভাত পামু , সহ্য হয় না খিদা।। মনস্থির করতে পারে না মা ওইটুকু না বুকের তলার ছা অনেক ভাবনা শেষে দেয় লাগিয়ে কাজে উঁচু তলার ফ্ল্যাটে দিন যায় যায় মাস ...... ক্ষুধায় শীর্ণ সোনামণি পড়ে থাকে রাস্তায় একদিন ‘কই গেলিরে তুই’- বাতাসে ছড়ায় মায়ের করুণ কান্না সোনামণিরে---- ..................................... পার্ক স্ট্রিটের সেই সাহসিনীকে ঝ র্ণা চ ট্টো পা ধ্যায় ভালোমন্দ কিছুই জানিনা কানে ভাসে রোদনের স্বর নিস্তব্ধ দুপুরে টিভি খুলে চোখে পড়ে কেউ কিছু বলে যায় ….. ধীরে, অতিধীরে কারো হাতে হয়েছে তোমার লাঞ্ছনা কিংবা বলা ভালো তোমার মরণ ... ছুটে যায় আছে যত সাজানো স্বজন কাটা-ছেঁড়া করে তারা হৃত সেই ক্ষণ কোনটা আগে গেলো কি তুমি দিয়েছিলে.... দেহ, না মন এই শুধু আলোচনা, এই হ’ল কাজ ভদ্রজন আছে যত, যারা হল সুশীল সমাজ আজ তুমি একা নও...... এক কোণে কাঁদে দেখ, বধির সেই মেয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে গোলামের বিবি এক কোণে চুপ করে ভিখারিনী নারী আরো আছে মাথা নীচু আমি, তুমি, তুমি...... , তুমি এখনও নীরব কেন থাকি কেন তুমি হয়ে আছো দুখীনি তামসী এবার এগিয়ে এস আলোকবর্তিনী হোক সব পুড়ে ছাই আগুন আলোয় শরীর চাইনা আর ফিরে চাই ‘আমাদের শুদ্ধ হৃদয়’ ........................................ সত্যি নন্দিতা ভট্টাচার্য গন্ডির ভেতর লক্ষণরেখা পেরোলেই একমুঠো রদ্দুর ! সীতা, সাবিত্রী সাধ্বী সাধনায় তুড়ি মারলেই এক উঠান নীলাকাশ ! সত্যি ! কি বোকারে !